ঔপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

Writer in Residence
৬ মিনিট
ঔপন্যাসিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

ছেলেটি দামাল | বনবাদাড়ে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ায় | শুধু তাই নয়, তার এসবের সঙ্গী যারা, তারা সমাজের চোক তথাকথিত ভদ্রলোক নয় কখনই | এমনকি অনেকে একই ধর্মেরও নয় | অথচ ছেলেটির সেদিকে কোনও খেয়াল নেই | আসলে সেই বয়স থেকেই ছেলেটি মিশতে চায় তাদের সঙ্গে যাদের এড়িয়ে চলে তথাকথিত ভদ্রলোকেরা | জানতে চায় তাদের কথা ---- যাদের কথা ভাবতে চায় না এই ভদ্রসমাজ |

ছেলেটির নাম প্রবোধ কুমার | বাবা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলির চাকরি | কোনও জায়গাতেই বেশিদিন থাকা হয় না | অবিভক্ত বাংলার এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যেতে হয় কিছু দিন পরপরই | তাই তাঁর পরিবারকেও পড়াশোনার যথেষ্ট অসুবিধে হয় | একমাত্র প্রবোধকুমাকেই এতে খুশি হতে দেখা যায় |

খুশি হওয়ার কারণ, নতুন নতুন জায়গায় যাওয়া মানেই নতুন নতুন বন্ধু আর সেইসব জায়গার জলজঙ্গল ইত্যাদিতে অবাধে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ |

প্রবোধ প্রথম থেকেই সাহসী | তাই অন্যরা যেখানে যেতে ভয় পায়, সেখানেই সে ছুটে যায় সকলের আগে |

চাকরির সূত্রে হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় বদলি হয়ে আসেন সাঁওতাল পরগনার দুমকায় | সেখানেই ১৯০৮ সালের ১৯ শে মে প্রবোধকুমারের জন্ম | ১৪জন ভাই-বোনের মধ্যে প্রবোধ ছিল পঞ্চম | তার মা নিরোদা দেবী তাকে আদর করে মানিক বলে ডাকতেন | মানিকও তার মাকে খুবই ভালবাসত | কিন্তু অতজন ভাইবোন থাকার কারণে, যারা আবার বেশিরভাগই তার চেয়ে ছোট, মন চাইলেও মাকে বিশেষ একটা কাছে পেত না তার মানিক | এই জন্য বরাবর তার মনে একটা খেদ থাকত |

মানিকের যখন ষোল বছর বয়স, তখন তার মা মারা গেলেন | মায়ের এই আকস্মিক মৃত্যু কোনও মতেই মেনে নিতে পারলনা মানিক | মানিক এমনিতেই ছিল দুরন্ত ও দুঃসাহসী | মাকে হারানোর বেদনায় সে আরো বাউন্ডুলে হয়ে গেল | তার মনে ধারণা জন্মালো যে এত বড় সংসারের ধকল সৈতে পারেননি বলে তার মা এত তাড়াতাড়ি চলে গেলেন | এই ধারণার বশবর্তী হয়ে বাড়ির সকলের উপর মানিকের একটা রাগ এবং বিতৃষ্না জন্মালো | আর তাই সকলের সঙ্গে বাড়ল দূরত্ব | একটা সময় বাড়ির সকলের সঙ্গে সব সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়ে পথেই বেড়িয়ে পড়ল মানিক |

এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর মানিকের বেপরোয়া ভাব একটু শান্ত হলো | সে আবার বাড়ি ফিরে এলো এবং পড়াশুনা শুরু করল | বাবার বদলির চাকরির কারণে মানিকের পড়াশুনা কোনও একটি জায়গায় কোনও একটি নির্ধিষ্ট স্কুলে হয়নি | স্কুল জীবনের শুরু দুমকায় হলেও তার পরে সাতবার স্কুল পাল্টাতে হয়েছে মানিককে | একেকটি স্কুল মানে একেকটি পরিবেশ | একাক জায়গায় একাক ভাষার প্রাধান্য | কোনও কোনও জায়গার স্কুলে হিন্দি ভাষার প্রাধান্য, কোথাও বাঙাল ভাষা আবার কোথাও এদেশী পশ্চিমবঙ্গীয় ভাষা | এই রকম নানা ভাষার প্রাধান্যের স্কুলে পড়ার কারণে বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষাতেই মানিকের যথেষ্ট ধক্ষতা জন্মায় | অবশ্য মানিকের আদি বাড়ি ছিল ঢাকায় | তারফলে স্বাভাবিক ভাবেই বাড়িতে বাঙাল ভাষার সঙ্গে পরিচয় ঘটেছিল তার |

এইভাবে বাবার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে মানিক একটু থিতু হয়ে এসে বসল মেদিনীপুর জেলায় | মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকেই মানিক প্রবেশিকা পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয় এবং ১৯২৬ সালে ১৮ বছর বয়সে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয় | মানিক অঙ্কে বরাবরই ভাল ছিল | এই পরীক্ষায় সে অঙ্কের অবশ্যিক এবং ঐচ্ছিক --- দুটি পত্রেই লেটার মার্ক্স্ পায় | বাবার বদলির চাকরি, মায়ের অকাল মৃত্যু এইসব বিগ্ন থাকা সত্ত্বেও মানিক পড়াশুনায় যথেষ্ট দক্ষ ছাত্র বলে পরিচিত ছিল |

প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আই-এস-সি পড়ার জন্য বাঁকুড়া জেলায় ওয়েলেসলিয়ার মিশন কলেজে ভর্তি হয় | এই কলেজের এক অধ্যাপক ছিলেন জ্যাকসন সাহেব | তিনি মানিকের মধ্যে এক প্রতিভার সন্ধান পেয়েছিলেন | তাই তিনি মানিককে কলেজের নির্ধিষ্ট পাঠ্য বিষয়ের বাইরেও অনেক বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করার জন্য অনুপ্রেরণা দিতেন | তিনি মানিককে খুব স্নেহও করতেন | মাতৃহারা মানিক সেই স্নেহ পেয়ে খুব মুগ্ধ হয়েছিল | জ্যাকসন সাহেব সেই সময় মানিকের মনোযোগ বাইবেলের প্রতি আকৃষ্ট করেন | মানিকও অতন্ত্য মনোযোগ এবং নিষ্ঠার সঙ্গে বাইবেল গ্রন্থটি পাঠ করেছিল | তারফলে মানিকের দৃষ্টি ভঙ্গি অনেক স্বচ্ছ ও প্রসারিত হয়েছিল | এইভাবেই নিত্য নতুন বিষয় নিয়ে চর্চা করবার একটা আগ্রহ মানিকের মধ্যে জেগে উঠেছিল | এরই ফলশ্রুতি হিসেবে মানিক পরবর্তীকালে মার্ক্সবাদ নিয়ে রীতিমতো চর্চা করেছিল |

ওয়েলেসলিয়ার মিশন কলেজ থেকে ১৯২৮ সালে আই-এস-সি পরীক্ষায় প্রথম ভাগে উত্তীর্ণ হয় | প্রত্যেকটি বিষয়ই সে খুব ভাল নম্বর পেয়ে পাশ করে | এরফলে সে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অঙ্কে অনার্স নিয়ে সহজেই ভর্তি হতে পারে |

দুর্ভাগ্যের বিষয় আর্থিক অনটনের কারণে এত ভাল কলেজে পড়াশুনার ব্যবস্থাতেও ছেদ পরে গেল | শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বি-এস-সি পরীক্ষা আর দেওয়া হলো না | সংসারের অভাব মেটাতে সে বাধ্য হলো ময়মংসিংহ জেলার একটি স্কুলে চাকরি নিতে |

মানিকের বরাবরই বিজ্ঞান বিষয় পড়াশুনার ঝোক ছিল | কিন্তু ছোটবেলা থেকেই মানুষের অভাব অনটন দেখে দেখে তার মধ্যে একটি দরদী মন গড়ে উঠেছিল | সে অতন্ত্য অনুভূতি প্রবন ছিল | কিন্তু তার সেই অনুভূতি বা মানসিক কষ্ট অথবা কোনও বিষয়ে ভাল লাগার কথা কখনও কারো কাছে প্রকাশ করতে পারত না | অনেক সময় এইকারণে লোকে তাকে ভুল বুঝতো | এই ভুল বোঝাবুঝি তার মনের ভেতর আরও বেদনার সৃষ্টি করত |

এই মানসিক বেদনাই তার লেখার মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করল | সভাবে সে যত নিরুচার ছিল, তার কলম তত সরব হতে শুরু করল | চারপাশের দেখা অন্যায় অবিচার তাকে মানসিক ভাবে অতন্ত্য আলোড়িত করত | এদিকে প্রকৃতি জগৎ এবং মানুষ ---- দুইয়ের প্রতি তার ছিল গভীর টান | ফলে সে যখন সাহিত্যের আঙ্গিনায় পা রাখলো তখন স্বাভাবিক ভাবেই তার লেখার মধ্যে দিয়ে তার দেখা পরিবেশ, তার দেখা চরিত্রগুলো আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করল | এই সব চরিত্র এই সব পরিবেশগুলো প্রকাশিত হওয়ার জন্য মানিকের মনে অবিরত ঢেউ তুলতো | আর সেই ঢেউয়ের ধাক্কায় সে যেসব গল্প এবং উপন্যাস লিখতে শুরু করল তার মধ্যে সব চরিত্রগুলোই জীবন্ত হয়ে উঠতো |

তখন মানিকের বয়স ২০ বছর তখনও সে প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র | কলেজ ক্যান্টিনে এতদিন বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে গল্পগুজব হচ্ছিল | কোথায় কোথায় 'বিচিত্রা' পত্রিকার প্রসঙ্গ উঠল | বিচিত্র তখন বাংলার অন্যতম সেরা পত্রিকা | বাংলার খ্যাতনামা লেখক ছাড়া অন্য কোনও লেখকের লেখা ছাড়া প্রকাশিত হতো না | সেকথা মনে রেখেই সেদিন এক বন্ধু মানিককে বললো ------ পারবে তোমার অভিজ্ঞতা নিয়ে গল্প লিখতে? পারবে সেই গল্প বিচিত্রা পত্রিকায় ছাপাতে | মানিক কিন্তু খুব শান্ত ভাবে সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করল এবং বলল যে সে পারবে |

এদিকে মানিকের মনে তোলপাড় শুরু হলো ----- কি বিষয় নিয়ে লিখবেন | অবশেষে লিখে ফেললেন একটি গল্প | কাউকে কিছু না জানিয়ে নতুন গল্পের পাণ্ডুলিপি নিয়ে চলে গেলেন বিচিত্রার অফিসে | কিন্তু মাত্র ২০ বছর বয়সে, পত্রিকা অফিসের পরিবেশ দেখে সম্পাদক মশাইয়ের সঙ্গে আর দেখা করার সাহস পেলেন না | তবে পাণ্ডুলিপিটি অফিসের লেটার বক্সে ফেলে দিয়ে চলে এলেন |

তিনি ধরেই নিয়েছিলেন গল্পটা পত্রিকায় চাপা হবে না | কিন্তু মাস চারেক বাদে সবাইকে অবাক করে দিয়ে গল্পটা প্রকাশিত হলো বিচিত্রা পত্রিকায় | গল্পটির নাম 'অতসী মাসি' | গল্পটি প্রকাশিত হবার সঙ্গে সঙ্গে পাঠক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হলো | পাঠকদের মনে হলো বাংলা সাহিত্যের জগতে এক সম্ভাবনাময় লেখকের আবির্ভাব হয়েছে |

তিনি কিন্তু নিজেকে কিছুটা গোপন করার জন্যই লেখকের নামের জায়গায় তার মায়ের দেওয়া আদরের নাম মানিকই ব্যবহার করেছিলেন | এমনি করে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় --- এই নামের আড়ালে হারিয়ে গেল প্রবোধ বন্দ্যোপাধ্যায় |

পরের বছর প্রকাশিত হলো তার লেখা 'দিবারাত্রির কাব্য' | এই লেখা প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠল | এরপরে তাঁর কলম থেকে একের পর এক বেরোল অবিস্বরণীও সব সাহিত্য কীর্ত্তি ----- পুতুল নাচের ইতিকথা, পদ্দা নদীর মাঝি, প্রাগৈতিহাসিক, অমৃতস্যপুত্র, সরীসৃপ, শহরতলি, চতুষ্কোন, হরফ, ইত্যাদি উপন্যাস ও গল্প | তাঁর লেখা শেষ উপন্যাসের নাম 'মাশুল' | তিনি যে বাংলা সাহিত্যকে কিভাবে সমৃদ্ধ করে গেছেন তা বাংলা সাহিত্যের পাঠক মাত্রই জানেন | সাহিত্যের মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন চরিত্র ও পরিবেশ নির্মাণ এবং তার মধ্যে দিয়ে সেই চরিত্রগুলির মানসিক টানা পড়েন এবং পরিবেশের অস্থিররতা তিনি অনবদ্য দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলতেন | পুতুল নাচের 'ইতিকথা' এই উপনাস্যের চরিত্র হোসেনমিয়ার কথা পাঠকেরা আজও ভুলতে পারেনা |

কিন্তু সেযুগে লেখকেরা ভাল পারিশ্রমিক পেতেন না | তাঁরও নাম হলো, কিন্তু দারিদ্র্য ঘুচলো না | সাহিত্যই ছিল তাঁর একমাত্র জীবিকা | আর সেই জীবিকা থেকে তিনি কোনদিনই আর্থিক স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে পাননি | অনেক রোগে ভুগতে ভুগতে এবং অভাব অভিযোগের তাড়নায় ১৯৫৬ সালে ৩ ডিসেম্বর, মাত্র ৪৮ বছর বয়সে তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে যায় |

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।