মোদির হাতেই ভারতের রাশ নাকি ক্ষমতায় এবার অন্য কেউ! কী বলছে প্রশান্ত কিশোরের অঙ্কের খাতা?

Lok Sabha Election 2024: নিজের কেরিয়ারে খুব কম সংখ্যক বারই ব্যর্থ হয়েছে প্রশান্ত কিশোরের পর্যবেক্ষণ। লোকসভা ভোটের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে কী বলছেন পিকে?

Sohini Das
৩ মিনিট
মোদির হাতেই ভারতের রাশ নাকি ক্ষমতায় এবার অন্য কেউ! কী বলছে প্রশান্ত কিশোরের অঙ্কের খাতা?

লোকসভা নির্বাচনের প্রায় সিংহভাগটাই শেষ। বাকি মাত্র দু-দফা। গোড়া থেকেই ২০২৪ লোকসভা ভোট নিয়ে আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। তবে ভোট যত গড়িয়েছে, ততই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ একাধিক বিজেপি নেতার কথাবার্তায় অস্থিরতা ফুটে উঠেছে। বারবার কংগ্রেসকে আক্রমণ শানিয়েছে শাসক শিবির। যা থেকে বহুসময়েই মনে হয়েছে, বিজেপির সেই গগনচুম্বী আস্থা যেন কোথাও একটু নড়োবড়ো। বিশেষত কংগ্রেসের ইস্তেহার সামনে আসার পর থেকে আরও বেশি। লোকসভা ভোটের শুরুতে চারশো আসন পাওয়ার দাবি জানিয়েছিল বিজেপি। তবে ভোট যত এগিয়েছে, তেমন ভাবে চারশো পারের স্লোগান যেন আর শোনা যায়নি বিজেপি নেতামন্ত্রীদের মুখে। তবে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর গোড়া থেকেই আস্থা রেখেছেন বিজেপির উপরেই। তার জন্য কম আক্রমণের মুখে পড়তে হয়নি তাঁকে। কেন্দ্রে মোদির আসার ক্ষেত্রেও পিকে-র বড় ভূমিকা ছিল। নিজের কেরিয়ারে খুব কম সংখ্যক বারই ব্যর্থ হয়েছে প্রশান্ত কিশোরের পর্যবেক্ষণ। লোকসভা ভোটের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে কী বলছেন পিকে? পুরনো অবস্থান থেকে কি টলানো গেল ভোট-কুরুক্ষেত্রের এই কৃষ্ণকে?

সাত দফা লোকসভা ভোটের পাঁচ দফা শেষ। বাকি মাত্র দু-দফার ভোটগ্রহণ। এই পাঁচ দফায় প্রাপ্ত ভোটের হারের মোটামুটি হিসেব আমাদের হাতেই। যদিও নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সেই হিসেবে জল মেশানো রয়েছে, বলে দাবি করেছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। তবে সেসব দেখে-শুনে-বুঝেও প্রশান্ত কিশোর বলছেন, তিনি নিশ্চিত তৃতীয়বারের জন্যও ক্ষমতায় আসতে চলেছে মোদি সরকারই। গত বারের মতোই সংখ্যা বা তার বেশি আসন নিয়েই বিজেপি ফিরতে চলেছে বলে জানিয়েছেন পিকে। কেন এ কথা বলছেন তিনি? তাঁর কথায়, এখনও পর্যন্ত মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তেমন বড় কোনও ক্ষোভের আভাস দেখা যায়নি জনগণের। হতাশা বা অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা থাকলেও তা এত বড় নয়, যে মোদির বিরুদ্ধে গোটা দেশের মানুষকে এককাট্টা করতে পারে। ফলে এই ভোটেও যে গেরুয়া শিবিরের ক্ষমতায় আসা একরকম নিশ্চিত, তেমনটাই মনে করেন ভোটকুশলী পিকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দু'নম্বরে নামবে তৃণমূল! বাংলায় পিকে-র বাণী ফলার সম্ভাবনা কতটা?

Lok Sabha Election 2024: এ রাজ্যে এক নম্বরে উঠে আসতে চলেছে বিজেপিই। শুধু বাংলায় নয়, গোটা পূর্ব ভারত ও দক্ষিণ ভারতেই চমকে দেওয়ার মতো ফল করতে চলেছে বিজেপি, তেমনই ভবিষ্যদ্বাণী প্রশান্ত কিশোরের।

পাশাপাশি বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠার কথা ছিল যাদের, সেই ইন্ডিয়া জোটকে কার্যত তেমন ভাবে ভোট ময়দানে দেখা যায়নি। জোট ইন্ডিয়া ঘোষণার পর থেকেই তেমন ভাবে কোমর বাঁধতে পারেনি যেন তাঁরা। জোটে বেশিরভাগ সিদ্ধান্তেই বেশিরভাগ সময়ে একজোট হতে পারেননি জোটসঙ্গীরা। পিকের মতে, জোট ঘোষণার কয়েক মাস ধরে তেমন কোনও বড় পদক্ষেপের কথা, এমনকী প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থীর নামটুকু পর্যন্ত ঘোষণা করতে পারেনি তারা। প্রশান্ত কিশোর জানান, বিরোধী দল যতই চেষ্টা করুক না কেন, জনসাধারণের সামনে তেমন স্পষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য মুখ তুলে ধরতে পারেনি তাঁরা। রাহুল গান্ধি এলে যে পরিস্থিতি অন্য রকম কিছু হতে পারে, তেমন কোনও আশ্বাসও কংগ্রেস বা ইন্ডিয়া জোট তুলে ধরতে পারেনি বলেই মন্তব্য করেছেন ভোটকুশলী পিকে। ফলে এই মুহূর্তে গেরুয়া শিবিরের সামনে তেমন কোনও চ্যালেঞ্জার নেই, যা ভোটের সংখ্যায় বড় কোনও পরিবর্তন আনতে পারে। জানালেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২০১৪: মোদিকে যেভাবে মসনদে বসিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর

Prashant Kishore & Narendra Modi: ৩৩ বছর বয়সে প্রশান্ত কিশোর রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগে, উত্তর-মধ্য আফ্রিকার দেশ চাড-এ কাজ করতেন।

তবে বিজেপি জয় নিয়ে প্রত্যয়ী হলেও নরেন্দ্র মোদির চারশো পেরনোর দাবিকে হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। গেরুয়া শিবির দাবি করেছে, তারা ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৭০টি আসন জিতবে, এবং এনডিএ জোট দেশে চারশোটিরও বেশি আসন পাবে। তবে এমনটা ঘটবে বলে আদৌ মনে করেন না পিকে। হ্যাঁ, বিজেপির আসন সংখ্যা বাড়তেই পারে, তবে তা কখনওই চারশো পেরোতে পারবে না। তবে মোদির তৃতীয় দফা তেমন সহজ হবে বলে মনে করছেন না প্রশান্ত কিশোর। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিক্ষোভ, কৃষক বিক্ষোভের মতো সমস্যাগুলির জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে মোদির এই পরবর্তী শাসন। যার জেরে আগের চেয়ে দুর্বল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রমাণিত হতে পারেন নরেন্দ্র মোদি। এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিতে পারছেন না প্রশান্ত কিশোর।

একই সঙ্গে পিকে এ-ও মনে করছেন, মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ৩৭০টি আসন পাওয়ার যে দাবি করেছেন, সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে, শেয়ারবাজারে তার ছাপ পড়বে বলেই মনে করছেন ভোটকুশলী। তবে দেশের দক্ষিণ ও পূর্বভাগ থেকে বিজেপির ভোটসংখ্যা বাড়বে বলেই অঙ্ক কষে বলছেন পিকে। এদিকে, ২০১৪ কিংবা ২০১৯-এর ভোটে তেলঙ্গানা, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার ও কেরলের মতো রাজ্যগুলিতে ৫০টি আসনও পায়নি গেরুয়া শিবির। সেখানে প্রশান্ত কিশোরের দাবি কতটা ফলতে চলেছে ২০২৪ লোকসভা ভোটে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞমহলের বড় অংশই। তবে ভোটের কুরুক্ষেত্রে প্রশান্ত কিশোরের কথা ফলবে না তাঁকে ভুল প্রমাণ করে অন্য কোনও সিদ্ধান্ত নেবে দেশের মানুষ, সেই ফয়সলা হবে আগামী ৪ জুনেই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।