খেলার ভিতরে এত বিদ্বেষ, ভাবিনি কখনও

Barreto on Derby Experience: মোহনবাগানের খেলার সময়ে এমন বহু অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে আমাদের। কখনও সমর্থকদের গালিগালাজ কখনও বা খেলোয়াড়দের প্রতি কুৎসিত ইঙ্গিত। কিন্তু নবীর এইভাবে আহত হওয়া আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

José Barreto
৪ মিনিট
খেলার ভিতরে এত বিদ্বেষ, ভাবিনি কখনও

নতুন কিছু নয়, আমরাই আসলে ততটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবিনি। কিন্তু এখন এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা খবরের শিরোনাম দেখলেই, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা যন্ত্রণার ছবিটা মনে পড়ে। কথা শুরু করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ইতিহাস। রবিবার গ্যালারিতে বিনা টিকিটে ঢুকতে গিয়েই আটক ৮১ জন সমর্থক। বোঝা যায় কী পরিমাণ উন্মাদনা ছিল ডুরান্ড কাপ ঘিরে। একইসাথে চলেছে টিকিটের হাহাকার। সুদূর অতীতে একবার চোখ রাখা যাক। ৯ ডিসেম্বর ২০১২, যুবভারতীতে আই লিগ চলাকালীন মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচে আহত ২০ জন পুলিশকর্মী-সহ ৪০ জন। ৯০ মিনিটের খেলার কারণে আহতের তালিকা এত লম্বা? ব্যক্তিগত হতাশা, আক্ষেপ, ক্ষমাহীন বাস্তবের প্রতিচ্ছবি এই রক্তপাত। কোভিড মহামারীর দীর্ঘ বিরতির পর খেলোয়াড়েরা ফিরছেন মাঠে। ক্রমশ চেনা ছন্দ ফিরছে শহরে। এইসময় আরও অনেক বেশি সংবেদনশীল হতে হবে মানুষকে। অনেক যত্নে আগলাতে হবে প্রিয় ফুটবলের চেনা সম্প্রীতির বাতাবরণ। কোথায় হারিয়ে গেল কলকাতার উচ্ছাসের শালীনতা? খুঁজে বেড়াচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরাও। কলকাতা ফুটবল নিয়ে গর্বিত হয়ে থাকে। তাদের জীবনের সুখ-দুঃখ, হতাশা, পাওয়া না-পাওয়া জড়িয়ে থাকে এই খেলার সঙ্গে। তারই বহিঃপ্রকাশ হয় মাঠে। কিন্তু এই বহিঃপ্রকাশ যেন মাত্রা না ছাড়ায়। উগ্রতা অনেক মানুষের মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। এ ব্যাপারে ক্লাবগুলিকে সচেতন হতেই হবে। ক্রিকেটে এ জিনিস দেখা যায় না, ফুটবল মাঠ থেকেই এই ধরনের হিংসা ছড়ায়, কারণ নিয়ন্ত্রণের অভাব। এই ঘটনায় সবাই জড়িত নয়। জড়িত গুটিকয়েক। গুটিকয়েকের জন্য যেন ফুটবল কলঙ্কিত না হয়।

গ্যালারি থেকে উড়ে আসা ঘৃণা

ডুরান্ড কাপ চলাকালীনই নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড এবং ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচের দিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা কিছু পড়ুয়াকে জাতিগত বিদ্বেষের মুখে পড়তে হল। তাঁদের 'অপরাধ' তাঁদের বাস ভারতের উত্তর পূর্ব সীমান্তে। উড়ে এল চটি, জলের বোতল, এমনকী পাথর পর্যন্ত। এমন ঘৃণা কোথায় শিখলেন শহরের মানুষ? কোথায় লুকিয়ে ছিল জাতিগত বিদ্বেষের রক্তবীজ? ঘরে ফিরতে চাওয়া সেই বিধ্বস্ত পড়ুয়ারা আর সুরক্ষিত নন এই শহরে, জানিয়েছেন তাঁরা। এই লজ্জা শহরবাসী রাখবে কোথায়? শুধু কি তাঁরাই নাকি বিপর্যস্ত খেলোয়াড়েরাও। এই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ সামলানো অত্যন্ত কঠিন। সমর্থকদের উন্মত্ততা নষ্ট করে দেয় ফোকাস। বৃষ্টিভেজা মাঠ আর উন্মত্ত দর্শক, জিতে নেওয়ার নিশানায় ফারাক টেনে দেয় লক্ষ যোজনের। প্রিয় ফুটবলারের কাছ থেকে গোলের আশা করে থাকা দর্শক অচিরেই হয়ে ওঠেন ঘৃণার জ্যান্ত অবয়ব। কলকাতা লিগ খেলা হতো বর্ষার দিনে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচে কেন গ্রেফতার হলো ৮১ জন?

Mohun Bagan East Bengal Durand 2023: কোথাও যে একটা গলদ রয়েছে তা প্রমাণ হয়ে যায় ম্যাচ শুরুর ঘণ্টাখানেক আগেই।

মূর্তিমান বিভীষিকা : উন্মত্ত জনতা

খেলোয়াড় যেমন বুঝবেন দর্শকের মন, দর্শককেও বুঝতে হবে খেলোয়াড়কে। আমি নিজেও খেলার স্বার্থে, দর্শকের মন জিতে নিতে যাবতীয় কিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত। শরীর সবসময় সঙ্গ দেয় না, অনুকূল থাকে না পরিবেশও। কিন্তু যখনই সমর্থকদের দিকে তাকাই, মনে হয় এই জয় সেই সব মানুষের জন্য জরুরি যাঁরা এই খেলা দেখতে বহু আশা নিয়ে এসেছেন। জিততে ইচ্ছে করে মানুষের জন্যেই, জিততে ইচ্ছে করে ক্লাবের কথা মনে পড়লে। আমার সঙ্গে সমর্থকদের একটা অদ্ভুত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। একদিনে নয়, দীর্ঘ দিন লেগেছে এই সম্পর্ক তৈরি হতে। এখন যখন পিছনে ফিরে তাকাই, আমার অবাক লাগে। সমর্থকরা অনেকে দুঃখ ভুলে থাকতে আমাদের খেলা দেখতে আসত। নানা সময়ে আমি হয়তো ফিট ছিলাম না, হয়তো আমার শরীরটা যুতসই ছিল না, কিন্তু এই সমর্থকদের দেখেই আমি মাঠে নেমে গেছিলাম। সমর্থকরা আমায় বিশ্বাস করতেন। আবার মোহনবাগান মাঠ থেকে দর্শকদের দেখেছি অনেকবার, কারণ মাঠটা ছিল খুবই ছোট। খারাপ খেললে দর্শকদের দিক থেকে কটূক্তি ভেসে আসত। হয়তো গোল হল না, বা আমরা গোল খেয়ে গেলাম, ভেসে আসত গালিগালাজ। হতাশাটা ধরতে পারতাম। তবে হ্যাঁ, আমাকে অনেকে মাথায় করে রেখেছিল। আমি বাংলাটা বুঝতাম না, এটা আশীর্বাদ। কিন্তু স্থানীয় খেলোয়াড়দের অবস্থাটা অনুমান করতে অসুবিধা হয় না। যে ডার্বিতে সৈয়দ রহিম নবী আহত হলেন, কোনও এক সমর্থকের ছোড়া পাথরের আঘাতে সেই দিনটা মনে পড়লে আজও মন ভারী হয়ে আসে। যে কারওর সঙ্গে এটা হতে পারতো। নবী না হয়ে অন্য যে কেউ। ভাবতে অবাক লাগে এমন বিদ্বেষ ভরে আছে খেলারই ভেতরে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এক ম্যাচে ৪৪ টা পেনাল্টি! ফুটবলের ইতিহাসে কুখ্যাত হয়ে আছে যে ম্যাচ...

Football and Steroid Drugs: নিজের প্রকাশিত বইতে ১৯৮৭ শুমাখার বলছে, "আমাদের দলে নারীসঙ্গের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে কী হবে, দুনিয়ার ওষুধপত্র থাকত।"

এ শহর ততটা নিরাপদ নয়

মোহনবাগানের খেলার সময়ে এমন বহু অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে আমাদের। কখনও সমর্থকদের গালিগালাজ কখনও বা খেলোয়াড়দের প্রতি কুৎসিত ইঙ্গিত। কিন্তু নবীর এইভাবে আহত হওয়ার ঘটনা আমাকে সাময়িকভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। বলতে বাধ্য হচ্ছি, খেলোয়াড় হিসেবে কলকাতায় আসতে ভয় করে। দর্শকদের উন্মাদনা, প্রত্যাশার পাহাড়প্রমাণ চাপ এই দেশের অন্য কোনও প্রান্তে নিতে হয় না। কলকাতা ততটা নিরাপদ নয়। আমার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সমস্যা হয়নি। তবে তার মানে যে অন্যদের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে না, তা কিন্তু নয়। বাইরে থেকে এসে ফুটবলারেরা সুযোগ থাকলে ভারতের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের সাহচর্যে থাকার জন্য অন্য যে কোনও জায়গায় যাওয়ার কথাই ভাববে। কিন্তু, কলকাতা নয়। কলকাতাবাসী, এ বড় লজ্জার কথা। কলকাতার ঐতিহ্য সম্প্রীতির। কলকাতা হুল্লোড়ে বাঁচে। আজ এত বছরের রক্ত জল করা শ্রমে, এত বছর ধরে একসঙ্গে বড় হওয়ায় আমরা ক্রমে তাঁদেরই একজন হয়ে উঠছিলাম, সেই নবীই যদি নিরাপত্তাহীন হন এই শহরে, তবে এমন খেলার মানে কী?

কলকাতা থাকুক কলকাতাতেই

সমর্থকদের বলতে চাই, প্লিজ মাঠে প্রবেশ করবেন না। নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করুন। মাঠে কিছু ছুঁড়ে মারবেন না। আপাত ভাবে ছোট ঘটনা কিন্তু বড় আকার ধার৷ করতে পারে, এমন কিছু করবেন না৷ বাংলার ফুটবল গোটা দেশকে পথ দেখায়। বাংলার ফুটবল নিয়ে গোটা দেশের নিউজ রুমে আলোচনা চলে। সমর্থকরা খেলোয়ারদের মতোই কিন্তু ইতিহাসের অংশ হয়ে যায় এই সংবাদপত্রের হাত ধরে। কাজেই খেলার মাঠে এমন কিছু করা যাবে না যাতে সুনাম নষ্ট হয়। গ্যালারি জুড়ে তো কতবার আমরা দেখেছি ভালোবাসার ছবি। দেখেছি মানুষ বিশাল ব্যানারে লিখে এনেছেন 'এই মাটি আমাদের। কাগজ আমরা দেখাবো না।' সেই মাটি হঠাৎ বদলে গিয়ে বদলা নেওয়ার মোড়ে পৌঁছে গেল কেন? ভাবুন। আমাদের প্রিয় চেনা শহরটাকে একেবারে পাল্টে যাওয়ার আগে সম্প্রীতি, একসঙ্গে থাকার ইতিহাস আমাদের আগলে রাখুক। বাঁচতে শেখাক।

লিখেছেন
José Barreto
José Barreto
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।