যিশুর মাথায় ভয়াবহ বজ্রপাত! বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই যিশুর যে ইতিহাস অবাক করবে
Christ the Redeemer: ২০১৪ সালে বজ্রপাতের কারণে যিশুর মূর্তিটির বুড়ো আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটি সারিয়ে তোলা হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় যিশুর মাথায় বজ্রপাত! বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্যের অন্যতম যিশুখ্রিস্টের এই মূর্তি স্বচক্ষে না দেখলেও নানা সিনেমা, ছবিতে মাঝেসাঝেই দেখেছেন অনেকে। সম্প্রতি এক ভাইরাল হওয়া ছবি দেখে মানুষজন হাঁ! খোদ যিশুর মাথায় বিশাল বাজ পড়ার এক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। ভয়াবহ তো বটেই, একইসঙ্গে অপার্থিবও সেই দৃশ্য। রিও ডি জেনিরোর উপরে অবস্থিত যিশুখ্রিস্টের ১০০ ফুটের এই মূর্তিটির উপর বজ্রপাতের ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার। ব্রাজিলের উপকূলে তখন বিশাল ঝড়ের তাণ্ডব চলছে। আচমকাই বিশাল এক বাজ পড়ে মূর্তির মাথায়। বিশ্বাসীদের কাছে যিশুর ভাস্কর্যটিকে এক লহমায় ঐশ্বরিক করে তুলেছে প্রকৃতির তাণ্ডব, আর অন্যদের কাছে করে তুলেছে দুর্দান্ত জাগতিক দৃশ্য।
বাজ পড়ার সেই মুহূর্তটি ক্যামেরাতে ধরেছেন ফার্নান্দো ব্রাগা। তিনিই ছবিগুলি ইনস্টাগ্রামে শেয়ারও করেছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যেয় ৬টা ৫৫ নাগাদ NIKON D800 ক্যামেরা ব্যবহার করে এই দৃশ্যটি তোলেন তিনি, তাঁর কাছে এই বজ্রপাত 'ডিভাইন লাইটনিং'! বজ্রপাতের একাধিক ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে মুহূর্তে ছড়িতে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। রসিক মানুষ যিশুকে মার্ভেল কমিকসের চরিত্র থরের সঙ্গে তুলনাও করেছেন। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক ঘটনা সঠিক সময়ে ক্যামেরায় ধরতে পারাকেও অনেকে 'ভাগ্যের ব্যাপার' বলেই মনে করছেন।
ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার মূর্তিটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় যিশুর মূর্তি। রিওর কর্কোভাডো পাহাড়ের উপর প্রায় ২০০০ ফুট উচ্চতায় এই মূর্তিটি অবস্থিত। ২০০৭ সালে বিশ্বের সাতটি নতুন আশ্চর্যের অন্যতম বলে ঘোষণা করা হয় এই মূর্তিটিকে। ৭০০ টন রিইনফোর্সড কংক্রিট দিয়ে তৈরি এই যিশুর মূর্তি।
View this post on Instagram
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Shroud Of Turin Jesus Christ : অবয়বটির লম্বা চুল রয়েছে, সঙ্গে দাড়ি। হাত দুটো পেটের কাছে রাখা। দুটো হাত আর পায়ের পাতায় কীসের একটা ক্ষতচিহ্ন!
তবে এই প্রথম না, ভাস্কর্যটি অতীতেও বজ্রপাতের কবলে পড়েছে। বিবিসি জানাচ্ছে, ২০১৪ সালে বজ্রপাতের কারণে যিশুর মূর্তিটির বুড়ো আঙুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেটি সারিয়ে তোলা হয়।
তিজুকা ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত, ক্রাইস্ট দ্য রিডিমারের অভয়ারণ্য হল বিশ্বের প্রথম খোলা আকাশের নিচে অভয়ারণ্য! আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রিও ডি জেনিরোই বিশ্বের প্রথম শহর যেখানে প্রেম এবং মুক্তিদাতার প্রতীক হিসাবে যিশুখ্রিস্টের মূর্তি রয়েছে। এই অভয়ারণ্যটি সাংস্কৃতি উদযাপন, ধর্মপ্রচার, সংস্কৃতি এবং পরিবেশবিদ্যার এক বিশেষ স্থান।

১৮৮৮ সালে প্রিন্সেস ইসাবেল প্রথম এই মূর্তির প্রস্তাব দেন। ক্রীতদাসদের মুক্ত করার জন্য তাঁর সম্মানে কর্কোভাডোর উপরে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির বদলে রাজকুমারী ইসাবেল যিশুখ্রিস্টের এই মূর্তি, মানবজাতির মুক্তিদাতার রূপ প্রতিষ্ঠার কথা বলেন।
১৯২৩ সালে রিও এবং সমগ্র ব্রাজিল জুড়ে সংগ্রহ করা আর্থিক অনুদানের যা পরিমাণ দাঁড়ায় তা মূর্তি স্থাপনের খরচের অর্ধেক। ভাস্কর পল ল্যান্ডোস্কির নকশার উপর ভিত্তি করে এই বিশালাকার মূর্তি স্থাপিত হয়।















