এমন অবিবেচক মেয়েকেই চেয়েছিল বাংলা?

Arka Deb
৫ মিনিট
এমন অবিবেচক মেয়েকেই চেয়েছিল বাংলা?

"শুনেছি মেয়েটার অ্যাফেয়ার ছিল। একে কি ধর্ষণ বলবেন?" রাজ্যের সংবাদ-সচেতন মানুষ টিভি-প্রিন্ট-ডিজিটাল মিডিয়ার কল্যাণে জেনে গিয়েছেন হাঁসখালির ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে এই উবাচ কার। তাঁকেই বছরখানেক আগে বিপুল ভোটে জিতিয়ে আনা হয়েছিল। বাংলার প্রতিটি বুথে ভোট হয়েছে তাঁর ভাবমূর্তিকে সামনে রেখে। তিনি 'নিজের মেয়ে' এই ধ্বনি অনুরণিত হয়েছে এ-রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠের মুখে। 'নিজের মেয়ে' এই শব্দটির মধ্যে নানাবিধ প্রত্যয় আছে। একদিকে বহিরাগতর হাতে কৃষ্টি-সংস্কৃতি তুলে না দেওয়ার শপথ আছে, অন্যদিকে ২৮টি রাজ্যের মধ্যে অনন্য নজির সৃষ্টি করে প্রশাসক হিসেবে একজন মহিলাকে বেছে নেওয়ার বিবেচনাও আছে।

পশ্চিমবঙ্গের জনগণের একটা বড় অংশের তাঁর কাছে প্রাথমিক প্রত্যাশা ছিল, একইরকম বিবেচনার বোধ। কিন্তু তিনি ক্ষমতার স্তম্ভে তৃতীয়বার আরোহণ করেই প্রমাণ করলেন, রাজ্যবাসীর যাবতীয় প্রত্যাশা মিথ্যে। সবচেয়ে বড় সত্য, শাসকের অসংবেদনশীলতা, অবিবেচনা, অতি অশ্লীল কুকথার বহমানতা।

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাংস্কৃতিক গতায়াত ছিল। প্রেসিডেন্সি কলেজের বাংলার ছাত্র বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নিরন্তর সাহিত্যচর্চায় মজে থেকেছেন। অনুবাদকর্মে নিয়োজিত থেকেছেন, নন্দনে বিকেল কাটিয়েছেন। বইমেলার ময়দানে গুন্টার গ্রাসের সঙ্গে খোশগল্প জুড়ে দিয়েছেন। তাঁর সাংস্কৃতিক পুঁজি ছিল পরিবারসূত্রে অর্জিত। সেই মূলধনকেই তিনি সংস্কৃতির নানা শাখায় বিনিয়োগ করেছেন। তাঁকে গদিচ্যুত করে ক্ষমতায় আসা তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের এখনকার প্রশাসনিক প্রধানের সেই পেডিগ্রি ছিল না। রাজ্যের মানুষ তাঁর থেকে সম্ভবত এমন কোনো প্রত্যাশাও রাখেনি। তারা একটা দীর্ঘ অরাজক পরিস্থিতি থেকে ক্রমমুক্তির পথ খুঁজছিল। কিন্তু সাংস্কৃতিক পুঁজির অভাবটাকে পুষিয়ে দিতে হবে, এই বোধটা সম্ভবত মমতার পিছু ছাড়েনি। ফলে ক্রমেই যে মানুষটি উদ্ভাসিত হল, তিনি কথায় কথায় সস্তা ছড়া কাটেন, সাংস্কৃতিক নানা ক্ষেত্রে নিজেকে কোনও না কোনও ভাবে গুঁজে দেন। মাঝে মাঝেই এমন 'ননসেন্স' শব্দচয়ন করেন, যা মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শুনতে কোনও সুস্থ মানুষই চান না। তাঁর উত্তরণের পথকে সম্মান না করে উপায় নেই। কিন্তু তাঁর সার্বিক চলন-বলনকে মান্যতা দেওয়ার দায় নিয়েছেন যাঁরা, তাঁরা নিরন্তর বলে এসেছেন, এটাই নিম্নবর্গের ভাষা। এই নির্ঘোষ খুবই ভয়াবহ। নিম্নবর্গ মানেই চটুল সস্তা কথা, 'বিলো দ্য বেল্ট' আক্রমণ, অসংবেদনশীলতা- এমন প্রকরণ নির্মাণ যে সুস্থ সমাজের পক্ষে কত বড় অন্তরায়, তা কি তাঁরা ভেবেছেন? ভদ্রবিত্তকে আক্রমণের অছিলায় দুবৃত্তের ভাষাকে নীচুতলার ভাষা বলে দাগিয়ে দেওয়া আসলে অসংবেদন এবং অপরাধপ্রবণতাকেই প্রশ্রয় দেওয়া, একথা তাঁরা বোঝেননি বা বুঝতে চাননি বলেই সুদে-মূলে বেড়েছে কু-কথা, প্রলাপ, দম্ভ। ভেঙেছে একের পর এক সীমা, বেএক্তিয়ার কথা বলা হয়ে গিয়েছে অবলীলায়। আর শেষমেশ মুখোশ খুলে যে মুখ বেরিয়ে পড়েছে, তাকে ঢাকা যাবে না কোনও চাদরে।

মুখ্যমন্ত্রী একদা আইন পড়েছেন বলে শোনা যায়। সেই ব্যক্তিই ১৮ বছরের কম বয়সি একটি মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় 'লাভ অ্যাফেয়ার' জাতীয় শব্দবন্ধ এনে বুঝিয়ে দিলেন, পকসো আইন সম্পর্কে তাঁর ধারণাই নেই। বুঝিয়ে দিলেন ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স, অহরহ হিংসা-নির্যাতনের দিনলিপি সম্পর্কে তাঁর কোনও বোঝাপড়াই নেই। মনে তাই প্রশ্ন জাগে, বাংলা কি এমন অবিবেচক মেয়েকে চেয়েছিল, যে মেয়ে বোঝেন না, ভালবাসার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হলেও ধর্ষণ ধর্ষণই! এমনকী নাবালিকার সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপন বিষয়টিও আইনগত ভাবে অপরাধ। মুখ্যমন্ত্রী যে স্রেফ ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টিকেই লঘু করে দিলেন তাই-ই নয়। ধর্ষণে অভিযুক্তও পক্ষান্তরে কিছুটা সুবিধে পেয়ে গেল। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য অবশ্য আমাদের সমাজের একাংশেরই ঝাঁকিদর্শন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তো স্রেফ একজন আমআদমি নন, রাজ্যের অভিভাবক হিসেবে তাঁর মন্তব্য আর পাঁচজনের চেয়ে বেশি ওজনদার। ফলে তাঁর দায়ও অনেক বেশি।

ধর্ষিতার প্রতি শাসকের উদাসীনতা এ-রাজ্য এই প্রথম দেখছে না। ১৯৯০ সালের ৩০ মে গোসাবা রাঙাবেড়িয়া থেকে ফেরার পথে বানতলা রোডে একদল দুষ্কৃতীর হাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দুই মহিলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ও একজন ইউনিসেফের আধিকারিক ধর্ষিতা হন। দুষ্কৃতীদের বাধা দিতে গিয়ে একজন আধিকারিক ও তাঁদের গাড়ির চালক নিহত হন। বিরোধী নেত্রী মমতা জোরালো প্রতিবাদ শানিয়েছিলেন সেদিন। ১৯৯৬ সালে এক ধর্ষিতা মূক-বধির কিশোরীকে নিয়ে রাইটার্স বিল্ডিংসে বিচার চাইতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ তাঁর চুলের মুঠি ধরে, লাথি মেরে, টেনেহিঁচড়ে বের করে দিয়েছিল৷ ২০০৩ সালে ধানতলায় মোট ৬ জনকে ধর্ষণ করা হয়। '৯০ সালে বানতলার সেই ঘটনার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে তিনি সপাটে বলেন, 'এরকম তো কত হয়েই থাকে!'

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি বাড়তি প্রত্যাশার কারণ এই যে, তিনি ক্ষমতায় এসেছেন এই সমস্ত ঘটনার প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ, ধর্ষণের হিংসার বিপ্রতীপ অবস্থান তাঁর ভাবমূর্তি গড়ার পক্ষে সহায়ক হয়েছে। মহিলারাও তাঁকে দীর্ঘ এই লড়াইয়ের কারণে লিঙ্গ-সংবেদনশীল, লিঙ্গ নিরপেক্ষ ভেবেছেন। অন্য দিকে তিনিই কন্যাশ্রী-র মতো প্রকল্পের জন্মদাত্রী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো পরিকল্পনার মাধ্যমে বহু মহিলার সুরাহার কথা ভেবেছেন। এই ধরনের প্রকল্প পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। কালিমা ঢাকা পড়ে অনুরাগ তৈরি হয়েছে। চড়চড় করে চড়েছে প্রত্যাশার পারদ। শাসকের কল্পতরু ভাবটা যে ভোটমুখী, আসলে অভিভাবকের জোব্বা পরা সব শাসকেরই মুখ একরকম, হিংস্র, অনুভূতিহীন- তা বুঝতে বোধহয় দেরি হয়ে গেল এই জন্যই। বোধসম্পন্ন, শিক্ষিত সুস্থ রুচির প্রতিটি পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্যই এই দিনটি গ্লানির, লজ্জার।

মমতা অবশ্য এ কাণ্ড এই তৃতীয় দফাতেই প্রথম বার ঘটালেন, এমন নয়। অবধারিতভাবে মনে আসছে সুজেটের কথা। প্রথমবারের জন্য সরকার গড়েছেন তখন মমতা। বামেদের সরিয়ে ক্ষমতা দখলের ১১ মাসের মাথায়, ২০১২-র সেই রাতে পার্ক স্ট্রিটের একটি হোটেলের সামনে থেকে সুজেটকে গাড়িতে তোলে পাঁচ যুবক। চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ করে তাঁকে এক্সাইড মোড়ের কাছে ফেলে দেওয়া হয়। তিনদিন পরে পার্ক স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানালেও পুলিশ প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। পরে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতেই নড়েচড়ে বসে লালবাজারের একাংশ।

মুখ্যমন্ত্রী একে ‘সাজানো ঘটনা’ বলেছিলেন। রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই ঘটনাটি সাজানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার প্রধান তদন্তকারী অফিসার দময়ন্তী সেনকে সেসময় বদলি করে দেওয়া হয়। মমতা জমানায় তেমন কোনো গুরুদায়িত্বই পাননি এই কৃতী অফিসার। পরিহাস এমনই, সেই দময়ন্তী সেনকেই রাজ্যের সাম্প্রতিক চারটি ধর্ষণ-কাণ্ডের তদন্তভার দিতে চাইছে হাই কোর্ট।

এই দাঁত নখ বের করা আচরণে সাধারণ মানুষ দুঃখিত হয়েছে। কিন্তু ভোটবাক্সে তা জানান দেওয়ার কোনও রাস্তা ছিল না। রাস্তা আজও নেই। রাজ্যের একটা বড় অংশের মানুষ ভেবেছে, মমতা নির্বিকল্প। সেই কারণেই তিনি ক্ষমতায়। ক্ষমতাবান কিছু শিখবে না, মাথা নোয়াবে না, এমনটাই দস্তুর। ফলে এগারো বছর ক্ষমতায় থাকা মমতা অসংবেদনশীলতাতেও নির্বিকল্পই রয়ে গেলেন।

আমরা, পশ্চিমবঙ্গের আমজনতা তাঁর সমস্ত অবিবেচনার পরই বুদ্ধিজীবীরা কোথায়- এ প্রশ্নে কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন করি। লিঙ্গ-সচেতনতার পরিসর স্রেফ মগজ-কলম বন্ধক রাখা বুদ্ধিজীবীদের ওপর নির্ভর করে না। ভোট দেওয়া না-দেওয়ার আগে-পরেও নাগরিক সমাজের হাতে প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার থাকে, আমি তোমার অসংবেদনশীল আচরণকে ধিক্কার জানাই, একথা জানানোর নানা পথ খোলা থাকে, পথ খোলা থাকে প্রশ্ন করার। সচেতন মানুষ সেই অধিকারই প্রয়োগ করুন।

লিখেছেন
Arka Deb
Arka Deb
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।