প্রতিষ্ঠানকে সওয়াল করা 'জোকার'! ভোটকেন্দ্রে তাই কি মার হিরো আলমকে?

Hero Alam: অশ্লীল গালমন্দ শেষ না হতেই শুরু হয় মার। দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন হিরো আলম। কিন্তু হামলাকারীরা তাঁকে ধাওয়া করেন অনেক দূর পর্যন্ত।

Sohini Das
৩ মিনিট
প্রতিষ্ঠানকে সওয়াল করা 'জোকার'! ভোটকেন্দ্রে তাই কি মার হিরো আলমকে?

এ দুনিয়ায় তাঁরাই 'হিরো', যাঁরা রূপে কার্তিক, গুণে গণেশ। পুরুষদের ক্ষেত্রে এমন উপমা খাটে কিনা জানা নেই, কিন্তু কালে কালে, যুগে যুগে প্রায় সর্বক্ষেত্রেই এমন পুরুষদেরই আমরা 'হিরো' বলে জেনে এসেছি। সুদর্শন, সুঠাম, দীর্ঘদেহী যাকে বলে এক কথায় 'টল-ডার্ক-হ্যান্ডসাম'। এখন অবশ্য নারী-পুরুষ ভেদেই ফর্সার বাজার। সে ফর্সা হোক বা কালো, ভালো নাচতে পারেন, গাইতে পারেন, নারী হৃদয়ে দোলা কিংবা পুরুষ হৃদয়ে হিংসার উদ্রেক করতে পারেন, তেমন পুরুষই না 'হিরো'। তবে এই সমস্ত ধারনাকে ভেঙে চুরমার করে যিনি নিজের নামের গোড়ায় জুড়ে নিতে পারে স্বেচ্ছা 'হিরো'-র উপাধি; উৎকট নেচে, গেয়ে, অভিনয় করে সাজিয়ে তোলা সমস্ত 'সংস্কৃতি'-র মুখে ছুঁড়ে মারতে পারেন এক বস্তা সন্দেহ, তিনি বোধহয় হিরো আলম।

মিউজিক ভিডিও থেকে মডেলিং, সিনেমা থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, নাচ থেকে গান- প্রায় সব জায়গায় তিনি অবাধ এবং স্বাধীন। বেসুরো গান, বেখাপ্পা নাচেন, অভিনয়ও তথৈবচ। তবু খবরে থাকেন তিনি। এক কথায় বলতে গেলে তিনি 'টিকটক স্টার', সস্তা মনোরঞ্জন, মিমের উপাদান মাত্র। কিন্তু শুধু কি তাই! নাকি তিনিও প্রশ্ন তোলেন তথাকথিত 'ভদ্রলোকের' সমস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অনায়কচিত চেহারা, কণ্ঠস্বর- হিরোইজমের সঙ্গে যা কিছু সাযুজ্যপূর্ণ, তারই যেন বিপরীত মেরুতে অবস্থান করেন বাংলাদেশের এই উঠতি তারকা হিরো আলম। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার। কীসের টানে আসেন তাঁরা? সস্তা খোরাকের? নাকি কমবেশি আমাদের সকলের মধ্যেই অবচেতনে বাস করে এমন এক মধ্যবিত্ত মন, যারা কোথাও না কোথাও সস্তা মনোরঞ্জন, তথাকথিত সংস্কৃতির বিপরীত দিকটিকে দেখতে ভালোবাসে, উপভোগ করে। নাকি আমাদের সকলের ভিতরেই ঘুমিয়ে রয়েছে এক পিছিয়ে পড়া না-হিরো সত্তা, যারা ভিড় বাসে গুঁতো খায়, অফিসে বসের ঝাড় খায়, বাড়িতে বউয়ের ধ্যাতানি খায়.. আর তাঁরা দেখে হিরো আলমকে, দেখে আদ্যপান্ত সাধারণ, কিছু না-পারা ছেলের হিরো হওয়ার ছবি, যার নায়ক হতে সংস্কৃতির মান্যতা লাগে না, লাগে না কারওর সিলমোহর। এত কিছু সত্ত্বেও তাঁর সাক্ষাৎকার পেতে ভিড় করেন দুই বাংলার সাংবাদিকেরা, তাঁকে নিয়ে আলোচনা হয় দু-দেশেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গান থামালে অভিনয়! কেন হিরো আলমকে নস্য়াৎ করতে পারবে না বাংলাদেশ

হিরো আলম সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, তাঁকে বাংলাদেশে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং গান গাওয়া বন্ধ করতে বলেছে।

এ হেন হিরো আলম এবার ভোটের মঞ্চে। সোশ্যাল মিডিয়া, সিনেমার পর এবার রাজনীতির রাস্তায় আরশাফুল আলম সইদ। হ্যাঁ, এটাই পোশাকি নাম তাঁর। বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজনীতিতে আসার লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন হিরো আলম। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেন। ফের ২০২২ সালে উপনির্বাচনে নির্দল হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন হিরো আলম। না, শিকে ছেঁড়েনি রাজনীতিতে। তবে বাকি সব কিছুর মতোই এখানেও হাল ছাড়তে নারাজ তিনি। এ বছর ফের ভোটে দাঁড়িয়েছেন হিরো আলম।

সোমবার ছিল ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন। বনানী এলাকায় নির্দল হয়ে দাঁড়িয়েছেন হিরো আলম। আর সোমবার ভোটচলাকালীন ওই এলাকাতেই দুষ্কৃতীদের হাতে বেধড়ক মার খেলেন আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। কার্যত গণপ্রহার বললেও ভুল হয় না। সকাল বেলাই হিরো আলম অভিযোগ করেছিল, তাঁর কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। তার পরেই বিকেল তিনটে-সাড়ে তিনটে নাগাদ নিজের কেন্দ্রে গেলে বিরোধীদের হাতে বেধড়ক মার খান হিরো আলম। অভিযোগের তির নৌকা প্রতিকের প্রার্থীদের সমর্থকদেক বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা গিয়েছে হামলাকারীদের অনেকেই নৌকা প্রতিকের ব্যাজ পরেছিলেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রিল মানে কি সহজেই হাততালির লোভ? 'রিয়েল'-কে পাশ কাটিয়ে কত দূর যাব আমরা?

সাংঘাতিক অস্থিরতা, ট্রেন্ডে থাকতে চাওয়া বাধ্যতামূলক জীবন মানুষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে। দায়টা সকলের, দায়িত্বটাও সকলকেই ভাগ করে নিতে হবে।

ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, অশ্লীল গালমন্দ শেষ না হতেই শুরু হয় মার। দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন হিরো আলম। কিন্তু হামলাকারীরা তাঁকে ধাওয়া করেন অনেক দূর পর্যন্ত। শেষমেশ বনানীর ২৩ নম্বর সড়কে গিয়ে একটি রিকশায় উঠে প্রাণ বাঁচান। তাঁর উদ্দেশে হামলাকারীদের বলতে শোনা গিয়েছে- 'সে করে টিকটক, সে হলো জোকার, সে কেন গুলশান-বনানীর এমপি হতে চায়? এমপির মানে সে জানে?' হামলাকারীদের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

কেন এই হামলা, তার কারণ পরিষ্কার নয়। ভোটে হিংসা, হারজিত, দলীয় কোন্দল নতুন কথা নয়। তবে হিরো আলমের মতো অসমর্থীত নির্দল প্রার্থী কি সত্যিই লড়াইয়ের ময়দানে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ? না হিরো আলমের মতো তথাকথিত 'না-হিরো' দুর্বল সত্তার উঠে আসা বা প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন করাটাই চোখে লাগছে ক্ষমতাবানের। আসলে ক্ষমতার তেমন কোনও চেহারা বা মুখ হয় না। নিজের থেকে যে কোনও দুর্বলকেই পায়ের তলায় চেপে রাখাতেই তাঁর ক্ষমতার প্রকাশ। আর সেখানে দাঁড়িয়ে হিরো আলম তো সেই দুর্বলতর প্রতিনিধির জিতে যাওয়া মুখ। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি সওয়াল করে এসেছে বরাবর। তাই কি এমন নির্দয়ী হামলা!

এই গণপ্রহারকারীরা কি শুধুই তাঁর রাজনৈতিক বিরোধী! নাকি এই গণরোষ আসলে সেই সব রক্ষণশীলদের, যাদের এ যাবৎকালের ধারণায় গিয়ে সমূলে ধাক্কা মারতে পেরেছেন সমস্ত হেরে যাওয়া অ-নায়কদের 'হিরো' হিরো আলম?

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?