বাংলা উচ্চারণের অভিধান থাকা কেন জরুরি?

Pabitra Sarkar
৪ মিনিট
বাংলা উচ্চারণের অভিধান থাকা কেন জরুরি?

কীসের উচ্চারণ শিখব ?

ভাষা মানেই উচ্চারণ এমন বলা যায়, তবে কথাটা পুরো সত্য হয় না। কারণ উচ্চারণের সঙ্গে ভাষা বলার সময় আরও কিছু আচরণ থাকে। আমরা হাত নাড়ি, হাতের আঙুল নাড়ি, চোখ ছোটবড় করি, গলা ফুলোই, টেবিলের ওপরে থাপ্পড় মারি, তাতে আমাদের ভাষাচার জীবন্ত হয়। আচ্ছা ঠিক আছে, ভাষা মানে উচ্চারণ ছাড়াও আরও অনেক কিছু, কিন্তু উচ্চারণটা তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, তাই না ? সবাই মুখবন্ধ করে বসে থাকলে ভাষা হবে কী করে? আচ্ছা মুখ না হয় খুললে, উচ্চারণও করলে, কিন্তু উচ্চারণ শিখতে হবে কেন ?

এইটা একটা ভালো প্রশ্ন। এইবার ব্যাপারটা বুঝে নাও। সব ভাষার উচ্চারণ শিখতে হয় না। তুমি জন্মালে, জন্মে বুঝতে পারলে তোমার বাড়িতে লোকে মুখ নেড়ে নেড়ে কী সব আওয়াজ করছে। আর সেই আওয়াজ সবাই করছে, মনে হচ্ছে আওয়াজগুলোই তাদের দিনের এক প্রধান কাজ। তুমি নতুন জন্মেছ, তুমি আওয়াজ করতে পার না। কিন্তু তুমি অবাক হয়ে দেখলে যে, তোমার গলায় কান্না প্রথম প্রথম একটা আওয়াজ চলে আসছে, খিদে পেলে (তুমি জানো না ‘খিদে’ কী তখনও), বিছানা ভিজিয়ে ফেললে (কাজটার নাম তখনও জানো না), ওই আওয়াজটার নামও যে কান্না তা তুমি জানো না। আর তাতেই কাজ হচ্ছে, তোমার নতুন চেনা এক ভদ্রমহিলা শশব্যস্ত হয়ে ছুটে এসে ছুটে এসে সব কিছুর উপযুক্ত ব্যবস্থা করছেন। তুমি জান না, কান্নাটা তোমার ভাষার প্রথম ধাপ। এর পরে তুমি গুগুগুগু, বাব্বা, দাদ্দা নানা আওয়াজ শুরু করবে, তার পর আধো আধো কথা, তার পর এক শব্দের বাক্য দু-শব্দের বাক্য বলতে বলতে সাড়ে তিন বছর নাগাদ বক বক করতে শুরু করবে, তোমাকে থামানো মুশকিল হবে। কাজেই তুমি প্রশ্ন করতেই পার,--ভাষা তো শিখেই গেলুম, উচ্চারণ তো করছিই, তা হলে আবার উচ্চারণ শিখতে হবে কেন ?

ঠিক কথা। এ প্রশ্নটার উত্তর হল, তুমি যে ভাষাটা প্রথম শিখলে, তোমার ঘরের ভাষা, সেটা কী দরের ভাষা সেটা বুঝতে হবে। মানুষেরা এক অদ্ভুত জীব, তারা তাদের ভাষার মধ্যে নানা জাতিভেদ তৈরি করেছে। তারা জানে তাদের ভাষার একটা নাম আছে বটে, যেমন বাংলা বা হিন্দি বা ইংরেজি বা জাপানি। কিন্তু ভাষা আসলে একটা নির্ভেজাল জিনিস নয়। তা অনেকগুলো ভাষার একটা গুচ্ছ। তার মধ্যে বেশিরভাগই হল উপভাষা বা ঘরের ভাষা (dialect)। তার এক একটার মধ্যে আবার সামাজিক স্তরভেদ আছে, শিক্ষিতেরা বড়লোকেরা একরকম বলে তো নিরক্ষরেরা আর-একরকম বলে। তাকে বলে শ্রেণিভাষা (sociolect)। কিন্তু সে সবের ওপরে একটা আছে তার নাম মান্য বা প্রমিত ভাষা (standard)। তুমি একটু বড় হয়ে দেখবে যে এই প্রমিত ভাষার প্রচণ্ড প্রতাপ। রেডিয়ো, টেলিভিশন, বক্তৃতায় সবাই প্রমিত ভাষা বলছে, ইশকুলেও তাই। আর খবরের কাগজ, বইপত্রে সব প্রমিত ভাষা লেখা।

তোমার ঘরের ভাষা যদি প্রমিত ভাষার কাছাকাছি হয় তো বেঁচে গেলে, কিন্তু না হলেই ঝামেলা। তোমাকে ওই প্রমিত ভাষা বলতে আর লিখতে শিখতে হবে। আর বলতে শেখা মানেই উচ্চারণ শেখা। ধ্বনির উচ্চারণ, শব্দের উচ্চারণ, এমনকি পুরো বাক্যের উচ্চারণ। তুমি যদি সিলেট অঞ্চলের লোক হও, তোমার মুখে ‘অ্যাবং’ চলে আসবে, সেটা ছেড়ে তোমাকে ‘এবোং’ শিখতে হবে। যদি ময়মনসিংহের লোক হও, তা হলে ‘সুর’ না বলে ‘চোর’ বলা শিখতে হবে। যদি দক্ষিণ ২৪ পরগনার লোক হও তাহলে ‘রইয়েসে’ না বলে ‘রোয়েছে’ বলা শিখতে হবে। যদি ঢাকার লোক হও তা হলে ‘আমি খামু না’, আর চট্টগ্রামের লোক হলে ‘আইঁ ন খাইয়ম’-এর বদলা ‘আমি খাব না’ বলা শিখতে হবে।

শুধু লেখাপড়া শেখার জন্যেই নয়। যা আবৃত্তি করবে বাংলা কবিতা, যে গান গাইবে, নাটক করবে, টেলিভিশনে রেডিয়োতে খবর পড়বে, এমনকি নিজের এলাকার বাইরে চাকরির সাক্ষাৎকারে বসবে তাকে ওই মান্য বা প্রমিত বাংলা শিখতে হবে।

ওই উচ্চারণ শেখার নানা উপায়

অবশ্যই আমাদের লেখাপড়া করতে করতেই প্রমিত বাংলার উচ্চারণ কিছুটা শেখা হয়ে যায়। স্কুলকলেজে ঘরের ভাষা বললে শিক্ষকমশাই/দিদিমণি রাগ করেন, সহপাঠীরা ঠাট্টা করে। লেখাপড়ার বাইরেও টেলিভিশন, সিনেমা, নাটক দেকা, শহরের লোকজনের বক্তৃতা শোনা থেকে মুখের প্রমিত ভাষা সম্বন্ধে আমাদের ধারণা ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকে। এ ছাড়াও আবৃত্তির স্কুল, নাটকের দল, গানের ক্লাস—তাতে প্রমিত বাংলার উচ্চারণ শেখার সুযোগ আছে। ঢাকাতে তো দেয়ালে বিজ্ঞাপনই দেখা যায়, ফোন নম্বর দিয়ে, ‘এখানে প্রমিত বাংলার উচ্চারণ শেখানো হয়।’ তা ছাড়াও ইংরেজির ক্ষেত্রে নানা সিডি পাওয়া যায, ইন্টারনেটেও গুগ্‌লও শব্দের উচ্চারণ শুনিয়ে দেয়। বাংলাতেও এ সব হতে পারে, হয়তো এর মধ্যে হয়েছেও।

সমস্যা হল, আমাদের বাংলা লেখা থেকে শব্দটির উচ্চারণ ধরা খুব কঠিন। লেখাকে আক্ষরিকভাবে উচ্চারণ করলে তা বাংলার মতোই শোনাবে না। তা আরও প্রকট সংস্কৃত থেকে ওই বানানে এসে যাওয়া তৎসম শব্দে, কিন্তু বাংলা ক্রিয়াতেও তা কম ঝামেলার নয়। ‘বক্ষ’ যে বক্‌ষ নয় ‘বোক্‌খো’, গদ্যকাব্য যে ‘গদ্ইয় কাব্ইয়’ নয়, ‘গোদ্দোকাব্বো’, আর ‘বলব’ যে ‘বোল্‌বো’ এ সব বিদেশিরা না বুঝতে পেরে ঘাবড়ে যায়, আমাদের বাঙালিরাও অনেক সময় খেয়াল করে না, যদিও উচ্চারণটা হয়তো তারা মোটামুটি ঠিকই করে। তবে উপভাষার বাঙালিদের তো বেশ সমস্যা হয়, তারা হয়তো ‘কাইব্বো’ বলে ফ্যালেন। ‘গেল’ আর ‘গেছে’-তে যে ‘গ্যা’ আর ‘গেলে’-তে যে ‘গে’ তা বানান দেখে কে বুঝবে ?

তাই উচ্চারণ শেখার সবচেয়ে সহজ উপায় বোধ হয় একটি উচ্চারণ শেখার অভিধান। ইংরেজিতে সেই কবে থেকে চালু হয়েছে সুনীতিকুমারের অধ্যাপক ড্যানিয়েল জোন্সের English Pronouncing Dictionary, আছে আমেরিকান কেনিয়ন আর নট্-এর আমেরিকার ইংরেজি বিষয়ে উচ্চারণ অভিধান। এ ছাড়া সমস্ত বড়ো ইংরেজি অভিধানে সেই কবে থেকে উচ্চারণ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাতেও জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের ‘বাঙ্গালা ভাষার অভিধান’এ একভাবে উচ্চারণ দেওয়া ছিল, তাঁর নিজস্ব উদ্ভাবনে। আজকাল ভাষাবিজ্ঞানসম্মত অভিধানে সাধারণত আন্তর্জাতিক ধ্বনিবিজ্ঞানের বর্ণমালা (International Phonetic Alphabet বা IPA)-তে পাশে উচ্চারণ দেয়। আমাদের উপমহাদেশে প্রকাশিত বাংলা উচ্চারণ অভিধানগুলিতে তা শুরু হয়েছে বাংলাদেশের বাংলা একাডেমি প্রকাশিত জামিল চৌধুরীর প্রমিত বাংলার উচ্চারণ অভিধান থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রয়াত নরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসও এই নীতিতে একটি উচ্চারণ অভিধান প্রণয়ন করেছিলেন। পরে এই বাংলায় সুভাষ ভট্টাচার্যের ‘সংসদ বাংলা উচ্চারণ অভিধানে’ও তার ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ উচ্চারণ নিখুঁতভাবে দেখাতে হলে এই উপায়টি অবশ্যগ্রহণীয়। এই অধমের যে উচ্চারণ অভিধানটি বেরোতে যাচ্ছে পয়লা বোশেখ নাগাদ (‘প্রমিত বাংলা উচ্চারণ অভিধান’), তাতে বাংলাতেই সব উচ্চারণ দেওয়া হয়েছে, দল বা সিলেব্‌ল ভাগ করে, যেমন প্রোৎ-তুৎ-পন্-নো-মো-তিৎ-তো।

আমরা আশা করি, একদিন কম্পিউটার-হোয়াট্সঅ্যাপেও বাংলা উচ্চারণ পেয়ে যাবেন আপনারা। তদ্দিন ছাপা অভিধানগুলো নিয়েই কোনওরকমে কাজ চালান। নিজের ঘরের ভাষা ছাড়বেন না, কিন্তু প্রমিত বাংলাও আপনার মুখে উজ্জ্বলভাবে জেগে উঠুক।

লিখেছেন
Pabitra Sarkar
Pabitra Sarkar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।