তারাপীঠে দেবীকে উৎসর্গ করা হয়..., মহুয়া-বিতর্কে ফিরে দেখা কালীসাধনার উপাচার

পরিচালক লীনা মা কালীকে ধূমপান করিয়ে যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন, তার রেশ চলতে পারে আরও কিছু দূর। তবে তন্ত্রমতে একটা কথা সিদ্ধ যে, মদ, মাংস ছাড়া মা কালীর নৈবেদ্য অসম্পূর্ণ।

tiasa gupta
৪ মিনিট
তারাপীঠে দেবীকে উৎসর্গ করা হয়..., মহুয়া-বিতর্কে ফিরে দেখা কালীসাধনার উপাচার

'কালী’ ছবির পোস্টারে মা কালীকে ধূমপানরত অবস্থায় দেখিয়েছেন পরিচালক লীনা মনিমেকলেই। ২ জুলাই ট‍্যুইটারে এই ছবি তিনি পোস্ট করেন। এরপর এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হতে সময় লাগেনি। এদিকে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, "আমার কাছে মা কালী আমিষ ভক্ষণকারী এবং সুরাপানকারী এক দেবী। কে কীভাবে তাঁর আরাধ্য দেবতার ছবি আঁকবেন, এটা একেবারে তাঁর নিজস্ব বিষয়।" তারাপীঠে দেবী আরাধনা নিয়েও এই প্রসঙ্গে বলেন তিনি। দেখে নেওয়া যাক, তন্ত্রে কীভাবে মা কালীকে পূজা নিবেদন করা হয়।

কালী শব্দটি 'কাল’ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ। পুরাণ মতে, শিবের অপর এক নাম কাল। আবার অন্য ক্ষেত্রে এই শব্দের অর্থ 'কৃষ্ণ’, অর্থাৎ`কালো’ বা 'ঘোর বর্ণ’। মহাকাব্য মহাভারতে যে ভদ্রকালীর উল্লেখ রয়েছে, তা দেবী দুর্গারই অন্য রূপ। মহাভারতে কালরাত্রি বা কালী নামে অপর এক দেবীর উল্লেখ রয়েছে। পুরাণমতে কালীর আট রূপ- দক্ষিণকালিকা, সিদ্ধকালিকা, গুহ্যকালিকা, শ্রীকালিকা, ভদ্রকালিকা, চামুণ্ডাকালিকা, শ্মশানকালিকা ও মহাকালী। তোড়লতন্ত্র অনুসারে কালী ন'প্রকার। যথা, কৃষ্ণকালী, দক্ষিণকালিকা, সিদ্ধকালিকা, গুহ্যকালিকা, শ্রীকালিকা, ভদ্রকালিকা, চামুণ্ডাকালিকা, শশ্মানকালিকা ও মহাকালী। এই রূপভেদে মা কালীর পুজোর ধরনও আলাদা। তবে মা কালীর পুজো মানেই মদ, মাংসের নৈবেদ্য।

শক্তির আরাধনায় প্রধান আখর পাঁচ `ম’। এমনটা বলেন ব্রহ্মনিষ্ঠ সাধকরা। কিন্তু কী এই পাঁচ ম- যা ছাড়া কালীপুজোই হবে না। নির্বাণতন্ত্রে বলা হয়েছে, এই পাঁচ 'ম' হল– মদ্য, মাংস, মৎস্য, মুদ্রা এবং মৈথুন। এর মধ্যে মদ্য কি সুরা? এই নিয়ে মতভেদ আছে। অনুকল্পতত্ত্বে মদ বলতে কাঁসার থালায় নারকেলের জল বা তামার পাত্রে দুধের কথা বলা হয়। দিব্যতন্ত্রবলে, মদ নাকি ব্রহ্মরন্দ্রে সহস্রপদ্মস্থ চন্দ্রকলা থেকে নির্গত অমৃতধারা। আসা যাক মাংসের কথায়, প্রশস্ত্রতন্ত্র বলে, ছাগ, মেষ, সজারু, সারস, হাঁস- এগুলো মাংস হিসেবে বিবেচিত প্রাণী। মাছ বলবে বোঝানো হয় তৈলাক্ত বড় মাছকে। এক্ষেত্রে তেলে বা ঘিয়ে ভাজা মাসকলাই, ছোলা এসবকে মুদ্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মৈথুন হলো সাধকের সঙ্গে শিবস্বরূপিনী সাধিকার সংযোগ। যোগিনীতন্ত্রে বলা হয়েছে, রক্তকরবী লিঙ্গপুষ্প আর অপরাজিতা যোনিপুষ্প- এই দুইয়ের সম্মিলনই পঞ্চমতত্ত্বের অনুকল্প।

কালীপুজোয় মদ এবং মাংস- উভয়েরই ব্যবহার রয়েছে। তবে শাস্ত্রে কখনও কালীপুজোতে মদ খাওয়ার কথা বলা হয়নি। বাংলায় মা কালীকে শ্যামাকালী কিংবা দক্ষিণাকালী হিসেবে পুজো করা হয়। মা কালীর বাঁহাতে রয়েছে খড়গ এবং নরমুণ্ড- যা থেকে চুঁইয়ে পড়ছে রক্ত। ডান হাতে রয়েছে বর এবং অভয় মুদ্রা। মা কালীর গায়ের রং ঘন নীল। গলায় রয়েছে নরমুণ্ডের হার। কোমরে রয়েছে নরহস্তের কটিবাস। আর তাঁর বাঁপায়ের নিচে শায়িত শিব। পুরাণে উল্লেখ রয়েছে, তাল, খেজুর-সহ একাধিক গাছ থেকে যে রস নিসৃত হয় সেইটিকে মদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে রামকৃষ্ণ ভাণ্ডারকারের মতে, কালীর অন্য রূপ চামুণ্ডা আদতে মহাভারতের বিন্ধ্য অঞ্চলের অরণ্যচারী উপজাতি সমাজে পূজিতা হতেন। তারা দেবী চামুণ্ডাকে পশু, নরবলি দিয়ে মদ উৎসর্গ করতেন পুজোতে। ঋষি বশিষ্ট বাংলায় মদ-সহকারে তন্ত্রসিদ্ধ দেবী চামুণ্ডার পুজোর প্রবর্তন করেছিলেন। কয়েক বছর ধরে দেবীর উপাসনা করে সিদ্ধিলাভ করতে পারছিলেন না ঋষি বশিষ্ট। অবশেষে বিষ্ণুর নির্দেশে চিনে যান তিনি। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেছিলেন মদ্য, মাংস, মৎস্য, মুদ্রা এবং মৈথুনের সমাহারে তন্ত্রমতে দেবীর আরাধনা করা হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কালীর ধূমপান! কেন বারবার ধ‍র্মীয় ভাবাবেগ নিয়ে দানা বাঁধছে বিতর্ক?

'কালী’ নামক একটি তথ্যচিত্রের পোস্টার নিয়ে তুমুল বিতর্ক। চলচ্চিত্রকার লীনা মনিমেকলেই ২ জুলাই ট‍্যুইটারে এই পোস্টার শেয়ার করেন। তারপর এই নিয়ে উত্তাল হয় দেশ। কী আছে এতে?

কালীর অন্য নাম শ্যামা বা আদ্যাশক্তি। সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু তথা বাঙালিদের কাছে এই দেবী বিশেষভাবে শক্তির দেবী রূপে পূজিতা হন। এছাড়াও বাঙালি হিন্দু সমাজে কালীর মাতৃরূপের পূজা হয়। প্রধানত শাক্ত সম্প্রদায় কালীপুজো করে থাকে। শাক্ত মতে, কালী বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ। হিন্দু সমাজে কালীর মাতৃরূপের পূজা বেশি জনপ্রিয়। ঘরে যে মাতৃরূপের আরাধনা হয়, তা ভয়াল রূপ নয়, বরং মায়ের শান্ত রূপের আরাধনা করা হয়।

ডাকাতির সঙ্গে এক সময় কালীপুজোর বিশেষ যোগ ছিল। রঘু ডাকাত যেমন ল্যাটামাছ পোড়া দিতে মায়ের ভোগ দিত, তেমন তারাপীঠে কালীপুজোয় মা তারার ভোগে দেওয়া হয় শোলমাছ পোড়া। কালীপুজোয় দক্ষিণেশ্বরে মা ভরতারিণীকে পাঁচ রকম মাছের ভোগ নিবেদন করা হয়। পোনা, পার্শে, কই, চিংড়ি, কাতলা- যেটা যেমন পাওয়া যায়। কালীঘাটের ভোগে থাকে তিন রকম মাছ- রুই, ইলিশ, চিংড়ি এবং কচি পাঁঠার মাংস। তারাপীঠে শোল মাছ পোড়া তো বটেই, আরও কয়েকরকম মাছের সঙ্গে বলির পাঁঠার মাংস, কারণবারি, অর্থাৎ মদ নিবেদন করা হয়।

এই ভোগের ধরন বলে দিচ্ছে, কালীপুজোয় আমিষ মোটেই দোষের নয়। আর সেই জন্য বাড়িতে পুজো হোক না হোক, দুর্গাপুজোর অষ্টমী, সরস্বতী পুজো, লক্ষ্মীপুজোতে চরম আমিষভোজী বাঙালিকে যে খিচুড়ি আর লাবড়া খেয়ে কাটাতে হয়, তাঁদের কাছে কালীপুজো এক মোচ্ছব।

মহুয়া মৈত্র আলাদা করে তারাপীঠের কথা উল্লেখ করেছেন। এখানে কীভাবে পুজো হয়?

বীরভূমের তারাপীঠ সতীর একান্ন পীঠের অন্যতম পীঠস্থান। সারা বছর তারা মা-রূপে পূজা পেলেও কালীপুজোর দিন মা কালী রূপে তাঁকে পূজা করা হয়। অমাবস‍্যা তিথি মেনে গভীর রাতে নিশিপুজো হয় তারাপীঠে। কালীকে স্নান করিয়ে নতুন বেনারসি পরানো হয়। দুই বেলা অন্নভোগ দেওয়া হয়। বিশেষ দিনে নিবেদন করা হয় খিচুড়ি, পোলাও, পাঁচ রকমের ভাজা, তিন রকমের তরকারি, মন্দিরের বলির মাংস, পোড়ানো শোল মাছ, চাটনি, পায়েস ও মিষ্টি। সন্ধ্যাবেলায় আরতিতে লুচি, মিষ্টি নিবেদন করা হয় মা কালীকে।

পরিচালক লীনা মা কালীকে ধূমপান করিয়ে যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন, তার রেশ চলতে পারে আরও কিছু দূর। তবে তন্ত্রমতে একটা কথা সিদ্ধ যে, মদ, মাংস ছাড়া মা কালীর নৈবেদ্য অসম্পূর্ণ।

লিখেছেন
tiasa gupta
tiasa gupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।