আসছে বাজেট, নির্মলার থেকে কী কী চাইছেন মধ্যবিত্ত?

Income Tax Budget 2024 Expectations: ২০২৪ সালের পূর্ণ বাজেট ঘোষণা হবে আগামী ২৩ জুলাই, মঙ্গলবার। সেই বাজেটে নয়া সরকারের কাছ থেকে মধ্যবিত্তদের অনেক আশা।

Sohini Das
৩ মিনিট
আসছে বাজেট, নির্মলার থেকে কী কী চাইছেন মধ্যবিত্ত?

ফি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিনেই বাজেট ঘোষণা করে কেন্দ্র সরকার। ২০২৪ সালেও সেই প্রথার অন্যথা হয়নি। কিন্তু ২০২৪ সাল ছিল অন্য বছরের চেয়ে আলাদা। দেশ ততক্ষণে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দেশের ১৮তম লোকসভা নির্বাচনে। দেশবাসীর আশা ছিল, ভোটমুখী বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য অনেক ঘোষণাই থাকবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেনি তেমন কিছুই। ভোটমুখী বাজেটে তেমন বড় কোনও ঘোষণাই করেননি অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। বরং জানিয়ে দেন, ভোটের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরেই বাজেট সামনে আনবে বিজেপি সরকার। ভোটের আগে ঠিক কতটা আত্মবিশ্বাসী গেরুয়া শিবির, তা বোঝাতেই বিজেপির এমন পদক্ষেপ বলে মনে করেছিলেন অনেকে।

ভোট মিটে গিয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও শরিকদের সাহায্যে কুর্সি দখল করে তৃতীয় বার সরকার গড়েছে বিজেপি। আরও একবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর পদে নির্মলা সীতারমন। আগামী ২৩ জুলাই নয়া সরকারের নতুন বাজেট ঘোষণা। এই নিয়ে সপ্তমবার অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট ঘোষণা করবেন নির্মলা। এর আগে মোরারজি দেশাইয়ের পর পর ৬টি বাজেট ঘোষণার রেকর্ড ছিল। সেই রেকর্ডকে ভেঙে ফেলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। মোদি ৩.O জমানার প্রথম পূর্ণ বাজেট হতে চলেছে এটি। ফেব্রুয়ারিতে যে সংক্ষীপ্ত বাজেট আনা হয়েছিল, যাতে প্রায় কোনও কিছুই ঘোষণা হয়নি, তা ছিল অর্ন্তবর্তীকালীন বাজেট। স্বাভাবিক ভাবেই নয়া সরকারের কাছ থেকে প্রচুর প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। তার উপর সবে সবে আয়কর দিয়ে উঠেছেন দেশবাসী। সেই ঘা দগদগে বললে ভুল হয় না। ফলে এই বাজেটে আয়করে ছাড় নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছে আপামর জনতা। সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারবেন নয়া সরকারের পূর্ণ বাজেট?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অন্তর্বর্তী বাজেটে মধ্যবিত্তের হাতে পেনসিল? আয়কর নিয়ে যা জানালেন নির্মলা

Interim Budget 2024: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজেটের সেই লাল বিফকেস উধাও হয়েছে। তার বদলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর হাতে শোভা পায় আজকাল একটি লাল কভার বিশিষ্ট ট্যাব।

ক্লিয়ার ট্যাক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও অর্চিত গুপ্ত মনে করছেন, কর ব্যবস্থায় 80EEB-র অধীনের ছাড়গুলি করদাতাদের উৎসাহিত করতে পারে। যার আওতায় বৈদ্যুতিন যানবাহন কেনার জন্য প্রদত্ত ঋণের সুদের উপরে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করছাড়ের অনুমতি মেলে। নতুন আয়কর কাঠামো অনুযায়ী, বছরে ১৫-২০ লক্ষ আয়কারীদের তাদের রোজগারের ৩০ শতাংশ আয়কর হিসেবে জমা দিতে হয়। অর্চিত গুপ্ত মনে করছেন, আয়কর ২২ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারলে ওই আয়বন্ধনীর করদাতাদের অনেকটাই স্বস্তি দেওয়া যাবে। ট্যাক্সটুউইন সংস্থার সিইও ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা অভিষেক সোনি মনে করছেন, নতুন আয়কর ব্যবস্থায় করকাঠামোটিকে আর একটু সরল করার প্রয়োজন রয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চলে এল আয়কর দাখিলের দিন, কী করে সহজ ফর্মের মাধ্যমে ITR 1 ফাইল করবেন?

ITR 1 Sahaj Form Eligibility : নিজের আয়কর মিটিয়ে দিন এই ফর্ম ব্যবহার করে। তার আগে জেনে নিন এই বিশেষ ফর্মের খুঁটিনাটি তথ্য।

এই মুহূর্তে দেশে নয়া আয়কর কাঠামোটি চালু রয়েছে, তার আওতায় ৩ লক্ষ পর্যন্ত বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে কোনও আয়কর দিতে হয় না উপার্জনকারীকে। ৩ লক্ষ থেকে ৬ লক্ষের মধ্যে আয় যাঁদের তাঁদের ৮৭এ ধারার অধীনে ৫ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। ৬ লক্ষ থেকে ৯ লক্ষের মধ্যে আয় যাঁদের, তাঁদের ১০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। ৯ লক্ষ থেকে ১২ লাখের মধ্যে আয় যাঁদের, তাঁদের আয়কর দিতে হয় ১৫ শতাংশ হারে। ১২ লক্ষ থেকে ১৫ লক্ষের মধ্যে আয় যাঁদের, ২০ শতাংশ হারে তাঁদের আয়কর দিতে হয়। ১৫ লক্ষের উপরে যাঁদের আয়, তাঁদের আয়করের হার ৩০ শতাংশ। পুরনো করকাঠামোয় আড়াই লক্ষ আয় পর্যন্ত কোনও রকম আয়কর দিতে হত না। আড়াই থেকে ৫ লক্ষ আয় যাঁদের, তাঁদের ৫ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হত। ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত আয় যাঁদের, তাঁদের ২০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। ১০ লক্ষ টাকার উপরে আয় যাঁদের, তাঁদের আয়কর দিতে হত ৩০ শতাংশ হারে।

২০২৪ সালের পূর্ণ বাজেট ঘোষণা হবে আগামী ২৩ জুলাই, মঙ্গলবার। সেই বাজেটে নয়া সরকারের কাছ থেকে মধ্যবিত্তদের অনেক আশা। বিশেষত করদাতারা অতিপ্রয়োজনীয় কিছু করছাড় প্রত্যাশা করছেন। মূল ছাড়ের সীমা ৩ লক্ষ ৫ লক্ষ টাকায় নিয়ে যাওয়ার দাবি রয়েছে অনেকদিনের। পাশাপাশি স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের সীমা বাড়ানো থেকে শুরু করে নয়া আয়কর পরিকাঠামোর অধীনে নতুন করছাড়ের সুবিধা পাওয়ার আশায় রয়েছেন দেশবাসী। এই মুহূর্তে নয়া আয়কর ব্যবস্থার আওতায় ৫০ হাজার টাকার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের সুবিধা রয়েছে। কিন্তু পুরনো আয়কর কাঠামোতে তেমন কোনও ছাড় নেই। ২৩ জুলাই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আয়কর সংক্রান্ত বেশ কিছু ছাড়ের ঘোষণা শোনার জন্য মুখিয়ে রয়েছে। কিন্তু সত্যিই কি মধ্যবিত্তের সেই প্রত্যাশা পূরণ করবে নতুন সরকার? নাকি প্রতিবারের মতোই খালি হাতে ফিরতে হবে সাধারণ মানুষকে? প্রশ্ন আপাতত সেটাই।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।