এই বিশেষ পদ্ধতিতে বাগান করলে পাওয়া যাবে মানসিক শান্তি, বাড়বে স্মৃতিশক্তি

ভারতে হিলিং গার্ডেন সম্পর্কে মানুষের বিশেষ ধারণা না থাকলেও, পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশগুলিতে কিন্তু অনেক বছর ধরেই এই বাগানের বেশ প্রচলন রয়েছে।

Arunima Mukherjee
৫ মিনিট
এই বিশেষ পদ্ধতিতে বাগান করলে পাওয়া যাবে মানসিক শান্তি, বাড়বে স্মৃতিশক্তি

সম্প্রতি কেরল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কারিয়াভাট্টম’ ক্যাম্পাসের দু’তলায় মাত্র ৫০ বর্গফুট জায়গায় একটি সুন্দর বাগান তৈরির কথা সামনে এসেছে। লাইব্রেরির পাশে এই ছোট্ট বাগানটি বানিয়েছেন রেশমা পিয়ার। তিনি বর্তমানে এই ক্যাম্পাসে বাড়ির অভ্যন্তরীণ বায়ু পরিশোধনের ওপর গবেষণা করছেন এবং সেই সূত্রেই ক্যাম্পাসের স্বল্প পরিসরে তৈরি করেছেন এই সবুজ ক্ষেত্রটি। এই ধরনের বাগানকে বলা হয়ে থাকে ‘হিলিং গার্ডেন’।

রেশমা জানান, তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখেছেন, এমন বহু ইনডোর প্ল্যান্ট রয়েছে, যা এয়ার ফিল্টারের মতো কাজ করে বাড়ির ভেতর জমে থাকা দূষিত গ্যাস এবং ফর্মালডিহাইড দূর করতে সক্ষম। এর ফলে একদিকে যেমন অন্দরের দূষণ কমে, তেমনই আবার অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। রেশমা আরও বলেন, আমাদের দেহের ২০ শতাংশ অক্সিজেন মস্তিষ্কের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে‌। তাই ঘরের চারদিকের বায়ু যদি দূষণমুক্ত থাকে, তবে তা সামগ্রিকভাবে শরীর এবং মস্তিস্ক, উভয়ের জন্যই উপকারী।

ভারতে হিলিং গার্ডেন সম্পর্কে মানুষের বিশেষ ধারণা না থাকলেও, পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশগুলিতে কিন্তু অনেক বছর ধরেই এই বাগানের বেশ প্রচলন রয়েছে। এই হিলিং গার্ডেন যে শুধুমাত্র অন্দরের বায়ু পরিশোধনের জন্য ব্যবহৃত হয়, তা একেবারেই নয়। বায়ু শোধনের পাশাপাশি এই বাগানের বিশাল এক থেরাপেটিক গুরুত্ব রয়েছে। এই বাগান শারীরিক নিরাময়ের সঙ্গে সঙ্গেই মানসিক নিরাময়েও সমানভাবে কাজ করে। চাপ কিংবা উদ্বেগ কমানোর পাশাপাশি ‘হিলিং গার্ডেন’ মানুষকে মুক্তচিন্তার অবকাশ দেয়, এছাড়াও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা নেয় এবং নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর উন্নত করে, যা নিউরোট্রান্সমিশনকে তরান্বিত করতে সাহায্য করে আর সেই কারণেই বিদেশের হাসপাতাল, নার্সিং হোম, মনোবিদ অথবা মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের চেম্বারে প্রায়শই এই ধরনের একটি বাগানের দেখা মেলে।

বর্তমান সময়ে শহরমুখী মানুষেরা অভাব এবং স্বভাব – দুই কারণে বাসস্থান বলতে ফ্ল্যাটকেই বেছে নেওয়া হয়। বাগান করার জন্য তাদের কাছে উপায় বলতে রয়েছে একচিলতে ব্যালকনি। চাইলেই কিন্তু নিজের ফ্ল্যাট বাড়িতে এরকম একটি ‘হিলিং গার্ডেন’ প্রস্তুত করা যেতে পারে। তবে একটি আদর্শ ‘হিলিং গার্ডেন’-এ গাছপালার পাশাপাশি আরও কিছু উপকরণের প্রয়োজন হয়ে থাকে।

‘ব্লু মাইন্ড’ থিওরি অনুসারে, জলের শব্দ মানসিক চাপ কমাতে সক্ষম, তাই আপনি যদি এইরকম একটি বাগান নির্মাণে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন তবে, ছোট্ট একটা ঝরনার ব্যবস্থাও কিন্তু করতেই হবে। বাগানের কোনও এক স্থানে একটি ‘উইন্ডচ্যাম’ ঝোলাতে পারেন, কারণ এই ধরনের মৃদু শব্দ মনকে শান্ত করতে সহায়ক।

বাগানের কিছুটা অংশে অথবা জায়গা কম থাকলে গোটা বাগানজুড়েই নুড়ি পাথর বিছিয়ে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে নুড়িপাথরের ওপর দিয়ে যখন কোনও মানুষ হেঁটে বাগানে প্রবেশ করবেন অথবা পাথরে পা রেখে বাগানে বসবেন, তখন তিনি একটি আকুপাংচার পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত হবেন, যা তার নিউরো-সিস্টেমকে উন্নত করবে। এই পদ্ধতিকে আবার আর্থিং বা গ্রাউন্ডিং বলা হয়। এর ফলে মানুষের শরীর এবং পৃথিবীর মধ্যে এক সংযোগের সৃষ্টি হয় যা ঘুমের উন্নতি ঘটায়, নানা অঙ্গের ব্যথা কমায়, রক্তের সান্দ্রতা হ্রাস করে এবং কার্টিসল ছন্দকে বজায় রাখে।

যে গাছ ছাড়া এই বাগান একেবারেই অপূর্ণ, এবার জেনে নেওয়া যাক সেই গাছের কথাই।

বাঁশ গাছ

ঘর সাজানোর জন্য এই বাঁশ গাছ এখন কম-বেশি সব মানুষের ঘরেই দেখা যায়। বিজ্ঞান বলছে, এই বাঁশ গাছ বাতাসের দূষিত কণা টোলুইন, টক্সিন বেঞ্জিন এবং ফর্মালডিহাইডকে শোষণ করে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা প্রচুর গুণ বৃদ্ধি করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রসৈকতে বসে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' করতে পারেন আপনিও!

পৃথিবীর অনেক দেশই, তাদের দেশে নির্দিষ্ট সময় অবধি থাকার ভিসা প্রদানের মাধ্যমে, সেখানে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর সুবিধে দিচ্ছে। এই নতুন ধরণের কনসেপ্টের নামই হল ‘ডিজিটাল নোমাড’। ‘নোমাড’ কথাটির অর্থ হল যাযাবর।

স্পাইডার প্ল্যান্ট

এই গাছটি খুব কম আলোতেই সালোকসংশ্লেষ করতে পারে, তাই যে কোনও পরিস্থিতিতেই অক্সিজেন সরবরাহ অব্যহত থাকে। এছাড়াও, বাতাস থেকে স্টাইরিন কিংবা গ্যাসোলিনের মতো টক্সিন শুষে নিতেও সক্ষম এই স্পাইডার প্ল্যান্ট।

স্নেক প্ল্যান্ট

নাসা দ্বারা স্বীকৃত এই গাছ দিনের বেলা তো বটেই, রাত্রিবেলাতেও অক্সিজেন ছড়াতে সক্ষম হয়। স্নেক প্ল্যান্ট যেমন ঘরে জায়গাও কম নেয় তেমনই আবার এর পরিচর্যাও তেমন করতে হয় না বললেই চলে। শোওয়ার ঘরে রাখার জন্য এই গাছ একেবারে আদর্শ। অক্সিজেন সরবরাহ ছাড়াও বাতাস থেকে ট্রাইক্লোরোথাইলিন ও ফর্মালডিহাইড শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে।

অ্যালোভেরা

বাংলার ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা গাছের অক্সিজেন উৎপাদনের ক্ষমতা অন্যান্য সকল ইনডোর প্ল্যান্টের থেকে বহুমাত্রায় বেশি। ঘরের ভেতরের কার্বন-মনো অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং ফর্মালডিহাইডের মতো টক্সিন শোষণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে ঘৃতকুমারী, এমনকী, একসঙ্গে ন'টি বায়ু শোধনকারী যন্ত্রের ন্যায় কাজ করতেও সক্ষম এই গাছ।

মানি প্ল্যান্ট

প্রায় সকলের ঘরেই কম-বেশি এই গাছটির দেখা মেলে। ফেনশুই মতে মানি প্ল্যান্ট নাকি ঘরে থাকা শুভ। এছাড়াও, এই ছোট্ট লতানো গাছটি কিন্তু ঘরের কোণে থেকেও দারুণ এয়ার-ক্লিনারের কাজ করে। বাড়িতে দূষিত গ্যাস, বেঞ্জিন, ফর্মালডিহাইড এবং ইথালিনের মতো গ্যাসগুলিকে শোষণে সাহায্য করে থাকে।

আরেকা পাম গাছ

এই গাছটিও ঘরের দূষিত বায়ু পরিশোধনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে আপনার যদি বাড়িতে বড় বাগান করার মতো জায়গা থাকে, তাহালে শুধু ইনডোর প্ল্যান্টেই আটকে না থেকে, আকারে বড় বেশ কিছু গাছ দিয়েও নিজের মতো করে নিরাময় বাগানটি নির্মাণ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে যে গাছগুলি আপনার বাড়ির চারপাশের বায়ু পরিশোধনে অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে থাকবে তার কথাও বলা রইল‌।

অশোক গাছ

যাদের বাড়িতে বড় বাগান করার মতো যথেষ্ট জায়গা রয়েছে, তাঁরা কিন্তু পাঁচিলের এককোণে অথবা বাগানের ঠিক মাঝে অশোক গাছ লাগিয়ে ফেলতে পারে। আকারে খানিকটা বড় হলেও, বসন্তকালে গাছ যখন ভরে থাকবে লাল অশোক ফুলে, তখন আপনার বাগানের শোভা কিন্তু বাড়বে বই কমবে না।

পিপল গাছ

পিপল গাছ সকালবেলা অক্সিজেন ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে আবার রাত্রিবেলাও খানিক পরিমাণে অক্সিজেন উৎপাদনে সক্ষম। প্রাচীনকাল থেকেই হাঁপানি, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়বেটিস অথবা রক্তের বিভিন্ন সমস্যা থেকে আরোগ্য লাভের জন্য মানুষ পিপল গাছের ব্যবহার করে আসছে। আবার পিপল পাতায় রয়েছে ভিটামিন-কে। এই গাছের পাতা দিয়ে সযবৎ বানিয়ে খালি পেটে পান করলে তা শরীর ঠান্ডা করে। বাতাসে চব্বিশ ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহ করতে সক্ষম হওয়ার কারণে শুধু নিজের বাগানেই নয়, আপনার আশপাশের বিভিন্ন স্থানে এই পিপল গাছ রোপণ করলে তা সার্বিকভাবে পরিবেশের উন্নতি ঘটাবে।

নিম গাছ

বনফুলের গল্প যাঁরা পড়েছেন, তাঁদের আর নতুন করে নিমগাছের গুণাগুণ বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। এই গাছের পাতার আকার অপেক্ষাকৃত বড় হওয়ার কারণে অক্সিজেন ত্যাগে এই গাছ অধিক পরিমাণে সক্ষম। এই গাছ আবার গ্রিনহাউস গ্যাস শোষণেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই বাড়ির চারপাশে বিশুদ্ধ অক্সিজেন পেতে বাগানে একটা নিমগাছ লাগাতে ভুলবেন না যেন। এই তালিকায় আরও রয়েছে বট, অশ্বত্থ, জামুন, অর্জুন কি‌ংবা বেলের মতো গাছগুলি। কিন্তু এর মধ্যে বেশিরভাগ গাছই বাড়ির বাগানে লাগানো সম্ভবপর নয়। তবে সুযোগ পেলে এই গাছগুলি আপনার আশপাশের কোনও বড় ফাঁকা জায়গায় লাগিয়ে দিতে পারেন।

শেষে বলার, নিজের সাধমতো বাগান তৈরি করলেই শুধু হবে না, সাধ্যমতো তার পরিচর্যাও করতে হবে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?