পালানোর উপায় নেই! রাফাহ, সুজাইয়াতে ইজরায়েলি বোমায় মৃত অন্তত ৪০

Israel-Palestine conflict: দিন চারেক আগেই উত্তর গাজার সুজাইয়াতেই ফের ঝুকে পড়েছিল ইজরায়েলি ট্যাঙ্ক। সেই ট্যাঙ্ক থেকে একের পর এক শেলবর্ষণ করা হয় সেখানকার জনবসতিগুলি লক্ষ্য করে।

Sohini Das
৩ মিনিট
পালানোর উপায় নেই! রাফাহ, সুজাইয়াতে ইজরায়েলি বোমায় মৃত অন্তত ৪০

এক অক্টোবর থেকে আরেক অক্টোবর আসতে যায়। গাজায় যুদ্ধের তীব্রতা কমায়নি ইজরায়েল। বরং দিনের পর দিন সেই তীব্রতা আরও বেড়েইছে। এই এক বছরে গোটা গাজাকেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে ইজরায়েল। যে টুকু খণ্ড খণ্ড এলাকা বেঁচে রয়েছে, যেখানে কোনওমতে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু খুঁজে নিয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত প্যালেস্টাইনের বাসিন্দারা, সেটুকুতেও লাগাতার আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েলি সেনা। দক্ষিণ গাজায় ইজরায়েলি সেনার সঙ্গে জোরদার যুদ্ধ চলছে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের। উত্তর গাজার পাশাপাশি দক্ষিণ গাজাতেও একই রকম পরিস্থিতি।

রাফাহতে দীর্ঘদিন ধরেই লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েলি সেনা। গোটা গাজার আর কোনও জায়গা নেই, যেটা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ। যুদ্ধ আর ইজরায়েলি বাহিনীর মার থেকে যাঁরা কোনওমনে বেঁচে গিয়েছেন, তাঁরা বেশিরভাগই আশ্রয় নিয়েছেন রাফাহ শহরের শরণার্থী শিবিরে। হামাস জঙ্গিদের খতম করার অছিলায় সেখানেই বারবার নিশানা করে চলেছে ইজরায়েলি বাহিনী। সম্প্রতি দক্ষিণ গাজায় ইজরায়েলি বাহিনীর নতুন করে হামলায় অন্তত ৬ জন ফিলিস্তিনির প্রাণ গিয়েছে। ইজরায়েলি আক্রমণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে একাধিক ঘর। শুধু দক্ষিণ গাজার রাফাহতেই নয়। একই পরিস্থিতি উত্তর গাজার সুজাইয়াতেও।

দিন চারেক আগেই উত্তর গাজার সুজাইয়াতেই ফের ঝুকে পড়েছিল ইজরায়েলি ট্যাঙ্ক। সেই ট্যাঙ্ক থেকে একের পর এক শেলবর্ষণ করা হয় সেখানকার জনবসতিগুলি লক্ষ্য করে। এমনকী মানুষ ঘর থেকে বেরোনোর সুযোগটুকুও পাননি তাঁরা। বাড়ির ভিতরেই আটকা পড়ে মৃত্যু হয় তাঁদের। কয়েকটি সূত্রের খবর, শনিবার থেকে ইজরায়েলি হানায় অন্তত জনা চল্লিশ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। যদিও ইজরায়েলের তরফে দাবি, সাধারণ মানুষের মৃত্য়ু হয়নি ওই হামলায়। বরং ধ্বংস করা গিয়েছে বেশ কয়েকটি জঙ্গিঘাঁটি। কিন্তু আদতে সত্যিটা তেমন নয় মোটেই। গত চব্বিশ ঘণ্টার লাগাতার হামলায় গাজায় বেশিরভাগ সাধারণ মানুষেরই প্রাণ গিয়েছে। জখম বহু।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গাজার শরণার্থী শিবিরে ভয়ঙ্কর হামলা! ফের নিরপরাধ মানুষের রক্তে ভিজল নেতানিয়াহুর হাত

Israel’s war on Gaza: মধ্য গাজার একটি স্কুলকেই শরণার্থী শিবির করে আশ্রয় নিয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত সহায়সম্বলহীন গাজাবাসী। আর সেই স্কুলেই আকাশপথে হামলা চালানো হয় বৃহস্পতিবার।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার সমন্বয় দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনে সুজাইয়া থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার মানুষ। যাঁরা রয়ে গিয়েছেন, তাঁরা মৃত্যুর জন্য দিন গুনছেন। ৫০ বছরের সিহাম আল-শাওয়া। জানালেন, তাঁদের জীবন নরকে পরিণত করেছে ইজরায়েলি সেনা। যে কোনও জায়গায় যে কোনও মুহূর্তে নামতে পারে হামলা, ছুটে আসতে বোমা-শেল-গুলি। লেগে যেতে পারে আগুন। আর সেই আগুনের চক্রব্যুহে আটকা পড়ে প্রাণ যেতে পারে অসংখ্য মানুষের। এই সব এলাকায় থেকে যাওয়া মানুষেরা জানেন না, হঠাৎ করে ইজরায়েলি সেনা হামলা চালানো শুরু করলে ঠিক কোথায় যাবেন তাঁরা? কোথায় গিয়ে মাথা বাঁচাবেন!

যাঁরা পালানোর চেষ্টা করছেন, চেষ্টা করছেন কোনও মতে প্রাণ বাঁচানোর, তাঁদের ধাওয়া করে যাচ্ছে ইজরায়েলি বাহিনী। আবাসিক ভবনগুলোকে নিশানা করেই ইচ্ছা করে হামলা চালাচ্ছে নেতানিয়াহু বাহিনী। সূত্রের খবর, গাজার উত্তরে বাসিন্দাদের বাড়ি লক্ষ্য করে শেল হামলায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে গত কয়েক ঘণ্টায়। এভাবেই হামলার প্রাবাল্য বাড়িয়ে চলেছে ইজরায়েলি সেনা প্রতিমুহূর্তে। আল-মাওয়াসি জেলায় যে জায়গাটাকে ইজরায়েলি বাহিনী নিরাপদ অঞ্চল বলে ঘোষণা করেছে, যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি, সেখানে গিয়েই আগুন ধরিয়ে দিয়ে এসেছে নেতানিয়াহু সেনা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভুলস্বীকার নাটকই! রাফাহ শহর ধ্বংস করেই থামবে ইজরায়েল?

Israel Hamas War: রবিবারের ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডের পর নেতানিয়াহুর ভুলস্বীকার যে রঙ্গমঞ্চের নাটক মাত্র তা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ইজরায়েলি সেনার আগ্রাসন। প্রতিদিন বেড়েই চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা।

হামাস সেনা প্রতিহত করার চেয়েও গাজাবাসীকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়াই যেন মূল উদ্দেশ্য নেতানিয়াহু বাহিনীর। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এখনও একটাই কথা বলে যাচ্ছেন বারবার, হামাসকে যুদ্ধে হারানো ছাড়া আর বিকল্প পন্থা নেই তাদের হাতে। কিন্তু কীসের বিনিময়ে হামাসদের হারাতে চাইছেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রপ্রধান? হাজার হাজার নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের প্রাণের বিনিময়ে। ইতিমধ্যেই গাজায় নিহতের সংখ্যা ৩৮ হাজার ছুঁই ছুঁই। জখমের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে লাখের ঘরে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রয়েছে গণহত্যার অভিযোগ। তা সত্ত্বেও সেসবে ভ্রূক্ষেপ নেই ইজরায়েলের। যে কোনও কিছুর বিনিময়ে তাঁরা হামাসকে শেষ করতে চায়। আর সেই চাওয়ার নেপথ্যে আসলে লুকিয়ে থাকে গোটা গাজাকে 'নেই' করে দেওয়ার এক সুপ্ত ইচ্ছা।

হামাস নেতারা বলছেন, কোনও শর্তেই যুদ্ধবিরতির পথে যেতে রাজি নয় ইজরায়েল। বরং নির্বিচারে নিরপরাধ মানুষকে গণকবর রচনাতেই বেশি মন ইজরায়েল সরকারের। ইজরায়েলের জেলে বন্দি ফিলিস্তিনিদের উপরও মাত্রাহীন অত্যাচার বাড়িয়েছে ইজরায়েল। শুধু তাই নয়, ফিলিস্তিনি বন্দিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ইজরায়েলি সেনা। আর কতদিন চলবে এই ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ? আর কতদিন এভাবেই বেঘোরে মরতে থাকবেন নিরপরাধ মানুষজন? তার উত্তর নেই পৃথিবীর কোনও সভ্য দেশের কাছেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।