মস্তিষ্ক কুড়ে খাচ্ছে অ্যামিবা, পর পর মৃত্যু! ভয়ঙ্কর সংক্রমণ ঘিরে আতঙ্ক

Brain-Eating Amoeba: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একবার মাথায় প্রবেশ করলে প্রায় ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে এই অ্যামিবা।

Sohini Das
৩ মিনিট
মস্তিষ্ক কুড়ে খাচ্ছে অ্যামিবা, পর পর মৃত্যু! ভয়ঙ্কর সংক্রমণ ঘিরে আতঙ্ক

এককোষী প্রাণী অ্যামিবা, আনুবীক্ষণিকও বটে। সেই অ্যামিবাই এবার আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কেরলে। একবার শরীরে ঢুকতে পারলেই শেষ। প্রাণঘাতী অ্যামিবা নাকি সরাসরি হামলা করছে মাথায়। খেয়ে ফেলছে মস্তিষ্কের সমস্ত ঘিলু। বিরল এই সংক্রমণে গত তিন মাসে তিন জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। স্বাভাবিক ভাবেই ঘটনায় ছড়িয়েছে আতঙ্ক।

কোঝিকোরের বাসিন্দা ১৪ বছরের এক কিশোর পুকুরে স্নান করতে নেমেছিল। তার পর হঠাৎ করেই জ্বর আসে। শুরু হয় বমিও। ভুল বকতে শুরু করে কিশোর। বেগতিক দেখে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান বাড়ির লোকেরা। তবে বাঁচানো যায়নি ছেলেটিকে। জানা গিয়েছে, তার মস্তিষ্ক নাকি কুড়ে কুড়ে খেয়েছে অ্যামিবা।

এমনই ভয়ঙ্কর সেই সংক্রমণ। চিকিৎসকেরা জানান, ডাক্তারির ভাষায় একে বলা হয় অ্য়ামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস। যার সংক্রমণ ঘটায় এক ধরনের অনুজীব। যার বিজ্ঞানসম্মত নাম নায়গ্লেরিয়া ফাউলেরি। সাধারণ ভাবে মানুষ তাকে বলেন, ঘিলুখেকো অ্যামিবা। একবার শরীরে প্রবেশ করলে নাকি সোজা মাথায় গিয়ে আক্রমণ করে সেটি। ক্রমে সেটি কুরে কুরে খেতে শুরু করে মাথার কোষ। অচিরেই মৃত্য়ুর কোলে ঢলে পড়ে আক্রান্ত ব্যক্তি। সাধারণ ভাবে এই অ্যামিবা নাকি থাকে জলে। ফলে মনে করা হচ্ছে, পুকুরে স্নান করতে নেমেই ওই অ্যামিবা তার শরীরে ঢোকে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই রোগ ছোঁয়াচে নয়। তবে এখনও পর্যন্ত এই রোগের কোনও চিকিৎসা নেই বিশেষজ্ঞদের কাছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিতর্কই তবে সত্যি? কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে দেহে বাড়ছে হার্ট, মস্তিষ্কের বিরল রোগ!

Covid-19 Vaccine Effect : যারা কোভিড ১৯ আক্রান্ত হওয়ার পরেও বেঁচে গিয়েছেন তারা ইওরোপিয় এবং চিনের মানুষদের তুলনায় বেশি ফুসফুস এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছেন।

কেরলে এমন ঘটনা অবশ্য প্রথম নয়। মে মাসের শেষের দিকে কেরলের মলপ্পুরম জেলায় বছর পাঁচেকের একটি শিশু আক্রান্ত হয়েছিল এই রোগে। বাড়ির লোকের সঙ্গেই পাশের এক নদীতে স্নান করতে নেমেছিল সে। তার পর থেকে শুরু হয় মাথার যন্ত্রণা। সঙ্গে বমি বমি ভাব। অবস্থা খারাপ হতে শুরু করলে তাকে কোঝিকোড় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। বেশ কিছুদিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যায় মেয়েটি। চিকিৎসকেরা জানান, কোনও পরজীবী নাক, মুখ বা কানের ছিদ্র দিয়ে সোজা মাথায় পৌঁছে গিয়েছিল। যার আক্রমণেই মৃত্যু হয়েছে শিশুটির। কুন্নুরেও বছর তেরোর এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে একই রকম সংক্রমণে। গত ২৫ জুন মারা যায় সে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সদ্য বাবা হয়েছেন? টেরও পাচ্ছেন না অথচ ভয়াবহ এই রোগ জাঁকিয়ে বসছে...

Depression of New Fathers : অধিকাংশই বলেছেন, "আমি সত্যিই চাপে আছি, কিন্তু আমি চাই না যে আমার সঙ্গী এটা জানুক..."

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একবার মাথায় প্রবেশ করলে প্রায় ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে এই অ্যামিবা। যার আক্রমণে শরীরে অ্য়ামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস নামে একটি রোগ সংক্রমিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা। অ্যামিবা দেহে প্রবেশ করলে একই সঙ্গে মেনিনজাইটিস ও এনসেফেলাইটিসের মতো উপসর্গ দেখা দেয় রোগীর দেহে। প্রাথমিক পর্যায়ে মাথা যন্ত্রণা, জ্বর ও বমি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত কোমা ও তার পর মৃত্যু। অণুজীবটি দেহে প্রবেশ করার এক থেকে ১২ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়। উপসর্গ সৃষ্টির ৫ দিনের মধ্যেই সাধারণত মৃত্যু হয় রোগীর।

এই নিয়ে তিনটি শিশুর মৃত্য়ু হল কেরলে মারণ অ্যামিবার সংক্রমণে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য জুড়ে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ইতিমধ্যেই এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একগুচ্ছ সতর্কতার কথাও জানিয়েছে তারা। গরমের সময়ে জলের কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে তারা। এই সময় জলস্তর কম থাকায় ওই অ্যামিবাগুলির বাড়বাড়ন্ত দেখা যায়। একই সঙ্গে পুকুরে বা নদীতে স্নানের সময় নাকের ক্লিপ ব্যবহার করার কথা বলেছেন তারা। বিশেষত পলি পড়া জলে এই ধরনের অ্যামিবার থাকার সম্ভাবনা বেশি। সেই ধরনের জল এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কলের জল ব্যবহার করার সময় ফুটিয়ে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে সিডিসি-র তরফে। পুল এবং স্পা মালিকদের নিয়মিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলে ক্লোরিন ব্যবহারেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সমস্যা হচ্ছে, এই নেগেলেরিয়া ফাউলেরি সংক্রমণের তেমন কোনও কার্যকরী চিকিৎসা এখনও পর্যন্ত এ দেশে হয় না। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাসপাতালে যা চিকিৎসা হচ্ছে, তা এই রোগের জন্য যথাযথ নয়। ফলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে বেশিরভাগ আক্রান্তই। একের পর এক মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় এই ঘিলুখেকো অ্যামিবার সংক্রমণ ভয় বাড়িয়েছে গোটা দেশেই। করোনার পরে কি এবার তবে অ্যামিবার হামলা? বিশেষত বারবার শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় আরও বেড়েছে উদ্বেগ।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।