রাজনীতিতে ছড়ি ঘোরাচ্ছে বুথফেরত সমীক্ষা! ভারতে বুথফেরত সমীক্ষার ইতিহাস কী?

History of Exit Polls: ভারতের মতো দেশে, কিছু জেলার কিছু আসনের মানুষের সঙ্গে কথা বলেই আসন সংখ্যা বের করার প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করা ঠিক নয়।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
রাজনীতিতে ছড়ি ঘোরাচ্ছে বুথফেরত সমীক্ষা! ভারতে বুথফেরত সমীক্ষার ইতিহাস কী?

১ জুন সন্ধ্যা ৬ টায় শেষ হলো দেশের ১৮ তম লোকসভা নির্বাচন। আর তার পর থেকেই রাজনীতিতে ছড়ি ঘোরাচ্ছে বুথফেরত সমীক্ষা। অধিকাংশ সমীক্ষক সংস্থার দাবি, রাজ্যে ও কেন্দ্রে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। ইন্ডিয়া জোট টিভি চ্যানেলগুলিতে বুথফেরত সমীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্কে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছিল। জোটের বৈঠকের পর বুথফেরত সমীক্ষার তথ্য নিয়ে সিদ্ধান্ত বদল করে কংগ্রেস। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের দিল্লির বাড়িতে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে তিনি দাবি করেন, বিরোধী জোট ইন্ডিয়া কম করে ২৯৫টি আসনে জিতবে। বিরোধী জোট ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরেই সংবাদমাধ্যমগুলির বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ তুলেছিল। তার জন্য ১৪ জন টেলিভিশন সঞ্চালককে বয়কটও করেছিল তারা। বিরোধীরা মনে করছেন, সিংহভাগ সমীক্ষাতেই বিজেপি এগিয়ে কারণ, গণনার আগেই যদি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা যায় তবে গণনায় বিশেষ মনযোগ দিতে পারবে না বিরোধী দলের কর্মীরা। তাই পক্ষপাতদুষ্ট সমীক্ষার ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, বুথফেরত সমীক্ষার নিরপেক্ষতা নিয়ে। রাজনীতির কাদা ছোড়াছুড়িতে জানতেই হয়, বুথফেরত সমীক্ষা কবে, কারা শুরু করেছিল?

বহুবারই যেমন বুথফেরত সমীক্ষার পূর্বাভাস মিলেছে, আবার অনেকক্ষেত্রে সমীক্ষার ফল একেবারে ভুলও প্রমাণিত হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রের জনগণের ভোট দেওয়ার পর, ভোটারদের মধ্যে এই সমীক্ষা চালানো হয়। গণনার আগেই কোন দল কতগুলি আসনে জয় পাবে, তার ভবিষ্যদ্বাণী চলে বুথফেরত সমীক্ষায়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রথমত, সব বুথফেরত সমীক্ষা সঠিক অনুমান করতে পারে তা নয়। দ্বিতীয়ত, অতীতের তথ্য ঘাঁটলেই দেখা যাবে, বুথফেরত সমীক্ষা সবসময় মেলেনি। ভারতে ১৯৫৭ সালে ইন্ডিয়ান ইনিস্টিটিউট অফ পাবলিক ওপিনিয়ন প্রথমবার বুথফেরত সমীক্ষা করেছিল। ১৯৬০ সালে দিল্লির স্টাডি অফ ডেভলপিং সোসাইটিস (সিএসডিএস) বুথফেরত সমীক্ষার উন্নত পথ দেখিয়েছিল। ১৯৬১ সালে দূরদর্শন দেশ জুড়ে বুথফেরত সমীক্ষা চালাতে সিডিএস-এর সাহায্য নিয়েছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মনস্তত্ত্বের খেলা? ভরসা রাখা যায় এই এক্সিট পোলে?

Exit Poll 2024: ১৯৬০ সাল থেকে সেন্টার ফর স্টাডিস অফ ডেভলপিং সোসাইটিস (CSDS)এই এক্সিট পোল (বুথ ফেরত সমীক্ষা) এবং ওপিনিয়ন পোল অর্থাৎ জনমত সমীক্ষার কাজ করার চেষ্টা করছে।

'মিন্ট'-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সে সময় কিছু রাজনৈতিক দল টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রেখেছিল। ১৯৮০ সাল অবধিও সংবাদমাধ্যমগুলির সমীক্ষা তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। রবীশ কুমার তাঁর ইউটিউব ভিডিওতে দাবি করেছেন, বুথফেরত সমীক্ষা দিয়ে ভোট শতাংশের ট্রেন্ডও আন্দাজ করা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, ভারতের মতো দেশে, কিছু জেলার কিছু আসনের মানুষের সঙ্গে কথা বলেই আসন সংখ্যা বের করার প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করা ঠিক নয়। তিনি এও দাবি করেন, সংবাদমাধ্যমগুলি বরাবরই বুথফেরত সমীক্ষাকে অত্যন্ত উত্তেজনার সঙ্গে সম্প্রচার করলেও, এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কতজন মানুষের মতামতের ভিত্তিতে গবেষণা করা হচ্ছে , বয়সসীমা কী, তাঁরা কোন সম্প্রদায়ের, ক'টি গ্রাম এবং শহর নেওয়া হয়েছে এই সকল কিছু জেনেই সমীক্ষার ফলে ভরসা করা উচিত বলে তাঁর মত। সিংহভাগ সংবাদমাধ্যম বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে মাতামাতি করলেও, গবেষণা প্রক্রিয়ার তথ্য তারা জানায় না। যার জন্য এই সমীক্ষাগুলিতে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব রয়েছে।

উল্লেখ্য, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২৭২টি আসন। ২০১৯ সালে বিজেপি পেয়েছিল ৩০৩ টি আসন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এবার আর বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না অর্থাৎ ২৭২টি আসনে জয় পাচ্ছে না। সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ যোগেন্দ্র যাদব এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের স্বামী তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ পরাকলা প্রভাকর লোকসভা নির্বাচন চলাকালীন স্পষ্ট এ কথা বলেছিলেন। সম্প্রতি ভারতের সাট্টা বাজারের অনুমানগুলিও তাই বলছে। সাট্টা বাজারের অনুমানও একই, বহুক্ষেত্রে মেলে আবার মেলেও না। আগের দুই লোকসভা ভোটে সাট্টা বাজারের অনুমান ফলে গিয়েছিল। অনুমান করা হয়েছিল, কংগ্রেস ৭০ আসনের বেশি পাবে না, তাই হয়েছিল। তেমনই ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রায় সব বুথফেরত সমীক্ষা মিলেছিল। আবার বঙ্গের শেষ বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষা কিন্তু মেলেনি। সমীক্ষার ফলের সঙ্গে গণনার ফলের ছিল আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এখন দেখার তৃতীয়বার নরেন্দ্র মোদিই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নাকি বুথফেরত সমীক্ষা গুলি একেবারেই নিরপেক্ষ নয়। তাদের এই সমীক্ষার দামামা বাজানো আসনে নির্দিষ্ট দলের কাছে মাথা বিক্রিরই ফল!

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।