বিষাক্ত ধোঁয়াশার দাপট রাজধানীতে, কৃত্রিম বৃষ্টি দিয়েই দূষণ তাড়াবে কেজরি সরকার?

Delhi Air Pollution: আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞ দলের তরফে জানানো হয়েছে, কৃত্রিম বৃষ্টিপাত দিয়ে হয়তো এই ভয়ঙ্কর ধোঁয়াশা থেকে স্বস্তি দিতে পারে দিল্লিবাসীকে।

Sohini Das
৩ মিনিট
বিষাক্ত ধোঁয়াশার দাপট রাজধানীতে, কৃত্রিম বৃষ্টি দিয়েই দূষণ তাড়াবে কেজরি সরকার?

যত দিন যাচ্ছে, তত খারাপ হচ্ছে দিল্লির পরিস্থিতি। স্কুল-কলেজ বন্ধ করেও কাজের কাজ হয়নি। এখনও বাতাসের গুণগতমান সেই তিমিরেই। গত দুদিন ধরে শহরের বেশ কয়েকটি জায়গার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ছিল ৪৫০-এর ইপরে। আর কে পুরম এলাকাতেও বায়ুর গুণগত মান ছিল ৪৫৩-এর উপরে, পঞ্জাবি বাগের একিউআই ৪৪৪, আইটিও ৪৪১ এবং আনন্দবিহার এলাকার বাতাসের গুণগত মান ৪৩২। এখনও দিল্লির বুক ভরে রয়েছে বিষাক্ত ধোঁয়াশায়। ইতিমধ্যেই বাড়ছে চোখের সমস্যা। বাড়ছে শ্বাসকষ্ট। ক্রমশ হাসপাতালে বাড়ছে রোগীদের ভিড়।

ভয়াবহ এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রেডেজ রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের চতুর্থ পর্যায় মেনে পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্কুলষ। ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইন পঠনপাঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমানো হয়েছে অফিস-কাছারির হাজিরাও। রাস্তায় ট্রাক চলাচলে টানা হয়েছে রোখ। দিওয়ালির আগে বাজি পোড়ানোর উপরেও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে রাজধানীতে। তবে তাতেও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না তেমন। ধোঁয়াশার অত্যাচার পিছু ছাড়ছে না দিল্লির। দুপুর বারোটা সাড়ে বারোটাতেও ধোঁয়াশার জেরে নামছে রাতের অন্ধকার।

জিদ্দি এই ধোঁয়াশার হাত থেকে বাসিন্দাদের রেহাই দিতে এবার অন্য পরিকল্পনা এঁটেছেন কেজরিবাল সরকার। ইতিমধ্যেই দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী গোপাল রাই এবং অর্থমন্ত্রী অতীশি আইআইটি কানপুরের এক দল বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কীভাবে দিল্লির বাতাস থেকে ভয়ঙ্কর এই ধোঁয়াশার চাদর সরিয়ে ফেলা যায়, সে ব্যাপারে কথা হয়েছে তাদের। আইআইটি কানপুরের ওই বিশেষজ্ঞ দলের তরফে জানানো হয়েছে, কৃত্রিম বৃষ্টিপাত দিয়ে হয়তো এই পরিস্থিতি থেকে স্বস্তি দিতে পারে দিল্লিবাসীকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লকডাউনের স্মৃতি উস্কে বন্ধ স্কুল-কলেজ-অফিস! কোন পথে বাগে আসবে রাজধানীর মাত্রাতিরিক্ত দূষণ?

Delhi Air Pollution: শহরের বর্তমান দূষণের কথা মাথায় রেখে রাজ্যের সমস্ত স্কুলের পঠনপাঠন ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যেই আইআইটি কানপুরের থেকে এ সংক্রান্ত পরিকল্পনার বিস্তারিত নকশা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। যা শুক্রবার জমা করা হবে সুপ্রিম কোর্টে। ইতিমধ্যেই দিল্লির বিষাক্ত বায়ুদূষণ নিয়ে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে সুপ্রিম কোর্টের কাছে। সেই সব আবেদন শুক্রবারই শোনার কথা রয়েছে শীর্ষ আদালতে। দিল্লি প্রশাসন সূত্রের খবর, কানপুর আইআইটির পরিকল্পনায় যদি সবুজ সঙ্কেত দেয় সুপ্রিম কোর্ট, সেক্ষেত্রে পরিকল্পনা মতোই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিশ্বকাপ খেলার মাশুল, আড়াই হাজার সিগারেট 'খেতে' বাধ্য হল শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

Bangladesh vs Sri Lanka’s Cricket World Cup match in New Delhi: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলের কাছে প্রশ্ন রয়েই গেল, এমন একটা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কতটা ঠিক বিশ্বকাপের এমন একটা ম্যাচের আয়োজন!

কানপুর আইআইটি-র বিশেষজ্ঞদলের পরিকল্পনাটা ঠিক কী? আইআইটির ওই টিম জানিয়েছে, কৃত্রিম বৃষ্টি তৈরির জন্য ন্যূনতম ৪০ শতাংশ মেঘের আচ্ছাদন প্রয়োজন হয়। আবহাওয়া দফতর সূত্রের খবর, আগামী ২০-২১ নভেম্বরক নাগাদ মেঘ তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদি সুপ্রিম কোর্ট এই সংক্রান্ত পরিকল্পনায় সিলমোহর দেয়, সেক্ষেত্রে আইআইটির তরফে একটি ট্রায়াল করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের সবুজ সঙ্কেত পেলে কথা বলা হবে কেন্দ্রের সঙ্গে।

দিল্লি দূষণ নিয়ে গোড়া থেকেই কড়া অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শরৎ শেষ হতে না হতেই পঞ্জাব ও সংলগ্ন এলাকায় ফসলের নাড়া জ্বালানো শুরু হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানকে একেবারে খড় পোড়ানো বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। দিল্লি সরকারকেও রেহাই দেয়নি আদালত। দিল্লির রাস্তাঘাটে এমন প্রচুর যানবাহন চলে, যা দূষণ ছড়ায়। সেই ব্যাপারটি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিল্লি সরকারকেই নিতে হবে বলে তোপ দেগেছে সুপ্রিম কোর্ট।

এদিকে হাওয়া অফিস সূত্রের খবর, এরই মধ্যে পশ্চিমি ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণপূর্বের দিকে বাতাসের দিক পরিবর্তনের পূর্বাভাস রয়েছে। যাতে খড় পোড়ানোর ধোঁয়ার প্রভাব কমতে পারে খানিকটা। ১১ নভেম্বরের পর থেকে বাতাসের গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ৫-৬ কিলোমিটার থেকে ১৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে পৌঁছবে, তার ফলে দিওয়ালির আগে দূষণের মাত্রা একটু কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাতাসের গুণগত মানও কিছুটা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। সেসময় কৃত্রিম বৃষ্টি তৈরি করাও সহজ হবে বলেই মনে করছেন আইআইটি কানপুরের ওই বিশেষজ্ঞ দল। তবে সত্যিই কি কৃত্রিম বৃষ্টি কমাতে পারবে দিল্লির ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ, তার উত্তর অবশ্য এখনই মিলছে না।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।