দশমীর সঙ্গে কেন জুড়ে রয়েছে 'বিজয়া'? বিজয়া দশমীর অজানা সব কাহিনী

Vijayadashami: যুদ্ধের পর কার সিঁথিতে সিঁদুর থাকবে আর কার সিঁথিতে সিঁদুর থাকবে না তার নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। সেই কারণেই এই বিশেষ দিনে ক্ষত্রিয়দের স্ত্রীরা নিজেদের মধ্যে সিঁদুর খেলায় মেতে উঠতেন।

Arunava Nag Roy
৪ মিনিট
দশমীর সঙ্গে কেন জুড়ে রয়েছে 'বিজয়া'? বিজয়া দশমীর অজানা সব কাহিনী

আজ দশমী। সকলের মনেই বিষাদের ছায়া। গত এক মাস ধরে যে উত্‍সবের প্রস্তুতি চলছিল, তার অবসান আজ। ‘পুজো আসছে’ এই অপেক্ষাটাই সেরা, পুজো এলেই তা কেমন চোখের নিমেষে চলে যায়। বাপের বাড়ি থেকে আজ শ্বশুর বাড়িতে ফিরছেন উমা। নিয়ম মেনে মহালয়া থেকে শুরু করে মহাষষ্ঠীতে বোধনের পর মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী পেরিয়ে আজ দুর্গাপুজো পদার্পণ করল মহাদশমী তিথিতে। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের সমাপ্তি এই দিনেই হয়। দশমী মানেই দুর্গার কৈলাসে ফেরার পালা। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের দশমী তিথিতে দেবী দুর্গা বা উমা শ্বশুরবাড়ি কৈলাসে পাড়ি দেন।

কিন্তু হাজারো মন খারাপের মাঝেও হাসিমুখে সিঁদুর খেলা ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে মহা আড়ম্বরে দুর্গাকে শ্বশুরবাড়ি পাঠাতে ব্যস্ত আপামর বাঙালি। মায়ের আগমনের জন্যে ফের একবছরের অপেক্ষা। স্বভাবতই মন খারাপ সকলের। সকলেই জানি, দুর্গাপুজোর এই শেষ দিনটিকে দশমী বা বিজয়া দশমী বলা হয়ে থাকে। কিন্তু দশমীকে ‘বিজয়া’ দশমী কেন বলা হয়? আজ সেটিই জানার চেষ্টা করব আমরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৩৭৯ দিনের অপেক্ষা! ২০২৩ সালের দুর্গাপুজো থেকে দীপাবলী এক নজরে

2023 Durga Puja Calendar: ২০২৩ সালে পঞ্চমী পড়েছে ১৯ অক্টোবর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার। দুর্গার বোধন হবে ২০ অক্টোবর শুক্রবার, ষষ্ঠীতে। সপ্তমী ও অষ্টমী একেবারে উইকএন্ডে

দশমীর আগে যে ‘বিজয়া’ শব্দটির বসানো হয় সেই শব্দটির সম্পর্ক রয়েছে বিজয়ের সঙ্গে– পাপের উপর পুণ্যের বিজয়, অধর্মের উপর ধর্মের বিজয়, অসত্যের উপর সত্যের বিজয়, অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির বিজয়। তবে এর প্রকৃত তাৎপর্য জানতে গেলে জানতে হবে বেশ কয়েকটি পৌরাণিক কাহিনি। পুরাণে কথিত আছে, মহিষাসুর নামক এক অসুর সুদীর্ঘকাল ব্রহ্মার আরাধনা করেন। অবশেষে ভক্তের ভক্তিতে তুষ্ট হয়ে তাঁকে দেখা দেন ব্রহ্মা। ব্রহ্মা তাঁকে বর দিয়েছিলেন যে, কোনও পুরুষ তাঁকে হত্যা করতে পারবেন না। এরপর প্রবল ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠেন মহিষাসুর। ক্রমে স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল দখল করেন তিনি। এমনকি দেবরাজ ইন্দ্রকেও স্বর্গচ্যুত করেন মহিষাসুর। তবে মহিষাসুর ভুলে গিয়েছিলেন যে, তাঁকে কোনও নারী বধ করতে পারবে না, এমন বর দেওয়া হয়নি। এবার মহিষাসুরকে পরাস্ত করতে একসঙ্গে মিলিত হলেন সব দেবতা। তাঁদের সম্মীলিত শক্তি থেকে আবির্ভূত হলেন দেবী দুর্গা। পুরাণে মহিষাসুর বধ কাহিনিতে লেখা রয়েছে, মহিষাসুরের সঙ্গে ৯ দিন ৯ রাত্রি যুদ্ধ করার পর দশম দিনে তাঁর বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন দুর্গা। অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির এই জয়লাভকেই 'বিজয়া' বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আবার পুরাণে এও উল্লিখিত আছে যে, দেবী আবির্ভূত হন আশ্বিন মাসের কৃষ্ণাচতুর্দশীতে। মহিষাসুর বধ করেন শুক্লা দশমীতে। তাই দশমীতে এই বিজয়কেই চিহ্নিত করে বলা হয় ‘বিজয়া দশমী’।

বাঙালিরা যখন দুর্গাপুজো পালন করেন, তখন অনুরূপভাবে ভারতের কোথাও কোথাও পালিত হয় দশেরা। দশেরা কোথাও কোথাও পরিচিত দশহরা বা দশাইন নামে। নবরাত্রির নবম দিন অর্থাৎ নবমীর পরদিন দশমীতে পালিত হয় দশহরা বা দশেরা। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভারতের অনেক জায়গায় একে বিজয়া দশমী বলা হয়। মনে করা হয়, শ্রীরামচন্দ্র এই দিনে লঙ্কার রাজা দশানন রাবণকে হারিয়ে তাঁকে বধ করেছিলেন। দশ মানে দশানন রাবণ, আর হরা মানে হার বা পরাজয়। সুতরাং দশহরা বা দশেরা মানে হল দশাননের পরাজয়। দশেরায় ভারতের বিভিন্ন জায়গায় রাবণের পুতুল দহনের মাধ্যমে এই দিন পালন করা হয়। ভারতীয় সংস্কৃতির এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসব দশহরা বা দশেরা আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের দশমী তিথিতে উদযাপিত হয়। কালিদাসের রঘুবংশ, তুলসীদাসের রামচরিত মানস কিংবা সমসাময়িক বিভিন্ন পুঁথিতে বা সাহিত্যে উল্লেখ করা রয়েছে যে রাবণ বধের পর আশ্বিন মাসের ৩০ তম দিনে অযোধ্যা প্রত্যাবর্তন করেন রাম। রাবণ বধ এবং রামচন্দ্রের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে যথাক্রমে দশেরা ও দীপাবলি পালন করা হয়ে থাকে দেশজুড়ে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কীভাবে বাংলায় এল জনপ্রিয় ক্যাপ বন্দুক! অবাক করবে দুর্গাপুজোর এই খেলনার ইতিহাস

Cap Gun Nostalgia: সিভিল ওয়ারের পরবর্তীতে ১৯০০ সালের সময়কাল থেকে শুরু হয় সুপারহিরো সিনেমার চল। সেই সিনেমায় ব্যবহার করা হয় এই সমস্ত খেলনা বন্দুকের।

বাংলায় যেরকম সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো ঠিক তেমনই কর্ণাটকের মাইসোরের সবচেয়ে বড় উৎসব দশেরা। দশেরার সময় দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ আসেন মাইসোরে। সেই সময় সারা শহর জুড়ে চারিদিকে দেখা যায় আলোর রোশনাই। পাশাপাশি রঙ-বেরঙের রাজকীয় সাজে সেজে ওঠে মাইসোরের রাজবাড়ি। দশেরা উপলক্ষ্যে পুরো এক মাস মাইসোর প্যালেসকে লক্ষাধিক আলো দিয়ে সাজানো হয়। এর পাশাপাশি হাতিদের সুন্দর করে সাজিয়ে মাইসোর প্যালেস থেকে এক বিরাট শোভাযাত্রা বের করা হয়। মাইসোরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে ওয়াদিয়ার রাজাদের হাতে গড়া একাধিক দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাইসোর রাজপ্রাসাদ। প্রতিবছর মাইসোর রাজবংশের রাজদম্পতি চামুণ্ডি পাহাড়ের চামুণ্ডা মন্দিরে পুজো দেন। এর পরেই শহর জুড়ে শুরু হয় উৎসব। কথিত আছে, এই পাহাড়েই চামুণ্ডা দেবী মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। সেহেতু তিনিই রাজপরিবারের কুলদেবী।

বিজয়া দশমী হোক বা দশেরা, এর পৌরাণিক তাৎপর্য মানুষকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। বিজয়া দশমী পর্যন্ত চলে দুর্গার আরাধনা। মনে করা হয়, এই দিনেই দুর্গা বধ করেছিলেন মহিষাসুরকে এবং শ্রীরামচন্দ্র বধ করেছিলেন রাবণকে। এই দুই দোর্দণ্ডপ্রতাপ অসুর পরাজিত হয়েছিল এই দিনে, অর্থাৎ দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন। সত্যের জয়, মন্দের উপর ভালোর জয় ইত্যাদি নানাভাবেই বিজয়া দশমী কিংবা দশেরা দিনটি পালিত হয় সারা ভারতে। বিজয়া দশমীর বিশেষ তাৎপর্য উল্লেখিত আছে মহাভারতেও। মহাভারতে বলা হয়েছে ১২ বছর বনবাস এবং ১ বছর অজ্ঞাতবাসের পর আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমীতে পাণ্ডবরা শমী বৃক্ষে লুকিয়ে রাখা তাঁদের অস্ত্র পুনরায় উদ্ধার করেন এবং ছদ্মবেশ মুক্ত হয়ে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় ঘোষণা করেন। এর পরেই হয় সেই বিরাটের যুদ্ধ। আমরা সকলেই জানি সেই যুদ্ধে কীভাবে বৃহন্নলারূপী অর্জুন একা হাতে কুপোকাত করে দিয়েছিলেন কৌরব মহারথীদের।

তবে ঐতিহাসিকভাবেও দশেরা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ঐতিহাসিকরা মনে করেন আগেকার দিনে ক্ষত্রিয়রা বিজয়া দশমীর দিন নিজেদের অস্ত্রের পুজো করতেন। তারপর দেবীর আশীর্বাদ নিয়ে তাঁরা যুদ্ধে যেতেন। যুদ্ধ যখন হবে তখন প্রাণহানি অবশ্যম্ভাবী। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন যুদ্ধ বিরল যেখানে কোনও প্রাণহানি হয়নি। সুতরাং যুদ্ধের পর কার সিঁথিতে সিঁদুর থাকবে আর কার সিঁথিতে সিঁদুর থাকবে না তার নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। সেই কারণেই এই বিশেষ দিনে ক্ষত্রিয়দের স্ত্রীরা নিজেদের মধ্যে সিঁদুর খেলায় মেতে উঠতেন। বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলার মাধ্যমে স্ত্রীরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করতেন যেন তাঁদের সিঁথির সিঁদুর অক্ষয় থাকে। আবার অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, বিজয়া দশমীর আসল নাম ছিল অশোক বিজয়া দশমী। কলিঙ্গ যুদ্ধে জয়ের পর ১০ দিন ধরে মৌর্য সম্রাট অশোক বিজয়োৎসব পালন করেছিলেন, সেটিই ‘অশোক বিজয়া দশমী’। যেহেতু শুক্লা দশমীতেই সম্রাট অশোক বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন তাই বৌদ্ধদের কাছেও এই বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

তবে পৌরাণিক এবং ঐতিহাসিক কারণে বিজয়া দশমী যতই আনন্দের হোক না কেন, আপামর বাঙালির কাছে তা দুঃখের। আজ দুর্গা ফিরে যাচ্ছেন কৈলাসে, আসবেন আবার এক বছর পর। ফের এক বছরের অপেক্ষা।

লিখেছেন
Arunava Nag Roy
Arunava Nag Roy
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।