মহাপাজি, বানান নাজি – ভাষাদিবসের নয়া স্লোগান  

International Mother Language Day: শুধু ‘মাতৃভাষাই মাতৃদুগ্ধ’ বা ‘আ মরি বাংলা ভাষা’ বলে চিৎকার করে বাংলা ভাষাকে বাঁচানো যাবে না, আসল কথা হল নির্ভুল  বানান লেখার সদিচ্ছা থাকতে হবে।

Surojit Sen
৫ মিনিট
মহাপাজি, বানান নাজি – ভাষাদিবসের নয়া স্লোগান  

‘একে তো ফাগুন মাস দারুণ এ সময়’ - স্বয়ং হেমন্তই বসন্তের ফাগুন সম্পর্কে এই কথা বলে গিয়েছেন, তার উপর এই মাসে বাঙালির প্রিয় ভাষাদিবস। শুধু ভাষাদিবস নয়, ভাষাশহিদ দিবস, পরবর্তী কালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এইসব ইতিহাস ইন্টারনেটে খুঁজলে বিস্তারিত জানা যাবে সংক্ষেপে, বাংলা ভাষাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকা শহরের আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর সরকার গুলি চালালে অনেক ছাত্র শহিদ হন, ঘটনাটি ঘটে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। এই বিষয়ে ঢাকার সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরী গান লেখেন, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’। সেই গান শুধু জনপ্রিয়ই হয়নি, ভাষাদিবসের অন্যতম ট্যাগলাইন গানের প্রথম লাইনটি। যদিও বাংলা ভাষাদিবসটিকে আমরা ইংরেজি বা খ্রিষ্টীয় দিনপঞ্জির হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারি বলেই জানি, সেটা কি ওই গানের ‘ভুলতে পারি’ সঙ্গে ‘ফেব্রুয়ারির’ মিল দেবার জন্য? অথচ ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল বাংলায় ৮ ফাল্গুন। আবার এই ফাল্গুনেই বাঙালির সরস্বতীদিবস আর প্রেমদিবস। দ্বিতীয়টির সঙ্গে বাংলা ভাষার তেমন যোগ না থাকলেও সরস্বতী দিবস ও ভাষাদিবসের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র আছে, সেটি বাংলা পড়া ও লেখা।

এদিকে বাঙালির প্রিয় অভ্যাস হল ভুল বাংলা বানান লেখা, অন্তত ফেসবুকে তাই দেখি, দেওয়াল লিখন, দোকানের সাইনবোর্ডের কথা আর নাই বা তুললাম, কোন পাড়াতে ‘লক্ষী’ স্টোর্স কি ‘লক্ষীনারায়ণ’ ভান্ডার নেই? কেউ সেই দোকানমালিকদের বলে দেননি যে এই বানানে স্বয়ং লক্ষ্মী রুষ্ট হয়েছেন। তো ফেসবুকে কারও বাংলা বানান ভুলের উল্লেখ করলে লেখক ‘টাইপো’ বলে পাশ কাটিয়ে যান অথবা যিনি ভুলের উল্লেখ করেছেন তাঁকে ‘বানান নাজি’ বলে বিদ্রূপ করেন। যাঁরা এইগুলো করেন বাংলা বানান সম্পর্কে তাঁদের এই ঔদাসীন্য আর ঔদ্ধত্য দেখে বাঙালি হিসেবে লজ্জাই করে। ওদিকে বাংলা শব্দভাণ্ডারের দেড় লক্ষ শব্দর কেউ না কেউ প্রতিদিন এঁদের হাতে অপমানিত হয়ে চলেছে। অনেকে বলেন, এঁরা ফেসবুকে লেখার সময় বানান সম্পর্কে ততটা সচেতন থাকেন না, কারণ তাঁরা সামাজিক যোগাযোগের উপর বেশি প্রাধান্য দেন, আমার প্রশ্ন, ভুল বানানে বাংলা লিখে তাঁরা সমাজের সঙ্গে কী যোগাযোগ স্থাপন করতে চান? ভুল বানানে লেখা তাঁর সামাজিক বার্তা পাঠক গুরুত্বই বা দেবে কেন?

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখব বাংলা ব্যাকরণ তথা বানান নিয়ে কাজ হচ্ছে গত ২৪৪ বছর ধরে। ১৭৭৮ সালে নাথনিয়েল হ্যালহেড ইংরেজি ভাষায় লেখেন বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ 'আ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' , ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি লেখেন ‘আ গ্রামার অফ দ্য বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’, ১৮৩৩ সালে রাজা রামমোহন রায় লেখেন ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ গ্রন্থ’, ১৮৫৫ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর লেখেন ‘বর্ণপরিচয়’, ১৮৮৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখেন ‘শব্দতত্ত্ব’, ১৯১৭ সালে জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস লেখেন ‘বাঙ্গালা ভাষার অভিধান’, ১৯২৬ সালে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লেখেন ‘অরিজিন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গোয়েজ’ ১৯৩২ সালে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’। এতগুলি কাজ হওয়ার পরও বাংলা বানানের বিশৃঙ্খলা দূর করা যায়নি দেখে, রবীন্দ্রনাথের প্রস্তাবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে রাজশেখর বসুর সভাপতিত্বে বানান সংস্কার সমিতি গঠিত হয়, এবং 'বাংলা বানানের নিয়ম' প্রকাশিত হয় ১৯৩৫/ ১৯৩৬ সাল নাগাদ। এই বই প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিতর্কের ঝড় ওঠে, কোনো কোনো সমালোচকের পণ্ডিতম্মন্যতা ও রবীন্দ্রবিরোধিতা প্রকট হয়ে ওঠে। তা সত্ত্বেও এই বানানবিধি একটা নির্দিষ্ট পথপ্রদর্শকের ভূমিকা নেয় ও বেশির ভাগ অভিধানের মান্যতা লাভ করে। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয় রাজশেখর বসুর বাংলা অভিধান গ্রন্থ ‘চলন্তিকা’।

১৯৮১ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে এক নতুন কমিটি গঠন করে। এই কমিটি একটি বানান পুস্তিকা প্রকাশ করে ২০০ বিদ্বজনের কাছে মতামত চেয়ে পাঠিয়েছিলেন এবং নতুন সংস্কারে উদ্যোগী হয়েছিলেন, কিন্তু অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে বানান সংস্কারে উদ্যোগী হয়েছিলেন মণীন্দ্রকুমার ঘোষ, জগন্নাথ চক্রবর্তী, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, পবিত্রকুমার সরকার।

এত বিতর্ক সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি ‘বাংলা বানানবিধি’ বইটি প্রকাশ করেছেন ১৯৯৭ সালে, এখন প্রায় সবাই সেই বানান অনুসরণ করে।

তবু ফেসবুকে ভুল বানান লেখার প্রিয় অভ্যাসটি বাঙালির আজও গেল না। এই মাসেই ভাষাদিবসে দেখব ভাষাপ্রেমী বাঙালির ফেসবুক পোস্ট, অবশ্যই কিছু বানান ভুলসহ, সবাই যে ভুল করেন তা নয়, যাঁরা করেন তাঁদের সংখ্যাও কিছু কম নয়। তবে হ্যাঁ, এক বাঙালি কাপড় ব্যবসায়ী দেখলাম এ বছর মাতৃভাষা দিবসে কেনাকাটার উপর ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন, বিজ্ঞাপনে বানান ভুল নেই। দক্ষিণ কলকাতার এক পাড়ায় দেখলাম, সেই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের হাসিমুখে ছবি-সহ বড় ফ্লেক্সে বাংলায় পৌরবিজ্ঞপ্তির প্রথম লাইনেই বানান ভুল।

এই প্রসঙ্গে মনে পড়ল, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে, পিছিয়ে না পড়ার জন্য এক অবশ্য পাঠ্য বাংলা দৈনিকের প্রথম পাতায় [বিজ্ঞাপনের পাতায়] এক মোবাইল ফোন কোম্পানির পাতা জোড়া বাংলা ভাষায় লেখা বিজ্ঞাপনে ক্ষতের মত বানান ভুল দেখে বন্ধু চিকিৎসক মৈনাক পাল, সেই মোবাইল কোম্পানির ওয়েবসাইটে এই বানান ভুল বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমালোচনামূলক একটি পোস্ট করেন। তাই নিয়ে ফেসবুকে হইহই হয়েছিল, সম্ভবত অন্য একটি সংবাদপত্রে [বলা বাহুল্য, পিছিয়ে থাকা] খবরও হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এই উদ্যম কতজন বাংলাভাষাপ্রেমীর আছে?

লেখক হিমানীশ গোস্বামী তাঁর বই ‘বাংলা বনধ বা শেষের শুরু’ [জানুয়ারি / ২০০৪ ] নামক কৃশকায় গ্রন্থটিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলেছেন রসিকতার ছলে, কিন্তু প্রশ্নগুলো সঠিক। যেমন ‘আন্তরিক শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন’, এই বাক্যটি বহু জায়গায় দেখা যায়, শুভেচ্ছা কি আন্তরিকতাহীন হওয়া সম্ভব? তাহলে কেন এই অতিরিক্ত ব্যবহার অথবা ‘স্বেচ্ছায় রক্তদান অনুষ্ঠান’, এই হাস্যকর বাক্যটি আজও সংশোধন হল না, রক্ত মানুষ স্বেচ্ছায়ই দান করে, বলপূর্বক রক্তদান বলে কিছু হয় কি?

‘মাতৃভাষা’ শব্দটি নিয়েও প্রশ্ন আছে, মানুষের সব ভাষাই গোষ্ঠীভাষা। যে ভাষা গড়ে উঠেছে প্রথমে পরিবারে, তারপর বেড়ে উঠেছে একটি অঞ্চলে। যে ভাষা বেড়ে ওঠার পিছনে শুধু মা নয়, বাবা, কাকা, কাকি, পিসি, জেঠা, জেঠিমা সবার অবদান আছে, তাকে শুধু মাতৃভাষা বলাটা কি ঠিক? সুতরাং প্রশ্নটা ‘আপনার মাতৃভাষা কী’ না হয়ে হওয়া উচিত ‘আপনার ভাষা কী?’

এসব বিতর্ক থাকবে, তাই বলে নির্ভুল বানান কেন আমরা লিখব না? আর যে সব বাঙালিরা রোমানে বাংলা লেখেন, সেটা একটা ভয়াবহ দৃশ্যদূষণ ও পঠনবিভ্রাট। ফেসবুকে বাংলায় টাইপ করা কঠিন ব্যাপারই নয়, একটু চেষ্টা করলেই শেখা যায়, তাহলে রোমানে বাংলা লেখার এই উদগ্র কামনা কেন?

দু'টি জনপ্রিয় ভুল বানান ব্যবহারের কথা বলে শেষ করছি,

১. কি ও কী – এই দুটির ব্যবহার অধিকাংশ বাঙালি জানেন না অথবা জেনেও ভুল লেখেন। যে প্রশ্নের উত্তর না /হ্যাঁ দিয়ে হবে, সেখানে 'কি' হবে। 'কি' ব্যাকরণে অব্যয় পদ। যেমন, প্রশ্ন: আপনি কি খেয়েছেন? উত্তর: হ্যাঁ অথবা না।

যে প্রশ্নের উত্তর না/হ্যাঁ ছাড়া অন্য কোনও নির্দিষ্ট বিষয় দিয়ে হবে, সেখানে 'কী' হবে। ' কী' ব্যাকরণে সর্বনাম পদ। যেমন, প্রশ্ন: আপনি কী খেয়েছেন? উত্তর: ভাত খেয়েছি।

২. সে আমার সাথে দিল্লি গিয়েছিল – এটি ভুল, লিখতে হবে সে আমার সঙ্গে দিল্লি গিয়েছিল।

শুধু ‘মাতৃভাষাই মাতৃদুগ্ধ’ বা ‘আ মরি বাংলা ভাষা’ বলে চিৎকার করে বাংলা ভাষাকে বাঁচানো যাবে না, আসল কথা হল নির্ভুল বানান লেখার সদিচ্ছা থাকতে হবে। কোনও বানান নিয়ে সংশয় থাকলে থাকলে তা ইন্টারনেটেই দেখে নেওয়া যায়, তবে হ্যাঁ, একটু সময় লাগে। যে বাঙালিরা বাংলা রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে শহিদ হয়েছেন, তাঁদের কথা ভেবে এই সময়টুকু না হয় আমরা বাংলা ভাষাকে দিলাম।

লিখেছেন
Surojit Sen
Surojit Sen
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।