জলে নামতেই গলে পাঁক সারা দেহ! জানেন, কেন উষ্ণ প্রস্রবণে স্নান এতখানি ভয়াবহ?

Yellowstone Hot Spring Mystery: রোজের চা বা কফিতে যেভাবে চিনি গুলে মিশে যায়, মানুষের হাড় চামড়া, পোশাক সহ গিলে খেয়ে নিতে পারে এই উষ্ণ প্রস্রবণগুলি।

inscript
৩ মিনিট
জলে নামতেই গলে পাঁক সারা দেহ! জানেন, কেন উষ্ণ প্রস্রবণে স্নান এতখানি ভয়াবহ?

উষ্ণ প্রস্রবণ বিষয়টি বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্নভাবে আকর্ষণের। ভারতের মতো দেশে উষ্ণ প্রস্রবণকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ধর্মের সঙ্গে, স্বাভাবিকভাবেই। নানা স্থানেই মানুষের বিশ্বাস, উষ্ণ প্রস্রবণ রোগ সারানোর অব্যর্থ দাওয়াই। কোথাও কোথাও আবার এই উষ্ণ প্রস্রবণ ভৌগলিক রহস্যের গর্ভাধার। পর্যটকদের আকর্ষণ রহস্যকে ঘিরেও, ধর্মকে ঘিরেও। ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কের কথা অনেকেরই শোনা। কিন্তু এই পার্কের নীচে যে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যাগমা চেম্বারগুলির মধ্যে একটি রয়েছে, তা অনেকেই জানেন না। এই ম্যাগমা চেম্বারের কারণে পার্কের চারপাশে জলাধারের জল অবিশ্বাস্যভাবে গরম। শুধু তাই নয়, এই জলে অম্লতার পরিমাণও ব্যাপক বেশি। আরও রহস্য বাড়িয়েছে এক সাম্প্রতিক মৃত্যু। এই পার্কের এক উষ্ণ প্রস্রবণে স্নানে নেমে গলে গিয়েছেন এক ব্যক্তি! হ্যাঁ, গলে গিয়েছেন। সামান্য অবশেষটুকুও মেলেনি।

ইয়েলোস্টোনের এই প্রস্রবণ মানুষকে একেবারে শেষ করে দিতে বিন্দুমাত্র সময় নেয় না। সম্প্রতি বছর তেইশের এক ব্যক্তি পার্কের এমনই একটি গরম জলের প্রস্রবণে নেমেছিলেন। মারা তো যান অবশ্যই, কিন্তু দেহাংশ? এমন ভয়াবহ মৃত্যু কল্পনাও করা যায় না। স্নানই করতে চেয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। যেমন আরও অনেকেই চান এই উষ্ণ প্রস্রবণে। জল আসলে কতটা গরম, নামলেই শরীর পুড়ে যাবে কিনা তা যাচাই করতে প্রথমে নিজের তর্জনীটি জলে ডুবিয়েছিলেন ওই যুবক। জলে আঙুল ডোবাতে গিয়ে হঠাৎ পিছলে গিয়ে একেবারে জলের মধ্যে পড়ে যান তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পিরানহা নয়, বিশ্বের প্রাচীনতম হ্রদে সত্যিই বাস 'মানুষখেকো' মাছের?

Lake Baikal Cannibal Fish: মাছের স্বচ্ছ দেহ, আঁশ নেই একটিও, লম্বায় প্রায় ২১ সেন্টিমিটার বা ৮.৩ ইঞ্চির কাছাকাছি।

মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল ওই যুবককে। জলের মধ্যেই ভেসে বেড়াচ্ছিল তাঁর দেহ কিন্তু কিছুতেই দেহ টেনে বের করা যাচ্ছিল না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বহু চেষ্টা করেও ওই যুবকের ভেসে থাকা দেহ টেনে বের করার জন্য তাঁর ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেননি। এরই মধ্যে ওঠে প্রবল ঝড়, সঙ্গে বজ্রপাত। সেই রাতে আর কোনওভাবেই ঝড়জল মাথায় নিয়ে যুবকের দেহ উদ্ধার সম্ভব হয়নি। পরের দিন ফিরে এসে কর্মকর্তারা দেখতে পান, ওই যুবকের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই! মানিব্যাগ এবং পায়ের চটি ছাড়া সামান্য হাড়গোড়ের কণাটুকুও অবশিষ্ট নেই যুবকের দেহের।

ডেপুটি চিফ রেঞ্জার লরেন্ট ভেরেস পরে জানিয়েছিলেন, সেদিন জল বিশেষভাবে গরম এবং অম্লীয় ছিল। খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই গরম অ্যাসিডিক জল সারা শরীর দ্রবীভূত করে ফেলে। ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কের এই জিওথার্মাল পুকুর, হ্রদ এবং প্রস্রবণগুলির গড় তাপমাত্রা প্রায় ৯৩° সেলসিয়াস (১৯৯° ফারেনহাইট)। কেবল জলের উপরিপৃষ্ঠেই এই তাপমাত্রা দেখা যায়, ভেতরে যত যাওয়া যাবে ততই বেশি তাপমাত্রা বাড়বে। এই কারণেই বেশিরভাগ উষ্ণ প্রস্রবণের চারপাশে প্রবল সতর্কতার বার্তা লেখা থাকে। অনেক প্রস্রবণ ঘিরে দেওয়াও থাকে যাতে কেউ জলের কাছকাছিই না যেতে পারেন।

এই প্রায় ফুটন্ত জলের আধারগুলি কেবলমাত্র আর্কিয়া নামে পরিচিত একটি বিশেষ জীবেরই বাসযোগ্য। মানুষ তো আর মাইক্রোস্কোপিক, এক্সট্রিমোফিলিক প্রজাতির কোনও প্রাণী বা জীব নয়। ফলে এই জাতীয় উষ্ণ প্রস্রবণের ধারেকাছে যাওয়া প্রবল বিপজ্জনক। রাতারাতি দেহ গলে চলে যাবে জলের গভীরে। রোজের চা বা কফিতে যেভাবে চিনি গুলে মিশে যায়, মানুষের হাড় চামড়া, পোশাক সহ গিলে খেয়ে নিতে পারে এই উষ্ণ প্রস্রবণগুলি।

১৮৯০ সাল থেকে ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে এবং এর আশেপাশে উষ্ণ প্রস্রবণে কমপক্ষে ২২ জন মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। ইয়েলোস্টোনের জল এত বিপজ্জনক কারণ এই জায়গাটি ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির উপরে অবস্থিত। মানে এর পৃষ্ঠের ঠিক নীচেই ম্যাগমার বুদবুদ রয়েছে। এই উত্তপ্ত লাভাই এলাকার পুকুর এবং উষ্ণ প্রস্রবণগুলিকে এতখানি গরম করে তুলেছে। পার্কের সমস্ত গিজারগুলির মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ হচ্ছে নরিস গিজার। এটি ভূগর্ভস্থ আগ্নেয়গিরির তিনটি প্রধান চ্যুতি বা ফাটলের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এখানকার জলের উষ্ণতা ১২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। পার্কের বাকি জলের থেকে এই প্রস্রবণের জল অত্যন্ত অম্লীয়। এই বিষাক্ত জলে বিশেষ এক ব্যাকটেরিয়া বেড়ে ওঠে যার কারণেই জলের রংও এমন বিচিত্র।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?