খাঁচাবন্দি জীবন, রান্নাঘরে বারুদের গন্ধ! কেমন আছেন কাশ্মীরের মেয়েরা?

সীমান্তের 'জুমরাতে' কারফিউ নেমে আসে এখানে, মানচিত্রের রাজনীতিতে রান্নাঘরে পৌঁছে যায় বন্দুকের নল। হাতরুটিগুলো পুড়ে খাক হয়, আধার নম্বরের মতো চওড়া হয় ভাগ্যের পরিহাস।

Panchanon Podder
৪ মিনিট
খাঁচাবন্দি জীবন, রান্নাঘরে বারুদের গন্ধ! কেমন আছেন কাশ্মীরের মেয়েরা?

বিস্তীর্ণ চারণভূমি। রকমারি সবুজে আচ্ছন্ন ভূস্বর্গ। হলদে, সবুজ, বেগুনি, নাম না-জানা সব ফুলের শামিয়ানা। যেন সেই সাতশো বছর আগের আমির খসরুর ফেলে যাওয়া কাশ্মীর।

তরুণী আপন মনে শুকনো ভুট্টাগাছের গোড়ায় কাস্তে চালাচ্ছিলেন। মেঘের চিবুক থেকে রোদ পড়ছিল তাঁর গা বেয়ে। মাথায় ফিরোজা ওড়না, নীল সালোয়ার-কামিজ মিশে গিয়েছে সবুজের গালিচায়। কাছে যেতেই মুখটা বেশি করে ঢেকে নিলেন। ছবি তুলতে গেলেও বাধ সাধলেন প্রথমে।পাহাড়ের সিলুয়েট বেয়ে তখন বিকেলের নামাজের শব্দ ভেসে আসছে। শেষমেশ যখন কথা বলা গেল, ততক্ষণে সূর্যের রং করমচা। জানলাম একদম পাশেই লাইন অফ কন্ট্রোল। ওই দূরে দেখা যাওয়া পাহাড়টার দেশ পাকিস্তান।

আফসানাদের ফেসবুক প্রোফাইল আছে, কিন্তু বেনামী। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজদের ছবি দিতে পারেন না ওঁরা। ভয় পান, যদি তাঁদের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। আর তারপরেই পাড়াপড়শির কাছে মুখ দেখানো দায় হবে। নিকাহ হতে গিয়ে চরিত্র নিয়ে টানাটানি পড়বে। তাই আফসানার ফেসবুক প্রোফাইল পিকচারে পছন্দের দিশা পাটানির ছবি। অনেকে তো নিজের নামটুকুও রাখেন না নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে। মাল্টিপ্লেক্সের ভিডিও দেখেছেন ইউটিউবে, তবে চাক্ষুষ হয়নি। সরকারি কলেজ রয়েছে, তবু মাদ্রাসায় যেতে বাধ্য হন প্রতিদিন। নামাজের সময় মাথায় কাপড় চড়ে, ঘরের বাইরে বেরোলে মুখ ঢেকে যায় ধর্মের কালো কাপড়ে। মে থেকে সেপ্টেম্বর অবধি চলে চাষবাস। পাহাড়ের ঢালে ভুট্টা, জব, বাজরা, আখরোটের চাষে পুরুষদের সঙ্গে হাত লাগান মেয়েরাও। নভেম্বর পড়লেই বরফ পড়তে শুরু করে। ভারতের শেষ গ্রাম 'গুরেজ' এপ্রিল পর্যন্ত মোটামুটি বরফের চাদরেই ঢাকা থাকে। বাকি সময় চলে 'খেতিবাড়ি', সঙ্গে চলে শীতের মরশুমের জন্য শুকনো খাবার, জ্বালানির জন্য কাঠ-পাতা মজুত করা। এখানে চিনির দাম সাড়ে তিনশো টাকা প্রতি কিলো, তাই চায়ে নুন দিয়ে খাওয়াটাই এখানকার ট্র্যাডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যে আখরোটের দাম আমাদের শহরতলিতে প্রায় বারোশো টাকা কেজি, সেই আখরোট ওরা তিনশো টাকা কেজি পাইকারি দরে বিক্রি করেন।

কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা উঠে যাওয়ার পর যাঁরা কাশ্মীরে জমি কিনবেন বলে উঠে পড়েছিলেন, কিংবা যাঁরা ঠিক করেছিলেন কাশ্মীরের সুন্দরী কোনও মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে আনবেন; তাঁরা কি জানেন এই মানুষগুলোর জীবনযাপনের চিত্রনাট্য? ইন্টারনেটে খাবার অর্ডার করে টেলিভিশনের প্রাইমটাইম ডিবেটে যাঁরা কাশ্মীরিয়তের সার্টিফিকেট দিলেন, তাঁরা কি জানেন, এ-রাজ্যের একটা বিস্তীর্ণ অংশের মানুষ আজও ন‍্যূনতম ইলেকট্রিসিটির আওতার বাইরে, শহরে পৌঁছনোর মতো দিনে একটিমাত্র বাস, সেটাও চালকের মর্জিমাফিক চলে। এ-গ্রাম থেকে ও-গ্রাম যেতেও প্রয়োজন হয় আধার কার্ডের।

জানতে চেয়েছিলাম, কলকাতা গিয়েছেন কখনও? উত্তর এল, 'কাভি শ্রীনগর হি নেহি গায়ি‌। আউর কালকাত্তা!' তারপর 'নামকিন চা'-এ একটু গলা ভিজিয়ে ফের হাতে কাস্তে ধরলেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেমন আছেন তেভাগার শেষ জীবিত সৈনিক?

বয়সজনিত কারণে অবিভক্ত দিনাজপুরে তেভাগার শেষ জীবিত এই সৈনিক খুব বেশি কথা বলতে পারেন না। মাঝেমধ্যে চিনতে পারেন না নিজের মানুষজনকেও।

জগতের বাহারের মাঝে একটুকরো অন্ধকারে এভাবেই স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর উদযাপন করছে কাশ্মীরের মেয়েরা। আধুনিকতার লেশমাত্র নেই এখানে। একদিকে পরিবার-সমাজের বেড়াজাল, অন্যদিকে রাষ্ট্রশক্তির প্রহরা। এই কি 'ট্রিস্ট উইথ ডেস্টিনি'? উত্তর মেলে না।

সীমান্তের 'জুমরাতে' কারফিউ নেমে আসে এখানে, মানচিত্রের রাজনীতিতে রান্নাঘরে পৌঁছে যায় বন্দুকের নল। হাতরুটিগুলো পুড়ে খাক হয়, আধার নম্বরের মতো চওড়া হয় ভাগ্যের পরিহাস। মাসের পর মাস ইন্টারনেট বন্ধ থাকে, কারা যেন ইচ্ছে করে নিভিয়ে দেয় সোলার সিস্টেমের আলো। মনে পড়ে যাচ্ছিল, 'দ‍্য ইকোনমিক টাইমস'-এর সাংবাদিক অরবিন্দ মিশ্রর বর্ণনায় কাশ্মীরি তরুণী নাফিসার কথা।

ইয়া আল্লাহ! যা কিছু আমাদের ওপর হচ্ছে তা যেন অন্য কারও ওপর না হয়, শুধু তুমি এমন একটা কিছু করে দাও, যাতে গোটা পৃথিবী কিছুদিনের জন্য নিজেদের ঘরে বন্দি হয়ে থাকতে বাধ্য হয়, সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়, থেমে যায়। তাহলে হয়তো দুনিয়া এটা অনুভব করতে পারবে যে, আমরা বেঁচে আছি কেমন করে!

তবু ওরা বুরখা আকাশে উড়িয়ে দিতে পারেননি ধর্মের ধ্বজাধারীদের চোখে চোখ রেখে। চিৎকার করেও হার মানতে হয়েছে রাষ্ট্রশক্তির কাছে।

জানলার কাচের ভেতর থেকেই একটুখানি আকাশ দেখেছে যারা, অঞ্জন দত্তর গানের ভাষায় দেশের সীমারেখা টেনে তারা জানতেই পারেনি কল্পনা দত্ত, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, মালালা ইউসুফজাই-দের গল্প।

শ্রীনগরের ডাল লেকজুড়ে স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর উদযাপন চলছে ভারতীয় সেনার তরফে। একের পর এক শিকারার মাথায় তিরঙ্গা। সুখবিন্দর সিংহের বলিউডি গানে কুমাও রেজিমেন্টের সেনারা পতাকা নেড়ে বোঝাচ্ছেন কাশ্মীরিয়ত মিশছে ভারতীয়ত্বে।

সেই ডাল লেকেরই একটি হাউজবোটের মালকিন রাবেয়া বিবি। গত বছর স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনিই হাল ধরেছেন ব্যবসার। ছেলে জুনায়েদ অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। 'চার ওয়াক্ত নামাজ' পড়া তো দূর অস্ত, দিনে একবারও আজকাল আর হয়ে ওঠে না। সারাদিন ধরে ট‍্যুরিস্টদের ফরমাইশ, নৌকো চালিয়ে গিয়ে বাজার-হাট করা, বুকিং-সংক্রান্ত খুটিনাটি, রান্নাবান্না সমস্ত কিছু একা হাতেই সামলান। অধুনা ইন্টারনেট ট্র‍্যাভেল ব্যবসাতেও সড়গড় হয়েছেন। ফেসবুকে ছবি ছাড়েন হাউজবোটের, আগত ট‍্যু‌রিস্টদের রিভিউ দিতে বলেন। আর এই সবকিছু করতে গিয়ে আজকাল আর হয়ে ওঠে না নিয়মমাফিক জুম্মার নামাজ, দল বেঁধে কোরান শরিফের পাঠ। মাথার কাপড়ও কখনও কখনও সরে যায়। আর তাতেই জোটে পরিবারের ভর্ৎসনা। দোকান-বাজারে গেলে একটু বাঁকা চোখে তাকান পড়শিরা। স্বামীর কবরে মাটি দিয়ে কেউ বলেছিল, হাউজবোট বেচে দিয়ে বাপের বাড়ি চলে যেতে, কেউ আবার বলেছিল নতুন বিয়েতে বসতে। কিন্তু রাবেয়া সেসব কথায় কান পাতেননি। সমাজ এবং ধর্মের চিরাচরিত নামাবলিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করে তিনি ও তাঁর হাউজবোট গুগুল-এ রোজ রোজ ফাইভ স্টার রেটিং পাচ্ছেন। বেহেস্তের উপত্যকায় এভাবেই চলছে রাবেয়াদের স্বাধীনতার উদযাপন। সবাই শেহলা রশিদ হন না, যে বুরখার কাপড় উড়িয়ে দিয়ে দিল্লির জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন। কিন্তু কেউ কেউ রাবেয়া হন, যাঁদের সংগ্রাম গল্পগাথা হয়।

স্বাধীনতার সঠিক মূল্যায়ন পণ্ডিত নেহরু-র ভাষায় 'ট্রিস্ট উইথ ডেস্টিনি' কি না জানা যায় না, তবু কারগিলের প্রত্যন্ত গ্রামে পনেরো কিলোমিটার পায়ে হেঁটে রোজ যে মেয়েটা স্কুলে পড়াতে যান, যিনি ওই মেয়েগুলোর মনে চাঁদে পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন বুনলেন, তাঁর নাম কল্পনা চাওলা হোক।

কিংবা যে মহিলা ডাক্তার ও তাঁর সহকর্মীরা সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে অগ্রাহ্য করে স্যানিটারি ন্যাপকিনের প্রচার চালাচ্ছেন কাশ্মীরজুড়ে, তাঁদের নাম হোক কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়।

লিখেছেন
Panchanon Podder
Panchanon Podder
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?