খাবারের লাইনে নির্বিচারে গুলি ইজরায়েলি সেনার! গণহত্যার যে বীভৎসতা দেখল গাজা

Israel-Hamas war: কিন্তু থালায় খাবার এসে পড়ার আগেই ছুটে এল গুলি। একটার পর একটা গুলি ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে চলে গেল একের পর এক নিরন্ন মানুষের বুক-পেট।

Sohini Das
৩ মিনিট
খাবারের লাইনে নির্বিচারে গুলি ইজরায়েলি সেনার! গণহত্যার যে বীভৎসতা দেখল গাজা

খাবারের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল যুদ্ধপীড়িত দেশের অনেকগুলো মানুষ। দু'টো রুটির আশায়। অনেকদিন ধরেই ভালো করে আর খাবারদাবার জোটে না গাজাবাসীর। যুদ্ধ থামার নাম নেই। ক্রমশ এক পা এক পা করে দুর্ভীক্ষের দিকে পৌঁছে গিয়েছে দেশটা। খাবারদাবারের সাহায্যের লাইনগুলিতে অসম্ভব ভিড়। কার পাতে এসে ঠেকবে একটা-আধটা রুটি। আজও কি পেট ভরবে ঘরের নিরন্ন শিশু কিংবা অশীতিপর বৃদ্ধ মানুষগুলোর। কিন্তু থালায় খাবার এসে পড়ার আগেই ছুটে এল গুলি। একটার পর একটা গুলি ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে চলে গেল একের পর এক নিরন্ন মানুষের বুক-পেট। আর এই নির্বিকার গণহত্যার রচয়িতা ইজরায়েলি সেনা।

১৪৬ দিনে পড়েছে ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ। ফিলিস্তিনি জঙ্গিগোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে ইজরায়েলি সরকার। কিন্ত গত ৭ অক্টোবর থেকে যারা মারা গিয়েছেন, তাদের মধ্যে ক'জন হামাস জঙ্গি রয়েছে বলা কঠিন। বরং যারা রয়েছে, তারা বেশিরভাগই নিরপরাধ সাধারণ বাসিন্দা। কেউ শিশু, কেউ কিশোর, কেউ বৃদ্ধ, কেউ বা জোয়ান। গোটা গাজা আজ আস্ত একটা গণকবরে পরিণত হয়েছে। তবে তাতে কিছু যায় আসে না ইজরায়েলি সেনার।

আর সে কারণেই বোধহয় গাজার দক্ষিণ-পশ্চিম সারিতে খাদ্যের সারিতে অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার অভুক্ত মানুষের বুকে নির্বিচারে গুলি চালাতে পেরেছে ইজরায়েলি সেনা। বুধবারের ওই হামলায় কম করে হলেও শতাধিক ফিলিস্তিনি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জখম অন্তত সাতশো জন। না, তারা কেউ বিপ্লব, বিদ্রোহ, বিরোধিতা কিছুই করেননি। এসেছিলেন সামান্য খাবার সংগ্রহ করতে। গাজার স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ক্রমেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। বুধবারের ওই গণহত্যার ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যাটা যে আসলে কোথায় গিয়ে পৌঁছবে, তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ইজরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়েছিল একগুচ্ছ দেশ। আদালতের শুনানিতে সেই অভিযোগ উড়িয়েছিল ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সেই অভিযোগ যে বিন্দুমাত্র মিথ্যা নয়, তার প্রমাণ অজস্র বার গাজা ভূখণ্ডে দিয়েছে ইজরায়েলি সেনা। তবে এবার ইজরায়েলি সেনাবাহিনী যেভাবে খাবারের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে, তাকে শুধু নিষ্ঠুরই নয়, ঠান্ডা মাথায় চালানো গণহত্যা বলেই দাবি করেছে প্যালেস্টাইনের বিদেশমন্ত্রক।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পাঁচ মাসে ১৭ হাজার মৃতদেহ দাফন! গাজার মৃত্যুমিছিল ঘুমোতে দেয় না বৃদ্ধ জাফরকে

Israel War on Gaza: গত সাতাশ বছরে যে পরিমাণ শবদেহকে সমাধিস্থ করেছেন জাফর, গত পাঁচ মাসে তার দশগুণ দেহ সৎকার করতে হয়েছে তাকে। গাজা এখন গণকবর।

The Ministry of Foreign Affairs and Expatriates// Condemns the massacre in the Nablsi Square in Gaza and calls for an immediate ceasefire as the sole means to protect civilians.

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সাত দিন ধরে টানা যোগাযোগহীন গাজা, ব্ল্যাকআউটই কি গণহত্যার নয়া 'অস্ত্র' ইজরায়েলের?

Israel War on Gaza: আপাতত গাজা স্ট্রিপ সম্পূর্ণ ভাবে অন্ধকার। এই নিয়ে প্রায় সাত দিন হতে চলল গাজায় টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভাবে বিপর্যস্ত।

— State of Palestine - MFA 🇵🇸🇵🇸 (@pmofa)

ঘটনার দিনে গাজার আল রশিদ স্ট্রিটে জড়ো হয়েছিলেন বাসিন্দারা। আটা নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছিল সাহায্যের ট্রাক। সাধারণ মানুষ গিয়েছিলেন সেই আটাটুকু সংগ্রহ করতে। কিন্তু ইজরায়েলি বাহিনী সেই অভুক্ত পেটের পরোয়া না করেই চালাতে লাগল গুলি। যে ট্রাক এসেছিল আটার জোগান দিতে, সেই ট্রাক ভরে উঠল শয়ে শয়ে মৃতদেহ। অ্যাম্বুল্যান্সের কাজ করল সেই ট্রাকই। কিন্তু গাজার বেশিরভাগ হাসপাতালই তো ধ্বংসাবশেষে পরিণত করেছে ইজরায়েল বাহিনী। ক্ষুধার লাইন মুহূর্তে হয়ে গিয়েছিল সেদিন মৃতদেহের মিছিল।

জখমদের গাজার চারটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে আল শিফা, কামাল আদওয়ান, আহলি এবং জর্ডানের হাসপাতাল। এদিকে, ইজরায়েলি হামলায় রাস্তার অবস্থাও তথৈবচ। গুলিবিদ্ধ শরীরগুলোকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও কঠিন ছিল। এমনিতেই অনাহারে মরছে গাজা। সেখান স্বাস্থ্য দফকর জানিয়েছে, কামাল আদওয়ান এবং আল-শিফা হাসপাতালে জল ও খাবারের অভাবে অন্তত ৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে একদিন আগেই। আর এই সংখ্যাটা এখানে থামার নয়। মৃত্যুর জন্য প্রহর গুনছে আরও অসংখ্য শিশু।

ইজরায়েলি বোমা, গুলি, মারধর-অত্যাচার সেসব তো রয়েইছে। তার উপর খিদের ছোবল। আর ক'দিনই বা এভাবে বেঁচে থাকবে গাজা। যুদ্ধ থামার আশা নেই। রমজান মাসে শর্তাধীন যুদ্ধবিরতি দেওয়ার কথা বলছে বটে ইজরায়েল, তবে তাতে ভরসা করছে না গাজাবাসী। কারণ ১৪৬ দিন কেটে গেলেও যুদ্ধের মেঘ কেটে আশার আলোটুকু দেখতে পায়নি বাসিন্দারা। বরং গাজায় ক্রমশ মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু ফুরিয়ে আসছে। ফুরিয়ে আসছে খাবার, জল। বারুদ বাতাসে মৃত্যুর অন্ধকার ছায়া এখন কেবল গাজা জুড়ে। গাজাকে নিশ্চিহ্ন করে না দেওয়া পর্যন্ত বোধহয় কোনওভাবেই দম নেবে না ইজরায়েল। তা বিশ্বের তাবড় দেশই বলুক, আন্তর্জাতিক আদালতই বলুক বা খোদ আমেরিকা।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নিষিদ্ধ নয়, বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, কী আছে ফিলিস্তিনপন্থী স্যালি রুনির বইয়ে

Sally Rooney: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে রয়্যালটি দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশের পর ব্রিটেনে স্যালি রুনির বই সরবরাহ বন্ধ করেছে ফ্যাবার।

সিজেপির কর্মসূচির আগে ৬ হাজার পুলিশ, দুর্ভেদ্য দুর্গ কনট প্লেস

Connaught Place protest: সিজেপির কর্মসূচির আগে কনট প্লেস এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের আশপাশে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?