`বেড়ালহাতি দুর্গা’! ঐতিহাসিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজো অন্য রকম

এখন এই পুজোয় আগের জৌলুস নেই, স্মৃতিটুকু সম্বল করেই এখন পুজো কাটে বাড়ির অনেক সদস্যের। আজও গলায় আঁচল জরিয়ে বরণ করেন ঘরের মেয়ে উমাকে। জৌলুস না হয় নাই থাকল, মেয়ে যে ঘরে আসছে এই বা কম কী?

tiasa gupta
৪ মিনিট
`বেড়ালহাতি দুর্গা’! ঐতিহাসিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজো অন্য রকম

ফলকহীন দরজা পার হলেই বিশাল উঠোন। দালানবাড়ি। বাড়িটি এখন নানা শরিকে ভাগ। এই বাড়ির পলেস্তরা খসা দেওয়ালে এখনও লেগে রয়েছে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রাচীনতার কথকতা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বনগাঁ শহর সংলগ্ন ছয়ঘরিয়া এলাকায় প্রত্নস্তূপের মাঝে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সংঘর্ষ করছে প্রত্নতাত্ত্বিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটো ঠাকুরদা গৌরহরি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজো। রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এই শহরে জন্মগ্রহণ করেননি বা এখানে বসবাসও করতেন না। কিন্তু পারিবারিক দুর্গাপুজোর সময় যেখানেই থাকুন না কেন, এখানে চলে আসতেন। আর সেই কারণে আজও এলাকার মানুষজন রাখালদাসকে নিজেদের লোক বলে মনে করেন। এই পুজোর সঙ্গে তাই জড়িয়ে আছে এক ঐতিহাসিকের নাম। সেই ঐতিহাসিকের হাত ধরে ৩০০ বছর পার করা পুজো আজও ইতিহাসের ভার বহন করে চলেছে।

প্রায় ৩০০ বছর আগে রাখাসদাসের ঠাকুরদা গৌরহরি বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঠাকুর দালানে দুর্গাপুজোর সূচনা করেছিলেন। গৌরহরি একদিন স্বপ্নে অদ্ভূত দর্শন এক দেবীমূর্তি দেখতে পান। যে দেবীমূর্তির কিনা ১০টি হাতের মধ্যে ২টি হাত কেবল বড়। বাকি ৮টি হাত বেড়ালের মতো ছোট ছোট। স্বপ্নাদেশ পাওয়া আদলেই নির্মিত হয় মূর্তি। তার নাম হয়ে যায় `বেড়ালহাতি দুর্গা’। একসময় সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত বলির প্রথা চালু ছিল বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে। পরে তা বন্ধ হয়ে চিনি-নাড়ু দিয়ে নৈবেদ্য দেওয়ার প্রথা চালু হয়।

জন্মাষ্টমীর দিন আমকাঠের তৈরি নতুন কাঠামোতে সিঁদুর পরিয়ে ঠাকুর দালানে প্রতিমা তৈরি করা হত । সেই পরম্পরা আজও ধরে রেখেছে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার । প্রতিপদের প্রথম দিন বেলতলায় পুজোর পর ঠাকুর দালানে ঘট বসিয়ে দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয় । প্রথমা থেকেই পুজো শুরু । একসময় সপ্তমী থেকে নবমী পশুবলি হত । পরে তা বন্ধ হয়ে নৈবেদ্য প্রথা চালু হয়। আজও সেই রীতি চলছে।

এই পুজোর সঙ্গে বেশ কিছু অলৌকিক ঘটনা জড়িয়ে আছে। ২০০০ সালে পুজোর আগে বন্যায় গোটা বনগাঁ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা জলে ভেসে যায়। ষষ্ঠীর দিন কীভাবে দেবীর বোধন হবে, তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছিলেন না পরিবারের সদস্যরা। কারণ বোধনতলা জলের তলায় চলে গিয়েছিল। ষষ্ঠীর দিন ঘটেছিল এক আশ্চর্য ঘটনা। প্রথম শিবমন্দিরের উঁচু ঢিবিতে বোধন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। হঠাৎই ষষ্ঠীর আগে বোধনতলায় দুই তিন হাত জল কমে যায়। নির্দিষ্ট স্থানেই বোধন হয়েছিল। এখন বাড়ির অন্দরে কান পাতলে শোনা যায় এরকম নানা গল্প।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দুর্গাপুজোয় উৎসব নয়, মহিষাসুরের স্মরণে সভা পালন করে তার বংশধররা!

Hudur Durga:পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই প্রতি বছরের মত এবছরও দুর্গাপুজোর আনন্দে মাতবে 'অসুর'রা।

একসময় পুজোর ক’টা দিন বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে একাধিক হাঁড়ি চড়ত। আশপাশের গ্রামের বাড়িগুলিতে পুজোর সময় রান্না হতো না। এই বাড়িতেই খাওয়াদাওয়া করতেন গ্রামের মানুষ। বর্তমানে সেসব আর করা হয়ে ওঠে না। শুধু নিষ্ঠাভরে এখনও পুজোর আয়োজন হয়ে আসছে। পুজোর দিনগুলিতে এখনও প্রচুর মানুষ আসেন এই বাড়িতে। কর্মসূত্রে নানাদিকে ছড়িয়ে থাকা এই বংশের সদস্যরা পুজোর সময় একত্রিত হন।

এই পুজোর প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থাতেও রয়েছে অভিনবত্ব৷ দশমীর দিন সন্ধ্যাতারা ওঠার পরই প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় নাওভাঙা নদীতে নিয়ে যাওয়া হয় প্রতিমা। দু’টি নৌকার উপর রেখে সাত পাক ঘুরিয়ে নৌকা দু’টিকে আস্তে আস্তে দু’দিকে সরিয়ে বিসর্জন করা হয়।

শতাব্দী প্রাচীন থালা-বাসনগুলো এখনও সযত্নে তুলে রেখেছেন পরিবারের সদস্যরা। পূর্বপুরুষের স্মৃতি বহন করছে এগুলো। সেই থালা-বাসনগুলি আজও পূজার্চনাতে ব্যবহৃত হয়। আগে পুজো এলে পরিবারের সবাই বাড়িতে চলে আসতো। রাতে ঘরে ঘুমানোর জায়গা হত না। কিন্তু আগের মতো জৌলুস নেই। পুজো এলেই সেইসব পুরনো স্মৃতি তাড়া করে বেড়ায় পরিবারের সদস্যদের।

রাখালদাস জন্মসূত্রে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের হলে কীহবে পারিবারিক দুর্গাপুজোর সময় এই বাড়িতে চলে আসতেন। দাদা, দিদি, ভাই, বোনদের সঙ্গে কটাদিন হৈহৈ করে কাটাতেন রাখালদাস। নিজের হাতে গ্রামবাসীদের বস্ত্র দান করতেন। দরিদ্র ভোজন করাতেন। আশেপাশের গ্রাম থেকে বহু মানুষ বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে পুজো দেখতে আসতেন। তাঁদের তাদরকি করতেন রাখাসদাস। পুজোর দিনগুলিতে প্রতিদিন নিজে হাতে বস্ত্র বিতরণ করতেন, তারপর খেতেন।

রাখালদাস চিরকালই জমিদারি মেজাজের মানুষ ছিলেন। জমিদারি আদব কায়দা বজায় রাখতে প্রচুর টাকা খরচ করতেন। বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন। পুজোর ক’টাদিন তাঁকে ঘিরে সঙ্গীসাথীদের উৎসাহের সীমা থাকত না।

বিজয়া দশমীর দিন রাখালদাসের খুব উৎসাহ ছিল প্রতিমা নিরঞ্জনে। বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে প্রতিমা নিরঞ্জনে থাকত অনেক চমক। যেমন দশমীর দিন সন্ধ্যাতারা ওঠার পরই হত প্রতিমা নিরঞ্জন। রাখালদাস থাকতেন প্রতিমা নিরঞ্জনের দায়িত্বে। পুরাতাত্ত্বিক রাখালদাস যেখাবে ভারতের বিখ্যাত প্রত্নক্ষেত্রগুলো ঘুরে বেরিয়েছেন, ঠিক তেমনই ইছামতীর তীরে নিজেদের পরিবারিক এলাকাগুলোতেও খোঁজ চালিয়েছেন তিনি।

রাখালদাসের গুরু ছিলেন পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। গুরু হরপ্রসাদ রাখালদাসের মনের মধ্যে পুরাতত্ত্বের প্রতি আগ্রহ তৈরি করেন। আর গুরুর কথা মতো রাখালদাস ঠাকুরদার বাড়ি এলেই তাই খুঁজে বেড়াতেন ইতিহাসের মণি মুক্তো। রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত বনগাঁর ছয়ঘরিয়ার বাড়িটিকে `হেরিটেজ’ ঘোষণা করা হয়েছে। আসলে হাজার প্রতিবন্ধকতাকে তুচ্ছ করে ঐতিহাসিক রাখালদাস আবিষ্কার করেছিলেন মহেঞ্জোদারো, আর অনেক প্রতিবন্ধকতা তুচ্ছ করে তিনি স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন ছয়ঘরিয়ার মানুষের মনে।

এখন এই পুজোয় আগের জৌলুস নেই, স্মৃতিটুকু সম্বল করেই এখন পুজো কাটে বাড়ির অনেক সদস্যের। আজও গলায় আঁচল জরিয়ে বরণ করেন ঘরের মেয়ে উমাকে। জৌলুস না হয় নাই থাকল, মেয়ে যে ঘরে আসছে এই বা কম কী?

লিখেছেন
tiasa gupta
tiasa gupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।