টিকিট কেটে থিয়েটার দেখার শুরু জাতীয় রঙ্গালয়ে, দেড়শ বছর পেরিয়েও যে ইতিহাস রয়েছে অজানাই

Theatre : জাতীয় রঙ্গালয়ের ১৫০ : কিছু গল্প, বাকিটা ইতিহাস

Rajarshi Dhara
৪ মিনিট
টিকিট কেটে থিয়েটার দেখার শুরু জাতীয় রঙ্গালয়ে, দেড়শ বছর পেরিয়েও যে ইতিহাস রয়েছে অজানাই

২০২২-এর ডিসেম্বর মাসটা এক বিশেষ কারণে বাংলা তথা ভারতীয় থিয়েটারের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ, তার কারণ এবছর ৭ ডিসেম্বর জাতীয় রঙ্গালয় বা ন্যাশনাল থিয়েটারের সার্ধশতবর্ষ। ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর ন্যাশনাল থিয়েটার তার পথ চলা শুরু করে। এই সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষ্যে কলকাতা শহরে ৭ তারিখ এখনকার প্রধান প্রধান নাট্যব্যক্তিত্বরা মিছিল বের করলেন, ‘নীলদর্পণ’ আবার অভিনয় হল, মোদ্দা কথা একটা আড়ম্বরপূর্ণ প্রতিষ্ঠাদিবস পালন হল। তবে কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়, ন্যাশনাল থিয়েটার ঠিক কতটা ন্যাশনাল ছিল এবং এর পিছনের প্রকৃত ইতিহাসটা ঠিক কীরকম?

জাতীয় রঙ্গালয়ের প্রসঙ্গে আসার আগে ২ টি সংগঠনের কথা বলতেই হয়, একটি বাগবাজার অ্যামেচার থিয়েটার এবং অন্যটি শ্যামবাজার নাট্যসমাজ।

১৮৬০ এর দশকের শেষ দিকে বাগবাজার অঞ্চলের কিছু যুবকের মধ্যে নাট্যকলা চর্চার প্রয়াস দেখা যায়। এঁরা হলেন নগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, গিরিশচন্দ্র ঘোষ, রাধামাধব কর, ধর্মদাস শূর ও অর্ধেন্দুশেখর মুস্তাফি। প্রথমে মধুসূদনের ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটকের মহরা শুরু হলেও পরবর্তীতে দীনবন্ধু মিত্রের ‘সধবার একাদশী’ নাটকের মহরা শুরু হয় এবং ১৮৬৮ সালের সপ্তমী পুজোর রাত্রে বাগবাজারের দুর্গাচরণ মুখার্জি পাড়ায় প্রাণকৃষ্ণ হালদারের বাড়িতে এই নাটকের প্রথম অভিনয় হয়। পরবর্তীতে এ নাটক কোজাগরী পূর্ণিমার রাত্রে শ্যামপুকুরের নবীনচন্দ্র বাড়িতে ও শ্রীপঞ্চমী তিথিতে রায় রামপ্রসাদ মিত্রের বাড়িতে অভিনীত হয়। শোনা যায়, রামপ্রসাদ বাবুর বাড়িতে অভিনয়ের সাক্ষী ছিলেন স্বয়ং নাটককার দীনবন্ধু মিত্র।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অতিমারীর পরেও প্রেক্ষাগৃহ পূর্ণ! বাংলা থিয়েটারে 'স্টার' নয়, 'কনটেন্ট'-ই আসল রাজা

ঋদ্ধি সেন বলছেন, "প্রথমত, মানুষ বাংলা থিয়েটার দেখে না, এই কথাটি সম্পূর্ণ সত্য নয়। অতিমারীর পরবর্তীকালে অন্যান্য শিল্পমাধ্যম (মূলত সিনেমা) একটা সংকটের মুখোমুখি, মানুষ হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে চাইছে না, বা দ্বিধা করছে।"

বাগবাজার অ্যামেচার থিয়েটার এর পরে পরিণত হয় শ্যামবাজার নাট্যসমাজে। মূল উদ্যোক্তারা একই থাকেন, তবে গোষ্ঠীর নাম পরিবর্তন হয় মাত্র। শ্যামবাজার নাট্যসমাজ কলাকুশলীরা দীনবন্ধু রচিত ‘লীলাবতী’ নাটক অভিনয় করে ১৮৭২-এর মে মাসে। সেই প্রথম তারা প্রতি সপ্তাহে নাট্যাভিনয় শুরু করলেন। তার সঙ্গে চালু হল সাধারণদের জন্য টিকিট কেটে নাটক দেখার বন্দোবস্ত। আর এই ঘটনার মধ্যেই লুকিয়ে আছে জাতীয় রঙ্গালয়ের বীজ যা চারাগাছে পরিণত হবে সেই বছরেরই শেষে।

কলকাতায় ও ঢাকায় সেকালের সমসাময়িক সময়ে টিকিট বিক্রি করে থিয়েটার দেখার একটা বন্দোবস্ত করা হলেও সেটা সাফল্য পায়নি। এমনই এক সময় শ্যামবাজার নাট্যসমাজের লোকজন ন্যাশনাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করার চিন্তাভাবনা শুরু করলেন। শুরু হল ‘নীলদর্পন’ (দীনবন্ধু মিত্র)-র রিহার্সাল।

এই যে নতুন থিয়েটার খোলার পরিকল্পনা হচ্ছে, এর নাম নিয়ে একটা গোলযোগ বাঁধল শুরুতেই। ইংলিশম্যান পত্রিকা ‘A new native theatrical society’ র আত্মপ্রকাশের খবর প্রকাশ করে (১৮৭২, ২০ নভেম্বর)। এই সোসাইটির নামকরণের ক্ষেত্রে অনেকেই ‘ন্যাশনাল’ শব্দটি প্রয়োগের পক্ষে সওয়াল করেন। নবগোপাল মিত্র নাম প্রস্তাব করেন ‘The Calcutta National Theatre’, মতিলাল শূর আবার Calcutta শব্দটি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন। এই বিন্দুতেই বাকিদের সঙ্গে গিরিশচন্দ্র ঘোষের বিরোধ বাঁধে, তিনি এই অভাবে ভরা থিয়েটারকে কিছুতেই মন থেকে ‘ন্যাশনাল’ থিয়েটার হিসাবে গ্রহণ করতে সম্মত হতে পারছিলেন না। ফলস্বরূপ গিরিশ দল ছেড়ে বেরিয়ে যান। গিরিশের অনুপস্থিতিতেই অর্ধেন্দু সহ আরও বেশ কিছু গুণীজনের নেতৃত্বে ‘The National Theatrical Society’ বা ‘ন্যাশনাল থিয়েটার’ নাম নিয়ে এই থিয়েটারের পথ চলে শুরু হয়। ১৮৭২ এর ৭ ডিসেম্বর চিৎপুরের ‘ঘড়িওয়ালা বাড়ি’ নামে পরিচিত মধুসূদন সান্যালের অট্টালিকায় স্টেজ বেঁধে প্রথম অভিনয় হয় ‘নীলদর্পণ’। ন্যাশনাল থিয়েটারের সম্পাদক ছিলেন নগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্টেজ ম্যানেজার ছিলেন ধর্মদাস শূর। টিকিটের মূল্য ছিল প্রথম শ্রেণীতে ১টাকা ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে ১০ আনা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ডায়লগ মাথায়! নলিনকাকু স্টেজেই চেঁচিয়ে উঠল, "এই ছুরি ফেরত দে, খেলিস না..."

Winter Theatre Nostalgia: 'সতরঙ্গি রে' টাইপের নাচ যে আসতে চলেছে আমি জানতাম, আমি বাবাকে উইংসে নাচতে দেখেছি সেদিন, রাগে।

অন্যদিকে, এইসময় গিরিশ দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে কিছু অনভিপ্রেত কাজকর্ম শুরু করলেন। সেই মুহূর্তে যারা ন্যাশনালে ছিল, যেমন বেণী মিত্র, কিরণচন্দ্র মতিলাল, নগেন্দ্রনাথ, ধর্মদাস, ক্ষেত্রমোহন, ভুবনমোহন, শশিভূষণ, অমৃতলাল, অর্ধেন্দুশেখর প্রমুখকে বিদ্রুপ করে কবিতা লেখা বা বেশ কিছু সংবাদপত্রকে দিয়ে ন্যাশনাল থিয়েটারের বিপক্ষে খবর প্রকাশ করানো ইত্যাদি কাজে হাত লাগলেন। তবে এসব করে গিরিশ খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি, বরং কবিতায় ‘হাঁড়ি শুড়ি’-র মতো শব্দ ব্যবহার ও তাদের ছোট করার ফলে গিরিশের নিজের ভাবমূর্তি কোথাও গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

৭ তারিখের অভিনয়ের পর থেকেই প্রতি সপ্তাহে ন্যাশনাল থিয়েটারে অভিনয়ের খবর পাওয়া যেতে লাগল। ডিসেম্বরের ১৪ তারিখ অভিনয় হল ‘জামাই বারিক’ নাটক (দীনবন্ধু মিত্র), ঠিক তার পরের সপ্তাহে অর্থাৎ ২১ তারিখ আবারও অভিনয় হল ‘নীলদর্পণ’। এর থেকে ধরে নেওয়া যায় যে তাদের মধ্যে এই থিয়েটারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা ছিল। কিন্তু তা কতটা সাফল্য পেয়েছিল? দেখে নেওয়া যাক…

যখন ন্যাশনাল থিয়েটার নিজের জায়গা পোক্ত করছে, সেই সময়ে গিরিশ আবার ফিরে আসেন ন্যাশনালে। গিরিশ বাইরে থেকে যে কাজটি করতে পারেননি, ভিতরে এসে সেই কাজটি করে ফেললেন। গিরিশর সঙ্গে কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতানৈক্য তৈরি হয়। এরই মধ্যে ৮ মার্চ ১৮৭৩, ‘বুড়ো শালিখের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকের অভিনয় হয়। এটাই শেষ। এর পরবর্তীতে আর অখণ্ড ন্যাশনাল থিয়েটারের অভিনয় হয়নি। ন্যাশনাল দুটি ভাগে ভেঙে যায়। যথা - এক ন্যাশনাল থিয়েটার ও দুই হিন্দু ন্যাশনাল থিয়েটার (যা পরবর্তীতে গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটার নাম গ্রহণ করে)। প্রথম দলে ছিলেন গিরিশ, ধর্মদাস, মতিলাল প্রমুখ এবং দ্বিতীয় দলে ছিলেন অর্ধেন্দু, কেদারনাথ, অমৃতলাল, ক্ষেত্রমোহন প্রমুখ।

এর পরবর্তী পর্যায়ের ইতিহাস অনেক উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়, দুটি দলই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে পূর্ব বাংলা সফর করে, ন্যাশনাল দল ব্যর্থ হয় ও গ্রেট ন্যাশনাল ‘রামাভিষেক’ নাটকের জোরে সফল হয়। কলকাতায় ফিরে এসে অর্ধেন্দুশেখর গ্রামে গ্রামে গিয়ে থিয়েটার বিকেন্দ্রীকরণের চেষ্টা করেন (যার মধ্যে অনেকে গণনাট্যর লক্ষণ খুঁজে পান), যার ফলে অর্ধেন্দুর নাম হয়ে যায় ‘মিশনারি অফ বেঙ্গলি স্টেজ’। বিডন স্ট্রিটে ‘গ্রেট ন্যাশনালে’র কাঠের বাড়ির থিয়েটার প্রথম অভিনয়ের রাত্রেই আগুন লেগে পুড়ে যায়। আবার এতকিছুর মধ্যেও দু-দল একত্রে হয়ে ১৮৭৩ সালের ৭ ডিসেম্বর ন্যাশনাল থিয়েটারের প্রথম বর্ষপূর্তিও পালন করে।

যদি এখন ন্যাশনাল থিয়েটারের সময়কাল দেখি, তাহলে তা কাঁটায় কাঁটায় তিন মাস। এই তিন মাসেই এসেছে হাজারও গোলযোগ ও গোঁজামিল। গিরিশ যে কাজগুলি করেছিলেন তা ঠিক না ভুল সে বিচার করার আমরা কেউ নই, তবে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়, এই নড়বড়ে ৩ মাসের থিয়েটারকে কি এই দেড়শো বছর পরেও ‘জাতীয় রঙ্গালয়’ নাম দিয়ে মহিমান্বিত করা যায়? এ উত্তর হয়তো সময়ই দিয়ে দেবে।

লিখেছেন
Rajarshi Dhara
Rajarshi Dhara
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।