সদগুরুর ইশা ফাউন্ডেশনে কেমন থাকেন মহিলারা? আদালতের নির্দেশে শুরু তদন্ত!

Sadhguru Ashram Women: ইশা ফাউন্ডেশন সম্পর্কিত সমস্ত মামলার একটি তালিকা তৈরি করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

inscript
৩ মিনিট
সদগুরুর ইশা ফাউন্ডেশনে কেমন থাকেন মহিলারা? আদালতের নির্দেশে শুরু তদন্ত!

নিজের মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন ধুমধাম করে। দেশজোড়া তাঁর খ্যাতি, আশ্রমের ভক্ত সংখ্যা ক্রমেই বর্ধমান। অথচ তাঁর আশ্রমে যে মহিলা শিষ্যরা রয়েছেন তাঁদের সঙ্গে ঠিক কেমন আচরণ করা হয়? সুশিক্ষিত যুবতীদের পার্থিব জীবন থেকে সরিয়ে কেন সন্ন্যাসীনি তৈরির মরিয়া চেষ্টা করেন আধ্যাত্মিক গুরু সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব, যাকে দেশ চেনে সদগুরু নামে? এই প্রশ্ন তুলেছে খোদ আদালত! মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রশ্ন, নিজের মেয়েরই যখন বিয়ে দিয়েছেন, তখন কেন যুবতীদেরকে মাথা মুড়িয়ে পার্থিব জীবন ত্যাগ করতে উত্সাহিত করছেন সদগুরু?

বিচারপতি এস এম সুব্রামনিয়াম এবং ভি শিবজ্ঞানমের একটি বেঞ্চ ইশা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদগুরুকে যে প্রশ্নটি করেছে, তার নেপথ্যে রয়েছে একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকের দায়ের করা অভিযোগ। ওই অধ্যাপকের অভিযোগ ছিল, তাঁর দুই সুশিক্ষিত কন্যাকে ইশা যোগ কেন্দ্রে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য 'মগজ ধোলাই' করা হয়েছে। এমনকী সেখানে বাবা-মা এবং আত্মীয়দেরও আটকে রাখা সন্ন্যাসীদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয় না। অধ্যাপক এস কামরাজ কোয়েম্বাটোরের তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। তিনি চেয়েছেন, আদালতে তাঁর কন্যারা সশরীরে উপস্থিত হন। তার জন্য আবেদন করেছিলেন কামরাজ।

সেইমতো আদালতে হাজিরও হন তাঁর দুই মেয়ে। ৪২ বছর এবং ৩৯ বছরের দুই মহিলাই জানিয়েছেন, তাঁরা স্বেচ্ছায় ইশা ফাউন্ডেশনেই থাকছেন। তাদের আটক করে রাখা হচ্ছে না। এ নতুন কিছু না। এর আগেও এমন মামলা হয়েছে যেখানে বাবা-মায়েরা অভিযোগ করেছেন যে মেয়েরা নিজেদের চাকরি, জীবন, পরিবার ত্যাগ করে এই আশ্রমে এসে থাকার পর থেকে তাঁদের জীবন নষ্ট হয়ে গিয়েছে আর সেই কন্যারা আগেও একইভাবে জানিয়েছেন, ‘স্বেচ্ছায়' এসেছেন তারা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভোলেবাবা, সদগুরু, রামদেবের 'ভণ্ডামির' বিরুদ্ধে আইন আনা কতটা জরুরি?

Hathras Bhole Baba Fake Godman: রবিশঙ্কর এবং রামদেব ২০১৪ সালের আগে রীতিমতো বিজেপির হয়ে ঘুরিয়ে প্রচার করেছিলেন।

কামরাজের দুই মেয়ের এমন বক্তব্যের পরে আদালতের সিনিয়র বিচারপতি প্রশ্ন করেছিলেন, “আপনারা আধ্যাত্মিকতার পথে আছেন বলে দাবি করছেন। আপনারা কি মনে করেন না যে নিজেদের বাবা-মাকে অবহেলা করা পাপ? 'সবাইকে ভালবাসুন, কাউকে ঘৃণা করবেন না' এটাই তো ভক্তির নীতি। তাহলে আপনাদের মা-বাবার প্রতি আপনাদের মধ্যে এত ঘৃণা দেখতে পাচ্ছি কেন? আপনারা তো বাবা-মাকে সামান্য সম্মান দিয়ে সম্বোধনও করছেন না।"

তবে এইবার বিচারকরা মামলাটি নিয়ে আরও তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইশা ফাউন্ডেশন সম্পর্কিত সমস্ত মামলার একটি তালিকা তৈরি করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি শিবজ্ঞানম বলেছেন, "আমরা জানতে চাই, একজন ব্যক্তি যিনি নিজে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন এবং মেয়েকে জীবনে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি কেন অন্যের মেয়েদের মগজ ধোলাই করে একজন আশ্রমিকের মতো জীবনযাপন করতে উত্সাহিত করছেন?”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সদগুরু থেকে রামদেব: ভেকধারী 'বাবা'দের যেভাবে কাজে লাগায় বিজেপি

Ramdev and BJP: হরিয়ানার একটি বনভূমির অবৈধভাবে দখল নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে রামদেব বাবার সংস্থা 'পতঞ্জলি'-র বিরুদ্ধে। তথ্য বলছে, হরিয়ানার ফরিদাবাদের আরাবল্লি অঞ্চলে ৪০০ একরের জমিতে বেনামী মালিকানা রয়েছে 'পতঞ্জলি'র।

ইশা ফাউন্ডেশন অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মহিলারা স্বেচ্ছায় তাদের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করে। "আমরা বিশ্বাস করি যে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের তাদের পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা এবং বুদ্ধি আছে। আমরা বিবাহ বা সন্ন্যাসীত্ব চাপিয়ে দিই না, কারণ এগুলি ব্যক্তিগত পছন্দ। ইশা যোগ কেন্দ্র হাজার হাজার মানুষ যারা সন্ন্যাসী নন তারাও আছেন, পাশাপাশি এমন অনেকে আছেন যারা ব্রহ্মচর্য বা সন্ন্যাস গ্রহণ করেছেন, জানিয়েছে সদগুরুর সংস্থা।

আবেদনকারী কামরাজের আইনজীবী জানিয়েছেন, ইশা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে জড়িত একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি, সেখানে কর্মরত একজন ডাক্তারের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা (পকসো) আইনের অধীনে মামলা করা হয়েছে।

হলফনামায় আবেদনকারী অধ্যাপক জানিয়েছেন, তাঁর বড় মেয়ে গীতা কামরাজ ২০০৩ সালে মেকাট্রনিক্সে ইঞ্জিনিয়ারিং করে এবং তারপরে যুক্তরাজ্যের একটি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমটেক করে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়েই চাকরি পেয়েছিলেন তিনি এবং ২০০৪ সালে প্রতি মাসে প্রায় ১ লক্ষ টাকা বেতন পেতেন। ২০০৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজনের সঙ্গে বিয়েও করেন কিন্তু ২০০৮ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

তারপর থেকে, বড় মেয়ে ইশা ফাউন্ডেশনে যোগ ক্লাসে যেতে শুরু করেন। দিদির পদাঙ্ক অনুসরণ করে, তাঁর ছোট মেয়ে লতা কামরাজ যে নিজে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, সেও ওই যোগ কেন্দ্রে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। কামরাজের বয়স ৬৯, স্ত্রীর বয়স ৬৩! মেয়েরা চলে যাওয়ার পরে তাঁদের জীবন 'নরক' হয়ে উঠেছে, বলছেন বৃদ্ধ বাবা-মা। কামরাজের অভিযোগ, সদগুরুর যোগ কেন্দ্রে তাঁর মেয়েদেরকে একধরনের খাবার এবং ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে তারা তাদের চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা হারিয়ে গিয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।