কর্মবিরতি তুলে বন্যা কবলিত স্থানে জুনিয়র ডাক্তাররা! আন্দোলন এবার কোন পথে?

Junior Doctor Cease Work: ডাক্তাররা জানান, শুক্রবার থেকেই বিভিন্ন বন্যা কবলিত এলাকায় ক্যাম্প করবেন তাঁরা। বাকি জায়গায় কর্মবিরতি চলবে।

inscript
৩ মিনিট
কর্মবিরতি তুলে বন্যা কবলিত স্থানে জুনিয়র ডাক্তাররা! আন্দোলন এবার কোন পথে?

নাগরিক আন্দোলন থেকে গোটাটাই ঘুরে গিয়েছিল ডাক্তারদের আন্দোলনের দিকে। স্বাস্থ্যভবন অভিযানের পর জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্নাই ছিল আরজি কর আন্দোলনের প্রায় প্রধান অভিমুখ। একাধিকবার বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে বহুচর্চিত 'লাইভ স্ট্রিমিং' দাবি ছাড়াই বৈঠকে রাজি হয়ে যান জুনিয়র ডাক্তাররা। তাঁদের অধিকাংশ দাবিই মেনে নেয় রাজ্য সরকার। পুলিশ কমিশনার, ডিসি নর্থ, স্বাস্থ্য অধিকর্তা বদলি হয়ে যান। তবু ডাক্তাররা বলেছিলেন কর্মবিরতি উঠবে না। তারপর আবার মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক, বৈঠক শেষে হতাশা! অবশেষে ৪২ দিন অতিবাহিত করে কর্মবিরতি আংশিক তুলে নিলেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। বৃহস্পতিবার রাতে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা।

সমস্ত দাবির বাস্তব রূপায়ণের আগেই কেন কর্মবিরতি তুললেন তারা? গত ৯ অগাস্ট আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষিতা। মৃতা তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। সেদিন থেকেই কর্মবিরতি পালন করছিলেন তাঁরা। তারপর গত ন’দিন ধরে সল্টলেকে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে ধর্না চলছিল তাঁদের। আপাতত কর্মবিরতি আংশিক তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। যদিও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেই জানিয়েছেন তারা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নির্ভয়ার মাকে বলেন, 'ধর্ষকদের ক্ষমা করে দিন'! জুনিয়র ডাক্তারদের হয়ে লড়া ইন্দিরা জয়সিং কে?

Indira Jaising: ইন্দিরা কিন্তু দোষীদের মৃত্যু চান না। নির্ভয়া কাণ্ডেও ফাঁসির সাজাপ্রাপ্তদের ক্ষমা করে দিতে বলেছিলেন নির্ভয়ার মাকে।

বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে ধর্নামঞ্চ থেকেই জুনিয়র ডাক্তাররা জানান, শুক্রবার থেকে কর্মবিরতি আংশিক তুলে নেওয়া হবে। ধর্নামঞ্চটিও উঠে যাবে। তার আগে দুপুর ৩টেয় ধর্নামঞ্চ থেকে সিজিও কমপ্লেক্স পর্যন্ত জুনিয়র ডাক্তারদের একটি মিছিল হবে, সেই মিছিলের মূল দাবি সিবিআইকে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বলা। শনিবার থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি পরিষেবায় যোগ দেবেন আন্দোলনকারীরা। তবে নিজেদের মতো করে আন্দোলন তারা চালিয়ে যাবেন। যেমন বিভাগ ভিত্তিক এসওপি তৈরি করার কথা জানিয়েছেন তারা। যে যে স্থানে খুব প্রয়োজন পড়ছে চিকিৎসা পরিষেবার সেই স্থানগুলি চিহ্নিত করা হবে। শুধু সেই অতিপ্রয়োজনীয় জায়গাগুলিতেই জুনিয়র ডাক্তাররা কাজে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

জুনিয়র ডাক্তাররা জানান শনিবার থেকেই বন্যা কবলিত এলাকাতে যাবেন তাঁরা। সেখানে ‘অভয়া ক্লিনিক’ চলবে। টানা বৃষ্টি এবং বিভিন্ন জলাধার থেকে জল ছাড়ার ফলে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকা বন্যা কবলিত। এই পরিস্থিতিতে ডাক্তারদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্যও আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আবেদনে সাড়া দিয়েই ডাক্তাররা জানান, শুক্রবার থেকেই বিভিন্ন বন্যা কবলিত এলাকায় ক্যাম্প করবেন তাঁরা। বাকি জায়গায় কর্মবিরতি চলবে। যদি প্রয়োজন পড়ে তাহলে আবারও পূর্ণ কর্মবিরতির ডাক দেবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'ভরসা হারিয়েছি'! মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের ৪৮ ঘণ্টা পরেই কেন এমন বলছেন জুনিয়র ডাক্তাররা?

Junior Doctor Meeting: বুধবার নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের সঙ্গে বৈঠক করেন জুনিয়র ডাক্তাররা। তারপরেই হতাশ হন।

হাসপাতালে দালালচক্র বন্ধ, থ্রেট কালচারের অবসান, চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তা, তিলোত্তমার ধর্ষণ-খুনের বিচার, পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। গত সোমবার কালীঘাটের বৈঠকে পুলিশ কমিশনার সহ, ডিসি নর্থ, স্বাস্থ অধিকর্তাদের অপসারণ ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরে ডাক্তাররা বলেছিলেন আলোচনা 'সদর্থক' হয়েছে। তারপর অবশ্য বুধবার সেই দাবি নিয়েই নবান্নে মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক হয়। সেখান থেকে বেরিয়ে ডাক্তারেরা জানিয়েছিলেন, তাঁরা হতাশ। বৃহস্পতিবার দেখা যায়, স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যসচিব। হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার আগেই বলেন, "প্রথম দিন থেকে, আমি নিরাপত্তা দিয়ে ডাক্তারদের উদ্বেগকে সমর্থন করেছি। হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা বাড়ানোর কাজ চলছে, সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে সরকার। আশা করা যায়, ১৪ দিনের মধ্যে সব জায়গায় সিসিটিভি বসানো হয়ে যাবে। ডাক্তারদের দাবিকে সম্মান জানিয়ে সিপি ও স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ কর্তাদের সরানোও হয়েছে। সিবিআইকে নিশ্চিত করতে হবে, কোনও অপরাধী যেন ছাড়া না পায়। যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীদের সাজার ব্যবস্থা করতে হবে। যদিও রেকর্ড বলছে, গত ১০ বছরে সিবিআই কোনও তদন্তই শেষ করতে পারেনি। বিচারে দেরি মানে, বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া”। এই ঘটনা পরম্পরার শেষেই জুনিয়র ডাক্তারদের সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।