রাম ভগবান না কি ইতিহাসপুরুষ? যে প্রশ্ন গুলিয়ে দিচ্ছে রামমন্দির

Ramchandra God or Human p-0o: ভ্রান্তি কি কোথাও শ্রীরামচন্দ্রর মধ্যেও ছিল না? যদি ভ্রান্তি নাই থাকে, তাহলে এরকম বিদগ্ধ একজন মানুষ কী করে সোনার হরিণের পিছনে ছুটতে পারেন?

Rajarshi Dhara
৪ মিনিট
রাম ভগবান না কি ইতিহাসপুরুষ? যে প্রশ্ন গুলিয়ে দিচ্ছে রামমন্দির

রাম কি আমাদের রক্তে? না আমাদের মগজে? না কি কেবলই তা বাল্মীকির কল্পনায়? যদি প্রশ্ন করি রামের উৎস কী, তাহলে হয়তো উত্তর আসবে রামায়ণ। রামায়ণের কবি বাল্মীকি এবং আর সকল মহাকবি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন –

“সমগ্র দেশের, সমগ্র জাতির সরস্বতী ইঁহাদিগকে আশ্রয় করিতে পারেন- ইঁহারা যাহা রচনা করেন তাহাকে কোনো ব্যক্তিবিশেষের রচনা বলিয়া মনে হয় না। মনে হয় যেন তাহা বৃহৎ বনস্পতির মতো দেশের ভূতলজঠর হইতে উদ্ভূত হইয়া সেই দেশকেই আশ্রয়চ্ছায়া দান করিয়াছে।”

যদি ধরে নিতে হয় রবীন্দ্রনাথের কথা সত্যি, তাহলে বাল্মীকিকে একজন ব্যক্তি না ধরে একটি সম্প্রদায় হিসাবে দেখাই সম্ভবত শ্রেয় হবে। তাহলে রামায়ণ রচনা করলেন কে? সে যেই করুন, বাল্মীকি, তুলসীদাস, কৃত্তিবাস বা সন্ধ্যাকর নন্দী যেই হন, আমাদের লাভ একটাই, সেটা একটি গল্প। গল্প? না কি ইতিহাস?

মহাকাব্য কি ইতিহাস নয়? হয়তো হ্যাঁ। আমাদের কাজ শুধু পরমহংসের বিশ্বাসে দুধ আর জলটাকে আলাদা করে নেওয়া। সে যাই হোক, আমরা কী পেলাম প্রসঙ্গে ফেরা যাক। আমরা পেলাম একজন ঈশ্বরকে, পেলাম একজন ভগবানকে, রামস্তু ভগবান স্বয়ম। এক বার রাম নামে যত পাপ হরে পাপীর সাধ্য নাই তত পাপ করে!

কিন্তু রাম যদি ভগবান হন, তাহলে ইতিহাসপুরুষ তিনি কী করে হবেন? আর সেই ইতিহাসকে দেখে বাল্মীকি(রা) লিখবেনই বা কী করে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২২ জানুয়ারিই বজরং দলের হাতে হত্যা হয় পাদ্রীর! প্রাণ প্রতিষ্ঠার আড়ালে হারাচ্ছে যে ঘটনার স্মৃতি

Babri Masjid and Ram Mandir : ২০০৩ সালের ২২ জানুয়ারির ভোর রাতে এই অস্ট্রেলিয়ান পাদ্রী, যিনি ১৯৬৫ সাল থেকে ওড়িশার কুষ্ঠরোগীদের জন্য কাজ করতেন, তাঁকে পুড়িয়ে মেরেছিল বজরং দল।

বলা হচ্ছে – “শুদ্ধ ব্রহ্ম পরাৎপর রাম”। এবার, রাম যদি ব্রহ্ম স্বরূপ হন, তাহলে তিনি মূর্তি হচ্ছেন কী করে? ব্রহ্ম তো নিরাকার। আদি শঙ্করাচার্য বলেছেন, ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা, আবার রামকৃষ্ণ বলেছেন ব্রহ্ম এখনও এঁটো হয়ে যায়নি, অর্থাৎ ব্রহ্মকে ভাষায় বোঝানো অসম্ভব। তাহলে এই বিমূর্ত ব্যাপারটি শ্রীরামচন্দ্র কী করে হতে পারেন? কিন্তু অন্যদিকে আবার বলা হচ্ছে ‘অহং ব্রহ্মাস্মি’, অর্থাৎ আমিই ব্রহ্ম। তাহলে যদি সকল মানুষ ব্রহ্ম হয়, তখন রামচন্দ্রও ব্রহ্ম।

যাহ! রাম তো ভগবান, এখন বলছি মানুষ! এ তো আচ্ছা ঘাঁটা ব্যাপার, তাই না? এই জট ছাড়াতে ফিরে যেতে হবে আদিকবির কাছেই। তিনি একটু পরেই নারদের সঙ্গে কথা বলবেন। বাল্মীকি চান –

“দেবতার স্তবগীতে দেবেরে মানব করি আনে,

তুলিব দেবতা করি মানুষেরে মোর ছন্দে গানে।”

সেই এক কথা। দেবতারে প্ৰিয় করি, প্রিয়েরে দেবতা। বাল্মীকি যে গান গাইবেন, তিনি দেবতা নন, তিনি মানুষ, সেই মানুষকেই তিনি দেবতা করে তুলবেন। এখানে থেকে এই কথা প্রমাণ হয়ে গেল, রামচন্দ্র প্রথমিকভাবে একজন মানুষ। কেমন সেই মানুষ?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বঞ্চিতদেরই শাস্তি, অত্যাচারীদের পুরস্কার! রাম মন্দিরের রায়ে ঠিক কী প্রমাণ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট?

Babri Masjid Demolition and Ram Mandir Verdict : আদালত মন্দির ভেঙে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল এমন যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

শিল্পী - রাজর্ষি ধারা

“কহ মোরে বীর্য কার ক্ষমারে করে না অতিক্রম,

কাহার চরিত্র ঘেরি সুকঠিন ধর্মের নিয়ম

ধরেছে সুন্দর কান্তি মাণিক্যের অঙ্গদের মতো,

মহৈশ্বর্যে আছে নম্র, মহাদৈন্যে কে হয়নি নত,

সম্পদে কে থাকে ভয়ে, বিপদে কে একান্ত নির্ভীক,

কে পেয়েছে সব চেয়ে, কে দিয়েছে তাহার অধিক,

কে লয়েছে নিজশিরে রাজভালে মুকুটের সম

সবিনয়ে সগৌরবে ধরামাঝে দুঃখ মহত্তম–”

এতগুলো স্ববিরোধী গুণ সম্পন্ন ব্যক্তি কি সম্ভব? এর উত্তর তো আমরা দিতে পারব না, পারবেন একমাত্র নারদ। নারদকে বাল্মীকি বললেন –

“কহ মোরে, সর্বদর্শী হে দেবর্ষি, তাঁর পুণ্য নাম।”

“নারদ কহিলা ধীরে, "অযোধ্যায় রঘুপতি রাম।”

শ্রীরামচন্দ্র এমন মানুষ যাঁর মধ্যেও বীর্য ও ক্ষমা, ঐশ্বর্য ও নম্রতা, দান ও দুঃখ গ্রহণের ক্ষমতা একইসঙ্গে বর্তমান। এই গুণগুলি বর্তমান হলে তো যে কোনও মানুষই প্রায় দেবতা হয়ে যেতে পারেন, কিন্তু তারপরেও রামচন্দ্র মানুষ কোথায়? রামচন্দ্র মানুষ তাঁর ভ্রান্তির কারণে।

ভগবতী চণ্ডীতে বলা হয় – ইয়া দেবী সর্বভূতেষু ভ্রান্তিরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ।।

সেই ভ্রান্তি কি কোথাও শ্রীরামচন্দ্রর মধ্যেও ছিল না? যদি ভ্রান্তি নাই থাকে, তাহলে এরকম বিদগ্ধ একজন মানুষ কী করে সোনার হরিণের পিছনে ছুটতে পারেন? তবে কি শুধুই ভ্রান্তি? না কি ভালোবাসাও? ভালোবাসা না থাকলে এমন করা যায়? রাম কি সত্যিই সীতাকে এতটাই ভালোবাসতেন? তাহলে তাঁকে পরিত্যাগ করলেন কেন? কেউ কেউ বলেন রামায়ণের উত্তরকাণ্ড প্রক্ষিপ্ত। তা হলেও কি প্রশ্ন থামে? সে যাই হোক – আমি ছুটব পিছে মিছে মিছে পাই বা নাহি পাই।

অস্বীকার্য করা যাবে না, দেশের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত আজ। বাঁক বদলে যাচ্ছে চেতনার, রাজনীতির। যে রাম আমাদের মনে থাকেন, যে রামের জন্মভূমি কবির মনে অযোধ্যার থেকেও সত্য, তিনিই আজকে অনেক দূরের মানুষ, অনেক দূরের দেবতা। আমাদের বেছে নিতে হবে আমরা কোন দলে? আমরা কি সেই রাজারই দলে যিনি মন্দিরে নিজেকে স্থাপিয়াছেন, জগতের দেবতারে জায়গা দেননি। না কি সেই সাধুর দলে যিনি বলেন, “ভক্তবৎসলেরে তুমি যেথায় পাঠালে নির্বাসনে / সেইখানে, মহারাজ, নির্বাসিত কর ভক্তজনে”। সেই দ্বাদশকলা বিশিষ্ট পুরুষ, যাঁকে ভক্তজন বিষ্ণুর সপ্তম অবতার মানেন, যিনি নিজের পদ্মের মতো পা ফেলে সাগর পার করে এগিয়ে গেছেন শুধু প্রেমের জন্য, আবার যিনি নিজের কোমললোচন অর্পণ করতে চান দেবীর চরণে কেবল ধর্মরক্ষার জন্য (যদিও এই ধর্ম মন্দিরে ঘণ্টা নাড়া ধর্ম নয়), সেই ব্যক্তিকে, সেই লোকশ্রুতির নায়ককে, সেই মহাকাব্যিক মহামানবকে যখন রাজার আঙুল ধরেই নিজের মন্দিরে প্রবেশ করতে হয় তখন কে স্থাপিত হয় আসলে? মহাকবি বলে গেছেন–

“অহংকার তো পায় না নাগাল যেথায় তুমি ফের

রিক্তভূষণ দীনদরিদ্র সাজে

সবার পিছে, সবার নীচে, সব-হারাদের মাঝে॥

ধনে মানে যেথায় আছে ভরি

সেথায় তোমার সঙ্গ আশা করি,

সঙ্গী হয়ে আছ যেথায় সঙ্গিহীনের ঘরে

সেথায় আমার হৃদয় নামে না যে

সবার পিছে, সবার নীচে, সব-হারাদের মাঝে॥”

লিখেছেন
Rajarshi Dhara
Rajarshi Dhara
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।