কলকাতাতেই রয়েছে একাধিক ভিনটেজ বাংলো! যেভাবে রাত কাটাতে পারেন আপনিও

Kolkata Vintage Bungalows: কলকাতায় এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী বাংলোগুলির অনেকাংশই একটি এখন বিলাসবহুল হোটেলে রূপান্তরিত হয়েছে।

inscript
২ মিনিট
কলকাতাতেই রয়েছে একাধিক ভিনটেজ বাংলো! যেভাবে রাত কাটাতে পারেন আপনিও

কলকাতার মধ্যে সত্যিই এক অন্য কলকাতা আছে। সবসময় হেঁটে দেখলেই হয় না। এই কলকাতায় থেকে দেখতে হয়। পলাশির যুদ্ধ পরবর্তী শহর, ঔপনিবেশিক যুগ, স্বাধীনতার যুগ, পালটে যাওয়া যাপনের যুগ কলকাতার দেওয়ালে দেওয়ালে খোদাই করা। কলকাতা শহর আস্ত এক আদিম গল্পকথক, অনন্ত তার গল্পরাশি। শুনতে হলে হাঁটতে হবে, কান পাততে হবে। সংস্কৃতি ও ইতিহাসের আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হবে কলকাতার রাস্তায় রাস্তায়, গলিতে, মহলে, স্মৃতিসৌধে এবং এর ঐতিহ্যবাহী বাংলোতে। বহু শতাব্দী প্রাচীন ডিভান থেকে শুরু করে বিখ্যাত বার্মা সেগুনের আসবাবপত্র, ঐতিহ্য ধরে রেখেছে অতীতের গোপনীয়তা।

কলকাতায় এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী বাংলোগুলির অনেকাংশই এখন বিলাসবহুল হোটেলে রূপান্তরিত হয়েছে। তবু তার কাহিনি রয়েছে অজানাই। কলকাতার বুকেই এই সমস্ত বাংলোতে একদিন দু'দিন কাটানো যায়।

১. কলকাতা বাংলো

কলকাতার এক ঐতিহ্যবাহী বিলাসবহুল বুটিক হোটেল। ১৭৯০ সালের দিকে, ব্রিটিশরা কলকাতায় উপনিবেশ স্থাপন করেছিল, যা হোয়াইট টাউন নামেও পরিচিত ছিল। যেখানে ভারতীয়রা বাস করত সেই এলাকাকে বলা হতো ব্ল্যাক টাউন। এখানেই প্রাসাদ, বিলাসবহুল বাংলো এবং ধনী বাঙালিদের নির্মিত বাসভবনে ভরে ওঠে। এই কলকাতা বাংলো সেই সময়ে প্রচলিত স্থাপত্যের দুর্দান্ত নিদর্শন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জল বয় উলটো দিকে, তালে তালে লাফায় জমি! রহস্যময় এই অফবিট গন্তব্য পর্যটকদের অজানাই

Mainpat Chhattisgarh: রাম নাকি এই জায়গায় গরম তেলের একটি বাটি ফেলে দিয়েছিলেন এবং সেই থেকেই এই জায়গায় উষ্ণ প্রস্রবণ তৈরি হয়েছে।

২. গ্লেনবার্ন পেন্টহাউস

গ্লেনবার্ন পেন্টহাউস কলকাতার একটি বিলাসবহুল হেরিটেজ হোমস্টে। গ্লেনবার্ন পেন্টহাউসে থাকা অতিথিরা সাধারণ বাঙালি ঘরানার ডিভানে শুয়ে আরাম করে রাস্তার দৃশ্য দেখে আড়মোড়া ভাঙেন। বারান্দায় বসে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়া দেখতে দেখতে এক কাপ চায়ে চুমুকও দিতে পারেন অথবা বার্মা সেগুনের খাটে শুয়ে বইও পড়তে পারেন। বাংলোর ঘরের প্যারিসে তৈরি করা ‘হিন্দুস্তান’ ডিজাইনের ওয়ালপেপারও অতীতের কথা মনে করিয়ে দেবে।

৩. রাজকুটির

ঐতিহ্যবাহী বাঙালি স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত কলকাতার একটি হেরিটেজ হোমস্টে রাজকুটির। স্থাপত্যটি খানিক ধনী জমিদার বাড়ির মতো। এই রাজকুটির উঠোনের চারপাশে নির্মিত এবং প্রবেশদ্বারটি আসলে এক সিংহদুয়ার। প্রাচীন বটগাছ, গ্রামীণ বটতলা মনে করিয়ে দেবে ১৯ শতকের ইতিহাস। বিলাসবহুল এই বাড়ির প্রতিটি কোণ পুরনো সময়ের দলিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঘিঞ্জি দিঘা, ভিড় দার্জিলিং নয়, এই রাজবাড়িগুলিই এখন শীতের সেরা ডেস্টিনেশন!

Royal Palace Hotels: সোনাক্ষী সিনহা এবং রণবীর সিংহ অভিনীত ‘লুটেরা’ দেখে থাকেন তবে বুঝতে পারবেন এই প্রাসাদেই ছবির শ্যুটিং হয়েছিল। ইটাচুনাকে ‘বর্গি ডাঙা’ নামেও ডাকা হত।

৪. এলগিন ফেয়ারলন

মাজ লেন এবং সাদার স্ট্রিটের সংযোগস্থলে ১৭৮০ সালে উইলিয়াম ফোর্ড এই ভবন তৈরি করেন। সেই সময়কার কাঁচা বাড়ির প্রেক্ষিতে এইটিই ছিল ইটের তৈরি পাকা বাড়ি। ২০১৮ সালে এলগিন হোটেলস অ্যান্ড রিসর্টস এই বাড়ি অধিগ্রহণ করে। এই বাড়ির সাম্প্রতিকতম মালিক ছিলেন মিসেস জেনিফার অ্যান ফাউলার। শতাব্দী প্রাচীন নিউমার্কেট এলাকাটি হোটেল থেকে মাত্র দুই মিনিটের পথ।

৫. লিডারস লিগ্যাসি হেরিটেজ হোমস্টে

মহাত্মা গান্ধী, রবি শঙ্কর, এবং ইন্দিরা গান্ধী এই হোমস্টেতে থাকতেন কলকাতায়৷ ১৯০০-এর দশকে নির্মিত এই বাংলোটি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের বাসভবন। তাঁর ভাইঝি ইলিনা চন্দই এই হোমস্টের দেখভাল করেন, অতিথিদের স্বাগত জানান। এই হেরিটেজ বাংলো সম্পর্কে বহু কাহিনিই রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

৬. কর্নার কোর্টইয়ার্ড

১৯০৪ সাল থেকে পরিত্যক্ত এই বাড়িকে একটি বিলাসবহুল হোটেলে রূপান্তরিত করা হয়েছে। ১৯০৪ সালে এখানে বাস করতেন এক ধনী জমিদার পরিবার ছিল। ঘরে ব্যবহৃত রঙের এই শহরের স্পন্দনকে মনে করায়। হলুদ ট্যাক্সির রঙ বেঁচে থাকাকেই ফুটিয়ে তোলে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কথা মনে করায় আশমানি রঙ, হাতির দাঁতের রঙ মনে পড়ায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মার্বেলকে। দুর্গাপুজোর উৎসব মনে করায় এখানের সিঁদুরে লাল রঙখানি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।