ভারতের চেয়ে বেশি বাঁদুরে রঙ খেলেন বিদেশিরা! বিশ্বের দোল উৎসবে ঠিক কী ঘটে?

Holi 2023: তামিল সিঙ্গাপুরের জাতীয় ভাষাগুলির মধ্যে অন্যতম। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, বৈচিত্র্যময় এই দেশের ভারতীয় জনসংখ্যা কতখানি!

inscript
২ মিনিট
ভারতের চেয়ে বেশি বাঁদুরে রঙ খেলেন বিদেশিরা! বিশ্বের দোল উৎসবে ঠিক কী ঘটে?

একই দেশের প্রতি রাজ্যের সংস্কৃতি, ভাষা, পোশাক, খাদ্য সব পৃথক। এমন বৈচিত্র্যময় দেশের নাড়ি বুঝতে গেলে দোলের চেয়ে ভালো উৎসব আর কীই বা হতে পারে। এই উৎসবের রঙ আসলে সারা দেশের বিভিন্নতার প্রতীক বলা যায়। দোল উৎসবে মানুষের উৎসাহ আর উদ্দীপনা সম্ভবত সেই নাড়ির সঙ্গেই যোগাযোগকে আরেকবার উদযাপনের সুযোগ দেয়। ঋতু বদলায়, বসন্ত চিরকালই রঙিন, ফুলে, নতুন পাতার সূচনায় চারদিকে প্রাকৃতিক রঙের নিবিড় খেলা। প্রকৃতিকে এখানেই সমাজের সঙ্গে মিলিয়েছে মানুষ। বসন্তের রংকে মেখেছে শরীরে। রঙের উৎসব ভারতের জনপ্রিয় উৎসব হয়ে উঠেছে একারণেই। তবে শুধু ভারত নয়, সম্প্রতি রঙের এই উৎসব বিশ্বের বহু শহরেই প্রাধান্য পাচ্ছে। অনাবাসী ভারতীয়দের কাছে এই জাতীয় উৎসব তাদের সাংস্কৃতিক শিকড় এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে যোগসূত্রকে জুড়ে নেওয়ার উপযুক্ত মুহূর্ত। বাড়ি থেকে দূরে থাকা ভারতীয়রা যেখানেই গিয়েছেন, একসঙ্গে অনেককে জুটিয়ে ভারতীয় উৎসবে মেতেছেন। সেই ভারতীয়দের ভিনদেশি বন্ধুরাও জুড়ে গিয়েছেন এই অনুষ্ঠানে। ফলে অন্যান্য জাতিসত্তার মানুষের মধ্যেও রঙের উৎসব ক্রমেই জনপ্রিয় হয়েছে! সারা বিশ্বের কোথায় কোথায় দোল উদযাপন করা হয়?

ভারতে থাকা ভারতীয় হোক বা দেশের বাইরে থাকা অনাবাসী, দোলের জন্য প্রতি ভারতীয়ই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। অস্ট্রেলিয়ায় এই রঙের উৎসব পালিত হয় গোল্ড কোস্টে, আয়োজিত হয় এক দৌড়। অস্ট্রেলিয়াতে ভারতীয় জনসংখ্যা বিশাল। তাই অস্ট্রেলিয়া সেই বহু দেশের মধ্যে অন্যতম যেখানে রঙের উৎসবটি ভারতের মতোই উৎসাহভরে উদযাপিত হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
উৎসবের নামে কতদিন চলবে নিগ্রহ — রংখেলার সিনেমা ও বাস্তব

Holi Celebration: এখন হোলিতে বক্স, ডিজে অপরিহার্য। এবং পুরনো থেকে নতুন সমস্ত গানই সেখানে চলে।

দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষে ভর্তি। এখানে রঙের খেলা বেশ জনপ্রিয়, সঙ্গে থাকে বনফায়ারের আয়োজন আর গান। আফ্রিকাতে গুজরাতি সম্প্রদায়ের বাস বেশি। সেখানে রঙের উৎসবটি স্বাভাবিকভাবেই জমাটি হয়ে ওঠে।

তামিল সিঙ্গাপুরের জাতীয় ভাষাগুলির মধ্যে অন্যতম। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, বৈচিত্র্যময় এই দেশের ভারতীয় জনসংখ্যা কতখানি! সিঙ্গাপুর নিজেও বেশ রঙিন দেশ, ফলে সিঙ্গাপুরের স্থানীয়রা রঙের উৎসব পুরোদমে উপভোগ করেন। জলে রং গুলে তা দিয়ে অন্যকে স্নান করিয়ে দেওয়া ভারতের অলিগলির মতোই এখানেও সমান জনপ্রিয়। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির পড়ুয়াদের মধ্যে এই ভারতীয় উৎসব উদযাপনের হিড়িক রয়েছে বেশ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভাদু উৎসব

স্প্যানিশ শহর বার্সেলোনাতে রঙের উৎসব এতটাই স্বাভাবিক একটি ঘটনা যে তাকে দোলের থেকে পৃথক করতে পারাটাই দুষ্কর। বার্সেলোনার ভারতীয়রা এবং স্থানীয়রা একই সঙ্গে রঙের উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। স্পেনের অবশ্য নিজস্ব দোল খেলা রয়েইছে। সিনেমার সূত্রে সেই উৎসবের সঙ্গে অল্পবিস্তর সকলে পরিচিতও। টমাটিনা উৎসব এমন এক বিচিত্র উৎসব যেখানে যেখানে রঙের পরিবর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা টমেটো দিয়ে রঙ খেলেন।

কানাডা শহরের পঞ্জাবি জনসংখ্যার পরিমাণ বিপুল! ভ্যাঙ্কুভারের ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা কলেজের বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অংশ করে তুলেছেন দোল উৎসবকে। দোল কানাডায় ভারতীয় সম্প্রদায়ের এক উল্লেখযোগ্য উৎসব।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।