অঙ্কে ঝুড়ি ঝুড়ি ভুল! বুথফেরত সমীক্ষা কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

Exit Polls 2024: এবারেও একাধিক এগজিট পোলের ভুলভ্রান্তি নজরে এসেছে এর মধ্যেই। সে সব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শুরু হয়েছে জোর হাসাহাসিও।

Sohini Das
৩ মিনিট
অঙ্কে ঝুড়ি ঝুড়ি ভুল! বুথফেরত সমীক্ষা কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

কে বসতে চলেছে দেশের মসনদে? লোকসভা নির্বাচনের সাত দফা ভোটগ্রহণের পর আপাতত গোটা দেশের চর্চার বিষয় একটাই। ইতিমধ্যেই সামনে আসতে শুরু করেছে একের পর এক বুথ ফেরত সমীক্ষা। প্রায় সমস্ত বুথ ফেরত সমীক্ষাই বলছে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের কথা। গোড়া থেকেই চারশো পারের কথা বলতে দেখা গিয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। সত্যিই কি লোকসভা ভোটে তেমনটাই ঘটতে চলেছে। অক্ষরে অক্ষরে ফলে যেতে চলেছে বুথ ফেরত সমীক্ষার সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণী?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সব সময় যে বুথ ফেরত সমীক্ষা একেবারে ফলে গিয়েছে তা কিন্তু নয়। ইতিহাসে বহু বার ফেল করেছে এই এক্সিট পোল। ২০০৪ সালের বুথ ফেরত সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, ২৪০ থেকে ২৭৫টি আসনের সংখ্য়াগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে অটলবিহারীর বিজেপি সরকার। তবে ভোটের রেজাল্ট হাতে এলে দেখা যায়, কংগ্রেস ও তাঁর সহযোগীরা ২১৬টি আসনে জিতে যায়। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-ই জিতবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়। জেতেও বিজেপি। কিন্তু এগজিট পোল কিন্তু অক্ষরে অক্ষরে মেলেনি। এগজিট পোলগুলি বলেছিল ২৬১ থেকে ২৮৯ পাবে বিজেপি। কিন্তু আসলে দেখা যায় ৩৩৬টি আসন পেয়ে বিপুল ভোটে জিতে যায় এনডিএ। এরকম উদাহরণ ঝুড়ি ঝুড়ি রয়েছে। ২০২১ সালে বাংলায় এগজিট পোলে যা যা ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, তার ধারকাছ দিয়েও যায়নি ভোটের ফলাফল।

এবারেও একাধিক এক্সিট পোলের ভুলভ্রান্তি নজরে এসেছে এর মধ্যেই। সে সব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শুরু হয়েছে জোর হাসাহাসিও। আসুন দেখে নেওয়া যাক, তেমনই কিছু বুথ ফেরত সমীক্ষার ভুলভ্রান্তি। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম আজতকে দেখানো হয়েছে, তামিননাড়ুতে ১৩ থেকে ১৫টি আসনে জিততে চলেছে নাকি কংগ্রেস। অথচ বাস্তবে দেখা গিয়েছে, কংগ্রেস সেখানে দাঁড়িয়েইছে ৯টি আসনে। যা নিয়ে জোর সমালোচনা সোশ্যাল মিডিয়ায়।

Who is going to tell " Papa ki Pari "

Congress is fighting on 9 seats &

They are giving 13-15 seats to INC😂

This is"Reliability"of their

😂

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিজেপি না ইন্ডিয়া, দেশের রাশ শেষমেশ কার হাতে?

Lok Sabha Election Exit Poll: ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের পরম্পরা মেনেই ২০২৪ লোকসভা ভোটেও যে ফের ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে এনডিএ, সেই ভবিষ্যদ্বাণী করছে বুথফেরত অধিকাংশ সমীক্ষাই।

— Harmeet Kaur K (@iamharmeetK)

রাজস্থানে লোকসভা আসনই রয়েছে মাত্র ২৫টি। এদিকে নিউজ২৪ সংবাদমাধ্যম বলছে, সেখানে নাকি ৩৩টি আসন পেতে চলেছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। বুথ ফেরত সমীক্ষা যে অঙ্কে বেশ খানিকটা ভুল করে ফেলেছে গোড়াতেই, তা পরিষ্কার।

राजस्थान में केवल 25 लोकसभा सीटें हैं।

आपका निष्पक्ष News24 भाजपा गठबंधन को 33 सीटें दे रहा है।

— Priyanshu Kushwaha (@PriyanshuVoice)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২৯২টিরও বেশি আসনে জিতছে জোট 'ইন্ডিয়া'! কীসের ভিত্তিতে বলছেন খাড়্গে?

INDIA Bloc Exit Poll: গত ১ জুন মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাড়িতে বৈঠকে বসেছিল জোট ইন্ডিয়া। যেখানে আমন্ত্রিত ছিল সবক'টি শরিক দলই। সেখানেই এই লোকসভা ভোট নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখায় খাড়্গেকে।

অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া নামে একটি এগজিট পোলের হিসেব বলছে, বিহারে ৬টি আসনে জিততে চলেছে রামবিলাস পাসোয়ানের লোকশক্তি পার্টি। অথচ সেখানে মাত্র পাঁচটি আসন থেকেই দাঁড়িয়েছে তারা। শুধু কি তাই, কংগ্রেস তামিলনাড়ুতে ৯টি আসনে দাঁড়ালেও জিতছে ১৫টি আসনে, এমনই দাবি অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ও একনাথ শিন্ডের শিবসেনা, দুই দলকেই ১১টি করে আসন দিয়েছে সি-ভোটারের সমীক্ষা। যেখানে অধিকাংশ আসনেই দুজনে লড়ছে একে অপরের বিপরীতে।

Thread

Flaws in fake

1.Axis My India giving 6 to LJP in bihar who is contesting only 5 seats

2.Axis My India giving 15 to INC in TN who is contesting only 9 seats

3.C Voter giving 11 seats each to SS(UBT) & SS(EK) when both are against each other on many seats

— RHN (India Ka Parivar) (@__nrhn2)

জি নিউজের এক্সিট পোল বলছে, হরিয়ানায় ১৬ থেকে ১৯টি আসনে জিততে চলেছে এনডিএ। যেখানে তারা লড়ছেই মাত্র দশটা আসনে। হিমাচলে চারটি আসনে লড়লেও বিজেপি জিতছে ৬-৮টি আসনে। রসিক নেটিজেনদের বক্তব্য, এ ভাবে তো বুথ ফেরত সমীক্ষাকারী বিজেপিকে পাঁচশো আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ফেলবে।

*Zee News exit poll*

Haryana: NDA is winning 16-19 out of total 10 seats.

Himachal Pradesh: NDA is winning 6-8 out of total 04 seats.

Aise to ye 500 paar kara denge.

— PuNsTeR™ (@Pun_Starr)

এই সব ভুলভ্রান্তিতে ভরা এক্সিট পোল নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ কেউ এসব দেখেশুনে বলছেন, আদৌ বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গড়ার যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে বেশিরভাগ বুথ ফেরত সমীক্ষাগুলি, তা কি আদৌ মিলতে চলেছে ২০২৪ লোকসভা ভোটে। দেশের ১৮তম লোকসভা নির্বাচনের ফলঘোষণা আগামী ৪ জুন। সেদিনই অবশ্য দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে এই সমস্ত খুঁটিনাটি।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।