সন্তর্পণে সুড়ঙ্গে খোঁড়া হচ্ছে গর্ত, কবে অন্ধকার থেকে মুক্তি বন্দি শ্রমিকদের?

Uttarakhand Tunnel Collapse: এমন ভাবে সুড়ঙ্গ খোঁড়া হচ্ছে, যাতে সেখান দিয়ে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ বেরোতে পারে। সুড়ঙ্গ খননের এই কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাআধিকারিক দীপক পাতিল।

Sohini Das
২ মিনিট
সন্তর্পণে সুড়ঙ্গে খোঁড়া হচ্ছে গর্ত, কবে অন্ধকার থেকে মুক্তি বন্দি শ্রমিকদের?

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে চল্লিশ জন শ্রমিক। উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশিতে সুড়ঙ্গপথ বানানোর সময় হঠাৎ করেই ধস নামে। সেই ধসে সুড়ঙ্গের ভিতরেই আটকা পড়ে যান ৪০ জন নির্মাণকর্মী। তাদের উদ্ধারে সব রকম ভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকদের কাছে যত এগোনোর চেষ্টা করা হয়, ততই বাড়ে ধ্বংসস্তূপ চাপা পড়ে মৃত্যুর আশঙ্কাও। ফলে ক্রমশ কঠিন হতে থাকে উদ্ধারকাজ। ইতিমধ্যেই দিল্লি থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছে বিশেষ খননযন্ত্র। রোবোটের মাধ্যমে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় খাবার, জল এবং ওষুধপত্র। কিন্তু আর কতদিন!

এরই মধ্যে উদ্ধারকাজে একটু একটু করে সফল হচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ইতিমধ্যেই ওই সুড়ঙ্গের মধ্যে ৩২ মিটার ড্রিল করা শুরু করেছে উদ্ধারকারী দল। এমন ভাবে সুড়ঙ্গ খোঁড়া হচ্ছে, যাতে সেখান দিয়ে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ বেরোতে পারে। সুড়ঙ্গ খননের এই কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাআধিকারিক দীপক পাতিল। জানা গিয়েছে, প্রায় অর্ধেকটা পথ তারা পৌঁছে গিয়েছে। বাকি আরও অর্ধেক। প্রকৃতি এবং বাকি পরিস্থিতি পাশে থাকলে সেটুকুও নিরাপদে সম্পূর্ণ করা যাবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।

প্রায় এক সপ্তাহ পর মঙ্গলবার সামনে এসেছে সুড়ঙ্গের ভিতরে বন্দি শ্রমিকদের ছবি। ক্যামেরার সামনে কথা বলতে দেখা গিয়েছে তাদের। দেখা গিয়েছে, সুড়ঙ্গের ভিতরে গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বন্দি শ্রমিকেরা। ইতিমধ্যেই পাইপলাইনের মাধ্যমে সুড়ঙ্গের ভিতরে পাঠানো হয়েছে একটি এন্ডোস্কোপিক ক্যামেরা। তার মাধ্যমেই ধরা পড়েছে ওই ছবি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১০ দিন ধরে সুড়ঙ্গে আটকে ৪০ শ্রমিক! উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয় মনে করাচ্ছে প্রিন্স উদ্ধারের ঘটনা

Uttarakhand Tunnel Rescue : ড্রিলিং মেশিনকে উপর থেকে টানেল অবধি পৌঁছনো গেছে। যন্ত্রটিকে ঘটনাস্থলে আনতেই ১৩ ঘণ্টা এবং তিনটি গাড়ি লেগেছে।

গত ১২ নভেম্বর উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশি জেলায় ভেঙে পড়ে ওই সুড়ঙ্গটি। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ওই সুড়ঙ্গের ভিতরেই আটকে যান ওই ৪০ জন নির্মাণকর্মী। জানা যায়, নির্মাণকর্মীরা সুড়ঙ্গের ভিতরে নিরাপদে আছেন। কিন্তু কোনওভাবেই তাঁদের বের করে আনা যাচ্ছে না। যত দ্রুত সম্ভব সুড়ঙ্গপথে অক্সিজেন পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পাঠানো হয় আলো। জল, খাবার এবং ওষুধপত্র সবটাই পাঠানো হচ্ছে। তার পরেও অপেক্ষা যেন শেষই হচ্ছে না। দেখতে দেখতে কতগুলো দিন কেটে যাচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সুড়ঙ্গের অন্ধকারে ভয়াবহ ৫ দিন! মার্কিন খননযন্ত্র বাঁচাতে পারবে ৪০ শ্রমিকের জীবন?

Uttarakhand Tunnel Collapse: আদৌ কি সেই সুড়ঙ্গ আর ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরনো হবে তাঁদের? কোনওদিনও কি দিনের আলো দেখা হবে আর ওই চল্লিশ শ্রমিকের? সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই ঘনাচ্ছে সংশয়।

১২ নভেম্বর ওই সুড়ঙ্গপথের দেওয়াল খসে পড়ার নেপথ্যে আসল কারণটি কী, তা এখনও পরিষ্কার করে জানানো হয়নি। এমনিতেই উত্তরকাশি জেলার ওই অংশটি ধসপ্রবণ। ফলে উদ্ধারকারীদের প্রতিটি পদক্ষেপ মেপে মেপে নেওয়া হচ্ছে। তার উপর রয়েছে ভূমিকম্প ও বন্যার ভয়। ফলে উদ্ধারকারীদের কাজ আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় যে কোনও প্রকার খনন এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। তার উপর ধসে পড়া সুড়ঙ্গের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরওই কঠিন। ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে সেনা, বিপর্যয় মোকাবিলা দল, স্থানীয় পুলিশ ও দমকল। থাইল্যান্ডের গুহায় বন্দি ফুটবলদলকে বাঁচাতে আনা হয়েছিল নরওয়ে থেকে বিশেষ উদ্ধারকারী দল। এই অভিযানেও হাত লাগিয়েছে তারা।

এত কিছুর পরেও শুধু দীর্ঘায়িত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। আশার আলো দেখা গেলেও এখনও বিশ বাঁও জলে বন্দি শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ। ঠিক কবে আলোর মুখ দেখবেন অন্ধকার সুড়ঙ্গে বন্দি ওই ৪০ জন শ্রমিক, কবে ফিরবেন স্বাভাবিক জীবনে, তা এখনও নিশ্চিৎ করে বলা যাচ্ছে। সত্যি বলতেও ফিরলেও কি এতদিনের অন্ধকারের ট্রমা ভুলতে পারবেন তাঁরা, অনেক আশঙ্কা আর বিপদের সম্ভাবনার মধ্যে বসে দিন গুনছে দেশবাসী।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।