প্রভু জগন্নাথ খোদ মোদির ভক্ত! লক্ষ লক্ষ মানুষের আবেগে কেন আঘাত বিজেপির?

Jagannath PM Modi: মোদি বারেবারে বোঝাতে চান বিজেডি-র শাসনে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরও নিরাপদ নয়। তাই গত ছ' বছর ধরে মন্দিরের রত্নভাণ্ডারের চাবি 'গায়েব'।

inscript
৩ মিনিট
প্রভু জগন্নাথ খোদ মোদির ভক্ত! লক্ষ লক্ষ মানুষের আবেগে কেন আঘাত বিজেপির?

তিনি প্রধানমন্ত্রী না সাত্ত্বিক কোনও ধর্মগুরু তা মাঝেমাঝে গুলিয়ে যা, এ সত্য। তাঁর মন্দির ভ্রমণ, প্রাণ প্রতিষ্ঠা সবটাই দেশ জানে। তিলক-গেরুয়া চন্দনে সেজে মাঝে মাঝেই তাঁকে দেখা যায় দেশের বিভিন্ন তীর্থস্থানে, গুহাতে ধ্যান করতেও দেখা যায়। নরেন্দ্র মোদির এই ধর্মপ্রাণ সত্ত্বা সকলেরই পরিচিত। কিন্তু খোদ ভগবানকে মোদির ভক্ত প্রমাণ করতে গিয়েই বিড়ম্বনা বাড়িয়েছেন দলের এক নেতা। বিজেপি নেতা এবং পুরী লোকসভা আসনের বিজেপি প্রার্থী সম্বিত পাত্র বলেছেন প্রভু জগন্নাথ হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভক্ত। স্বাভাবিকভাবেই এই বিতর্কিত মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়েছে দেশে।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন বিজু জনতা দলের প্রধান নবীন পট্টনায়েক বলেছেন, "মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথ মহাবিশ্বের প্রভু। মহাপ্রভুকে অন্য মানুষের ভক্ত বলা ভগবানের অপমান।" তিনি বলছেন, এমন মন্তব্য সারা বিশ্বের কোটি কোটি জগন্নাথ ভক্তদের এবং ওড়িশাবাসীদের বিশ্বাসকে নিচু করেছে। পরে, সম্বিত পাত্র অবশ্য বলেছেন, কথাটা নেহাতই মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন তিনি। X-এ সম্বিত পাত্র লিখেছেন, তিনি মোদির জনসভার পরে সব সংবাদ মাধ্যমেই বলেছেন, মোদিজি একজন প্রবল জগন্নাথ ভক্ত। কেবল একটি চ্যানেলে কথা বলতে গিয়ে তিনি অসাবধানবশত উল্টো কথা বলে ফেলেছেন।

নিজের এই 'স্লিপ অফ টাং’ সামলাতে গিয়ে জগন্নাথের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন সম্বিত। বলেছেন, এই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে তিন দিন উপোসও করবেন তিনি।

ପୁରୀରେ ରୋଡ୍ ସୋ'ର କିଛି ଝଲକ ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রামকৃষ্ণ মিশন সত্যিই বিজেপির আজ্ঞাবহ? সাধু বিতর্কে ভোট হারাবেন মমতা?

Mamata Banerjee Ramkrishna Mission: রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘকে আক্রমণ করার পরে বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী স্বাভাবিকভাবেই হাজির করেছেন ইমাম প্রসঙ্গ।

— Narendra Modi (@narendramodi)

সম্বিত পাত্রের এই মুখ ফসকে বেরিয়ে আসা বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে সমস্ত বিরোধী দলই নেমে পড়েছে রাজনীতির উঠোনে। লোকসভা নির্বাচনের মাঝে এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। সম্বিত পাত্রের এমন কথা 'ঈশ্বরের অপমান', বলছেন মাফলার ম্যান। কংগ্রেসও বিজেপিকে কটাক্ষ করেছে।

এইসব ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে নরেন্দ্র মোদির একটি রোড-শো। গত ১০ দিনে ২বার পুরী ভ্রমণ করেছেন মোদি। ২০ মে নির্বাচনী প্রচারে ওড়িশায় গিয়ে নবীন পট্টনায়ক এবং বিজু জনতা দলকে আক্রমণ করেছেন বারবার। জগন্নাথ মন্দিরে প্রার্থনা করে, সেখান থেকেই পুরীর রত্নভাণ্ডারের চাবি কোথায় বলে প্রশ্ন তোলেন মোদি। বারেবারে বোঝাতে চান, নবীন পট্টনায়ক এবং বিজেডি-র শাসনে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরও নিরাপদ নয়। তাই গত ছ' বছর ধরে মন্দিরের রত্নভাণ্ডারের চাবি 'গায়েব'।

Naveen Ji Namaskar!

I gave number of bytes today to multiple media channels after the massive success of Shri Narendra Modiji’s Road Show in Puri today, everywhere I mentioned that Modi ji is an ardent “Bhakt” of Shri Jagannath Mahaprabhu ..by mistake during one of the bytes I…

— Sambit Patra (Modi Ka Parivar) (@sambitswaraj)

২৫ মে পুরী লোকসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। পুরী-সহ গোটা ওড়িশার মানুষের কাছেই জগন্নাথ মন্দির এবং রত্নভাণ্ডারের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই সেই বিষয়টিকেই ভোটের ইস্যু করতে চেয়েছেন মোদি। জগন্নাথ মন্দিরের যে রত্নভাণ্ডারের কথা মোদি বলছেন, জনশ্রুতি আছে ওই রত্নভাণ্ডারে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার সমস্ত গয়না সঞ্চিত রয়েছে। বিগত কয়েক শতকে যত রাজা, মহারাজা এবং ভক্তরা মূল্যবান গয়না, রত্ন দেবতাদের উৎসর্গ করেছেন, সবই ওই রত্নভাণ্ডারে রাখা আছে। ১৯৮৫ সালের ১৪ জুলাই ওই রত্নভাণ্ডারটি শেষ বার খোলা হয়েছিল।

রত্নভাণ্ডার নিয়ে আদালতেও মামলা হয়। ২০১৮ সালে ওড়িশা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে রত্নভাণ্ডার খোলার নির্দেশ দেয় কিন্তু রত্নভাণ্ডারের চাবির কোনও হদিশ মেলেনি। সেবারও চরম বিতর্ক হয়েছিল। এবারও, নির্বাচনী আবহে বিতর্ক উস্কে দেন মোদি। ওড়িশায় বিজেপি আর বিজেডি-র জোরদার লড়াই। লোকসভা নির্বাচনে জোট করেনি দুই দলই। আগে, যৌথভাবে ৯ বছর ওড়িশায় শাসন করেছে বিজেপি ও বিজেডি। ২০০৯ সালে সেই জোট ভেঙে যায়। এবার নবীন পট্টনায়ককে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ মোদি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।