সন্তানধারণে অক্ষম, অন্য নারীর গর্ভের সাহায্য নিতে যে নিয়মগুলি মানতেই হবে

সারোগেসির বাণিজ্যিকীকরণের ফলে সমাজে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অনেক মহিলাই বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হতেন। ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষত গুজরাতে অনেক গরিব মহিলাই সারোগেসির মাধ্যমে রোজগার করতেন।

Madhurima Pattanayak
৪ মিনিট
সন্তানধারণে অক্ষম, অন্য নারীর গর্ভের সাহায্য নিতে যে নিয়মগুলি মানতেই হবে

দক্ষিণ কেরলের সাবু থমাস এবং জিন জর্জ কিছুদিন আগেই হারিয়েছেন তাঁদের কুড়ি বছর বয়সি কন্যাসন্তান নোভা সাবুকে। প্রথমে কোভিডে আক্রান্ত হয় নোভা, পরে মস্তিষ্কে রক্ত জমে যাওয়াই কাল হয়েছিল। এই দম্পতির জীবন বিধ্বস্ত হয়ে যায় তাঁদের একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর পর। বর্তমানে সাবু থমাসের বয়স বাহান্ন এবং তাঁর স্ত্রী জিন জর্জের বয়স সাতচল্লিশ বছর। মেয়ের মৃত্যুশোক ভুলতে তাঁরা এখন সন্তান চান একটি। এদিকে মেনোপজে়র দরুন জিন জর্জের পক্ষেও সন্তান-ধারণ সম্ভব নয়। এবং সেজন্য তাঁরা একজন মহিলাকে খুঁজছেন, যিনি সারোগেসির মাধ্যমে তাঁদের সন্তানের জন্ম দেবেন।

কিন্তু দক্ষিণ কেরলের এই দম্পতির ক্ষেত্রে বাধ সেধেছে ভারতের নতুন সারোগেসি আইন।

আর এক দম্পতি দুই সন্তানকেই হারিয়েছেন, সেই শূন‍্যতা কাটাতে তাঁদেরও সারোগেসির শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া উপায় নেই। কারণ সেই মহিলার শারীরিক কারণের জন্যেই সন্তানধারণ আর সম্ভব নয়। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে তাঁরা সারোগেসির জন্য চেষ্টা করেন। তাই সেই দম্পতি নিজেদের ডিম্বাণু ও শুক্রাণু দান করেন, যাতে কৃত্রিমভাবে দেহের বাইরে রেখে সেই ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, ভ্রূণ তৈরি করা যায়। ভ্রূণ তৈরিও করা হয় চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে, এবার শুধু একজন মহিলার দরকার, যিনি তাঁর জরায়ুতে ভ্রুণটি ধারণ করে সারোগেট মায়ের ভূমিকা পালন করবেন।

এখানেও বাধ সাধছে নতুন সারোগেসি রেগুলেশন ও অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজিস অ্যাক্ট।

প্রথমেই আসা যাক, সারোগেসি কী, সেই আলোচনায়। সারোগেসির একটি রীতি, যেখানে কোনও দম্পতির সন্তানকে অন্য কোনও মহিলা গর্ভে ধারণ করেন। সন্তান জন্ম নেওয়ার পর, সেই দম্পতির কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় সদ্যোজাতকে।

সারোগেসি দু'টি পদ্ধতিতে করা হয়। প্রথম পদ্ধতিতে সারোগেট মা, অর্থাৎ যিনি সন্তান ধারণ করেন, তাঁর ডিম্বাণুকে কৃত্রিমভাবে নিষিক্ত করা হয় অন্য পুরুষের শুক্রাণু দিয়ে। সেই মহিলার ডিম্বাণু নিষিক্ত হলে, তিনি তাঁর জঠরে সন্তান ধারণ করেন। সন্তানের জন্মর পর সেই সন্তানকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যে দম্পতি সন্তান চেয়েছিলেন তাঁদের কাছে।

দ্বিতীয় পদ্ধতিতে নারীর শরীর থেকে ডিম্বাণু ও পুরুষের শরীর থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করে, শরীরের বাইরে কৃত্রিমভাবে ডিম্বাণু নিষিক্ত করে, শরীরের বাইরে তৈরি হওয়া ভ্রূণটিকে সারোগেট মা হতে ইচ্ছুক এমন মহিলার জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ত্রাসের নাম ডিজিটাল রেপ! নতুন ভারতে কতটা নিরাপদ নারীরা?

‘ডিজিটাল রেপ’ শোনার পরই সকলের মনে হতে পারে, নিশ্চয়ই সোশ্যাল মিডিয়া-সংক্রান্ত অপরাধ। কিন্তু আসলে তা নয়। এই শব্দটির সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার কোনও সম্পর্কই নেই।

দুই ক্ষেত্রেই শুক্রাণু নেওয়া হয় সেই পুরুষের থেকেই, যিনি ও যাঁর স্ত্রী বা সঙ্গী সন্তান পেতে ইচ্ছুক। পাশাপাশি সন্তান পেতে ইচ্ছুক সিঙ্গল ফাদার বা সমকামী পুরুষ দম্পতির মধ্যে থেকে কেউ একজন শুক্রাণু দান করতে পারেন সন্তান গ্রহণ করার জন্য।

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ডিম্বাণু দান করেন, সারোগেট মাদার বাদে অন্য কোনও মহিলা। সেই ডিম্বাণু সন্তানলাভে ইচ্ছুক হবু মা-ও হতে পারেন বা পরোপকারী কোনও মহিলা, যিনি সন্তান চান না, কেবল ডিম্বাণু দান করতে চান।

কিন্তু এখানে বাধা কোথায়? কী বলছে নতুন সারোগেসি রেগুলেশন? দেখে নেওয়া যাক।

প্রথমত, নতুন সারোগেসি রেগুলেশন অনুযায়ী, বিয়ের অন্তত পাঁচ বছরের আগে সারোগেসির সুবিধে পাবেন না কোনও দম্পতি। এখানে স্ত্রীর বয়স পঁচিশ থেকে পঞ্চাশের মধ্যে এবং স্বামীর বয়স ছাব্বিশ থেকে পঞ্চান্ন বছরের মধ্যে হতে হবে। এখানেই শেষ নয়, সারোগেসির জন্য উপযুক্ত হতে গেলে, সেই দম্পতির কোনও সন্তান (জৈবিক, দত্তক এমনকী, সারোগেট সন্তানও না) থাকা চলবে না। তবে কোনও দম্পতির সন্তানের যদি শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা থাকে, বা কোনও জটিল রোগে আক্রান্ত হয় সন্তান, সেক্ষেত্রে তাঁরা সারোগেসির সুবিধে পাবেন।

লিভ-ইন করছেন এমন দম্পতি, বা সিঙ্গল ফাদার যিনি হতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটবে না। সমলিঙ্গে যৌনতা বর্তমানে আইনসিদ্ধ হলেও, সমলিঙ্গে বিয়ে আইনসিদ্ধ এখনও নয় এই দেশে। তাই সমকামী দম্পতিরাও সারোগেসির সুযোগ পাবেন না।

শুধু এখানেই শেষ নয়। নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে কে সারোগেট মা হতে পারবেন, তার ওপরেও। আগে যে কেউ হতে পারতেন সারোগেট মা, এখন ওই দম্পতির নিকট আত্মীয় ছাড়া কোনও মহিলা সারোগেট মাদার হতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, মহিলা যেন বিবাহিত হন এবং তাঁর নিজের একটি সন্তান থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি সেই মহিলার বয়স অবশ্যই পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশের মধ্যে হতে হবে। তিনি জীবনে মাত্র একবারই সারোগেট হতে পারবেন। সারোগেট হওয়ার যোগ্য হতে গেলে তাঁর মানসিক এবং শারীরিক সুস্থতার প্রমাণস্বরূপ সার্টিফিকেট দেখাতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সেই দম্পতির মধ্যে একজনকে প্রজননে অক্ষম হতে হবে এবং অবশ্যই জেলার মেডিক্যাল বোর্ড থেকে যৌন অক্ষমতা প্রমাণকারী সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি, যিনি সারোগেট মা হতে চলেছেন, তাঁর জন্য স্বাস্থ্যবিমা করাতে হবে। এই বিমা যেন তাঁর গর্ভবতী থাকা ও সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরে যদি কোনও স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, সেই সময়ের চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত হয়।

অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজিস বা অ্যাক্ট কী বলছে, সেই বিষয়ে নজর রাখা যাক।

অ্যাক্ট অনুযায়ী সমস্ত ক্লিনিক যেন ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি অফ ব্যাঙ্কস অ্যান্ড ক্লিনিকস অফ ইন্ডিয়া-র অধীনে নথিভুক্ত হয়। পাশাপাশি সেই ক্লিনিকগুলিকে আবশ্যিকভাবে সারোগেটের সুবিধাভোগী দম্পতি ও সারোগেট মায়েদের সম্পর্কিত একটি তথ্যভান্ডার বানাতে হবে। এই ক্লিনিকগুলির রেজিস্ট্রি অফ ব্যাঙ্কস অ্যান্ড ক্লিনিকস অফ ইন্ডিয়া-র অধীনে নথিভুক্ত থাকার মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ ফুরোলে আবার নতুন করে নথিভুক্ত করাতে হবে।

এই ক্লিনিকগুলি একুশ থেকে পঞ্চান্ন বছরের পুরুষদের শুক্রাণু সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে পারবে। অন্যদিকে তেইশ থেকে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সি মহিলাদের ডিম্বাণু সংগ্রহ করতে পারবেন। সেই মহিলাদের আবশ্যিকভাবে বিবাহিত হতে হবে এবং অন্তত এক সন্তানের মা হতে হবে। আর সেই সন্তানের বয়স যেন অন্তত তিন বছর হয়। কোনও মহিলা সারা জীবনে একবারই ডিম্বাণু দান করতে পারবেন ও একসঙ্গে সাতটির বেশি ডিম্বাণু তিনি দান করতে পারবেন না। পুরুষেরা একের বেশি দম্পতিকে শুক্রাণু দান করতে পারবেন না।

এই অ্যাক্টগুলির মূল উদ্দেশ্য হল সারোগেসির বাণিজ্যিকীকরণ রোধ করা। সারোগেসির বাণিজ্যিকীকরণের ফলে সমাজে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অনেক মহিলাই বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হতেন। ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষত গুজরাতে অনেক গরিব মহিলাই সারোগেসির মাধ্যমে রোজগার করতেন। সমাজকর্মীদের মতে, নতুন এই অ্যাক্ট নিষেধাজ্ঞা বাড়ালেও, মহিলাদের ওপর নির্যাতন আটকাবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। শুধু তাই নয়, এক্ষেত্রে মহিলা ও পুরুষ, উভয়েরই অভিভাবক হওয়ার স্বাধীনতা খর্ব হল অনেকাংশে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

করোনা সেরে গেলেও পিছু ছাড়ছে না ক্লান্তি! লং কোভিড নিয়ে নতুন গবেষণায় কী জানা গেল?

Long COVID: করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পরেও অনেকের শরীরে থেকে যাচ্ছে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা। লং কোভিড নিয়ে নতুন মার্কিন গবেষণায় দেখা গেল, তিন বছরে প্রায় অর্ধেক রোগীর উপসর্গ কমেছে এবং এক-চতুর্থাংশ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোন ধরনের উপসর্গ থাকলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? কী বলছে গবেষণা?

কলকাতা বন্দরে উদ্ধার সাড়ে ১৩ কোটি টাকার ই-সিগারেট, শরীরের কী কী ক্ষতি করে এই ইলেকট্রনিক সিগারেট?

E-Cigarette Side Effects: কলকাতা বন্দরে প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট উদ্ধার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর (DRI)। উদ্ধার হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫ কোটি টাকা। ভারতে নিষিদ্ধ এই ইলেকট্রনিক সিগারেট শরীরের কী কী ক্ষতি করতে পারে?

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর হতে পারে?

Fatty liver: ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর? অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে এই পরীক্ষাধীন ওষুধ লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে? প্রাণীর শরীরে আশাব্যঞ্জক ফল মিললেও মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কি প্রমাণিত হয়েছে? ভবিষ্যতে কি গুরুতর ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারবে DT-109?

ইউক্রেনকে বিসর্জন দিয়ে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

Trump Putin relationship: ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতা বর্তমান বিশ্বরাজনীতির জটিল সমীকরণকে নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে?

বাংলার স্বাস্থ‍্যরক্ষায় সরকারি স্বাস্থ্যব‍্যবস্থা সংহত হওয়া জরুরি: অভিজিৎ চৌধুরী

Abhijit Chowdhury Interview: তিনি বাঙালির ‘লিভারের ডাক্তারবাবু’ বলেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন সরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। অবসরের পরেও জড়িয়ে রয়েছেন চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে। সোনারপুরে গড়ে তুলেছেন ‘লিভার ফাউন্ডেশন’। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে তাঁর পরবর্তী স্টেশন ‘স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়’।

হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে কী করবেন? নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর জেনে নিন CPR-এর জরুরি নিয়ম

How to perform CPR: ধরুন, হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। ডাকলেও সাড়া দিচ্ছেন না, স্বাভাবিকভাবে শ্বাসও নিচ্ছেন না। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই। তাহলে, কী করবেন তখন?

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।