পাঞ্জাব ভোটে কংগ্রেসের ঘরের শত্রু কংগ্রেসই!

Sindhu Som
৩ মিনিট
পাঞ্জাব ভোটে কংগ্রেসের ঘরের শত্রু কংগ্রেসই!

পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সচিব নভজ্যোত সিং সিধু একটি বক্তব্যে বলেন, “কংগ্রেসকে (পাঞ্জাব) খোদ কংগ্রেস ছাড়া আর কেউ হারাতে পারবে না।” এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে দ্রুত ট্যুইট করে এএনআই নিউজ। আসন্ন বিধানসভা ভোট নিয়ে পাঞ্জাব কংগ্রেসের দলাদলির দিকেই ইশারা করছে এই বক্তব্য। মাঝা, দোয়াবা ও মালওয়া–পাঞ্জাবের এই তিনটি ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব, কলহ, এমনকী পরস্পরের প্রতি আনা নানান গুরুতর অভিযোগে জর্জরিত পাঞ্জাব কংগ্রেস।

২০১৭ সালে সিধু কংগ্রেসের সদস্যপদ যখন গ্রহণ করেছিলেন, তখন শুধু পূর্ব অমৃতসর নয়, সমগ্র অমৃতসরের আসনের অধিকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল তাঁর। কিন্তু বর্তমানে পাশা উলটে গেছে। এই অঞ্চলে সিধুর রাজনৈতিক সম্পর্কগুলির অবনতি ঘটেছে গত কয়েক বছরে। অমৃতসর সেণ্ট্রাল থেকে কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচন লড়ছেন ডেপুটি সিএম ওম প্রকাশ সোনি, পশ্চিম অমৃতসর থেকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী রাজ কুমার ওয়ার্কা—দুজনের কারোর সঙ্গেই সম্পর্ক ভালো নয় সিধুর। এমনকী ২০১৭তে সিধু যাঁর হয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন, সেই সুনিল দুতিও (উত্তর অমৃতসরের এম এল এ) সুসম্পর্ক রাখতে পারেননি তাঁর সঙ্গে। অমৃতসরের এম পি গুরজিত আউজলাও এই তালিকায় রয়েছেন। বাতালার আসনটিতে অশ্বিনী কুমারকে টিকিট পাইয়ে দিতে সমর্থ হয়েছেন সিধু, কিন্তু তা কংগ্রেসের মধ্যে জটিলতা আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

এই দলীয় সংঘাত আখেরে শিরোমণি আকালি দলের প্রার্থী বিক্রম সিং মাজিথিয়াকেই লাভবান করবে বলে মনে করছেন অনেকে। পূর্ব অমৃতসর থেকেই সিধুর বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়াচ্ছেন বিক্রম।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। চরণজিৎ সিং চান্নি নাকি নভজ্যোৎ সিধু? এই প্রশ্ন গুরুতর। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর স্বয়ং সোনিয়া গান্ধী নাকি এ সমস্যার মীমাংসা করে ফেলতে বলেছেন এক থেকে দুদিনের মধ্যে। কংগ্রেস এ বিষয়ে দলীয় সদস্যদের মতামত চেয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে চরণজিতের পাল্লাই ভারি বলে মনে করছেন অনেকে, তবে সিধুর অনুগামীরাও সম্পূর্ণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেই খবর।

কয়েকদিন আগে কংগ্রেস ঘোষণা করে দ্বিতীয় নির্বাচনকেন্দ্র ভাদাউর থেকে ভোটে লড়বেন চান্নি। এই খবর চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এই পদের জন্য আগে চামকৌর সাহিবকে নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু এলাকাটিতে আম আদমি পার্টির গুরুতর প্রভাব প্রতিপত্তির জন্যই প্রার্থী বদলানো হয়েছে বলে মনে করছেন দলের লোকেরা। এই ঘটনায় ব্যপক দ্বিধার মুখে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। কংগ্রেসে প্রচারে দলীয় অন্তর্ঘাত প্রভাব ফেলতে পারে–এর আশঙ্কা এতটাই বেড়েছে যে উচ্চ নেতৃত্বে অবস্থানকারী রাহুল গান্ধী পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয়েছেন, “দল যে কোনও একজনকেই বাছবে। দুই ব্যক্তিই একসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে নেতৃত্ব দিতে পারেন না।” গত বৃহস্পতিবার জলন্ধরে বক্তব্য রাখার সময় তিনি আরও বলেন, “সাধরণত সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয় না, কিন্তু কংগ্রেসের কর্মীরা যদি একান্তই তা চান, আমরা তাও করতে রাজি। কিন্তু সমস্তই হবে কর্মীদের মতামত নিয়ে। তারাই নির্ধারণ করবে প্রার্থী।”

পাঞ্জাবের শাসক দল পূর্বে মন্তব্য করেছিল এ ব্যপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ২০ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমেই ঘোরালো হয়ে উঠছে। রাহুল গান্ধী সরাসরি জানিয়েছেন পাঞ্জাব কংগ্রেসের মুখ্যসচিব সিধু এবং মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ চান্নির পারস্পরিক বিরোধ দিনদিন আরো প্রকাশ্যে উঠে আসছে, যা সমস্ত দলের জন্য অস্বস্তিদায়ক। এই বক্তব্যের সময় উল্লিখিত দুইজনই মঞ্চে ছিলেন। রাহুল গান্ধী বক্তব্য রাখার আগেই অবশ্য তাঁরা নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সিধু জানান, এ বিষয়ে রাহুল গান্ধীর সিদ্ধান্তকেই বিনা বক্যব্যয়ে মেনে নেবেন তিনি। চান্নিও নাটকীয় ভঙ্গীতে হাত-জোড় করে জানান, আমাদের নিজস্ব মতানৈক্যে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো বহিরাগতকে সুবিধা করে দেওয়া উচিত হবে না। প্রসঙ্গত সিধুর জাতশত্রু অমরিন্দর সিং-কে পার্টি স্যাক করার পরই মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন চান্নি। কিন্তু প্রধান আসন নিয়ে প্রতিযোগিতা দুজনের সম্পর্কে চিড় ধরিয়েছে। আগামী ১০ মার্চ পাঞ্জাবসহ আরো চারটি রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা হবে।

ইতিমধ্যে পাঞ্জাবে সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বেছে নিতে টেলি-পোল শুরু করেছে কংগ্রেস। ভোটারদের ফোন করে এ বিষয়ে মতামত চাইছে তারা।

ছবিঋণ- ফেসবুক

তথ্যঋণ–

Advantage Team Channi In Punjab Congress Tussle? Sonia Gandhi Holds Talks [WWW Document], n.d. . NDTV.com.

Assembly elections 2022 live updates: Congress starts tele-poll for Punjab CM face [WWW Document], n.d. . The Times of India.

January 30, I.T.W.D.C., January 30, 2022UPDATED:, Ist, 2022 18:39, n.d. Only Congress can defeat Congress in Punjab, says Navjot Singh Sidhu [WWW Document]. India Today.

Punjab Congress has a familiar problem: factionalism, 2022. . The Indian Express.

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।