বিজ্ঞানের শ্রাদ্ধ, ইতিহাসের অন্তর্জলি যাত্রা! সৌজন্যে বিজেপি

BJP and Science : কোভিড ঠেকাতে গো-মূত্র পানের দাওয়াই দেয় বিজেপি, আবার সেই বিজেপিই ভ্যাকসিনের গর্ব করে মোদিজির ঢালাও প্রশংসা করে।

সুশান্ত মণ্ডল বাঙালি দুধবিক্রেতা। ডানকুনিতে বাড়ি। কুড়িটা গরু আছে। একদিন গরু সমেত হাজির হলেন সোনা জমা রেখে ঋণ দেয় এমন একটি ফাইনান্স কোম্পানিতে। সুশান্তর দাবি, গরু বন্ধক রেখে তাঁকে লোন দিতে হবে। খুবই আজগুবি ঠেকছে? মূর্খ ভাবছেন বা নেহাত পাগল? তাহলে এই মূর্খামি বা পাগলামির অনুপ্রেরণা কে বা কারা? সুশান্তর এই আজব দাবির গজব প্রেরণাদাতা কিন্তু আমাদেরই রাজ্যের এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি দিলুদা, সকলের প্রণম্য শ্রী দিলীপ ঘোষ।

দিলীপ ঘোষ বলেন, আর দিলীপ ঘোষের দল ভারতীয় জনতা পার্টি বিশ্বাস করে যে গরুর দুধে সোনা আছে। এমন 'অ্যাসেট' ব্যাঙ্কে রেখে লোন চাওয়া কি তাই সত্যিই অস্বাভাবিক? দেশের শাসকদল বলছে, গরুর দুধে সোনা পাওয়া যায়, বলছে গোমূত্র সর্বপীড়ানাশক! দেশ একদিকে চাঁদে যায় অন্যদিকে গোমূত্রও পান করে। বাংলায় একটা প্রচলিত প্রবাদ আছে, এক মণ দুধে এক ফোঁটা চোনা। চোনা অর্থাৎ গোমূত্র। মানে খাঁটি দুধে মাত্র এক ফোঁটা চোনা পড়লে তা পানের অযোগ্য। দিলীপ ঘোষেদের টোটাল ফুড ফেল।

এই যে বিজ্ঞান-যুক্তির সাড়ে সর্বনাশ করে একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো করে ইতিহাস লিখছে, বিজ্ঞান গড়ছে, এই গরুকুলের, থুড়ি গুরুকুলের যিনি কুলশ্রেষ্ঠ তিনি তো এনটায়ার পলিটিক্যাল সায়েন্সে মাস্টারস্ট্রোক মেরেছেন। নর্দমা থেকে রান্নার গ্যাস আর রেডার থেকে বাঁচতে মেঘের অমোঘ থিয়োরেম তো তাঁরই সৃষ্টি।

বিজেপি প্রচার করে বালক মোদিজি পুকুর থেকে কুমিরছানা ধরে এনেছিলেন। বিজেপি প্রচার করে গাই হামারি মাতা হ্যায়। তো এই গো-মায়ের মানব সন্তানরা যারা ইস্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি থেকে ডিগ্রি নিয়ে বিজ্ঞানচর্চা করবেন ভাবেন, তারা ঠিক কোন দিশাতে হাঁটবেন? ভারতীয় জনতা পার্টির নেতারা বলে দিয়েছেন, গণপতি গণেশ প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছিলেন। এ যুগের শল্যচিকিৎসকরা যতই মানুষের ভোল পাল্টে দেওয়ার গর্ব করার চেষ্টা করুন না কেন, গণেশ সেসব কবেই করে ফেলেছেন।

মহাভারতের যুগে ইন্টারনেট স্যাটেলাইটও ছিল বলে বিজেপির নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন, দিন শেষে রথী-মহারথীরা ল্যাপটপে হাইলাইটস দেখতেন। ফুটওয়ার্কে ভুল থাকলে শুধরে নিতেন। খামোখা এখন চন্দ্রযান নিয়ে এত যে আনন্দের কী আছে বোঝা দায়!

আমাদের দেশ আসলে মহাভারতের সময় ইন্টারনেট চালু করে আর ২০১৯ সালে বন্ধ করে দেয়। কাশ্মীরকে দেশের অংশ বলে আসলে আরও আরও একা করে রেখে দেওয়া হয় যুগের পর যুগ। পোস্ট ট্রুথ রাজনীতি আসলে নীতি, আদর্শ, তথ্য, সত্য যাচাই, প্রমাণ এসবের ধার ধারে না। ক্ষমতার কুর্সি ধরে রাখতে এই রাজনীতি মানুষকে ভুলিয়ে রাখতে চায়। আর তাই ডারউইনের বিবর্তনবাদের তত্ত্বও ঘেঁটে ঘ হয়ে রাজনীতিবিদদের মুখে ভাষায়।

কোভিড ঠেকাতে গো-মূত্র পানের দাওয়াই দেয় বিজেপি, আবার সেই বিজেপিই ভ্যাকসিনের গর্ব করে মোদিজির ঢালাও প্রশংসা করে। ভ্যাকসিন নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোদিজির প্রচেষ্টাকে কালিমালিপত করার অভিযোগও আনা হয় নিউজক্লিকের বিরুদ্ধে! একই দেশে দুই-ই ঘটে, ঘটছে।

জিন বিজ্ঞান প্রযুক্তির সাহায্যে কর্ণের জন্ম যেমন কুন্তীর গর্ভ ছাড়াই সম্ভব হয়েছিল, আমাদের দেশে ময়ূরেরাও ঠিক তেমনই আজীবন ব্রহ্মচারী। বিজ্ঞানকে ঘেঁটে দেওয়া মানে মানুষকে যুক্তি ও সত্য খুঁজতে ভুলিয়ে দেওয়া। তাতে মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে যায়, আনুগত্যকে মানতে ভালোবাসে। আস্ত একটা দেশে বিজেপির এই যুক্তিহীনতার চাষ কি সফল হবে তবে? দেখুন বাংলা যা ভাবছে। আজ সন্ধ্যায়। সাংবাদিক, বিশ্লেষকরা কী বলছেন? আজকের পর্ব, বিজ্ঞানের পিতৃশ্রাদ্ধ, ইতিহাসের মাতৃহত্যা। প্রতি সোম, বুধ, শুক্র সন্ধে ৭ টা থেকে - কলকাতা ২৪x৭ এর ইউটিউব চ্যানেল এবং inscript.me এর ফেসবুক পেজে চোখ রাখুন।

More Articles