গাজার শরণার্থীদের জন্য দরজা খুলল মিশর, কতটা চাপে ইজরায়েল!

Israel-Hamas war: এদিকে আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সফরের পর পরই বৃহস্পতিবার ইজরায়েলে পৌঁছেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক। ইজরায়েল ও গাজার যুদ্ধপরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

Sohini Das
৩ মিনিট
গাজার শরণার্থীদের জন্য দরজা খুলল মিশর,  কতটা চাপে ইজরায়েল!

একের পর এক হামলা, রকেটের আঘাত, ইজরায়েলের দিক থেকে ছুটে আসা গুলি বোমার ধাক্কায় জর্জরিত গাজা। যতবারই সর্বশক্তি দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে নতুন করে বাঁচার চেষ্টা করেছে, ততবার ইজরায়েলি সেনা এসে মুখ ভেঙে দিয়েছে গাজার সাধারণ নাগরিকদের। হামাসদের খতম করার লক্ষ্যে যে কত হাজার নিরপরাধ শিশু,বয়স্ক, নারী-পুরুষের প্রাণ কেড়েই চলেছে ইজরায়েলি সেনা, তার কোনও হিসেব নেই। এরই মধ্যে মঙ্গলবার গাজার একটি হাসপাতালে চলে রকেট হামলা। যেখানে মৃত্যু হয় অন্তত ৫০০ জন সাধারণ নাগরিকের। জখম বহু। যার পর থেকেই মাথা বাঁচানোর লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল। ভয়ঙ্কর সেই হামলার দায় ইতিমধ্যেই গাজার স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করেছে ইজরায়েল। সেই সুরে সুর মিলিয়েছেন ইজরায়েলে সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও।

এদিকে মঙ্গলবারের হামলার পরেই গাজায় মিশরের সাহায্য ঢুকতে দিতে রাজি হয়েছেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। যিনি গাজার মানুষকে এতদিন ধরে খাদ্য, জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে বঞ্চিত করেছেন। এখনও পর্যন্ত ৬ হাজারেরও বেশি রকেট হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল গাজায়। গত ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে অতর্কিতে হামলা চালায় হামাস জঙ্গিরা। তার পরেই গাজার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধঘোষণা করে দেয় নেতানিয়াহু সরকার। আর তার পরিণামই ভুগছে গাজার মানুষ।

বুধবার জর্ডনে মধ্য়প্রাচ্যের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠক বাতিল হওয়ার পরেই ইজরায়েলে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে গাজার হাসপাতালে বিধ্বংসী হামলার পরে সেই বৈঠক বাতিল হয়ে যায়। মুখোমুখি বৈঠক না হলেও তাঁদের সঙ্গে ফোনে কথাবার্তা হওয়ার কথা ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের। তা হয়েছে কিনা জানা নেই, তবে সম্প্রতি মিশরের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে কথা হয় বাইডেনের। তার পরেই বাইডেনের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, গাজাবাসীর জন্য বিশেষ সাহায্যের হাত এগিয়ে দিতে চলেছে মিশর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গণহত্যার রক্ত মোছার চেষ্টা! গাজার হাসপাতাল-হামলার দায় পিআইজি-র উপরে কেন চাপাচ্ছে ইজরায়েল?

Gaza Hospital attack: গাজার হাসপাতালের উপরে সাম্প্রতিক রকেট হামলায় অন্তত ৫০০ নিরাপরাধ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। যার দায় হাত থেকে ঝেড়ে পিআইজি-র উপরে ঠেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নেতানিয়াহু সরকার।

আসলে গাজার হাসপাতালে রকেট হামলার পর থেকেই ব্যাপক ভাবে বিরোধিতার মুখে পড়েছে ইজরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ উগরে দিয়েছে ক্ষোভ। ইতিমধ্যেই গাজাকে সমর্থন জানিয়েছে ২০টিরও বেশি দেশ। মঙ্গলবার গাজার হাসপাতালে হামলার পর লেবাননে শুরু হয়ে যায় বিক্ষোভ। ফিলিস্তিনি ও লেবনিজ পতাকা নিয়ে বেইরুটের মার্কিন দূতাবাসের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখায় একটি দল। নিরাপত্তা ব্যারিকেড লক্ষ্য করে ছোড়া হয় পাথর, জলের বোতল ও পটকা । শেষপর্যন্ত বিক্ষোভ দমনে কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে বাধ্য হয় নিরাপত্তা বাহিনী। গোড়া থেকেই গাজার পাশে থাকার কথা জানিয়ে দেয় লেবানন। কোনওদিনই ইজরায়েলের সঙ্গে তেমন কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না লেবাননের। ফলে সেই অর্থে বিরোধিতায় যাওয়ার পক্ষেও বাধা কমই। সে কারণেই হয়তো প্রথম থেকেই ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে পেরেছে তারা।

এদিকে বিশ্বরাজনীতিতে চাপ বাড়তেই মিশরকে গাজার বাসিন্দাদের সাহায্য পাঠানোর অনুমতি দিল ইজরায়েল। পাশপাশি গাজাবাসীর জন্য মিশরের সীমান্ত খুলে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফতাহ আল-সিসি জানিয়ে দিয়েছেন, বিরাট সংখ্যক শরণার্থী নিজের দেশে ঢুকতে দিতে পারবে না মিশর। ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে পালিয়ে যাওয়া গাজার বাসিন্দাদের জর্ডনে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, প্রথম দফায় কুড়িটি ট্রাককেই মিশরে ঢোকার অনুমতি দিয়েছে মিশর সরকার। তবে রাফাহ সীমান্তে রাস্তার সারাই চলছে বলে শুক্রবার পর্যন্ত সময়ও চেয়ে নিয়েছে মিশর। তার পরেই শরণার্থীদের ঠাঁই দেবে মিশর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গাজার হাসপাতালে ইজরায়েলি রকেট! রোগীদের ছিন্নভিন্ন দেহ গুনছে প্যালেস্তাইন

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, রাত্রে একটি রকেট এসে পড়ে হাসপাতালে। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে গুঁড়িয়ে যায় ওই হাসপাতাল।

মিশরের সহায়তার কথা উল্লেখ করার পরেই গাজায় খাদ্য ও পানীয় জল সরবরাহ চালু করার কথাও ঘোষণা করেছেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি। সাম্প্রতিক ওই হাসপাতাল-হামলার দায় নেতানিয়াহু যতই স্থানীয় দলের উপর চালাক না কেন, আরবের বেশিরভাগ দেশই এই হামলার দায় ঠেলেছে ইজরায়েলের কাঁধেই। গাজার স্থানীয় জঙ্গি গোষ্ঠি প্যালেস্টাইন ইসলামিক জিহাদ (PIG) গোষ্ঠির এই ঘটনায় হাত নেই বলেই জানিয়ে দিয়েছে আরবের দেশগুলি। হামলার দায় নেয়নি PIG-ও। সব মিলিয়ে চাপের মুখেই কি সুর নরম করতে বাধ্য হচ্ছেন নেতানিয়াহু?

এদিকে আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সফরের পর পরই বৃহস্পতিবার ইজরায়েলে পৌঁছেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক। ইজরায়েল ও গাজার যুদ্ধপরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জানা গিয়েছে, মিশরের গাজাকে সাহায্য় পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জাবিয়েছেন ঋষি সুনক। ফিলিস্তিনিরদের এই মানবিক সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন রয়েছে এই মুহূর্তে, তেমনটাই জানিয়েছেন তিনি।

যদিও ৭ অক্টোবরের হামাস-হামলার পরেই ইজরালেরই পাশে দাঁড়িয়েছিল ঋষি সুনক। আর এবার সশরীরে দেশে হাজির থেকে নেতানিয়াহুকে ভরসা দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। যতদূর জানা যাচ্ছে, সব ঠিকঠাক থাকলে এর পরেই ইজরায়েল সফরে আসতে পারেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরোঁ। এবার ইজরায়েল-গাজা দ্বৈরথে শান্তির দূত হয়ে উঠতে পারেন কিনা এই সব তাবড় দেশের রাষ্ট্রনেতারা, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।