যৌন সংসর্গে সংক্রমণ, কতটা কার্যকর এই মারণ ভাইরাসের ভারতে তৈরি ভ্যাকসিন?

এবার সেরাম ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া (Serum Institute of India) নির্মিত হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (Human Papillomavirus or HPV) ভ্যাকসিন, CERVAVAC-এর বাণিজ্যিকীকরণের অনুমতি দিল ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া বা ডিসিজিআই (DCGI)।

Madhurima Pattanayak
৪ মিনিট
যৌন সংসর্গে সংক্রমণ, কতটা কার্যকর এই মারণ ভাইরাসের ভারতে তৈরি ভ্যাকসিন?

এবার সেরাম ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া (Serum Institute of India) নির্মিত হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (Human Papillomavirus or HPV) ভ্যাকসিন, CERVAVAC-এর বাণিজ্যিকীকরণের অনুমতি দিল ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া বা ডিসিজিআই (DCGI)। ভারতে নির্মিত এই কোয়াড্রিভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন (qHPV) নয় থেকে ছাব্বিশ বছর বয়সি মহিলা ও পুরুষরা ব্যবহার করতে পারবে।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, CERVAVAC-এর তিনটি পর্বের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল আশাজনক। জানা যাচ্ছে, এই ভ্যাকসিনটির ফলে শরীরে তৈরি অ্যান্টিবডি, হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর। তবে এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে কেবল সুস্থ ব্যক্তিরাই অংশগ্রহণ করেছে। যাঁদের সেই সময়ে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের সংক্রমণের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল, সেই পুরুষ ও মহিলাদের বাদ দেওয়া হয়েছে ট্রায়াল থেকে। সুতরাং, সুস্থদের ক্ষেত্রে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দৃঢ়ভাবে গড়ে উঠলেও, হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ওপর সার্ভাভ্যাক কতটা কার্যকর হবে, তার উল্লেখ আমরা পাইনি।

সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া-র অধিকর্তা (Director of Government and Regulatory Affair) প্রকাশকুমার সিং গত (Prakash Kumar Singh) ৮ জুন এই ভ্যাকসিনটিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার জন্য ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া-র কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই পরিকল্পনামতোই ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার বিশেষজ্ঞরা ১৫ জুন বৈঠক সেরে CERVAVAC-এর বানিজ্যিকীকরণের অনুমোদন দেন। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষের দিকেই এই ভ্যাকসিন বাজারে পাওয়া যাবে।

হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের জেনেটিক বস্তু হিসেবে থাকে ডিএনএ। এই ভাইরাসটি প্যাপিলোমাভিরিডি পরিবারের (Papillomaviridae Family) অন্তর্ভুক্ত। হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের মূলত চারটি প্রকার ক্যানসারের জন্য দায়ী। এই প্রকারগুলি হল Human Papilloma Virus Type 6, 7, 16 এবং 18 ।

এই ভাইরাস মহিলাদের মধ্যে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের (Cervical Cancer) অন্যতম একটি কারণ। ভারতীয় মহিলাদের ক্যানসারের কারণ হিসেবে দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে সার্ভিক্যাল ক্যান্সার। এবং মূলত ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সি মহিলাদের মধ্যে এই ক্যানসারের হার সবথেকে বেশি। ভারতে প্রতি বছর প্রায় এক লাখ ২৩,০০০ মহিলা সার্ভিক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং মারা যান ৬৭,০০০-এরও বেশি মহিলা।

সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া নির্মিত এই ভ্যাকসিনে চারটি আলাদা আলাদা রাসায়নিক গঠনের অ্যান্টিবডি রয়েছে। ক্যানসার-সৃষ্টিকারী চার প্রকার হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করবে এক একটি প্রকারের অ্যান্টিবডি। ঠিক সেই কারণেই CERVAVAC ভ্যাকসিনকে কোয়াড্রিভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন বলা হচ্ছে।

আশা করা যায়, সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া নির্মিত এই ভ্যাকসিন মহিলাদের মধ্যে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের সম্ভাবনা কমাবে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের ভ্যাকসিন। যদিও পুরুষরা সার্ভিক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত হন না, কিন্তু হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে পুরুষদের যৌনাঙ্গে ছোট ছোট আঁচিলের (wart) মতো গঠন দেখা যায়। তার থেকেও ভয়ংকর হল, হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের আক্রমণে লিঙ্গ এবং মলদ্বারে ক্যানসারও হতে পারে। সেন্টার ফর ডিজি়জ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের (CDC) সূত্রে জানা যাচ্ছে,হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস ছড়ায় মূলত যৌন সংসর্গের (Sexual Transmission) ফলে। যৌন সংসর্গের ফলে সংক্রমণ যোনি (Vaginal Intercourse), পায়ু (Anal Sex) এবং মুখ (Oral Sex) সঙ্গম, তিন ভাবেই হতে পারে। এমনকী, ওরাল সেক্সের ফলে মুখেও সংক্রমিত হতে পারে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শ্বাসের মধ্যে ভরে নেওয়া করোনা ভ্যাকসিন বেশি কার্যকরী? এবার জানিয়ে দিলেন গবেষকরা

সম্প্রতি গবেষকরা জানালেন, অন্যান্য কোভিড ভ্যাকসিনের তুলনায় এই নেক্সট-জেনারেশন কোভিড ভ্যাকসিন অনেক বেশি কার্যকরী।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজে়শন বা হু-এর ইন্টারন্যাশানাল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল রেজিস্ট্রি প্ল্যাটফর্ম থেকে জানা যাচ্ছে, ফে়জ ২/৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীদের দুই দলে ভাগ করা হয়। প্রথম দলে থাকে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সি ছেলে-মেয়েরা এবং দ্বিতীয় দলে ১৫ থেকে ২৬-এর নারী-পুরুষরা।

প্রতি দলেই কিছু নারী-পুরুষদের সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া-র বানানো কোয়াড্রিভ্যালেন্ট হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়; বাকি নারী-পুরুষদের গার্ডাসিল (মার্ক নামের সংস্থার নির্মিত) নামের আরেকটি হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়। গারডাসিলও Human Papilloma Virus Type 6, 7, 16 এবং 18 -এর বিরুদ্ধে কার্যকর।

ট্রায়ালের শেষে দেখা যায়, সার্ভাভ্যাকের প্রভাবে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি, গারডাসিলের প্রভাবে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডির থেকে ১,০০০ গুণ বেশি কার্যকর।

সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (Chief Executive Officer), ড. আদার পুনাওয়ালার (Dr. Adar Poonawalla) মতে, এ-যাবৎ আমরা হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের ভ্যাকসিনের জন্যে বিদেশি সংস্থাগুলির ওপরেই নির্ভরশীল ছিলাম। কিন্তু এই প্রথম আমরা সম্পূর্ণভাবে নিজেরাই এই ভ্যাকসিন বানালাম, অন্য কোনও দেশের ওপর নির্ভর না করেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আত্মনির্ভর ভারত নির্মাণের স্বপ্নের কথা মাথায় রেখে এই ভ্যাক্সিন নির্মান করা হয়েছে, কোনও বিদেশি সংস্থার সাহায্য ছাড়াই, জানাচ্ছেন প্রকাশ সিং।

ড. পুনাওয়ালা জানাচ্ছেন, কেবল ভারতীয়ই না, সারা বিশ্বের জন্যে নির্মাণ করা হয়েছে। এবং এই বাণিজ্যিকীকরণ হলে সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যেই এই ভ্যাকসিনকে রাখা হবে।

২০০৯ সালে বিল গেটস ও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের সংস্থা গেটস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে, তেলেঙ্গানা ও গুজরাতে আদিবাসী কিশোরীদের হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের ভ্যাকসিন গার্ডাসিল দেওয়া হয়। তখন অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশই ছিল। কিশোরীদের অভিভাবকদের অনুমতি নেওয়া তো দূরের কথা, বেশ কিছু ক্ষেত্রে তাদেরকে জানানোও হয়নি ভ্যাকসিন বা রোগটির বিষয়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনুমতিপত্রে সই করেছিল, সেই কিশোরীরা যে হোস্টেলে থাকত, সেই হোস্টেলের ওয়ার্ডেন। যা একেবারেই নিয়মবিরুদ্ধ। আবার কিছু ক্ষেত্রে গরিব ও নিরক্ষর অভিভাবকদের আঙুলের ছাপ নিয়ে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল কনসেন্ট ফর্মে। কিশোরীদেরও জানা ছিল না, তাদেরকে কীসের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে বা কোন রোগের জন্য ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে।

তেলেঙ্গানায় ১৬,০০০-এর কাছাকাছি কিশোরীদের দেওয়া হয় এই ভ্যাকসিন। কয়েক মাস বাদে সেই মেয়েদের মধ্যে অনেকেই ধীরে ধীরে অসুস্থ হতে শুরু করে। ওই রাজ্যে পাঁচজন কিশোরী ২০১০ সালের মধ্যে মারা যায়।

সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া-র ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নিশ্চিত করা হয়েছে, ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক যেন সাক্ষর করেন নিজেদের। ১৮ বছর বয়সের কমে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকদের সই সংগ্রহ করে, তবেই শুরু হয়েছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। অন্তত সেরকমই উল্লেখ আছে হু-এর ইন্টারন্যাশনাল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল রেজিস্ট্রি প্ল্যাটফর্মে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।