অপ্রতিরোধ্য মহুয়া! কৃষ্ণনগরে যে ভাবে মুখ থুবড়ে পড়ছে বাম ও বিজেপির কৌশল

Mahua Moitra: কৃষ্ণনগরের ভূমিকন্যা তথা সেখানকার 'রাজমাতা' অমৃতা রায়কে কার্যত বিপুল ভোটে পিছনে ফেলে দিয়েছেন মহুয়া। কার্যত সেই সংখ্যার ব্যবধান এতটাই যে, অমৃতার ফেরার পথটাও নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Sohini Das
৩ মিনিট
অপ্রতিরোধ্য মহুয়া! কৃষ্ণনগরে যে ভাবে মুখ থুবড়ে পড়ছে বাম ও বিজেপির কৌশল

তৃণমূলের বহিষ্কৃত সাংসদ মহুয়া মৈত্রের জন্য এই লোকসভা ভোট ছিল হৃত সম্মান ফিরে পাওয়ার লড়াই। টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন করার মামলায় সাংসদ পদ খোয়াতে হয়েছিল মহুয়াকে। তাতেও শান্তি মেলেনি। এরপর তার পিছনে পড়ে ইডি। বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের মামলায় বারবার তাঁকে তলব করেছে ইডি। তবে সেই সব কিছুর জবাব ভোটের ময়দানে দিয়েছেন মহুয়া। মঙ্গলবার লোকসভা ভোটের গণনাপর্ব শুরু হতে চড়চড়িয়ে বাড়তে লাগল পারদ। কৃষ্ণনগরের ভূমিকন্যা তথা সেখানকার 'রাজমাতা' অমৃতা রায়কে কার্যত বিপুল ভোটে পিছনে ফেলে দিয়েছেন মহুয়া। কার্যত সেই সংখ্যার ব্যবধান এতটাই যে, অমৃতার ফেরার পথটাও নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভোটগণনার দিন সকাল বেলা চেনা মেজাজে দেখা গেল মহুয়াকে। দলীয় কর্মীর সাইকেলের পিছনে বসে ঘুরে বেড়ালেন এলাকায় হাসিমুখে। লোকসভা ভোটের মুখে যখন বারবার ইডির ডাক পাচ্ছেন মহুয়া, বাতাসে ভাসছে তাঁর গ্রেফতারির খবরও, সে সময় কার্যত বাঘিনীর মতোই গর্জে উঠেছিলেন মহুয়ার মা। জানিয়েছিলেন, মেয়ে গ্রেফতার হলে লড়াইয়ের ব্যাটন কাঁধে তুলে নেবেন তিনি। তবে তেমন পরিস্থিতি আসেনি। নিজের লড়াই নিজেই দক্ষতার সঙ্গে লড়েছেন তৃণমূলের এই দৃপ্ত নেত্রী। স্বাভাবিক ভাবেই এই লোকসভা ভোটে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন ছিল কৃষ্ণনগর কেন্দ্রটি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভোটে মহুয়া-কাঁটা তুলতে অমৃতার পাশে খোদ মোদি, কোন পথে কৃষ্ণনগরের লড়াই?

Lok Sabha Election 2024: বিজেপি প্রার্থী অমৃতার পাশেই রয়েছে বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব। বুধবার অমৃতাকে ফোন করেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তেহট্ট, পলাশিপাড়া, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, ছাপড়া, কৃষ্ণনগর উত্তর এবং কৃষ্ণনগর দক্ষিণ— এই সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে গঠিত কৃষ্ণনগরের লোকসভা কেন্দ্রটি। ২০০৯ সাল থেকে এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস ধারাবাহিত ভাবে জিতে আসছে। ২০০৪ সালে এই কেন্দ্র শেষবার পকেটে পুরতে পেরেছিল বাম। ১৯৯৯ সালে এই কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছিল। তার আগে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্র দীর্ঘ বছর ধরে ছিল বামেদের দখলে ছিল। ধারে ও ভারে কিছুটা হলেও কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও বিজেপি ও বামের পুরনো সংগঠন আছে কৃষ্ণনগর। এই লোকসভা ভোটে বিজেপির সবচেয়ে বড় তুরুপের তাস ছিল সেখানকার রাজমাতা অমৃতা রায়কে দাঁড় করানো। বিজেপি নেতৃত্ব ভেবেছিল, ভূমিকন্যার সমীকরণে হয়তো খানিকটা হলেও সুবিধা করতে পারবে কৃষ্ণনগরে গেরুয়া শিবির। খোদ প্রধানমন্ত্রীর ভোট এসেছিল অমৃতার কাছে। মিলেছিল পাশে থাকার বার্তা। এমনকী মহুয়াকে পথ থেকে সরাতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে বিজেপি নেতৃত্ব, তেমন ভরসাও এসেছিল শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মেয়ে গ্রেফতার হলে লড়বেন তিনি! মহুয়া মৈত্রকে অভয়বার্তা 'শেরনি' মায়ের

Mahua Moitra: সেই আশঙ্কার মধ্যেই মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন মহুয়া মৈত্রের মা। আর্থিক তছরুপ বিরোধী আইনের আওতাধীন মামলায় মহুয়ার নাম জড়াতেই মেয়েকে হোয়াটসঅ্যাপে অভয়বার্তা পাঠালেন মা মঞ্জু মিত্র।

তবে সেসব কিছু করেই ঠেকানো যায়নি মহুয়াকে। সংসদে প্রতিটি অপমান, হেনস্থার হিসেব তিনি তুলে নিয়েছেন ভোটবাক্সে। দুপুর একটা পর্যন্ত মহুয়া মৈত্র কৃষ্ণনগরে এগিয়ে রয়েছেন প্রায় ৬৫ হাজার ২৪৫টি ভোটে। যা দেখে শুনে বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এই ব্যবধান অতিক্রম করা সহজ হবে না অমৃতার পক্ষে। এদিকে, কৃষ্ণনগরে বামেরা প্রার্থী করেছিল সেখানকার প্রাক্তন বিধায়ক এস এম সাদিকে। বোঝাই যায়, সেখানকার সংখ্যালঘু ভোটের কথা ভেবেই প্রার্থী নির্বাচন করেছিল সিপিএম। অনেকেই মনে করেছিল, সাদিকে দাঁড় করানো সংখ্যালঘু ভোট পাওয়ার ব্যাপারে তৃণমূলকে কিছুটা হলেও চাপে রাখবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন হল না মোটেও। ভুললে চলবে না, গত লোকসভা ভোটে সংখ্যালঘু ভোটই আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল মহুয়ার জন্য। সেই ভোটে ভাগ বসানোর যতই চেষ্টা করুক বামেরা, তা আদতে যে হয়নি, তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে মঙ্গলবার লোকসভা ভোটের গণনা শুরু হতেই।

কার্যত সমস্ত হিসেবনিকেশ গুলিয়ে দিয়েছেন মহুয়া। বাম-বিজেপির সমস্ত পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ার মুখে কৃষ্ণনগরে। সংসদে যে ভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল তৃণমূল সাংসদকে, তার সব হিসেব যেন সুদে আসলে ভোট বাক্সে ফিরিয়ে দিয়েছেন কৃষ্ণনগরের মানুষ। শেষপর্যন্ত কী হয় তা জানতে অবশ্য আরও কিছুক্ষণ সময় ধৈর্য ধরতে হবে। তবে ওয়াকিবহালের মত, মহুয়ার জয় এখন সময়ের অপেক্ষা কেবল।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজেদের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল

Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।