হামাসের কায়দায় ইজরায়েলে হামলা হিজবুল্লাহের, নতুন যুদ্ধের শঙ্কায় কাঁপছে বিশ্ব
Hezbollah Attacks Israel: মঙ্গলবার উত্তর ইজরায়েলে একশোটিরও বেশি রকেট ছুড়েছে তারা। হিজবুল্লাহর হানা সবচেয়ে বড় হামলা এটি। একদিকে গাজা-ইজরায়েল যুদ্ধ, অন্য দিকে, লেবাননের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধে জড়াবে ইজরায়েল?

প্রায় ৬ মাস ধরে গাজায় তাণ্ডব চালাচ্ছে ইজরায়েলি সেনা। সেই অক্টোবর মাসে ইজরায়েলে ঢুকে অতর্কিতে হামলা চালিয়েছিল ফিলিস্তিনি জঙ্গিগোষ্ঠী হামাস। আর এবার ঠিক হামাসের কায়দায় ইজরায়েল আক্রমণ করল লেবাননের জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইজরায়েলকে নিশানা করে একশোরও বেশি রকেট ছুড়েছে তারা। ইতিমধ্যেই অন্তত দুজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। জখম বহু।
গত ৭ অক্টোবর হঠাৎ করেই ইজরায়েলে ঢুকে পড়েছিল হামাস। তার আগে পাঁচ হাজারেরও বেশি রকেট ছোড়া হয়েছিল ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে। বিকল করে দেওয়া হয়েছিল গোটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তার মধ্যেই বিভিন্ন দিক থেকে ইজরায়েলে ঢুকে পড়েছিল হামাস জঙ্গিরা। তারপর চলেছিল তাণ্ডব। প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সেই ঘটনায়। অজস্র ইজরায়েলি নাগরিককে বন্দি বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিল হামাস বাহিনী। তার পরেই গাজার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধঘোষণা করে দিয়েছিল ইজরায়েল। সেই থেকে প্রায় ১৬০ দিন হয়ে গিয়েছে, যুদ্ধ চলছেই। গোটা বিশ্বের অসংখ্য দেশের অনুরোধেও যুদ্ধের আগ্রাসন কমাতে রাজি হয়নি ইজরায়েল। রমজান উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির কথা বললেও, সেই স্বস্তিটুকুও মেলেনি গাজাবাসীর।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Israel’s war on Gaza: রমজানের প্রথম রাতেই গাজার দক্ষিণে রাফাহ শহরে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি বাহিনী। যেখানে আশ্রয় নিয়ে অসংখ্য গাজার সবহারানো মানুষ।
এর মধ্যেই নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব। অবশ্য ইজরায়েলের উপর লেবাননের এই জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলা অবশ্য নতুন ঘটনা নয়। সেই অক্টোবর থেকেই একাধিক বার ইজরায়েলের উপর হামলা চালিয়ে গিয়েছে হিজবুল্লাহ জঙ্গিরা। দিন কয়েক আগেই পূর্ব লেবাননের বালবেক শহরে চারটির বেশি হামলা চালায় ইজরায়েল। সেই হামলায় অন্তত একজন নাগরিকের মৃত্যুর খবর মিলেছিল। জখম হয় অন্তত ২০ জন।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Israel-Gaza war: দীর্ঘদিন ধরেই ইজরায়েলের নিশানায় ছিলেন হামাসের ডেপুটি চেয়ারম্যান সালেহ আল-আরৌরি। ইরান ও লেবাননের হেজবোল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে হামাসের প্রধান সংযোগের মাধ্যমও ছিলেন সালেহই।
সেই হামলার প্রত্যুত্তর দিল লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী। মঙ্গলবার উত্তর ইজরায়েলে একশোটিরও বেশি রকেট ছুড়েছে তারা। হিজবুল্লাহর হানা সবচেয়ে বড় হামলাগুলির অন্যতম এটি। একদিকে গাজা-ইজরায়েল যুদ্ধ চলছেই, এই পরিস্থিতিতে লেবাননের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধে জড়াবে ইজরায়েল। নাকি গাজার যুদ্ধের সঙ্গেই জুড়ে যাবে লেবাননও। একাধিক আশঙ্কায় কাঁপছে বিশ্ব রাজনীতি। ইজরায়েল সামরিক ভাবে বেশ শক্তিশালী দেশ। তাদের বিমান প্রতিরক্ষাও বেশ জোরদার। হিজবুল্লাহ জঙ্গিদের কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্রকে গুলি করে নামিয়েছে ইজরায়েল, তা পরিষ্কার নয় এখনও।
গাজার পাশে দাঁড়িয়ে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে হামাসের সঙ্গে সম্মিলিত ভাবে লড়বে কিনা হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে হিজবুল্লাহের তরফে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, লেবাননের বেকা উপত্যাকায় ইজরায়েলি হামলার প্রতিবাদ ও গাজার ফিলিস্তিনিদের সমর্থনেই ইজরায়েলে এই হামলা চালিয়েছে তারা। মঙ্গলবার ইজরায়েলে কাতিউশা রকেট ছুড়েছে হিজবুল্লাহ গ্রুপ। ইজরায়েলের সেনা ঘাঁটি ও ছাউনিগুলিকেই মূলত নিশানা করা হয়েছিল বলে খবর। অন্তত ১৩টি হামলা মঙ্গলবার চালিয়েছে হিজবুল্লাহ জঙ্গিরা। লেবানন আর ইজরায়েলের এই সংঘাত লেগেই রয়েছে কিছুদিন ধরে। আন্তঃসীমান্ত গুলি বিনিময়েরও বিরাম নেই।
হামাস হামলা করার পরেই ফিলিস্তিনি ওই জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছিল নেতানিয়াহু সরকার। হিজবুল্লাহ-র ক্ষেত্রেও কি তেমন কিছুই হতে চলেছে। একই সঙ্গে দু-দু'টি যুদ্ধ সমান্তরালি চালাতে পারবে ইজরায়েল। সেই সৈন্য এবং অস্ত্রের ভাঁড়ার রয়েছে আদৌ তাদের। নাকি হামাসের সঙ্গে একজোট হয়ে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাবে লেবাননের এই জঙ্গিগোষ্ঠী। নতুন একগুচ্ছ সম্ভাবনা ও আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়েছে বিশ্বরাজনীতির আকাশে।







