পৃথিবীজুড়ে ফিরছে এই সংক্রামক রোগ, আক্রান্ত ভারতও! কতটা ক্ষতিকর, প্রতিকার কী?

১৯৫৮ সালে প্রথম এই ভাইরাসের খোঁজ পাওয়া যায়। সেসময় বাঁদরদের মধ্যে পক্সে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় একটি গবেষণা শুরু করা হয়।

Piya Saha
৩ মিনিট
পৃথিবীজুড়ে ফিরছে এই সংক্রামক রোগ, আক্রান্ত ভারতও! কতটা ক্ষতিকর, প্রতিকার কী?

একের পর এক রোগের হানা। করোনা-আবহে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন করে দেখা দিয়েছে বহু পুরনো রোগ। দুর্বল রোগ-প্রতিরোধক্ষমতা এর জন্য বহুলাংশে দায়ী। এবার এই তালিকায় নতুন নাম মাঙ্কি পক্স। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে ১১টি দেশে প্রায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে মাঙ্কি পক্সে। আরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হতে পারে বলেও ধারণা আন্তর্জাতিক এই সংস্থার।

ইতালি, সুইডেন, স্পেন, পর্তুগাল, আমেরিকা, কানাডা এবং ইংল্যান্ডে আগেই মাঙ্কি পক্সে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছিল। এবার নেদারল্যান্ডও ঢুকে পড়েছে আক্রান্ত দেশগুলির মধ্যে। সর্বশেষ আপডেট থেকে জানা গেছে যে, সেই দেশে একজন ব্যক্তির দেহে এই ভাইরাস ধরা পড়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই রোগের সংক্রমণ, লক্ষণ, চিকিৎসার ব্যাপারে।

মাঙ্কি পক্স কী?

হু-র মতে মাঙ্কি পক্স হল একপ্রকারের সংক্রামক রোগ এবং এর জন্য দায়ী ভাইরাস-আক্রান্ত প্রাণীর দেহ থেকে মানুষের দেহে সংক্রমণ ঘটা। কম রান্না করা মাংস বা সংক্রামিত প্রাণীর থেকে তৈরি খাবার খেলে একজন ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হন। মানুষ থেকে অন্য একজনের শরীরে এই ভাইরাস সীমিত ক্ষেত্রেই সংক্রামিত হয়। মূলত সংক্রামিত ব্যক্তির দেহজ তরল, ত্বক, বিছানা এবং জামাকাপড় ব্যবহার করলে এই ভাইরাস অন্যদের শরীরেরও ছড়িয়ে পড়ে। স্মল পক্সের সঙ্গে এর মিল থাকলেও ততখানি ভয়ের নয়‌। মধ্য এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশে সাধারণত এই রোগের সংক্রমণ দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া শহরাঞ্চলে বা ট্রপিক্যাল বনভূমির পার্শ্ববতী এলাকাতেও এই ভাইরাসের সংক্রমণ লক্ষ করা যায়।

মাঙ্কি পক্সের ইতিহাস

১৯৫৮ সালে প্রথম এই ভাইরাসের খোঁজ পাওয়া যায়। সেসময় বাঁদরদের মধ্যে পক্সে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় একটি গবেষণা শুরু করা হয়। তার থেকেই নাম হয় 'মাঙ্কি ভাইরাস'। মানুষের শরীরে প্রথম এই ভাইরাসের সংক্রমণ লক্ষ করা যায় ১৯৭০ সালে আফ্রিকার কঙ্গো দেশে। পরবর্তী সময়ে আফ্রিকার বহু দেশেও ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। আফ্রিকার বাইরে আমেরিকা, ইজরায়েল, সিঙ্গাপুরেও মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে তারপর থেকে বেশ কিছু সংক্রমণের খবর এসেছে।

মাঙ্কি পক্সের লক্ষণ

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পৃথিবীর জলভাগ ভরে যাবে অ্যাসিডে, ২৬০০০ বছরে প্রথম এই চরম সর্বনাশের মুখোমুখি পৃথিবী

আমরা সবাই জানি বিশ্ব উষ্ণায়নের কথা। সবাই জানি, অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের ফলে কীভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশের পর ৬ থেকে ১৩ দিন অবধি তা দেহে থাকে। তবে অনেকসময় দুই থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত মানবদেহে বাঁচতে পারে এই ভাইরাস।প্রথমদিকে এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি গা-হাতপায়ে ব্যাথা, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, গলা ফুলে যাওয়া এবং ক্লান্তি অনুভব করেন। সঙ্গে গায়ে-মুখে ফুসকুড়ি দেখা যায়। এমনকী, পায়ের পাতা, হাতের তালু, মুখের ভেতর এবং কর্নিয়াতেও ফুসকুড়ি উঠতে পারে। এগুলো শুকিয়ে খসে পড়ার আগে সময়ের সঙ্গে বদলে যায় এর রূপ।

বয়স্ক এবং মাঝবয়সিদের তুলনায় বাচ্চারা এই ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হয়। এমনকী, মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণ বা সদ্যোজাতদের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এই সংক্রমণ।

সংক্রমণ ধরা পড়লে কী করবেন?

শরীরে মাঙ্কি ভাইরাসের কোনও লক্ষণ দেখা দিলে একেবারেই অবহেলা করবেন না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সম্ভব হলে নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন এবং ভুলেও অন্যের সংস্পর্শে আসবেন না। বারবার করে স্যানিটাইজার ব্যবহার করে হাত পরিষ্কার রাখুন। সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শমতো খাবার ও ওষুধ খান।

চিকিৎসা

সংক্রমণের বেশ কিছুদিন পর নিজে থেকেই লক্ষণগুলি কমে যেতে থাকে কোনও চিকিৎসা ছাড়াই। তবে অনেক সময় ফুসকুড়িগুলো শোকাতে চিকিৎসার সাহায্য নিতে হয়। তবে হু-এর মতে গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনিয়া ইমিউন গ্লোবিউলিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

ভ্যাকসিন

এক্ষেত্রে স্মল পক্সের জন্য ব্যবহৃত ট্যাকোভিরিম্যাট ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এছাড়া স্মল পক্সের জন্য বাজারে যে ভ্যাকসিন রয়েছে, তাও সাময়িকভাবে সংক্রমণ রুখতে সম্ভব। তাই যাঁদের স্মল পক্সের ভ্যাকসিন দেওয়া আছে, তাঁদের সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

মৃত্যুর সম্ভাবনা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র মতে, মধ্য আফ্রিকায় সমীক্ষা করে দেখা গেছে যে, যেখানে মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত নয়, সেখানে এই রোগে ১০ জন সংক্রামিত ব্যক্তির মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বেশিরভাগ রোগী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

ইতিমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মাঙ্কি পক্সের সংক্রমণ নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছে। ভারতের বিমানবন্দরগুলিতে বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের দেহে কোনও লক্ষণ রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা শুরু হয়েছে।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

করোনা সেরে গেলেও পিছু ছাড়ছে না ক্লান্তি! লং কোভিড নিয়ে নতুন গবেষণায় কী জানা গেল?

Long COVID: করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পরেও অনেকের শরীরে থেকে যাচ্ছে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা। লং কোভিড নিয়ে নতুন মার্কিন গবেষণায় দেখা গেল, তিন বছরে প্রায় অর্ধেক রোগীর উপসর্গ কমেছে এবং এক-চতুর্থাংশ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোন ধরনের উপসর্গ থাকলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? কী বলছে গবেষণা?

কলকাতা বন্দরে উদ্ধার সাড়ে ১৩ কোটি টাকার ই-সিগারেট, শরীরের কী কী ক্ষতি করে এই ইলেকট্রনিক সিগারেট?

E-Cigarette Side Effects: কলকাতা বন্দরে প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট উদ্ধার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর (DRI)। উদ্ধার হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫ কোটি টাকা। ভারতে নিষিদ্ধ এই ইলেকট্রনিক সিগারেট শরীরের কী কী ক্ষতি করতে পারে?

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর হতে পারে?

Fatty liver: ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর? অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে এই পরীক্ষাধীন ওষুধ লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে? প্রাণীর শরীরে আশাব্যঞ্জক ফল মিললেও মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কি প্রমাণিত হয়েছে? ভবিষ্যতে কি গুরুতর ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারবে DT-109?

ইউক্রেনকে বিসর্জন দিয়ে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

Trump Putin relationship: ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতা বর্তমান বিশ্বরাজনীতির জটিল সমীকরণকে নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে?

বাংলার স্বাস্থ‍্যরক্ষায় সরকারি স্বাস্থ্যব‍্যবস্থা সংহত হওয়া জরুরি: অভিজিৎ চৌধুরী

Abhijit Chowdhury Interview: তিনি বাঙালির ‘লিভারের ডাক্তারবাবু’ বলেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন সরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। অবসরের পরেও জড়িয়ে রয়েছেন চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে। সোনারপুরে গড়ে তুলেছেন ‘লিভার ফাউন্ডেশন’। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে তাঁর পরবর্তী স্টেশন ‘স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়’।

হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে কী করবেন? নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর জেনে নিন CPR-এর জরুরি নিয়ম

How to perform CPR: ধরুন, হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। ডাকলেও সাড়া দিচ্ছেন না, স্বাভাবিকভাবে শ্বাসও নিচ্ছেন না। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই। তাহলে, কী করবেন তখন?

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।