সাংসদ পদ খারিজ নিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টে মহুয়া, ১৫ পাতার আবেদনে যা যা লিখলেন?

Mahua Moitra: এবার পদ খারিজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মহুয়া। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

Sohini Das
৩ মিনিট
সাংসদ পদ খারিজ নিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টে মহুয়া, ১৫ পাতার আবেদনে যা যা লিখলেন?

সাংসদ পদ খারিজ নিয়ে বড় পদক্ষেপ কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের। এত সহজে যে লড়াইয়ের ময়দান তিনি ছাড়ছেন না, তা ফের একবার বুঝিয়ে দিলেন মহুয়া। এথিকস কমিটির সুপারিশ মেনে শুক্রবার খারিজ হয়ে গিয়েছে মহুয়ার সাংসদপদ। কার্যত মহুয়াকে আত্মপক্ষ সমর্থনে একটি কথাও বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সুপারিশ পড়ার জন্য সময় চাওয়া হলেও তৃণমূল-সহ অন্যান্য বিরোধী দলকে সেই সময়টুকু পর্যন্ত দেননি। মহুয়ার সঙ্গে যা হয়েছে, তা ঘোর অন্যায়। আর তা কোনও মতেই যে তিনি মেনে নেবেন না, তা শুক্রবারই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন মহুয়া। স্বাভাবিক ভাবেই মনে করা হচ্ছিল, এর পর আইন-আদলতের পথে হাঁটতে পারেন তিনি। হলও তেমনটাই। এবার পদ খারিজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মহুয়া। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

মনে করা হচ্ছে, শীঘ্রই শুনানির জন্য শীর্ষ আদালতে তালিকাভুক্ত হতে পারে মামলাটি। মহুয়া বিতর্কে শেষপর্যন্ত কি সুপ্রিম কোর্টেই সুবিচার পাবেন মহুয়া, তার জন্য় অপেক্ষা আরও কিছুদিনের। আদানি নিয়ে লোকসভায় প্রশ্ন করার জন্য দুবাইয়ের ব্যবসায়ী দর্শন হীরনন্দানির থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ ও দামী উপহার নেওয়ার অভিযোগ ওঠে মহুয়ার বিরুদ্ধে। বিজেপির সাংসদ নিশিকান্ত দুবে ও মহুয়ার প্রাক্তন বন্ধু ও আইনজীবী জয় অনন্ত দেহাদ্রাই-ই এ নিয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে নালিশ ঠোকেন। এর পরেই সেই ঘটনার তদন্তভার যায় লোকসভার এথিকস কমিটির কাছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্পষ্টবাদী, স্বাধীনচেতা বলেই মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কারের ছক সাজাল বিজেপি?

Mahua Moitra Expelled : ভারতীয় রাজনৈতিক জগত এই রকম একজন মহিলাকে বহিষ্কার করল কেন? তাহলে কি ভারতীয় রাজনীতিতে মহুয়ার মতো সোজাসাপ্টা কথা বলা মহিলার স্থান নেই?

গত শুক্রবার লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনের পঞ্চম দিনে স্পিকারের কাছে এই সংক্রান্ত রিপোর্টটি পেশ করে এথিকস কমিটি। তাঁরা মহুয়ার পদ খারিজের প্রস্তাবই সুপারিশ করে। স্পিকারের টেবিলে আনুষ্ঠানিক ভাবে রিপোর্টটি পেশ করেন বিজেপি সাংসদ বিনোদ সোনকর। কিন্তু অনেক আগেই এথিক্স কমিটির একাধিক সদস্য প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছিলেন, মহুয়াকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে রিপোর্টে। তারই প্রেক্ষিতে প্রশ্ন ওঠে, কী ভাবে এথিক্স কমিটি এক সাংসদকে বহিষ্কারের সুপারিশ করতে পারে? সেই এক্তিয়ার সংসদের স্বাধিকার রক্ষা কমিটি ছাড়া আর কোনও কমিটির নেই। দ্বিতীয়ত, তদন্ত রিপোর্ট গোপন থাকার কথা ছিল। কিন্তু তা আগেই কী ভাবে সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেল?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত মহুয়া মৈত্র! কেন একটি কথাও বলতে দেওয়া হলো না সাংসদকে?

Mahua Moitra expelled from Lok Sabha : এথিক্স কমিটির প্রতিবেদনকে শিরোধার্য করেই, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই বহিষ্কার করা হয় মহুয়া মৈত্রকে।

তবে এত সব কিছুর মধ্যেই মাত্র আধাঘণ্টায় মহুয়ার ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায় ধ্বনিভোটের মাধ্যমে। সাংসদ পদ থেকে বহিষ্কৃত হন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ।বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও। গত কয়েকদিনে অধিকাংশ বিরোধীদলেরই সমর্থন পেয়েছেন মহুয়া। লোকসভা থেকে বেরিয়েই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মহুয়া, যে এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়বেন তিনি। শুক্রবারের পর শনি-রবি ছিল ছুটি। আর সেই ছুটির বিরতিটুকু নিয়েই এই মামলা নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছেন মহুয়া। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। তার সঙ্গে জমা করেছেন ১৫ পাতার একটি আবদনপত্রও। যেখানে খুঁটিনাটি সমস্ত বিষয় বিস্তারিত ভাবে লিখেছেন মহুয়া। এথিক্স কমিটির এই রিপোর্ট এবং তাঁকে বহিষ্কারের প্রস্তাবকে ‘সত্যের বিকৃতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। নিশিকান্ত ও জয়ের অভিযোগের বয়ান তুলে ধরে আবেদনে মহুয়া দেখাতে চেয়েছেন, তার মধ্যে কতটা ‘পরস্পর বিরোধিতা’ রয়েছে। এথিক্স কমিটির তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মহুয়া। কী ভাবে তাঁকে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে শুনানিকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সে কথারও উল্লেখ রয়েছে মহুয়ার আবেদনে।

তৃণমূলের বহিষ্কৃত সাংসদ সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা আবেদনে এ-ও উল্লেখ করেছেন যে, কী ভাবে তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ব্যবসায়ী দর্শন হীরানন্দানির হলফনামা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে মহুয়ার তরফে। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার তথা দেশের শাসকদলের ধারাবাহিক সমালোচনা করার কারণেই তাঁকে ‘টার্গেট’ করে লোকসভা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার ঔদ্ধত্য’। যা যুক্তি, আইন, এক্তিয়ার সব কিছু লঙ্ঘন করেছে। এথিকস কমিটির ‘এক্তিয়ার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী নিজেও। তিনি সাফ জানান, এথিকস কমিটির সিদ্ধান্ত অগেভাগেই যে ভাবে ফাঁস হয়ে গিয়েছে বা প্রকাশ্যে চলে এসেছে, তা একেবারেই কাম্য নয়। ব্যপারটা সংসদের রীতিনীতিরও পরিপন্থীও বটে। তাছাড়া এথিকস কমিটি তদন্ত করে কী পেয়েছে, তাদের রিপোর্টে কী কী রয়েছে বা মহুয়া দোষী হলে কী শাস্তির সুপারিশ তারা করছে, এ সবই তো গোপন থাকার কথা। কিন্তু মহুয়ার বিরুদ্ধে ‘ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন’ অভিযোগে এথিকস কমিটির তদন্ত রিপোর্ট গোপন ছিল না।

সেই সমস্ত বিষয়গুলিকে একত্রে করে পনেরো পাতার ওই আবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের কাছে জমা দিয়েছেন মহুয়া। এবার সেই মামলা শুনানির জন্য আদৌ সুপ্রিম কোর্টে ওঠে, নাকি তার আগেই সেখান থেকেও প্রত্যাখ্যাত হতে হয় কৃষ্ণনগরের প্রাক্তন সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতি।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বরফের গভীরে নিউট্রিনোর খোঁজ: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে এবারের পদার্থবিদ্যায় নোবেল

IceCube Neutrino Observatory: অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীরে কীভাবে কাজ করে আইসকিউব টেলিস্কোপ? কীভাবে অদৃশ্য নিউট্রিনো কণার সংকেত ধরে কৃষ্ণগহ্বর, ব্ল্যাজার এবং মহাবিশ্বের গভীর রহস্য উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা?

ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে বাধা, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো রিট

INDIA bloc's march towards supreme court: সোমবার কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ইন্ডিয়া ব্লকের ‘চলো দিল্লি’ মিছিল অনুষ্ঠিত হলো। রাহুল গান্ধীর দুই পাশে ছিলেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও নেহা বোরা। মিছিলে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ডি রাজা, সুপ্রিয়া সুলে। ভগবান দাস রোডে মিছিল পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টে ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি রিট পিটিশন দাখিল হয়।