জাতীয় পতাকা আর রামধ্বজের গুরুত্ব এবার একই? যে নির্দেশিকা জারি করল প্রশাসন...

Ram Dhwaj and National Flag : রামের ছবি দেওয়া পতাকা বা অন্য কিছু যতক্ষণ না খুলে ফেলা হচ্ছে ততক্ষণ সেগুলি যত্ন সহকারে পরিচালনা করতে হবে।

inscript
৩ মিনিট
জাতীয় পতাকা আর রামধ্বজের গুরুত্ব এবার একই? যে নির্দেশিকা জারি করল প্রশাসন...

জাতীয় পতাকার মর্যাদা রয়েছে। একটি দেশে জাতীয় পতাকা সে দেশের মূল সুরের, দেশের আত্মার প্রতীক। ইচ্ছা করলেই জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা যায় না, জাতীয় পতাকার স্থান আর দলীয় পতাকার স্থান এক নয় দেশে। এতকাল ভারতবর্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সেই পতাকা নামানোর কিছু বিধি ছিল। প্রতি দেশেই থাকে। কিন্তু ২২ জানুয়ারি, বিজেপির কথা মতো নতুন ভারতের জন্ম হয়েছে! নতুন ভারত অর্থাৎ হিন্দুরাষ্ট্র! সেই রাষ্ট্রের লক্ষ্যে যাত্রা যে নানা দিক থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে তার আরেকটি প্রমাণ হলো জাতীয় পতাকার পাশাপাশি রামধ্বজের গুরুত্ব! জাতীয় পতাকার যেমন বিধি আছে, এবার রামধ্বজের জন্যও বিধি আনতে চলেছে প্রশাসন।

নয়া দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এনডিএমসি) বুধবার রামধ্বজ এবং জাতীয় পতাকা যথাযথভাবে ব্যবহারের নির্দেশিকা জারি করেছে। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান এবং আসন্ন প্রজাতন্ত্র দিবসের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আসলে বহুস্থানেই এই রাম মন্দির প্রাণ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষ্যে, জয় শ্রী রাম লেখা গেরুয়া পতাকা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসও হাজির। ফলে জাতীয় তেরঙ্গাও টাঙানো হবে। তাই আবাসিক কল্যাণ সমিতি (RWAs), ব্যবসায়ী সমিতি (MTA), এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের এই দুই পতাকা ব্যবহার ও তা সঠিকভাবে নামিয়ে নেওয়ার নির্দেশিকা জারি হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হিন্দুরাষ্ট্রে ঠাঁই নেই সকলের? কেন রাম মন্দিরে আমন্ত্রিত নন শাহরুখ-সলমান-আমির-দীপিকা-করণ?

SRK-Amir-Salman not invited in Ram Mandir : শাহরুখ-সলমান-আমির, দেশের তিন 'খান' তারকাই বাদ! ধর্মে অন্য বলে?

কর্পোরেশন বলছে, জাতীয় পতাকা ও রামধ্বজ জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে একটি ফোন নম্বর এবং অ্যাপও তৈরি হয়েছে। ওই নম্বরে ফোন করে বা ওই অ্যাপ ব্যবহার করে নাগরিকতার তাঁর এলাকায় রামধ্বজ এবং জাতীয় পতাকা নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে পারেন। নাগরিকদের সেক্ষেত্রে ১৫৩৩ নম্বরে ফোন করতে হবে বা NDMC ৩১১ অ্যাপে লগ ইন করতে হবে এবং পতাকা সংগ্রহের জন্য অনুরোধ নথিভুক্ত করতে হবে।

কর্পোরেশনের তরফে শহরের সাফাই কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে 'পতাকা বিধি' অনুযায়ী জাতীয় পতাকা সংগ্রহ ও নিষ্পত্তি করতে হবে। একইভাবে, রামধ্বজের জন্য সাফাই কর্মীদের যথাযথ পদ্ধতি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ এমন নির্দেশিকা কেন? কর্পোরেশন বলছে, এলাকায় রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠার দিনে মানুষজন যে জয় শ্রী রাম লেখা পতাকাগুলি বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করেছে, ব্যবহার করেছে তা সঠিক নিয়মে খুলে ফেলা দরকার। এই ধর্মীয় পতাকাগুলি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া, ছিঁড়ে রাস্তার ধারে পড়ে থাকাকে ভালো ভাবে দেখা হচ্ছে না।

চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিটিআই) অনুযায়ী, রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষ্যে রাজধানীর ৭০০টি বাজারে ১০ লক্ষ পতাকা স্থাপন করা হয়েছিল। কর্পোরেশন আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে রামের ছবি দেওয়া পতাকা, পোস্টার এবং ব্যানারগুলির উপর নজরদারি রাখতে যাতে সেসব রাস্তায় পড়ে না যায়। খান মার্কেট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন জানাচ্ছে, তারা এই অনুষ্ঠানের জন্য ১৫০টি পতাকা এবং প্রায় ২,০০০ মিটার লম্বা পতাকার সারি টাঙিয়েছিল। পরিবেশবান্ধব বাজার সমিতি হওয়ায় তারা প্লাস্টিকের পতাকা বা অন্য কোনো সামগ্রী কেনেনি। কাপড়ের পতাকায় ব্যবহৃত হয়েছে যাতে পরের বছর ২২ জানুয়ারি এলে সেগুলো ব্যবহার করা যায়। ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন আরও জানিয়েছে, রামের ছবি দেওয়া পতাকা বা অন্য কিছু যতক্ষণ না খুলে ফেলা হচ্ছে ততক্ষণ সেগুলি যত্ন সহকারে পরিচালনা করতে হবে।

অর্থাৎ এটুকু সাফ যে জাতীয় পতাকার যেমন দেশে বিশেষ মর্যাদা আছে, প্রায় সেই একই মর্যাদা পেতে চলেছে রামধ্বজও! জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেললে বা মাড়িয়ে দিলে, ভুলভাবে টাঙানো হলে তা দেশের অপমান। তার জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি আছে, জেল ও জরিমানা দুইই আছে। এবার রামধ্বজের অবমাননার জন্যও কি শাস্তি! সরকার কি কোনও ধর্মীয় পতাকার জন্য বিধি জারি করতে পারে? হিন্দুরাষ্ট্র শুধু মুখে মুখে প্রচারিত নয় আর, সত্যিই দেশের জাতীয়তার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে এই ধর্মীয় বিভেদ?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।