উনিশ শতকে বিশ্বের দরবার আলো করে ছিল, কালের নিয়মে কদর হারিয়েছে কৃষ্ণনগরের মূর্তি

বিখ্যাত রাজ্যের হস্তশিল্প মেলা-সহ শহরে আয়োজিত বেশ কয়েকটি শিল্প ও কারুশিল্প মেলা এই কারিগরদের শিল্প প্রদর্শনের জন্য তাঁদের একটি বিস্তৃত প্ল্যাটফর্ম অফার করে।

Ravhali Biswas
৫ মিনিট
উনিশ শতকে বিশ্বের দরবার আলো করে ছিল, কালের নিয়মে কদর হারিয়েছে কৃষ্ণনগরের মূর্তি

ছোটবেলায় আমরা অনেকেই খেলনা-বাটি খেলতাম এবং পুতুলের বিয়ের আসর বসাতাম। আমার এখনও মনে আছে, কিছু নির্দিষ্ট দিনে সকালবেলার দিকে পুতুল বিক্রি করতে আসা সেইসব মানুষজনের কথা, যাদের ঝুড়িভর্তি রঙিন সব পুতুল। সেখানে কী না ছিল– বাউল, সবজিওয়ালা, মাঝি, কৃষক ইত্যাদি আরও অনেক রকমের অবয়ব। সবাই মিলে হামলে পড়তাম সেই ঝুড়ির ওপর। মনে হতো, সে এক নতুন পৃথিবী। সেইসব ছোট ছোট মেয়ে পুতুল, ছেলে পুতুল এবং বিভিন্ন ধরনের মিনিয়েচার পুতুল আমার সংগ্রহে ছিল। সেগুলো মা খুব যত্ন করে রাখত। বড় হয়ে কলেজে পড়ার সময় যে সেই মাটির পুতুল নিয়েই রিসার্চের কাজ করতে হবে, সেটা ভাবিনি। বিদ্যাসাগর কলেজে পড়াকালীন তৃতীয় বর্ষে ডকুমেন্টারি ফিল্ম বানানোর জন্য যখন টপিক নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি সেইসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এক দাদা পরামর্শ দিল, "তুই তো কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুলের ইতিহাস আর শিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে পারিস।" ব্যস আর কী! চলে গেলাম কৃষ্ণনগর, দেখে এলাম তাঁদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ও সংস্কৃতির রূপ এবং শুনে এলাম মাটির পুতুলের শিল্পীদের ভবিষ্যৎ।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রর (১৭১০-'৮৩) প্রিয় মাটির পুতুলের কদর আর কেউ করে না এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে। মৃৎশিল্প আজ বলতে গেলে মৃতপ্রায়। চারুকলা, সাহিত্য এবং সংগীতের গুণগ্রাহী কৃষ্ণচন্দ্রর পক্ষে মৃৎশিল্পের প্রতি মানুষের উদাসীনতা তাই মেনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াল।

মৃৎশিল্প বলতেই সবার প্রথমে আমাদের মনের মধ্যে আসে কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির মাটির পুতুলের কথা। আশা করা যায়, কারওরই অজানা নয় কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুলের বিশ্বজোড়া খ্যাতি। কিন্তু এই খ্যাতির পিছনে যাঁরা দণ্ডায়মান, তাঁদের কথা জেনে নেওয়া যাক।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শিখতেন স্বামী বিবেকানন্দও, কেমন আছে বাঙালির কুস্তির আখড়াগুলো?

অসিতবাবুর আরও দাবি, তাঁরা হাল ছাড়ছেন না। টোকিও অলিম্পিক্সে স্বর্ণপদক জয়ের পর থেকে তিনি এবং কুস্তিগিররা আবারও নতুন উৎসাহে লড়াইয়ে নেমে পড়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার রাজপরিবারের শ্রেষ্ঠ রাজপুরুষ রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নামে এই স্থান কৃষ্ণনগর (পূর্বে রেউই) নামে খ্যাত। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র চারুকলায় বিদ্বান, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষায় শিক্ষিত, সংগীতরসিক ছিলেন। কৃষ্ণনগরের জগদ্বিখ্যাত মৃৎশিল্পের প্রচলন তাঁর উদ্যোগেই ঘটেছিল। কথিত আছে যে, তিনি তৎকালীন পূর্ব বাংলার (আজকের বাংলাদেশ) নাটোর থেকে বহু সংখ্যক কুমোর পরিবারকে ঘূর্ণিতে স্থানান্তরিত করেন এবং রাজপ্রাসাদের জন্য হিন্দু দেবদেবীর মাটির মূর্তি তৈরি করার দায়িত্ব দেন। এই হস্তশিল্পের কারিগররা ষষ্ঠীতলা, নতুনবাজার রথতলা এবং ঘূর্ণি নামক এলাকায় বসতি স্থাপন করে। তাদের দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে, রাজা তখন মাটির পুতুল তৈরিতে তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তাঁর শাসনকালে চারু ও কারুশিল্পের এত উন্নতি ঘটে যে, ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসকরাও তা উপেক্ষা করতে পারেনি!

সূক্ষ্ম সৌন্দর্য এবং সূক্ষ্মতার এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের মধ্যে অনেক আকর্ষণীয় তথ্য রয়েছে, শুরু থেকেই। কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা ভারত নয়, বিশ্বের দরবারেও স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই শিল্প শীঘ্রই একাধিক জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষকদের নেকনজরে পড়ে যায়। কৃষ্ণনগরের শিল্পীরা লন্ডন, প্যারিস এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রদর্শনী, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে শুরু করে। শীঘ্রই, তারা আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনীতে বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ও পদক জিততে শুরু করে। ইতিহাসের এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ অধ্যায় ছিল ‘EXPOSITION UNIVERSELLE DE 1855’ যেখানে রাম পাল, কৃষ্ণনগরের মৃত্তিকা-শিল্পীদের প্রতিনিধি হিসাবে ১ জুলাই, ১৮৫৭-এ দ্বিতীয় স্থানের জন্য পদক এবং শংসাপত্র পেয়েছিলেন। ১৮৮০ সালে মেলবোর্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে শিল্পী যদুনাথ পালের তৈরি মাটির মূর্তি দ্বিতীয় স্থান পায়। এই মূর্তিগুলো এখন অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া মিউজিয়ামের সংগ্রহে প্রদর্শিত। তারপর ১৯৯০ সালে, রাশিয়া সরকার কৃষ্ণনগরের শিল্পীদের কাছে একটি জাতীয় উদ্যানে প্রদর্শনের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ব্রোঞ্জ মূর্তি চেয়েছিল, তারা একটি মাটির মডেল দেওয়ার জন্য শ্রেষ্ঠ কারিগর কার্তিক চন্দ্র পালের সাহায্য চান এবং তিনি সেটি প্রদান করেন, কার্তিক পাল পরে এটিকে একটি ব্রোঞ্জ ভাস্কর্যে রূপান্তরিত করেন।

ব্যাঙ্গালোর থেকে প্রকাশিত পত্রিকা ‘ডেকান হেরাল্ড’-এ রচিত একটি নিবন্ধে বলা হয় যে, “We have clay dolls, toys and even clay sculptures in different parts of India. However, there has been nothing to match the clay doll artisans of Krishnanagar in the Nadia district of West Bengal. The creations of these artists are displayed in most of the handicraft museums of the world. In India, we have a large display of these dolls in the Shankar’s Doll Museum in New Delhi. One look at the clay dolls and we are amazed at the reality with which the artist has displayed the character of the model. A horse rearing to gallop to a placid dog licking its lips after a hearty feed.” এইভাবে চলে আসছে কৃষ্ণনগরের মাটির শিল্পের ইতিহাস।

ফিরে আসা যাক বর্তমান সময়ে। কৃষ্ণনগরে এমন অনেক পরিবার আছে, যারা পাঁচ প্রজন্ম ধরে সেখানে বসবাস করছে এবং পরিবারের সকলেই মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাদের থেকে জানা যায়, মৃৎশিল্পীদের সকলেই পাল বংশধর নন। এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা অন্য জায়গা থেকে এসে ‘পাল কমিউনিটি’-র থেকে শিল্পের আঁটঘাঁট শিখে সেখানেই স্থায়ী বসবাস শুরু করেছেন। এমনই এক মানুষ হলেন কাঞ্চন বাগ, তিনি পেশায় রিকশাচালক, রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। এমনও অনেক দিন গেছে, যেদিন তাঁর পুরো পরিবারকে না খেয়ে কাটাতে হয়েছে। তাঁর বাবার পরামর্শে তিনি কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণিতে এসে পালদের থেকে কাজ শিখে এখন সংসার চালান। তাঁর কথায়, "যখন প্রথম কাজ শুরু করি তখন হস্তশিল্প সম্পর্কে কোনও ধারণাই ছিল না। ফিনিশিং ভালো হত না, কিছু খুঁত থাকতই, কিন্তু তাও পুতুল বিক্রি হয়েছে এবং সেই পুতুল বানিয়েই তিনি সংসারের সকলের মুখে খাবার জোগাতে পেরেছেন।"

সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময়ে যখন তাঁদের জিজ্ঞেস করলাম, পুতুল বিক্রি কেমন হয়?, তাঁদের উত্তর ছিল, সময় পাল্টেছে সেই সঙ্গে মানুষের চাহিদাও পাল্টেছে। পুতুল বানিয়ে এবং বিক্রি করে আর সংসার চলে না। সবাই এখন উৎকৃষ্ট হস্তশিল্পের চেয়ে যন্ত্রচালিত প্রতিলিপির দিকে ঝুঁকেছে। মৃৎশিল্পের কদর কমেছে। পূজা-পার্বণেই যা বড় বড় মূর্তি বিক্রি হয়। তাছাড়া মিনিয়েচার পুতুলগুলো মেলা বা জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় বিক্রি হয়। অনেকেই এমন আছেন, যাঁরা এখন বেশি রোজগারের আশায় এখান থেকে বড় শহরে চলে যাচ্ছেন, শিল্পীদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘ কাল ধরে সরকারের অসহযোগিতা এই আদি শিল্পটিকে বিপজ্জনক অবস্থায় এনে ফেলেছে।

তবে তাঁরা হাল ছাড়েননি, সোনালি এক দিনের স্বপ্ন তাঁরা আজও দেখেন। তাঁদের চোখে এখনও কিছু করে দেখানোর খিদে। কিছু কিছু সংস্থা এবং এনজিও সাহায্যের হাত তাঁদের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। কারিগররা ধীরে ধীরে আবার শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করছে। সরকারের সহযোগিতায় কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীরা কলকাতা মহানগরীর সঙ্গে তাঁদের নৈকট্যের সুযোগ নিচ্ছেন এবং একটি বড় বাজারে প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন। মাটির শিল্পের সুন্দর নমুনা পাওয়া যায় কলকাতা বিমানবন্দরের বিশ্ব বাংলা শো-রুমে। কলকাতার দক্ষিণাপণ এবং রাজারহাটের বিশ্ব বাংলা হাট, বিখ্যাত রাজ্যের হস্তশিল্প মেলা-সহ শহরে আয়োজিত বেশ কয়েকটি শিল্প ও কারুশিল্প মেলা এই কারিগরদের শিল্প প্রদর্শনের জন্য তাঁদের একটি বিস্তৃত প্ল্যাটফর্ম অফার করে। এবং যেহেতু এই মেলাগুলোতে পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্যান্য রাজ্যের দর্শনার্থীরা এবং এমনকী, বিদেশি পর্যটকদের ভিড় রয়েছে, তাই শিল্পের ফর্মটি আগের চেয়ে বেশি এক্সপোজার পাচ্ছে। বিশ্ব আরও একবার মৃতপ্রায় শিল্প ফর্মের দিকে ফিরে তাকাতে শুরু করেছে। যদিও, এখনও অনেক পথ বাকি।

হয়তো কোনও এক রঙিন সকালে আবার আগের মতো হাঁক পাব, “পুতুল নেবে গো, পুতুল, মাটির পুতুল”।

লিখেছেন
Ravhali Biswas
Ravhali Biswas
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।