প্রতি বছর আক্রান্ত ৫০ হাজার ভারতীয় শিশু, ছোটদের ক্যানসার নিয়ে সতর্ক হন আজই

Childhood Cancer Awareness : কেবল প্রাপ্তবয়স্কদেরই ক্যানসার হয়, এমনটা নয়। ছোট ছোট শিশুরাও এই মারণ রোগে আক্রান্ত হয়।

inscript
৩ মিনিট
প্রতি বছর আক্রান্ত ৫০ হাজার ভারতীয় শিশু, ছোটদের ক্যানসার নিয়ে সতর্ক হন আজই

ক্যানসার, এই শব্দটা শুনলে এক অদ্ভুত আতঙ্ক পেয়ে বসে আমাদের। প্রায় প্রত্যেকের জীবনেই চেনাজানা মানুষ রয়েছেন, যারা এই মারণ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের কষ্ট অনেকেই চোখের সামনে দেখেছেন। ২০২২-র শেষের দিকে গোটা বাংলা কেঁদে উঠল ঐন্দ্রিলা শর্মার মৃত্যুতে। কতই বা বয়স তাঁর! কিন্তু ক্যানসার এসে তাঁর যুদ্ধটা কথিম করে দিল। ক্যানসার, বায়োপ্সি, কেমোথেরাপি – শব্দগুলি এখন দুশ্চিন্তার আরেক নাম। সবারই একটাই প্রার্থনা, নিজের পরিবারে যেন কারও এই মারণ রোগ না হয়।

কিন্তু ক্যানসার এমনই এক রোগ, যখন আসে নিঃশব্দে বাসা বাঁধে শরীরে। আগেভাগে ধরা পড়লে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা সম্ভব। এখনও ক্যানসার নিয়ে বিভিন্ন মহলে গবেষণা হচ্ছে। তবে কেবল প্রাপ্তবয়স্কদেরই ক্যানসার হয়, এমনটা নয়। ছোট ছোট শিশুরাও এই মারণ রোগে আক্রান্ত হয়। তাদের যন্ত্রণায় কাতর হয়ে আসা মুখ সত্যিই কষ্ট দেয়। সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, প্রতি বছর তিন থেকে চার লক্ষ শিশু কোনও না কোনও মারণ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। একা ভারতেই সেই সংখ্যাটি ৫০,০০০-র ওপর! কেউ কেউ দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হয়, কেউ আবার অকালেই নিভে যায়।

ছোটদের কেন ক্যানসার হয়?

ক্যানসার – এই রোগটির সঙ্গে মানবদেহের একটি বিশেষ জিন জড়িত। নাম – অঙ্কজিন (Oncogene)। এই বিশেষ জিনটি সক্রিয় হয়ে গেলে ক্যানসারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ম্যালিগনেন্ট টিউমার কোষগুলিতে এই জিনের দ্রুত মিউটেশন ঘটে। পরিবেশ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ধূমপান, মদ্যপান সহ বিভিন্ন বাহ্যিক কারণ ক্যানসারকে ত্বরান্বিত করে।

কিন্তু এসব তো প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে। ছোট্ট শিশুদের ক্ষেত্রে তো এই ব্যাপারগুলি আসে না। তাহলে কেন কেবল ভারত নয়, গোটা বিশ্বেই এত বেশি সংখ্যক শিশু ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে? এখনও সঠিকভাবে এর উত্তর পাননি গবেষকরা। এক্ষেত্রে জেনেটিক কারণ ছাড়াও পরিবেশেরও একটা প্রভাব থাকতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। শিশুদের ক্ষেত্রে যে ক্যানসারগুলি দেখা যায়, তার ধরনধারণও প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে আলাদা। কেমোথেরাপির মতো যন্ত্রণাদায়ক নিরাময় প্রক্রিয়ার মধ্যেও যেতে হয় তাদের।

শিশুদের ক্ষেত্রে কোন কোন ক্যানসার বেশি দেখা যায়?

পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, বিশ্বের বহু শিশু এই মারণ রোগের আক্রমণে মারা যায়। এই অবস্থায় কী করে সন্তানদের রক্ষা করবেন? তার আগে জেনে নেওয়া যাক, শিশুদের ক্ষেত্রে কোন কোন ক্যানসার বেশি দেখা যায়। তাদের উপসর্গগুলি জেনে নেওয়াও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। কারণ, যত তাড়াতাড়ি ক্যানসার ধরা পড়বে, তত দ্রুত তার চিকিৎসা শুরু হবে। আর তত তাড়াতাড়ি ওই শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠবে।

লিউকেমিয়া

রক্তের ক্যানসারও বলা যায়। এর ফলে শরীরে হঠাৎ করে শ্বেত রক্তকণিকা বেড়ে যায়। অস্থিমজ্জাও মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে। শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এই ক্যানসারই দেখা যায়। যদি হঠাৎ করে আপনার সন্তানের খিঁচুনি শুরু হয়, অল্পতেই দুর্বল হয়ে পড়ে, ইনফেকশন দৈনন্দিন ঘটনা হয়ে পড়ে – তাহলে তড়িঘড়ি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়াই বাঞ্ছনীয়। এগুলোই লিউকেমিয়ার প্রাথমিক রোগ লক্ষণ।

নিউরোব্লাস্টোমা

এই বিশেষ প্রজাতির ক্যানসার সাধারণত শিশুদের স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে। অ্যাড্রিনালিন গ্ল্যান্ডে এই ম্যালিগনেন্ট কোষগুলি তৈরি হয়, তারপর ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ করে বাচ্চার চোখের নিচে কালি, ওজন হ্রাস, পেটে ব্যথা হলে তৎক্ষণাৎ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নিন।

মস্তিস্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের টিউমার বা ক্যানসার

ব্রেন টিউমার – এই নামটি অনেকেই শুনেছেন। কেবল মস্তিস্ক নয়, শিশুর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রেও এই টিউমার গজিয়ে উঠতে পারে। ম্যালিগনেন্ট হলেই বিপদ! বারবার প্রবল মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, দৃষ্টিশক্তি হঠাৎ ঝাপসা হয়ে যাওয়া, কাঁপুনি, হাঁটাচলার ভারসাম্য রাখতে সমস্যা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। শিশুদের মধ্যে এই বিশেষ রোগটি বেশ ভালো পরিমাণেই দেখা যায়।

উইলমস টিউমার

কিডনি ক্যানসারের আরেক নাম এই উইলমস টিউমার। সাধারণত ৩-৪ বছর বয়সি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই রোগটি দেখা যায়। তলপেটে ব্যথার সঙ্গে মুত্রে ক্রমাগত রক্ত মিশে যাওয়া, এই ক্যানসারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

লিম্ফোমা

মানুষের লসিকাগ্রন্থি বা লিম্ফ্যাটিক গ্ল্যান্ডে এই ক্যানসার দেখা যায়। এই লসিকাগ্রন্থির কাজই হল শরীরের যাবতীয় ইনফেকশনের সঙ্গে লড়াই করা। ওই জায়গায় ক্যানসার হলে এই লড়াইটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া, গলা, বগলে অত্যাধিক ঘাম, খিঁচুনি সহ বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়।

এছাড়াও জ্বর, খিদে কমে যাওয়া, হাড়ে ব্যথা, রক্তপাত, হঠাৎ করে শুষ্ক ত্বক ইত্যাদি বেশকিছু রোগ লক্ষণও দেখা যায়। সামান্য রক্তপরীক্ষা করলে, কিংব বায়োপ্সি করলে ক্যানসার ধরা পড়ে যাবে। যদি একদম প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে, তাহলে সুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেকটা বেশি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।