কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়, বিজ্ঞানের যে দুরন্ত কৌশলে তৈরি হলো রামলালার সূর্য তিলক

Ramlala Surya Tilak Science: অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক দক্ষতা ব্যবহার করে ৫.৮ সেন্টিমিটার লম্বা এক আলোর রশ্মি রামলালার কপালে ফেলা হয়েছে।

inscript
৩ মিনিট
কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়, বিজ্ঞানের যে দুরন্ত কৌশলে তৈরি হলো রামলালার সূর্য তিলক

রামলালার কপালে জ্বলজ্বল করছে সূর্যতিলক। ঠিক যেমন ছোটবেলার পৌরাণিক সিরিয়ালে দেখা যেত, দেব-দেবীদের তৃতীয় নেত্র থেকে ঠিকরে বেরচ্ছে আলো! বাস্তবে তা ঘটল অযোধ্যার রাম মন্দিরে! তবে কোনও অলৌকিক শক্তিতে নয়, সম্পূর্ণ বিজ্ঞানের বলে। রাম নবমী উপলক্ষ্যে রামলালার কপালে যে 'সূর্য তিলক' নিয়ে হইহই পড়েছে তা আসলে বিজ্ঞানের দুর্দান্ত এক নজির।

অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক দক্ষতা ব্যবহার করে ৫.৮ সেন্টিমিটার লম্বা এক আলোর রশ্মি রামলালার কপালে ফেলা হয়েছে। অসাধারণ এই ঘটনাটি বস্তুত এক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাই বলা যায়, একটি বিশেষ যন্ত্রও তৈরি করা হয়েছিল এর জন্য। রাম মন্দিরে দশজন ভারতীয় বিজ্ঞানীর একটি দল রাম নবমীতে এই ঘটনাটি ঘটান। দুপুর ঠিক ১২টায় শুরু করে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ মিনিট এই সূর্য তিলকের ঘটনা ঘটেছে। আয়না এবং লেন্সের ব্যবহার করে মূর্তির কপালে সূর্যালোক সুনির্দিষ্টভাবে ফেলা হয়েছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভক্তদের 'রামসেতু' আদৌ কি ছিল? কী রহস্য লুকিয়ে এই 'ভাসমান পাথরে'!

Truth of Ramsetu: রামভক্তদের বিশ্বাসে আঘাত লাগলেও ইহাই সত্য যে, এই পাথর বা শিলাখণ্ডগুলি ভাসমান নয়। কোনওদিন ছিলও না।

মন্দির ট্রাস্ট পরিচালিত, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা আয়না এবং লেন্স দিয়ে একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র তৈরি করেছেন। 'সূর্য তিলক মেকানিজম' বিজ্ঞানের এক সহজ অথচ অনন্য উদাহরণ। ডাঃ প্রদীপ কুমার রামাচারলা একজন বিজ্ঞানী এবং সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিবিআরআই), রুরকির পরিচালক। এই 'অপ্টোমেকানিকাল সিস্টেম' কীভাবে কাজ করেছে তার ব্যাখ্যা করেছেন তিনি৷

তিনি বলছেন, অপ্টো-মেকানিকাল সিস্টেমে চারটি আয়না এবং চারটি লেন্স থাকে যা বিভিন্ন কোণে পাইপের মধ্যে বসানো হয়। একটি অ্যাপারচার সহ সম্পূর্ণ পাইপটি ছাদে বসানো হয় যাতে আয়না এবং লেন্সের মাধ্যমে সূর্যের রশ্মিকে ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। শেষ লেন্স এবং আয়না সূর্যের রশ্মিগুলিকে রামের কপালের ঠিক মাঝে এনে ফেলে৷ রামের মূর্তিটি পূর্বদিকে মুখ করে বসানো। এই পদ্ধতিতে প্রথম আয়নাকে ঠিক এমনভাবেই কাত করে রাখা থাকে যাতে তাতে সূর্যরশ্মি এসে পড়ে। সূর্যের রশ্মিগুলিকে উত্তর দিকের দিকে দ্বিতীয় আয়নায় পাঠানোর হয় আবারও নির্দিষ্ট কোণে আয়না রেখে৷ প্রতিবছর যাতে রাম নবমীর দিনই সরাসরি ওই সূর্যরশ্মি কপালে পড়ে সেরকম বন্দোবস্তই করা আছে। এতে ব্যবহৃত সমস্ত পাইপ এবং অন্যান্য অংশগুলি যাতে দীর্ঘকাল ভালো থাকে তাই এগুলি পিতলের তৈরি। আয়না এবং লেন্সগুলিও উচ্চমানের। পাইপের মধ্যে কালো পাউডারের প্রলেপ দেওয়া আছে যাতে সূর্যের আলো বিক্ষিপ্তভাবে প্রতিফলিত না হতে পারে। অ্যাপারচারে একটি ইনফ্রারেড ফিল্টার গ্লাস ব্যবহার করা হয় যাতে সূর্যের তাপ তরঙ্গগুলি রামের মূর্তির কপালে না পড়ে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন দক্ষিণ ভারতীয় প্রতিমার ছাঁচে গড়া রামলালার মূর্তি?

Ram lalla Idol South Indian Style : পেরিয়ারের 'রামায়ণ পাথিরঙ্গল' ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। শূদ্র হওয়ার কারণে রাম শম্বুককে হত্যা করেছিলেন।

'সূর্য তিলক' তৈরি করেছেন CBRI, রুরকি এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (IIAP), বেঙ্গালুরুর বিজ্ঞানীরা। একটি বিশেষ গিয়ারবক্স ব্যবহার করে এবং প্রতিফলিত আয়না ও লেন্স ব্যবহার করে সূর্যরশ্মির প্রতিফলনের সহজ নীতি মেনেই মন্দিরের তৃতীয় তলা থেকে অভ্যন্তরীণ গর্ভগৃহে সূর্যালোক নির্দিষ্টভাবে ফেলার প্রক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্স এবং বেঙ্গালুরুর অপটিকা সংস্থা প্রযুক্তিগত সহায়তা করেছে এই সূর্য তিলক নির্মাণে।

সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, রুরকির বিজ্ঞানী ডাঃ প্রদীপ চৌহান বলেছেন, রাম নবমীর নির্দিষ্ট তারিখে বিদ্যুৎ, ব্যাটারি বা লোহা জাতীয় কোনও উপাদানগুলির উপর নির্ভর না করেই এই ঘটনা সময়মতো ঘটানোর জন্য ১৯টি গিয়ার যুক্ত জটিল ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়েছিল।

জ্যোতির্বিদ্যার ক্ষেত্রে ভারতের প্রধান প্রতিষ্ঠান, বেঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (IIA), চন্দ্র এবং সৌর (গ্রেগরিয়ান) ক্যালেন্ডারের মধ্যে আপাত বৈষম্যের পুনর্মিলনের জন্য একটি সমাধান তৈরি করেছে। "আমাদের অবস্থানগত জ্যোতির্বিদ্যায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা রয়েছে," আইআইএ-র পরিচালক ডঃ অন্নপূর্ণি সুব্রামানিয়াম বিশদভাবে বলেছেন, "এই দক্ষতাটি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োগ করা হয়েছিল যে সূর্যের রশ্মিগুলি 'সূর্য তিলক' দ্বারা প্রতীকীভাবে রাম লালার মূর্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষেক করতে পারে। প্রতি রাম নবমীতে।"

খানিক এমনই 'সূর্য তিলক' প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই দেশে বেশ কিছু জৈন মন্দিরে এবং কোণারকের সূর্য মন্দিরে আছে কিন্তু সেগুলি ভিন্নভাবে তৈরি করা হয়েছে। সুতরাং গোটা বিষয়টাই বিজ্ঞান। কেবল দেশের বিজ্ঞানীদের এখন রামের সেবায় বিজ্ঞানকে ব্যবহার করতে হচ্ছে, এই বিষয়টিই নতুন, বাকিটা সহজ।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।