আগেও আরজি করে চিকিৎসক-মৃত্যু! এর মধ্যেই কেন ভাঙাভাঙি ‘অভিশপ্ত’ সেই জরুরি বিভাগে?

R G Kar Hospital Incident: এই প্রথম নয়, এর আগেও আরজি কর মেডিক্য়াল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ঘটেছে এমনই ভয়াবহ পড়ুয়ামৃত্যু।

inscript
৩ মিনিট
আগেও আরজি করে চিকিৎসক-মৃত্যু! এর মধ্যেই কেন ভাঙাভাঙি ‘অভিশপ্ত’ সেই জরুরি বিভাগে?

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনায় উত্তাল গোটা রাজ্য। সেই আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে দেশ জুড়েও। শুক্রবার আরজি কর কলেজের জরুরি বিভাগের চতুর্থ তলায় সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয় এক স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের ট্রেনি চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত দেহ। ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে ধরা পড়েছে ময়না তদন্তে। সেই ঘটনায় মঙ্গলবারই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

এই প্রথম নয়, এর আগেও আরজি কর মেডিক্য়াল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ঘটেছে এমনই ভয়াবহ পড়ুয়ামৃত্যু। করোনাকালীন সময়ে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ওই জরুরি বিভাগেই ঘটেছিল আরও একটি দুর্ঘটনা। সেটা ২০২০ সাল। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ৬ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন এক জুনিয়র ডাক্তার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইস্তফার পরেও কেন অন্যত্র নিয়োগ? আরজি কর কাণ্ডে প্রাক্তন অধ্যক্ষকে ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ হাইকোর্টের

R G Kar Case Hearing: একই সঙ্গে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে স্বেচ্ছায় ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম।

স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষেরই পড়ুয়া ছিলেন পৌলমী সাহা নামে সেই ট্রেনি চিকিৎসকও। সিক নিওনেটাল কেয়ার ইউনিটের ট্রেনি ছিলেন তিনি। পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন ফিভার ক্লিনিকে তাঁর শিফট শুরুর আগেই জরুরি বিভাগের ৬ তলা থেকে ঝাঁপ দেন ওই চিকিৎসক। সেসময় দাবি করা হয়েছিল, ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন ওই চিকিৎসক। সেই ঘটনায় বেশ হইচই পড়ে গিয়েছিল হাসপাতালে।

গত শুক্রবার ফের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের আর এক ছাত্রীকে নির্মম ভাবে ধর্ষণের পরে খুনের ঘটনায় উস্কে উঠেছে সেই স্মৃতি। সেই ঘটনার জের ছড়িয়েছে গোটা রাজ্য ছাড়িয়ে দেশেও। বুধবার ওই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে জয়েন্ট ফোরাম অব ডক্টরস। কেবলমাত্র সরকারি পরিষেবা নয়, বেসরকারি চেম্বারও বন্ধ রাখার ডাক দেওয়া হয়েছে। বুধবার ভোর ৪টে থেকে বিকাল ৪টে পর্যন্ত কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরজি কর কাণ্ডে হাইকোর্টের প্রশ্নে বিদ্ধ রাজ্য, নির্দেশ এখনই সিবিআই তদন্তেরও

R G Kar Case Hearing: মোট পাঁচটি জনস্বার্থ মামলা এদিন ওঠে ডিভিশন বেঞ্চের কাছে। যেখানে আদালতের প্রশ্নে বিদ্ধ হল রাজ্য। একই সঙ্গে সেই মামলায় সিবিআই তদন্তেরও নির্দেশ দিল আদালত।

মঙ্গলবার ওই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছে হাইকোর্ট। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, আরজি কর হাসপাতালের যে সেমিনার রুমে ওই ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে, তার পাশেই হাসপাতালের একটি অংশ ভেঙে সংস্কারের চেষ্টা চলছে। অনেকেরই দাবি, প্রমাণ লোপাট করতেই হঠাৎ করে ভাঙাভাঙি শুরু হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ওঠে চিকিৎসকদের একাংশ। কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে সাফাই দেওয়া হয়েছে, সেখানে একটি শৌচাগার তৈরি করা হবে।

হাসপাতালের একটি সূত্রে খবর, যে ঘরটি ভাঙা হচ্ছে, সেটি খুব একটা ব্যবহার হত না। কিন্তু, হঠাৎ ‘সংস্কারের’ কারণ কী? জানা যাচ্ছে, সন্দীপের নির্দেশেই ওই ঘর ভাঙার কাজ শুরু হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েক জন এবং কর্তৃপক্ষের একাংশ জানাচ্ছেন, আরজি করের ‘চেস্ট মেডিসিন’ বিভাগের সেমিনার হলের সামনে একটি ঘর ছিল। সেটাই ভাঙার কাজ শুরু হয় সোমবার। ওই কাজ চলছিল পুলিশের উপস্থিতিতে। যদিও সোমবারই ওই ঘর ভাঙার কাজ থমকে যায় জাতীয় মহিলা কমিশনের হস্তক্ষেপে। কারণ, আরজি কর কাণ্ডের প্রেক্ষিতে সোমবার হাসপাতালে গিয়েছিলেন কমিশনের কয়েক জন প্রতিনিধি। তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেওয়াল ভাঙা হচ্ছে দেখে সেই কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় ঘটনার পর ওই সেমিনার রুমের পাশের অংশ ভাঙার কাজ কীভাবে শুরু হল। এত তাড়াহুড়োই বা কীসের। সেক্ষেত্রে তদন্তকারীরাও বা কেন বাধা দিলেন না। পরে অবশ্য ওই ঘর ভাঙা এবং সংস্কারের কাজ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। ওই হাসপাতালের অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে নিয়েও প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। এদিন সন্দীপ ঘোষকে ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। বুধবারের মধ্যে সিবিআইকে সমস্ত নথি হস্তান্তর করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আপাতত হাইকোর্টের নজরদারিতেই চলবে তদন্ত। তিন সপ্তাহ পরে এই মামলার ফের তদন্ত বলে জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।