Karim's vs Kareem's: এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায়! পুজোয় কোথায় কোন বিরিয়ানি সেরা?

Kolkata Biriyani: মুম্বইয়ের করিম ধনানির হাতে তৈরি করিমস রেঁস্তোরার সঙ্গে অনেকেই দিল্লির জামা মসজিদ এলাকার করিমসকে গুলিয়ে ফেললেও দু’টি কিন্তু একবারে আলাদা রেঁস্তোরা।

Piya Saha
৩ মিনিট
Karim's vs Kareem's: এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায়! পুজোয় কোথায় কোন বিরিয়ানি সেরা?

আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। তারপরেই বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব। বাঙালির সবচেয়ে হুজুগে মাতার সময়। কোনওদিকে কোনও খামতি রাখা চলবে না। তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। কোটি কোটি বাঙালি সারা বছর ধরেই দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন করেন। চারটে দিনের এই উৎসবই বাঙালিকে পুরো এক বছর অক্সিজেন যোগায়। আর উৎসবের দিনগুলিতে জমজমাট আড্ডা বা প্রতিমা দর্শন সবকিছুর সঙ্গেই চাই যোগ্য খানাপিনার ব্যবস্থা। ভালো খাবারের স্বাদেই বদলে যায় উৎসবের মেজাজ। পুজো মানেই তো মেনুতে বিরিয়ানি থাকা মাস্ট। শুধু দুর্গাপুজো বলে নয় এখন বাঙালির যে কোনও অনুষ্ঠানেই হিট বিরিয়ানি। জনপ্রিয় ও সুস্বাদু এই পদের জন্ম মুঘলদের হাতে হলেও ভোজনরসিক বাঙালির বিরিয়ানি প্রীতি চিরকালীন চর্চিত এক অধ্যায়। তবে বিরিয়ানির ব্যাপারে বাঙালি বেশ নাক উঁচু। বিরিয়ানিতে আলু আর ডিম ছাড়া ঠিক মন ভরে না এই জাতির। পছন্দমতো দোকান থেকে ভালো মানের বিরিয়ানি খেতে গাঁটের কড়ি খরচ করতেও পিছপা হয়না বাঙালি।

কলকাতার বুকে এখন হাজারটা বিরিয়ানির দোকান রয়েছে, প্রতি গলিতেই প্রায় বিরিয়ানির ঠেক। তবে রসনা তৃপ্তির জন্য অন্যতম সেরা ঠিকানা করিমস। এবার নিশ্চয়ই ভাবছেন কোন করিমসের কথা বলছি? দু’টি রেস্তোরাঁর নামের উচ্চারণ হবহু এক হলেও কিন্তু এরা সম্পূর্ণ আলাদা দু’টি রেস্তোরাঁ। এমনকি তাদের প্রতিষ্ঠাও হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন দু’টি শহরে। কোন করিমস কোথাকার আর পুজোতে কী কী অবশ্যই খাবেন সেখানে সব খুঁটিনাটি রইল এই প্রতিবেদনে।

Karim's

দেশের প্রাচীনতম রেস্তোরাঁগুলির মধ্যে একটি হল Karim's। দিল্লির জামা মসজিদের কাছে ১৯১১ সালে হাজি করিমুদ্দিন এই রেস্তোরাঁ খোলেন। করিমুদ্দিনের পিতা মুঘল সম্রাটদের হেঁসেলে রান্না করতেন। তাঁর থেকেই রন্ধন কৌশল শেখেন করিমুদ্দিন। দিল্লিতে ছোট একটি খাবারের দোকান খোলার কয়েক বছরের মধ্যেই বড় রেস্তোরাঁ চালু করেন তিনি। খাঁটি জামা মসজিদ আউটলেটটি নাহারি, কাবাব, কোরমার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়। কলকাতাতেও এই রেস্তোরাঁর একাধিক আউটলেট রয়েছে। তবে প্রথম আউটলেট চালু হয় হাতিবাগান চত্বরে।

উত্তর কলকাতার ঠাকুর দেখার পথে দুপুরের লাঞ্চ বা রাতের ডিনার যে কোনও সময়েই পুজোর ভুরিভোজ সারার জন্য আদর্শ জায়গা এটি। বিরিয়ানির পাশাপাশি কাবাব, রুটি, মাংসের নানা জিভে জল আনা পদে পুজোর দিনগুলিতে মেতে উঠতে ডেস্টিনেশন হাতিবাগান করিমস। মহালয়ার ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ২৬ সেপ্টেম্বর থেকেই পুজোর ভুরিভোজ পর্ব শুরু হবে। চলবে দশমী পর্যন্ত। দুপুর ১২ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত রকমারি পদ নিয়ে করিমস খোলা থাকবে খাদ্যরসিকদের জন্য।

যে পদগুলি অবশ্যই খেতে হবে

কলকাতাবাসীকে একেবারে ভিন্ন স্বাদের বিরিয়ানি উপহার দিয়েছে জামা মসজিদের করিমস। কলকাতা বিরিয়ানির সঙ্গে উপরি পাওনা চিকেন জাহাঙ্গিরি, মটন রারা মশলা, মটন চাপ, চিকেন চাপ, মটন ও চিকেন কোরমা, চিকেন হান্ডি লাজিজ, মটন ও চিকেনের কষা, মটন বারার মতো পদগুলি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল শালু বাঁধা থাকে কেন জানেন ?

Biriyani: লাল কাপড়ে মোড়া বিরিয়ানির হাঁড়ি দেখলেই খিদে বেড়ে যায়, মনে পড়ে যায় শুধু বিরিয়ানির কথা।

খরচ- ট্যাক্স ছাড়া দু’জনের পেট ভরাতে খরচ হবে ১০০০ টাকা। পুজোর সময় অতুলনীয় স্বাদ ও পকেট দুই’ই বজায় রেখে ভালো খাবারের আয়োজন রয়েছে করিমসে।

Kareem's

মুম্বইয়ের করিম ধনানির হাতে তৈরি এই রেঁস্তোরার সঙ্গে অনেকেই দিল্লির জামা মসজিদ এলাকার করিমসকে গুলিয়ে ফেললেও দু’টি কিন্তু একবারে আলাদা রেঁস্তোরা। নাম নিয়ে দুই রেঁস্তোরার মালিক পক্ষের সঙ্গে খানিক আইনি বিবাদ চললেও এই রেস্তোরাঁর বিরিয়ানিরও কিন্তু যথেষ্ট সুখ্যাতি রয়েছে কলকাতায়। শহরজুড়ে বেশ কয়েকটি আউটলেট রয়েছে এদের, তাই সুবিধামতো হাতের নাগালে kareem's খুঁজে নেওয়া খুব কষ্টের নয়। সল্টলেক সেক্টর ফাইভের জিপি ব্লকে পিএস সৃজন কর্পোরেট পার্কে রয়েছে প্রথম আউটলেটটি। দ্বিতীয়টি রয়েছে এসপ্ল্যানেড তালতলা মির্জা গালিব স্ট্রিটে, পাটাকা হাউসের খুব কাছেই। আর অন্যটি ২/২ চিনার পার্ক, চিনার পার্ক ক্রসিংয়ের কাছে। স্টার্টার থেকে শুরু করে মেন কোর্স বা ডেজার্টের একাধিক পদ রয়েছে যা চেখে না দেখলে পুজোর ভূরিভোজটাই মাটি। দুর্গাপুজো স্পেশাল একাধিক পদ রয়েছে এই রেস্তোরাঁর বিভিন্ন আউটলেটে। তাই বন্ধু বান্ধব বা পরিবারের সঙ্গে পেটপুজো সারতে যাওয়া যেতেই পারে এও করিমসে।

যে পদগুলি অবশ্যই খেতে হবে

পুজোর দিনগুলিতে যাঁরা নিরামিষ খান তাঁদের জন্য রয়েছে বাটার গার্লিক মাশরুম, পনির মালাই টিক্কা, ভেজ দম বিরিয়ানি। আর যাঁরা আমিষ খান তাঁদের জন্য থাকবে ঢালাও আয়োজন। চিকেন বিরিয়ানি, মটন বিরিয়ানি, করিমসের স্পেশাল রান বিরিয়ানির পাশাপাশি রয়েছে মুখে জল আনা নানা ধরনের কাবাব। চিকেন পেশোয়ারি টিক্কা, চিকেন পোটলি কাবাব, মটন বারা চাপ, ফিশ তন্দুরি, চিকেন আকবরি, বাটার চিকেন, মটন করাচি থাকছে মেনুতে। খাবার শেষে ডেজার্ট খেতে অর্ডার করতে পারেন মালাই ফিরনি বা ক্যারামেল কাস্টার্ড।

খরচ- জিএসটি বাদে এই রেস্তোরাঁয় পেটপুজো করতে দু’জনের জন্য খরচ পড়বে প্রায় ১০০০ টাকা।

তবে আর অপেক্ষা কীসের নিজের পছন্দমতো করিমস খুঁজে পুজোর দিনগুলিতে জমজমাট পেট পুজোর প্ল্যান করে ফেলুন আজই।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।