গ্রেফতারি রুখতে কী করছেন সুখেন্দু? কুণালের বার্তাই বা কী?

RG Kar Incident: জানা গিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫/(১) ধারায় নোটিস পাঠানো হয়েছে সাংসদকে। অভিযোগ, সুখেন্দুশেখর রায় পুলিশের নামে ভুয়ো খবর রটিয়েছেন।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
গ্রেফতারি রুখতে কী করছেন সুখেন্দু? কুণালের বার্তাই বা কী?

আরজি করে চিকিৎককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদ করছে একাধিক রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক সংগঠন, নাগরিক সমাজ। কিন্তু এবার বাংলার শাসক দলের অন্দরেই অসন্তোষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ ও তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু্শেখর রায়ের দ্বৈরথ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তৃণমূল সাংসদের দাবি আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং কলকাতা পুলিশ সুপার বিনীত গোয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ করুক সিবিআই। সুখেন্দুশেখরের সেই পোস্ট ঘিরে এখন তুমুল চর্চা বঙ্গ রাজনীতিতে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সাংসদের পোস্টের রীতিমত সমালোচনা করেছেন। তিনি সুখেন্দুশেখরের বক্তব্যকে 'দুর্ভাগ্যজনক' বলে উল্লেখ করেন। সেই পোস্টের তেরো ঘণ্টার মধ্যেই সাংসদকে তলব করা হল লালবাজারে।

রবিবার বিকেল ৪টে নাগাদ সাংসদ সুখেন্দুশেখরকে লালবাজারে ডাকা হয়েছিল। আরজি কর কাণ্ড নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন তিনি। সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। পোস্টে তিনি কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েল ও আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে সিবিআই হেফাজতে নেওয়ার দাবি করেন। কুণাল ঘোষও পাল্টা জবাব দিয়েছেন। শনিবার রাতে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে সুখেন্দুশেখর রায় লেখেন, 'সিবিআইকে স্বচ্ছভাবে তদন্ত করতে হবে। কে বা কারা আত্মহত্যা বলে চাউর করতে চেয়েছিল? তা জানাতে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ এবং পুলিশের কমিশনারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। কেন সেমিনার রুমের কাছে ঘরের দেওয়াল ভেঙে ফেলা হল? কাদের প্রশ্রয়ে 'রায়' এত প্রভাবশালী? কেন ঘটনার ৩ দিন পর স্নিফার ডগ ব্যবহার করা হল? এমন একশোটা প্রশ্ন উঠে আসছে। এর উত্তর দিতে হবে ওদের।' স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূল সাংসদের মন্তব্যকে হাতিয়ার করেছে বিরোধী দল বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যরা।

এর পর রীতিমত সমালোচনায় নামেন কুণাল ঘোষও। তাঁর দাবি, কলকাতা পুলিশ এই ঘটনায় উপযুক্ত তদন্ত করেছে। কোনো খামতি রাখেনি। পুলিশ কমিশনারও দায়িত্ব নিয়ে সচেতনতার সাথে কাজ করেছেন। ফলত সুখেন্দুশেখর রায় একজন সিনিয়র নেতা, তাঁর থেকে এমন কথা আসা করা যায় না। কুণাল ঘোষ তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "আমিও আরজি কর কাণ্ডের বিচার চাই। কিন্তু কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে গ্রেফতারির দাবির তীব্র বিরোধিতা করছি। এই ঘটনায় তিনি সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করেছেন। আমার সিনিয়র নেতার থেকে এই ধরনের একটি পোস্ট দুর্ভাগ্যজনক।'

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরজিকর কাণ্ড: কেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ সুপ্রিম কোর্টের?

Supreme Court on RG Kar Incidents: আগামী ২০ অগস্ট, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

I also demand justice in RGKar case.

But strongly oppose this demand regarding CP. After got information He has tried his best. Personally CP was doing his job and investigation was in a positive focus. This kind of post is unfortunate, that too from my senior leader.

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যৌনাঙ্গে ক্ষত, শরীরের ২৪ জায়গায় চোট! নারকীয় অত্যাচারের প্রমাণ ময়নাতদন্তের রিপোর্টে

R G Kar Doctor Rape and Murder: এখানেই শেষ নয়, অত্যাচারের খতিয়ান আরও দীর্ঘ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার কোথায় কী ভাবে ক্ষত হয়েছিল।

— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain)

ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫/(১) ধারায় নোটিস পাঠানো হয়েছে সাংসদকে। অভিযোগ, সুখেন্দুশেখর রায় পুলিশের নামে ভুয়ো খবর রটিয়েছেন। তাঁর পোস্টে উল্লেখিত তথ্যগুলি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে লালাবাজার। মূলত সাংসদের পোস্টে উল্লেখিত স্নিফার ডগ নিয়ে মন্তব্য ভিত্তিহীন বলা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের দাবি, ৯ এবং ১২ অগস্ট আরজি করের ঘটনাস্থলে স্নিফার ডগ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সুখেন্দু্শেখর রায় প্রথম থেকেই আরজি কর কাণ্ডের বিরোধিতা করেছেন। প্রতিবাদ জানাতে গত ১৪ অগস্ট দক্ষিণ কলকাতার যোধপুর পার্কে ধর্নাতেও বসেছিলেন। মহিলাদের 'রাত দখল' কর্মসূচিকেও সমর্থন জানিয়েছিলেন। সেখানে যোগদান করার কথাও বলেন। পরে যদিও দলের নির্দেশে সেই কর্মসূচিতে যোগদান করা সম্ভব হয়নি।

জুনিয়র ডাক্তারেরাও কলকাতা পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ায় পক্ষপাত রয়েছে বলে দাবি তুলেছেন। তদন্ত প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট নয় বলেই এখনও জরুরি বিভাগ বাদে কর্মবিরতিতে রয়েছেন তাঁরা। হাইকোর্ট তাঁদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও হাত জোর করে চিকিৎসকদের কাজে ফিরতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা তদন্তের দাবিতে অনড়। এই মুহূর্তেই ঘটনাস্থল লাগোয়া ঘর সংস্কার করতে হচ্ছে কেন? আর এই নির্দেশই বা দিয়েছিল কে? বুধবার মহিলাদের 'রাত দখল' কর্মসূচি সময়ই কেন হামলা হল আরজি করে? এই নিয়ে তো প্রশ্ন উঠছিলই। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, কলকাতা পুলিশের তদন্ত প্রায় ৯০% হয়েই গিয়েছিল, কিন্তু আরজি করের ডাক্তারি পড়ুয়ারা কলকাতা পুলিশের উপরে ভরসা রাখতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের যে এখন ঘরে-বাইরে টানাপড়েন, তা একরকম বলাই যায়। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠে গিয়েছে কলকাতা পুলিশের তদন্তের সারবত্তা নিয়েও।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।