রুটির দোকানের হেল্পার ছিলেন নন্দিনীর বাবা, মেয়ের কাঁধে ভর দিয়েই উড়ান দিচ্ছে পাইস হোটেল

Nandini Pice Hotel: সংসার চালানোর দায় হয়ে উঠছে দেখে বাধ্য হয়েই অফিস পাড়ায় এসে এক চিলতে দোকানে প্রথমে রোজ ২০০ টাকা মাইনেতে রুটি বেলার কাজ নেব চক্রধারীবাবু

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
রুটির দোকানের হেল্পার ছিলেন নন্দিনীর বাবা, মেয়ের কাঁধে ভর দিয়েই উড়ান দিচ্ছে পাইস হোটেল

নন্দিনীর পাইস হোটেল। বর্তমানে ডালহৌসি রোডে অফিসপাড়ায় পরিচিত খাবারের ঠেক। কেউ ডাকে ম্যাডাম বলে, কেউ মমতা অথবা নন্দিনী, কেউ স্রেফ দিদি। রাতারাতি ভাইরাল এই এক চিলতে পাইস হোটেল। দিন পনেরো আগেও নন্দিনী ভাবতে পারেনি এমন হঠাৎ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরে যেতে পারে। প্রতিদিন যেখানে ৩০ প্লেট ভাত রেঁধে, লোকসান হতো তাঁর, সেখানেই এখন রোজ ৬০ প্লেট ভাত বিক্রি করেও ভিড় সামলাতে পারছেন না নন্দিনী। কিন্তু কীভাবে হল এমন বদল? প্রশ্নের উত্তর দিলেন স্বয়ং।

দিদি নম্বর ওয়ান, সমাজের মেয়েদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বলে বলেই পরিচিত এই ‘রিয়ালিটি' শো। এই আসরে ছিলেন নন্দিনী ওরফে মমতা গাঙ্গুলি। তিনি জানান, একদিন দুপুরে তার দোকানে ‘ডিম-ভাত’ খেতে এসেছিল একটি ছেলে। তার আবদার ছিল দোকানের ভিডিও করবে। আপত্তি করেননি নন্দিনী। যতটা পেরেছেন প্রশ্নকর্তাকে যথাযথ উত্তর দিয়েছেন। ভিডিও হয়, সেই ভিডিও পোস্টও হয় সোশ্যাল মাধ্যমে। ব্যাস তারপরই হয় মীরাকেল। মুহূর্তের মধ্যে নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে নন্দিনীর গল্প। অফিস পাড়ার এক টুকরো ওই ভাতের হোটেলের গল্প।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হাসিমুখে ভাতের থালা হাতে অফিস পাড়ার নন্দিনী, নিশ্চিন্ত চাকরি ছেড়ে কেন বেছে নিলেন এই পথ

Pice hotel Nandini Ganguly : নিশ্চিন্ত চাকরি ছেড়ে বাবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাইস হোটেল চালাচ্ছেন মমতা

নন্দিনী অবশ্য এর বিন্দুবিসর্গ জানত না। বুঝতে পারে একের পর এক ইউটিউবারের ভিড় দেখে। শুধু তাই নয়, ভিড় জমে খাদ্যপ্রেমী বাঙালিরও। জিন্স, কালো টপ আর গলায় ঝুলছে ব্লু টুথ হেড ফোন। এই ছবিটাই ছিল পরিচিত। এদিন অবশ্য রিয়ালিটি শো এর মঞ্চে ধরা দিলেন অন্য ভূমিকা। সবুজ রঙের শাড়িতে , বঙ্গ তনয়া মমতা। জীবনের গল্প বলতে বলতে চোখে জল এল তাঁর। সদা হাস্যময়ী এই মেয়েটিও অনেক লড়াই করেছে। যা হয়তো পাইস হোটেলে খেতে আসা অনেকেই জানে না। একসময় প্যারালাইসিস হয়ে গিয়েছিল শরীরের একটা দিক, তারপর অনেক ঝড় সামলে পরিবারের সহায়তায় ঘুরে দাঁড়িয়েছিল সে। তাই পরিবারের অসময়ে সেই দিন ভুলতে পারেনি, বাবার এক ডাকে নিশ্চিন্ত চাকরি ছেড়ে ছুটে এসেছে কলকাতায়। বাবা মায়ের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে রোজকার লড়াইটা করছে সেও।

সকাল নটা থেকে শুরু হয়ে যায় রান্নার তোড়জোড়। নিজের হাতে রোজ শিয়ালদহ থেকে বাজার করেন নন্দিনীর বাবা চক্রধারী গাঙ্গুলি। মা বিনাদেবী থাকেন কোটা বাটার দায়িত্বে। এরপর মাঠে নামে মমতা। রান্নায় বাবার সঙ্গে হাত লাগায় সে। তারপর নিজে হাতে ভাত বেড়ে খেতে দেন সকলকে। করোনায় রবারের ব্যবসা ডুবে যায় নন্দিনীর বাবা। নন্দিনী তখন রাজ্যের বাইরে। সংসার চালানোর দায় হয়ে উঠছে দেখে বাধ্য হয়েই অফিস পাড়ায় এসে এক চিলতে দোকানে প্রথমে রোজ ২০০ টাকা মাইনেতে রুটি বেলার কাজ নেব চক্রধারীবাবু। কোনও কাজকেই ছোট হিসেবে দেখেননি তিনি। সংসারের প্রয়োজনে তাই রুটি বেলার কাজ নেন। তারপর খানিকটা পয়সা জমিয়ে ওই অঞ্চলে নিজে একটা দোকান ভাড়া নেন। স্বামী স্ত্রী মিলেই চালাচ্ছিলেন। নন্দিনী বাদে বাকি দুই মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন ইতিমধ্যেই। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন স্ত্রী বিনা গাঙ্গুলি। ঠিক তখন থেকে গল্পে প্রবেশ নন্দিনীর। অতঃপর এমন রাতারাতি প্রচারের আলো।

তবে এ আলো যে একদিন নিভে যাবে, পড়ে থাকবে কেবল রোজকার লড়াইটুকু একথা জানেন তাঁরা তিনজনই। তাই স্রোতে গা ভাসতে চান না। মাটিতে পা রেখেই চলছে এই পরিবার। নন্দিনীর কথায়, বাবাই সব। আমি কেবল পিছন থেকে একটা “সঙ্গে আছি” বলেছিলাম। বাবার কাঁধে হাত রেখে ভরসা দিতে চেয়েছিলেন নন্দিনী। সেই ভরসা টুকুই এখন স্বপ্নের পথে পাড়ি দিচ্ছে। আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে নন্দিনীর মতো মেয়েরা সত্যিই উদাহরণ। যে, ভেঙে পড়া সমাজের চোখে চোখ রেখে শিখিয়ে দিচ্ছে এরই নাম আসল লড়াই।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।