বিচারপতি সেন বনাম বিচারপতি গাঙ্গুলি, যুদ্ধে কে এগিয়ে?

Justice Ganguly vs Justice Sen: কলকাতা হাইকোর্টের দুই বেঞ্চের সংঘাত নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে আসতে রাজি নয় সুপ্রিম কোর্ট। দুই বিচারপতির রায়ের উপরেই আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

Sindhu Som
৩ মিনিট
বিচারপতি সেন বনাম বিচারপতি গাঙ্গুলি, যুদ্ধে কে এগিয়ে?

বিচারপতি সেন বনাম বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়─কলকাতা হাইকোর্টের দুই বেঞ্চের সংঘাত নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে আসতে রাজি নয় সুপ্রিম কোর্ট। দুই বিচারপতির রায়ের উপরেই আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভরতির ক্ষেত্রে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র মামলার রেশ ধরে সংঘাতের সূত্রপাত। ২৪ জানুয়ারি, মেডিক্যাল মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেদিনই মৌখিকভাবে হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চে সওয়াল করে রাজ্য। মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতেই ডিভিশন বেঞ্চ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করে। স্থগিতাদেশে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় প্রদত্ত নির্দেশের কপি আপলোড করা হয়নি।

ডিভিশন বেঞ্চের স্থগিতাদেশ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে হাজিরা দিয়ে জানাননি রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি। সিবিআই তদন্তের নির্দেশ বহাল রাখেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। অবিলম্বে সিবিআইকে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেন তিনি। সিবিআই এফআইআর দায়ের করলে তা ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। ২৫ জানুয়ারি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দায়ের করা এফআইআরেও স্থগিতাদেশ দেয় বিচারপতি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। তারপরেই সংঘাত বাঁধে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হামলাকারীরা ভারতের নাগরিক? সরবেড়িয়া কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

Justice Abhijit Ganguly: সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “রাজ্যে কোনও আইনশৃঙ্খলা আছে বলে আপনার মনে হয়? তদন্ত আটকানোর জন্য এর আগে মানুষের টাকা খরচ করা হচ্ছিল মামলা মোকদ্দমা করে।"

ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের প্রক্রিয়াগত ‘ত্রুটি’ নিয়ে প্রশ্ন করেন তিনি। বলেন, রায়ের কপি এবং আবেদনের কপি না দেখেই কীভাবে স্থগিতাদেশ দেয় ডিভিশন বেঞ্চ? বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর নির্দেশনামায় উল্লেখ করেন, বড়দিনের ছুটির আগে বিচারপতি সেন তাঁর চেম্বারে বিচারপতি অমৃতা সিংহকে ডেকে পাঠান। সেখানে বিচারপতি সেন নাকি বলেন, ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রয়েছে। তাঁকে বিরক্ত করা চলবে না।’’ এ'ছাড়াও তিনি জানান, বিচারপতি সিংহের এজলাসের ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ বন্ধ করতে হবে। নিয়োগ দুর্নীতির দু’টি মামলা খারিজ করতে হবে বলেও নাকি তিনি জানিয়েছিলেন। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, বিচারপতি সেন ব্যক্তিগত স্বার্থে ওই সব নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর নির্দেশে আরও লেখেন, “বিচারপতি সেন খুব পরিষ্কার ভাবে এই রাজ্যের একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছেন। তিনি এ'দিন আদালতে যা করেছেন তা কেবলই তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থে। এই রাজ্যে কিছু রাজনৈতিক দলকে বাঁচানোর জন্য তিনি এটা করেছেন। এটা পেশাগত অসদাচরণ।” ডিভিশন বেঞ্চের স্থগিতাদেশকে একরকম খারিজ করেই সিবিআইকে তদন্ত চালিয়ে যেতে বলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।

দুই বিচারপতির বেনজির এই সংঘাতে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে সর্বোচ্চ আদালত। ভারতের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ গঠন করা হয়। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও শনিবার বিশেষ শুনানির দিন ধার্য করা হয়। ছুটির দিনের সংক্ষিপ্ত শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এবং বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চের রায়─দুইয়ের উপরেই স্থগিতাদেশ জারি করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় যে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাতেও স্থগিতাদেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। আগামী সোমবার ফের সংঘাতের মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

শনিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানান, তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্তে আসতে রাজি নন তাঁরা। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং মূল মামলকারীকে নোটিশ জারি করা হয়েছে। যতদিন না পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, ততদিন পশ্চিমবঙ্গের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র মামলার কোনও শুনানি হবে না বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এবং বিচারপতি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। কখনও কখনও অভাবনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাক।’ প্রধান বিচারপতির সেই মন্তব্যের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী তুষার মেহতা বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা ফাঁসি বা বাড়ি ভেঙে দেওয়ার মতো বিষয় নয়।’ সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, কোনওরকম আবেদনের কপি বা নির্দেশের কপি ছাড়াই ডিভিশন বেঞ্চ যেভাবে নির্দেশ জারি করেছে, তাতে তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বা বিচারপতি সেনের মধ্যে কোনও একজনের পক্ষ নিচ্ছেন না। কারও হয়ে বলছেন না। কিন্তু যেভাবে বিচারপতি সেনের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, তা ১৪১ ধারার আওতায় নিষিদ্ধ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে শনিবার মামলা (এসএলপি) করার অনুমতি চান রাজ্যের আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্ট মামলার অনুমতি দিয়েছে। অনলাইনেই মামলা করতে পারবে রাজ্য। আদালতে দুই বিচারপতির এমন বেনজির সংঘাতে আখেরে জয় হবে কার? সে'দিকেই তাকিয়ে সারা দেশ।

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।