কসাইদের গরু বিক্রি করে ইস্কন! মানেকা গান্ধীর বিস্ফোরক দাবি কি সত্য?

ISKCON Cow Selling : মানেকার দাবি ইস্কন নিজেদের গোশালা বা গোয়ালঘর থেকে সরাসরি কসাইদের কাছে গরু বিক্রি করে!

inscript
৩ মিনিট
কসাইদের গরু বিক্রি করে ইস্কন! মানেকা গান্ধীর বিস্ফোরক দাবি কি সত্য?

কিছুকাল আগেই রামকৃষ্ণকে ব্যঙ্গ করা নিয়ে আলোচনায় এসেছিল ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসাসনেস, সোজা কথায় যাকে আমরা ইস্কন বলেই জানি। ইস্কন তখন অবিলম্বে সন্ন্যাসী আমোঘ লীলা দাসকে 'নিষিদ্ধ' ঘোষণা করে। এবার আরও মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে ইস্কনের বিরুদ্ধে। আর তা উঠেছে খোদ শাসক বিজেপির থেকেই! বিজেপির গো-প্রেম কারও অজানা নয়। দেশের ভোটের বড় নির্ধারকও গরুরাই। এই গরুদের নিয়েই এবার বিপাকে পড়েছে ইস্কন। ইস্কনই নাকি দেশের 'সবচেয়ে বড় প্রতারক', বলছেন বিজেপি সাংসদ মানেকা গান্ধী! কারণ কী? মানেকার দাবি ইস্কন নিজেদের গোশালা বা গোয়ালঘর থেকে সরাসরি কসাইদের কাছে গরু বিক্রি করে! কৃষ্ণের নামের জোট বেঁধেছে বিশ্বের তাবড় ভক্তরা, সেই বিখ্যাত ধর্মীয় সংগঠনের বিরুদ্ধে হঠাৎ এমন তীব্র আক্রমণ কেন?

মানেকা গান্ধী প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। প্রাণী অধিকার কর্মী হিসেবে তিনি সুখ্যাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় বরাবরই পশু কল্যাণ বিষয়ে সোচ্চার মানেকা। বিজেপির এই নেত্রী হঠাৎ ধর্মীয় সংগঠনের বিরুদ্ধে এমন বড় অভিযোগ আনলেন কোন প্রমাণের ভিত্তিতে? তার আগে অবশ্যই উল্লেখ্য যে, বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী কৃষ্ণ সম্প্রদায় ইস্কন কিন্তু এই অভিযোগগুলিকে 'অপ্রমাণিত এবং মিথ্যা' বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে মানেকা বলছেন, "ইস্কন দেশের সবচেয়ে বড় প্রতারক। এটি গোশালা রক্ষণাবেক্ষণ করে এবং প্রচুর পরিমাণে জমি সহ সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা পায়।" মানেকা অন্ধ্রপ্রদেশের ইস্কনের অনন্তপুর গোয়ালঘরে গেছিলেন। সেই গোয়াল ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে মানেকা জানান, সেখানে তিনি এমন কোনও গরু খুঁজে পাননি যেটি দুধ দেয় না বা বাছুর দেয় না। মানেকার দাবি, পুরো গোয়ালে কোনও শুষ্ক গাভী গরু ছিল না। একটি বাছুর অবধি ছিল না। এর মানে সব বিক্রি হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, শুষ্ক গাভী হচ্ছে এমন গাভী যার কিছুকালের জন্য দুধ দোয়া হয়নি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইস্কন : কৃষ্ণচর্চা নাকি স্রেফ ধর্মব্যবসা? জানুন আসল সত্য

ISKCON Myths and Reality: হিপি সংস্কৃতি গোষ্ঠীর মধ্যে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মাদকের অপব্যবহার। তাদের সঙ্গেই কাজ করেছিলেন স্বামী শ্রী প্রভুপাদ।

Response to the unsubstantiated and false statements of Smt Maneka Gandhi.

ISKCON has been at the forefront of cow and bull protection and care not just in India but globally.

The cows and bulls are served for their life not sold to butchers as alleged.

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দকে অপমান, ব্রহ্মচারী অমোঘ লীলাকে যে 'শিক্ষা' দিচ্ছে ইস্কন

Amogh Lila Prabhu, ISKON: দিন কয়েক আগেই অমোঘ লীলার একটি ভিডিও সামনে আসে, যেখানে তাঁকে রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দের বেশ কিছু বক্তব্যের সরাসরি বিরোধিতা করতে দেখা যায়।

— Yudhistir Govinda Das (@yudhistirGD)

মানেকা বলছেন, "ইস্কন তার সমস্ত গরু কসাইদের কাছে বিক্রি করছে। ইস্কন রাস্তায় গিয়ে 'হরে রাম হরে কৃষ্ণ' গান গায় আর বলে যে তাদের পুরো জীবন দুধের উপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে তাঁরাই গরুদের বিক্রি করে দেয় মাংসের জন্য। কসাইদের কাছে যত গবাদিপশু বিক্রি হয়, সবচেয়ে বেশি করে ইস্কনই!

এই চরম অভিযোগ অস্বীকার করে ইস্কনের জাতীয় মুখপাত্র যুধিষ্ঠির গোবিন্দ দাস জানান, এই ধর্মীয় সংস্থাটি শুধু ভারতে নয়, বিশ্বব্যাপী গরু ও ষাঁড়ের সুরক্ষা এবং যত্নের খেয়াল রাখে। গরু ও ষাঁড়দের এখানে রক্ষা করা হয়, কসাইদের কাছে বিক্রি করা হয় না। ইস্কনের দাবি, বিশ্বের অনেক অংশে যেখানে গরুর মাংস একটি প্রধান খাদ্য সেখানে গরু সুরক্ষার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ইস্কন। এই মুহূর্তে হরে কৃষ্ণ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ইস্কনের শত শত মন্দির রয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্তও রয়েছে। মানেকা গান্ধী ইস্কনের শুভাকাঙ্খী বলেই জানতেন অনেকে। তাই এমন অভিযোগে অবাক ইস্কনের ভক্তরাও৷

বিবৃতিতে ইস্কন আরও জানিয়েছে, বর্তমানে ইস্কনের গোশালাগুলিতে এমন অনেক গরু রয়েছে যারা পরিত্যক্ত বা আহত বা যাদের জবাই হওয়া থেকে উদ্ধার করে ইস্কনে এনে রাখা হয়েছে। ইস্কনের জনসংযোগ কর্মকর্তা রাধারমণ দাস মানেকার এমন অভিযোগের প্রমাণও দাবি করেছেন। রাধারমণ বলছেন, মানেকা গান্ধী অনন্তপুরের গোশালায় যাননি। সেখানে কর্মরত কর্মীরাই তাঁদের জানিয়েছেন মানেকার সফরের কোনও তথ্যই তাঁদের কাছে নেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।