বিসর্জনের সেকাল ও একাল

Amit Patihar
৪ মিনিট
বিসর্জনের সেকাল ও একাল

পুজো আসছে, পুজো আসছে, পুজো আসছে - এর থেকে ভালো অনুভূতি মনে হয় কিছুই হয় না। এক অদ্ভুত ভালো লাগায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে মন। ভোরবেলায় শিউলিফুলের গন্ধ, সারাদিনের মেঘের ভেলা ভাসানো শরতের নীল আকাশ, রাস্তার ধারে ফুটে থাকা সারি সারি কাশ ফুল মায়ের আগমনী বার্তা পৌঁছে দেয় আমাদের অবধি। আমরা পরম আনন্দে অপেক্ষা করি, দিন গুনি পুজো আসার। সারা শহর জুড়ে পড়ে হোর্ডিংয়ের হিড়িক, বাঁশ বাঁধা শুরু হয় মণ্ডপে মণ্ডপে, মানুষের ঢল নেমে আসে শপিং মল, গড়িয়াহাট, নিউ মার্কেটের অলিতে গলিতে। তারপর একদিন পুজো এসে যায়। এক পলকে কেটে যায় ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী। মনে হয় এর মধ্যেই পুজো শেষ হয়ে গেল? এই তো খানিকক্ষণ আগেই...

তারপর আসে দশমী, মায়ের বিসর্জনের দিন। ঢাকির ঢাকে বেজে ওঠে বিসর্জনের সুর। বিষাদ ছড়িয়ে পড়ে আকাশে বাতাসে। জননী কাতর এ বসুন্ধরার চোখ ভিজে যায় নিঃশব্দে। 'বলো দুগ্গা মাই কি, জয়',

'আসছে বছর আবার হবে, বছর বছর হবেই হবে', 'ঠাকুর থাকবে কতক্ষন, ঠাকুর যাবেই বিসর্জন' জয়ধ্বনির মাধ্যমে ঠাকুর এগোতে থাকে গঙ্গার দিকে। একটা শহরকে বিষণ্ণতায় ডুবিয়ে দিয়ে উমা এগোয় কৈলাশের দিকে। ওপারে তার স্বামী মহাদেব অপেক্ষা করে আছেন যে নিজের পরিবারের। মায়ের ঠোঁটে লেগে থাকে সন্দেশ, সে সন্দেশ সিঁদুর খেলার সিঁদুরে লাল। মাকে গঙ্গার বুকে ভাসিয়ে দেওয়ার মুহূর্তে বাঙালি চোখ ভেসে যায় জলে। 'আবার এসো মা, সাবধানে যেও', মনে মনে এটুকু আওড়াতে আওড়াতে উদাস নয়নে তাকিয়ে থাকে মায়ের কাঠামোর দিকে। গঙ্গাবক্ষে আস্তে আস্তে ডুবে যায় মায়ের কাঠামো।

'পুজো আসছে, পুজো আসছে', করতে করতেই পুজো শেষ। ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে গঙ্গার পারে দাঁড়িয়ে থাকে বাঙালিরা। তেত্রিশ কোটি দেব-দেবী, তবু মায়ের বিসর্জনের মতো কই অন্য কেউ তো ছুঁতে পারে না! বাগবাজার, নিমতলা, কদমতলা, রানি রাসমনি, বাবুঘাটে মানুষের ঢল নামে বিসর্জনের বেলায়। একে একে ঠাকুর আসে কলকাতার বড় বড় পুজো মণ্ডপ থেকে, বনেদি বাড়ি, রাজ বাড়ি, সাধারণ বাড়ির পুজো মণ্ডপ থেকে। শেষ বেলায় মাকে আরেকটু দেখে নেওয়ার লোভে গঙ্গার পার ধরে দাঁড়িয়ে থাকে বাঙালি হৃদয়। যুগযুগ ধরে, এই চিত্রের বদল হয় না কোনও।

গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা, ১৯১৫ সালের ছবি ‘প্রতিমা বিসর্জন’ মনে হয় সবারই দেখা। আলো আঁধারীতে মেশানো দশমীর রাত। মশালের উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত উত্তর কলকাতার চওড়া রাস্তা। বিসর্জনের ঢল নেমেছে বিশাল উঁচু মাতৃ প্রতিমাকে ঘিরে। শোভাযাত্রা বেরিয়েছে, তার আগে দেবীর বরণ সম্পন্ন হচ্ছে। মশালের আলো এসে পড়েছে সংলগ্ন দোতলা বাড়ির ঝুল-বারান্দায়। সেখান থেকে মুখ বাড়িয়ে রাস্তার দিকে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে বিসর্জন দেখছে বাড়ির অন্তঃপুরের মহিলারা। তারা বাহিরমহলে এসেছে। সমসাময়িক নবজাগরণে আচ্ছন্ন কলকাতার পরিবর্তিত চিত্র-ও তুলে ধরে এ ছবি। এ বিখ্যাত ছবির বয়স পেরিয়েছে ১০০ বছরের বেশি। সেকালে মায়ের বিসর্জনের ছিল বিভিন্ন নিয়ম কানুন। কোথাও নীলকন্ঠ পাখি ওড়ানোর চল ছিল, কোথাও ছিল কামান দাগার নিয়ম, কোথাও বন্দুক তরবারী এবং অজস্র প্রহরী নিয়ে সারা হতো বিসর্জনের পালা। সময়ের সাথে সাথে বদলেছে সেসব নিয়ম কানুনের রীতি-রেওয়াজ, তবু এখনও বিভিন্ন বনেদি বাড়ির বিসর্জনের নিয়ম আলাদা আলাদা।

শোভাবাজার রাজবাড়ির একসময় ব্রিটিশদের সঙ্গে সখ্য ছিল বেশ ভালো। প্রায় ৪০ জন বাহক মিলে, কামান দেগে, নীল কণ্ঠ পাখি উড়িয়ে বিসর্জনের পালা সাঙ্গ হতো। এখন আর সেসবের কিছুই হয়না। শোলার নীলকন্ঠ পাখি বানিয়ে উত্তর দিকে মুখ করে গ্যাস বেলুনের সাহায্যে আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হয়।

বসুমল্লিক বাড়ির পুজোয় পুজোর প্রত্যেকদিনই সিঁদুরখেলার আয়োজন হয়। তবে ব্যবহৃত হত দেবী চণ্ডীর মেটে সিঁদুর এবং দুর্গার লাল সিঁদুরের সংমিশ্রণ। এই বাড়িতে মায়ের বেনারসি সযত্নে খুলে নেওয়া হয় বিসর্জনের আগে। বাড়িতে নতুন বউ এলে তাকে পরতে দেওয়া হয় সেই বেনারসি। এই বাড়িতেও পূর্বে নীলকন্ঠ পাখি ওড়ানোর চল ছিল যা বর্তমানে আর হয় না। এ ছাড়াও বিসর্জনের পর এই বনেদি বাড়িতে পাঁঠার মাংস রান্না করে খাওয়ার চল আছে।

ঠনঠনিয়ার লাহা বাড়িতে দশমীর দিনও অঞ্জলির আয়োজন করা হয়। বেলপাতায় দুর্গানাম লেখেন বাড়ির পুরুষরা। বিসর্জনের প্রহরে প্রতিমা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেই বন্ধ হয় বাড়ির সদর দরজা। ভাসান শেষে ফিরে এসে বাড়ির পুরুষরা বাইরে থেকেই ডাক দেন, ‘মা ভেতরে আছেন?’ অন্দরমহল থেকে 'হ্যাঁ' উত্তর দেন বাড়ির মহিলারা। তিনবার এই প্রশ্ন উত্তরের পালা চলার পর খোলা হয় মূল দরজা। বাড়ির মধ্যেই প্রতিষ্ঠা করা সিংহবাহিনীর মূর্তি থাকার কারণেই এই রীতি বছরের পর বছর ধরে মেনে আসা হচ্ছে লাহা বাড়িতে। এই বাড়িতে সারা বছরই মায়ের বাস।

জোড়াসাঁকোর নরসিংহ চন্দ্র দাঁ বাড়ির পরিবার ভাগ হয়ে যাওয়ায় শিবকৃষ্ণ দাঁ এর থেকে পৃথক পুজোর আয়োজন করে নরসিংহ দাঁ পরিবার। বন্দুকের ব্যবসা থাকায় দেবীর বিদায়বেলায় গান স্যালুট দেওয়ার চল ছিল শুরু থেকেই। সেই সঙ্গে পরে যোগ হয়েছিল কামান দাগার রীতিও। কাঁধে করে প্রতিমা নিরঞ্জনে নিয়ে যাওয়ার সময় হত শোভাযাত্রা। সামনে মশাল হাতে পথ দেখাতেন লাঠিয়ালরা। পিছনে বন্দুক, তরবারি নিয়ে অজস্র প্রহরী। বাড়ির সামনেই ৭ বার ঘোরানোর পর শুরু হত সেই যাত্রা। গঙ্গার ঘাটে গিয়ে বিশমণি নৌকোয় মাঝগঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হত প্রতিমা। তারপর নিরঞ্জন। বাড়ি থেকে বেরনোর সময় এবং ভাসানের ঠিক পরেই দুটি নীলকণ্ঠ পাখি উড়িয়ে দেওয়া হত। এখন আর আয়োজন সম্ভব হয় না এসবের। তবে শোভাযাত্রাটি হয়, গর্জায় কামানও। কিন্তু বন্ধ হয়েছে মশালের ব্যবহার।

জঙ্গলঘেরা কোন্নগরের ঘোষাল বাড়ির বিসর্জন এখন দিনে দুপুরে সারা হয়। এককালের ব্যাঘ্রভীতির ফল। সেইসময় হ্যাজাক জ্বেলে দশমীর রাতে হইহই করতে করতে বিসর্জনে যেত গ্রামবাসীরা। শোনা যায় তখন একবার বাঘে টেনে নিয়েছিল একজনকে। তারপর থেকেই সময়-ক্ষণ বদলেছে।

দক্ষিণ গড়িয়ার বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির পুজোতে দেবীর বরণ পদ্ধতি একটু অদ্ভুত এবং সবার থেকে আলাদা। এই বাড়িতে তাঁর তিন সন্তান, অসুর এবং বাহনদেরও বরণ করা হয়। শুধু ব্রাত্য থাকেন লক্ষ্মী। মানা হয় তিনি বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের মেয়ে। দেবী বিদায় নিলেও লক্ষ্মী প্রতিমা নারায়ণদেবকে নিয়ে থেকে যান বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে। রয়েছে সিঁদুরখেলারও রীতি। তবে এ বাড়িতে দু’দিন হয় সিঁদুরখেলা। দশমীর পাশাপাশি অষ্টমী তিথিতেও খেলায় মাতেন বাড়ির মহিলারা। দেবীর নিরঞ্জনের পরই মাকড়চণ্ডীর পুজো দেন পরিবারের সদস্যরা।

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চলতে বিসর্জনের নিয়মকানুন বদলেছে অনেক। তবে যা এখনও একচুলও বদলায়নি তা হল দুর্গাপুজোর জন্য বাঙালির আবেগ। যা সেকালেও যা ছিল আজও তাই। এখনও বিসর্জনের দিনটা এলে বাঙালির মন কেঁদে ওঠে, পেঁজা তুল‌োর মেঘের মতো বিষাদ ভেসে আসে মনের আকাশে। আবার দিন গোনা শুরু হয়, গঙ্গার পার ছেড়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে আমরা মনে মনে বলে উঠি, 'সাবধানে যেও মা। পরের বছর আবার এসো...'

লিখেছেন
Amit Patihar
Amit Patihar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।