একটা দীর্ঘতম তো অন্যটা সমুদ্রের নিচে, জোড়া টুইন টানেল দিয়ে চিনকে টেক্কা দিতে পারবে কি ভারত?

Twin Undersea Tunnels: অতল সমুদ্রের তলা দিয়েই এবার ছুটবে বাস-গাড়ি। চলতি বছরের নভেম্বরেই উদ্বোধন হতে চলেছে মুম্বইয়ের সেই টুইন টানেলের।

Sohini Das
৩ মিনিট
একটা দীর্ঘতম তো অন্যটা সমুদ্রের নিচে, জোড়া টুইন টানেল দিয়ে চিনকে টেক্কা দিতে পারবে কি ভারত?

অরুণাচলপ্রদেশের পর মুম্বই। পৃথিবীর দীর্ঘতম টুইন টানেলের নির্মাণ প্রায় শেষের পথে। প্রায় একইসঙ্গে আলোর মুখ দেখতে চলেছে দেশের প্রথম টানেল, যা যাবে সমুদ্রের তলা দিয়ে। চিনা আগ্রাসনের মুখের উপর বড়সড় জবাব হতে চলেছে অরুণাচলপ্রদেশের সেলার এই টুইন টানেল। যেভাবে একটু একটু করে ভারতের ভূখণ্ডের দিকে হাত বাড়াচ্ছে চিন, তা প্রতিহত করতে সেনাবাহিনীর বড় অস্ত্র হতে চলেছে এই টুইন টানেল। অন্তত এমনটাই মনে করছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আর এবার জগৎসভায় ভারতকে আরও একটু উঁচুতে তুলে ধরবে বাণিজ্যনগরীর এই আন্ডার সি টুইন টানেল। এমনিতেও মুম্বইয়ের যানজট জগৎবিখ্যাত। সেই জ্য়ামে একবার কেউ ফাঁসলে পরিত্রাণের রাস্তা নেই। তবে সেই যানজটের ইতিহাসের মুখে দুয়ো দিয়ে বদলাতে চলেছে মুম্বইয়ের রাস্তাঘাটের ছবি। আর কয়েকটা মাসের অপেক্ষা শুধু। মুম্বই পেতে চলেছে ভারতের প্রথম আন্ডার সি টুইন টানেল।

হ্যাঁ, অতল সমুদ্রের তলা দিয়েই এবার ছুটবে বাস-গাড়ি। চলতি বছরের নভেম্বরেই উদ্বোধন হতে চলেছে সেই টুইন টানেলের। মুম্বই কোস্টাল রোডের এই প্রজেক্টের পিছনে খরচ হয়েছে প্রায় ১২,৭২১ কোটি টাকা। সেই চিন থেকেই আনা হয়েছিল দৈত্যাকার টানেল খোদাই মেশিন। প্রায় ২ বছর আগে শুরু হয় খোঁড়াখুঁড়ি। সমুদ্রের তলা দিয়ে টানেল বানানোর জন্য খোঁড়াখুঁড়িরা কাজ সহজ ছিল না। দরকার হয়েছিল পরিবেশগত ছাড়পত্র, লেগেছে বনবিভাগের অনুমতিও। তার জন্যেও কাজ শুরু করতে বেশ দেরি হয়। তাছাড়া প্রয়োজন ছিল ভূতাত্ত্বিক স্তরে নানা পরীক্ষানিরিক্ষারও। তার পরেই শুরু হয় খননের কাজ।

সব ঠিক থাকলে নভেম্বর থেকেই চালু হয়ে যেতে চলেছে এই টুইন টানেল। গিরগাঁওয়ের কাছে থাকছে টুইন টাওয়ারের একটি মুখ। সেখান থেকে আরব সাগরের তলা দিয়ে গিরগাঁও চৌপাট্টি ও মালাবার হিল হয়ে সুরঙ্গটি শেষ হবে ব্রিচ ক্যান্ডির কাছে প্রিয়দর্শিনী পার্কে। প্রায় ২.০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টুইন টানেলটি বানিয়েছে বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি)।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পদ্মা সেতুর পর কোটি মানুষের স্বপ্নপূরণ বঙ্গবন্ধু টানেলে, কতটা এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ?

পদ্মা সেতুর মতোই বঙ্গবন্ধু টানেলও দেশের যানচলাচলে গুরত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় মানুষরা তাই ভীষণ আশাবাদী, এশিয়ার বৃহত্তম টানেল প্রকল্পকে ঘিরে।

এ তো গেল একটি সুড়ঙ্গের কথা। দ্বিতীয় সুড়ঙ্গটি শুরু হচ্ছে মেরিন ড্রাইভ থেকে। পৌঁছবে বান্দ্রা-ওরলি সি লিঙ্কে। এই সুড়ঙ্গটি প্রায় ১০.৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। প্রতিটি সুড়ঙ্গেরই ব্যাস ১২.১৯ মিটারের। থাকছে ৬টি ক্রসওয়াক, চারটি পথচারীদের জন্য এূং দু'টি গাড়িচালকদের জন্য। প্রতিটি সুড়ঙ্গেই থাকছে ৩.২ মিটার প্রশস্ত চ্যানেল। আর এই সুড়ঙ্গের সবচেয়ে গভীর অংশ হল মালাবার হিলের কাছে একটি অংশ।

এতদিন গিরিগাঁও থেকে ওরলি পৌঁছতে কম করে হলেও ৪৫ মিনিট সময় লাগত। তবে এই টুইন টানেল চালু হলে, সেই সময় কমিয়ে আনা যাবে মাত্র দশ মিনিটে। যাতায়াতের সময় কমাতে টানেলটি সিগন্যালমুক্ত করার ভাবনাচিন্তা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই টুইন টাওয়ার চালু হলে মুম্বইয়ের রাস্তায় ট্র্যাফিকের চাপ অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মানচিত্রে গা-জোয়ারি, উলটে ভারতকেই শান্ত থাকতে বলছে চিন?

China map: চিনের তৈরি ওই স্ট্যান্ডার্ড ম্যাপ ২০২৩ সংস্করণ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়ে চিনের সমস্ত দাবি নস্যাৎ করা হয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে।

২০৪৭ সালের মধ্যে বিশ্বের দরবারে দেশকে উন্নততর হিসেবে তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর। সম্প্রতি অরুণাচলপ্রদেশে ১৩ হাজার ফুট উচ্চতায় বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা টুইন টাওয়ার তৈরির কথা সামনে এনেছে ভারত সরকার। সেই সেলা টানেল তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। ঝড়ের গতিতে এগোচ্ছেও কাজ। খুব শিগগরিই সেই উচ্চতর সুড়ঙ্গ তৈরি হয়ে যাবে বলেও জানা গিয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র চিন সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের বেশ কিছুটা অংশ নিজেদের বলে দাবি করেছে, যা এতদিন ধরে ভারতের অংশ বলেই পরিচিত। কিছুদিন আগেই চিনের তরফে একটি মানচিত্রের সংশোধনী সামনে আনা হয়, যেখানে ভারতের অন্তর্গত বেশ কিছু জায়গাকেই নিজেদের বলে দাবি করে চিন। আর সে নিয়েই শুরু হয় টানাপড়েন। চিনের এই দাবি ঘিরে প্রমাদ গুনেছে নয়াদিল্লি। অরুণাচল নিয়ে বেড়েছে সতর্কতা। আর এই সেলা টুইন টাওয়ার ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য খুবই কাজের হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ সেলাতে এই সুড়ঙ্গ তৈরি হয়ে গেলে চিনের তাওয়াংয়ের সীমান্তবর্তী ভারতীয় এলাকাগুলিতে সেনা ও যুদ্ধসরঞ্জাম মোতায়েন করা যাবে। লাদাখের পরিস্থিতি নিজে চোখে দেখেছে ভারত। তাই অরুণাচল নিয়ে গোড়া থেকেই সাবধান হতে চাইছে নয়াদিল্লি।

আশা করা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শেষের দিকেই শেষ করে ফেলা যাবে এই সেলার টুইন টানেল বানানোর কাজ। বর্ডার রোড অর্গানাইজেশনের কাঁধে বর্তেছে এই সুড়ঙ্গ বানানোর দায়িত্ব। ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল সেলা টানেল তৈরির ঘোষণা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। বালিপাড়া থেকে চারদুয়ার হয়ে তাওয়াং পর্যন্ত সড়ক প্রকল্পের অংশ হতে চলেছে সেলার এই টানেল। এই টানেলের জন্য প্রাথমিক ভাবে ৭০০ কোটি টারা বরাদ্দ হয়। সেলার এই টানেল তৈরি হলে ভারতের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা হবে। বিশেষত ড্রাগন সেনাকে প্রতিহত করার কাজ খানিকটা সহজ হবে বলেই মনে করছেন ভারতের কূটনৈতির বিশেষজ্ঞেরা। সব মিলিয়ে দু-দুটি যমজ সুড়ঙ্গের জোড় যে ভারতকে যে বেশ খানিকটা বাহুবলী করবেই, তাতে কিন্তু সন্দেহ নেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?